০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খুলনায় সেকুরেক্স কোম্পানীর ৬০লাখ টাকা চুরির ঘটনায় অফিস ইনচার্জ ও কমর্চারীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আটক-২

####

খুলনায় সেকুরেক্স কোম্পানির ৬০লাখ টাকা চুরির ঘটনায় অফিস ইনচার্জ তানভীর ও  এটিএম অফিসার রফিকুলসহ কমর্চারীদের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭র্মাচ বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যাশরুমের চাবি খুলে চোরেরা এ টাকা লুটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৯ মার্চ শনিবার সিকিউরেক্স প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির খুলনা অফিসের ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন ৬০লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি সন্দেহভাজন হিসেবে অফিসের এটিএম অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম(৩২) ও সিকিউরিটি গার্ড মোঃ মিলন (৩২) এবং অফিসের ড্রাইভার মোঃ রবিউলসহ ৫জনের পরস্পর যোগসাজসে অজ্ঞাতনামা চোরের মাধ্যমে টাকা চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে অফিসের কমর্চারী ও আটককৃতদের স্বজনদের দাবী অফিস ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন নিজেই যোগসাজসে ক্যাশরুম থেকে ৬০লাখ টাকা লোপাট করে তাদের উপর দায় চাপাচ্ছেন।

সেকুরেক্স কোম্পানির খুলনার অফিস ইনচার্জ তানভীর মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি ইসলামী ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া থেকে টাকা তুলে ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকের ৫২টি এটিএম বুথে এবং বাগেরহাটের বামপালে ব্যাংক এশিয়ার এটিএম বুথে টাকা লোড দিয়ে থাকেন। গত ২৭মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে অফিসের এটিএম অফিসার রফিকুল ইসলাম ও নিরাপত্তা সুপারভাইজার শফিক ও দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড মিলন সরদারের উপস্থিতিতে অফিসের ক্যাশরুমে ৬০ লাখ টাকা রেখে তিনি আবারও ইসলামী ব্যাংকে যান। পরে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার সময় নিরাপত্তা সুপারভাইজার শফিক, সহ:সুপার ভাইজার আজিজ, এটিএম অফিসার ফারুক, ইমন, ইকবাল, ড্রাইভার নাহিদ ও আলামিন ফিরে আসেন। তাদের মধ্যে ইমন ও ইকবাল ক্যাশ প্রসেসিং রুমের তালা খুলে দেখে ক্যাশবাক্সের তালা খোলা রয়েছে এবং সেখানে কোন টাকা নেই। পরবর্তীতে ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ধারনা করেন অজ্ঞাতনামা চোর ভিতরে ঢুকে তালা খুলে নগদ ষাট লাখ টাকা নিয়ে গিয়েছে। চোরকে সহায়তার জন্য দায়িত্বরত সিকিউরিটি, ড্রাইভার, এটিএম অফিসারসহ পাচজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন তিনি। তার ধারনা এদের যোগসাজশে টাকা চুরির নাটক সাজানো হয়েছে।

এ টাকা চুরির ঘটনায় অফিস ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার মামলা দায়েরের পর পুলিশ সন্দেহজনকভাবে পাচজনকেই থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে এটিএম অফিসার নগরীর ১০৭, নাজিরঘাট মেইন রোডের নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ও গাড়ী চালক ডুমুরিয়ার শরাফপুরের কালিকাপুর গ্রামের জাহাতাব মোলঙ্গীর ছেলে মোঃ রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করে।

অফিস কর্মচারী ও আটককৃত মো: রফিকুল ইসলামের স্ত্রীসহ স্বজনরা জানান, অফিসের টাকাসহ সবকিছুই ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন মেইনটেইন করেন। ক্যাশুরমে কোথায়-কিভাবে কত টাকা রাখেন তা তিনিই ভালো জানেন। তিনি টাকা চুরির নাটক সাজিয়ে ৬০লাখ টাকা আত্নসাত করে অফিসের নীরিহ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে তাদেরকে জেলে দিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবীও করেন তারা।

অফিস ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন বলেন, আমি কারও নামে অভিযোগ করিনি, তবে চুরির ঘটনায় এরা জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি ধারনা করে থানায় মামলা করেছেন। ##

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

sunil Dhash

জনপ্রিয়

খুলনায় ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদের অপহরণ চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার, অপহৃত নারী ও টাকা ‍উদ্ধার

খুলনায় সেকুরেক্স কোম্পানীর ৬০লাখ টাকা চুরির ঘটনায় অফিস ইনচার্জ ও কমর্চারীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আটক-২

আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

####

খুলনায় সেকুরেক্স কোম্পানির ৬০লাখ টাকা চুরির ঘটনায় অফিস ইনচার্জ তানভীর ও  এটিএম অফিসার রফিকুলসহ কমর্চারীদের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭র্মাচ বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যাশরুমের চাবি খুলে চোরেরা এ টাকা লুটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৯ মার্চ শনিবার সিকিউরেক্স প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির খুলনা অফিসের ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন ৬০লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি সন্দেহভাজন হিসেবে অফিসের এটিএম অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম(৩২) ও সিকিউরিটি গার্ড মোঃ মিলন (৩২) এবং অফিসের ড্রাইভার মোঃ রবিউলসহ ৫জনের পরস্পর যোগসাজসে অজ্ঞাতনামা চোরের মাধ্যমে টাকা চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে অফিসের কমর্চারী ও আটককৃতদের স্বজনদের দাবী অফিস ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন নিজেই যোগসাজসে ক্যাশরুম থেকে ৬০লাখ টাকা লোপাট করে তাদের উপর দায় চাপাচ্ছেন।

সেকুরেক্স কোম্পানির খুলনার অফিস ইনচার্জ তানভীর মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি ইসলামী ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া থেকে টাকা তুলে ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকের ৫২টি এটিএম বুথে এবং বাগেরহাটের বামপালে ব্যাংক এশিয়ার এটিএম বুথে টাকা লোড দিয়ে থাকেন। গত ২৭মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে অফিসের এটিএম অফিসার রফিকুল ইসলাম ও নিরাপত্তা সুপারভাইজার শফিক ও দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড মিলন সরদারের উপস্থিতিতে অফিসের ক্যাশরুমে ৬০ লাখ টাকা রেখে তিনি আবারও ইসলামী ব্যাংকে যান। পরে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার সময় নিরাপত্তা সুপারভাইজার শফিক, সহ:সুপার ভাইজার আজিজ, এটিএম অফিসার ফারুক, ইমন, ইকবাল, ড্রাইভার নাহিদ ও আলামিন ফিরে আসেন। তাদের মধ্যে ইমন ও ইকবাল ক্যাশ প্রসেসিং রুমের তালা খুলে দেখে ক্যাশবাক্সের তালা খোলা রয়েছে এবং সেখানে কোন টাকা নেই। পরবর্তীতে ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ধারনা করেন অজ্ঞাতনামা চোর ভিতরে ঢুকে তালা খুলে নগদ ষাট লাখ টাকা নিয়ে গিয়েছে। চোরকে সহায়তার জন্য দায়িত্বরত সিকিউরিটি, ড্রাইভার, এটিএম অফিসারসহ পাচজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন তিনি। তার ধারনা এদের যোগসাজশে টাকা চুরির নাটক সাজানো হয়েছে।

এ টাকা চুরির ঘটনায় অফিস ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার মামলা দায়েরের পর পুলিশ সন্দেহজনকভাবে পাচজনকেই থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে এটিএম অফিসার নগরীর ১০৭, নাজিরঘাট মেইন রোডের নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ও গাড়ী চালক ডুমুরিয়ার শরাফপুরের কালিকাপুর গ্রামের জাহাতাব মোলঙ্গীর ছেলে মোঃ রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করে।

অফিস কর্মচারী ও আটককৃত মো: রফিকুল ইসলামের স্ত্রীসহ স্বজনরা জানান, অফিসের টাকাসহ সবকিছুই ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন মেইনটেইন করেন। ক্যাশুরমে কোথায়-কিভাবে কত টাকা রাখেন তা তিনিই ভালো জানেন। তিনি টাকা চুরির নাটক সাজিয়ে ৬০লাখ টাকা আত্নসাত করে অফিসের নীরিহ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে তাদেরকে জেলে দিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবীও করেন তারা।

অফিস ইনচার্জ তানভীর হোসেন নয়ন বলেন, আমি কারও নামে অভিযোগ করিনি, তবে চুরির ঘটনায় এরা জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি ধারনা করে থানায় মামলা করেছেন। ##