০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খুলনায় আন্তর্জাতিক পানি দিবস উদযাপন : পানির সংকট সমাধানে ও ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলন সংকোচনে পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণের দাবি

####
খুলনায় দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পানি দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২২ মার্চ) পানি দিবস উপলক্ষ্যে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। স্বেচ্চাসেবী সংগঠন বেলা, লিডার্স ও খুলনা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে খুলনা প্রেস ক্লাব থেকে পানি সংকট সমাধানে ও ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলন সংকোচনে পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণের দাবিতে নাগরিক পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় খুলনা জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য সহ বিভিন্ন সামামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খুলনা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে নাগরিক পদযাত্রা ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও আরো অনেকে। মানববন্ধনে উপস্থিত সকলে ব্যানার ও বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবিতে প্রতীকী প্রতিবাদ জানায় এবং নিজেদের পানি অধিকার বাস্তবায়নে অঙ্গিকারবদ্ধ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পানি জীবন ধারনের একটি মৌলিক উপাদান এবং পানির অপর নাম জীবন। অবস্থানগত ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে সুপেয় পানির সংকট দিনে দিনে বেড়েই চলছে। এই সংকট দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সুপেয় পানির জন্য বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টি কম হলে পুকুরের পানিও কমে আসে, পানির গুণগতমান নষ্ট হয়। ফলে সুপেয় পানি পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তারা বলেন, পরিবেশে পানির ভারসাম্য ধরে রাখতে হবে। আর তার জন্য আমাদের পানির সঠিক ব্যবহার এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন যে, আমদের খুলনায় ১৭১ টির মতো বদ্ধ জলাশয় থাকলেও তার যখাযথ ব্যবহার নেই। নদীভাঙন জনিত বন্যা, চিংড়ি চাষ, ভুগর্ভস্থ পানির লবনাক্ততার কারনে গত কয়েক বছরে সুন্দরবন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট বেড়েছে। আমাদের একত্রে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।
সমাবশে বক্তারা উল্লেখ করেন, সুন্দরবন উপকুলে ৭৩% পরিবার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত বা খারাপ পানি খেতে বাধ্য হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে গত ৩৬ বছরে লবণাক্ততা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র থেকে ভূভাগের অনেক ভিতর পর্যন্ত লোনাপানি ঢুকে পড়েছে, ফলে লোকজনকে পানি ও খাবারের সাথে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে লবণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এছাড়া লবাণাক্ততা বৃদ্ধি এ অঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও ফেলেছে। চিকিৎসাবিদদের মতে এ এলাকার বসবাসকারীদের উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভোগার সম্ভাবনা বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে লবণাক্ততায় আক্রান্ত এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের প্রি-একলেম্পশিয়া ও উচ্চরক্তচাপের হার ৬.৮%-৩৯.৫% বেড়েছে। লবণাক্ততার কারনে উপকূলের নারীদের জরায়ু সংক্রমন বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে নারীকেই। ফলে নষ্ট হচ্ছে নারীর শ্রমঘন্টা। শিশুদের অনিরাপদ অবস্থায় রেখে যেতে হচ্ছে ও নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। রোগব্যাধি বাড়ছে, সামগ্রিক জীবনের গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির জন্য বক্তারা যে সকল দাবী তুলে ধরেন, বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা-১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। নিরাপদ পানির সর্বজনীন, ন্যায্য ও সজলভ্যতা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি ও অগ্রাধিকার প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং অর্থ বছরে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে, উপকুলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে, আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনে উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে, পানীয় জলের উৎসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের পূর্বে ওই এলাকার পানির চাহিদা যোগানের পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। ##

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

sunil Dhash

জনপ্রিয়

খুলনায় ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদের অপহরণ চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার, অপহৃত নারী ও টাকা ‍উদ্ধার

খুলনায় আন্তর্জাতিক পানি দিবস উদযাপন : পানির সংকট সমাধানে ও ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলন সংকোচনে পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণের দাবি

আপডেট সময় : ০৪:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

####
খুলনায় দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পানি দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২২ মার্চ) পানি দিবস উপলক্ষ্যে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। স্বেচ্চাসেবী সংগঠন বেলা, লিডার্স ও খুলনা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে খুলনা প্রেস ক্লাব থেকে পানি সংকট সমাধানে ও ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলন সংকোচনে পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণের দাবিতে নাগরিক পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় খুলনা জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য সহ বিভিন্ন সামামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খুলনা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে নাগরিক পদযাত্রা ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও আরো অনেকে। মানববন্ধনে উপস্থিত সকলে ব্যানার ও বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবিতে প্রতীকী প্রতিবাদ জানায় এবং নিজেদের পানি অধিকার বাস্তবায়নে অঙ্গিকারবদ্ধ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পানি জীবন ধারনের একটি মৌলিক উপাদান এবং পানির অপর নাম জীবন। অবস্থানগত ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে সুপেয় পানির সংকট দিনে দিনে বেড়েই চলছে। এই সংকট দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সুপেয় পানির জন্য বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টি কম হলে পুকুরের পানিও কমে আসে, পানির গুণগতমান নষ্ট হয়। ফলে সুপেয় পানি পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তারা বলেন, পরিবেশে পানির ভারসাম্য ধরে রাখতে হবে। আর তার জন্য আমাদের পানির সঠিক ব্যবহার এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন যে, আমদের খুলনায় ১৭১ টির মতো বদ্ধ জলাশয় থাকলেও তার যখাযথ ব্যবহার নেই। নদীভাঙন জনিত বন্যা, চিংড়ি চাষ, ভুগর্ভস্থ পানির লবনাক্ততার কারনে গত কয়েক বছরে সুন্দরবন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট বেড়েছে। আমাদের একত্রে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।
সমাবশে বক্তারা উল্লেখ করেন, সুন্দরবন উপকুলে ৭৩% পরিবার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত বা খারাপ পানি খেতে বাধ্য হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে গত ৩৬ বছরে লবণাক্ততা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র থেকে ভূভাগের অনেক ভিতর পর্যন্ত লোনাপানি ঢুকে পড়েছে, ফলে লোকজনকে পানি ও খাবারের সাথে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে লবণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এছাড়া লবাণাক্ততা বৃদ্ধি এ অঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও ফেলেছে। চিকিৎসাবিদদের মতে এ এলাকার বসবাসকারীদের উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভোগার সম্ভাবনা বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে লবণাক্ততায় আক্রান্ত এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের প্রি-একলেম্পশিয়া ও উচ্চরক্তচাপের হার ৬.৮%-৩৯.৫% বেড়েছে। লবণাক্ততার কারনে উপকূলের নারীদের জরায়ু সংক্রমন বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে নারীকেই। ফলে নষ্ট হচ্ছে নারীর শ্রমঘন্টা। শিশুদের অনিরাপদ অবস্থায় রেখে যেতে হচ্ছে ও নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। রোগব্যাধি বাড়ছে, সামগ্রিক জীবনের গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির জন্য বক্তারা যে সকল দাবী তুলে ধরেন, বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা-১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। নিরাপদ পানির সর্বজনীন, ন্যায্য ও সজলভ্যতা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি ও অগ্রাধিকার প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং অর্থ বছরে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে, উপকুলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে, আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনে উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে, পানীয় জলের উৎসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের পূর্বে ওই এলাকার পানির চাহিদা যোগানের পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। ##