রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় সাবেক শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জমি ও জাত নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডোমের বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। মা ও মেয়ের ময়নাতদন্তেও ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।
পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তী সিদ্ধার্থ দাসের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন। ওই জমির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া বাড়ি নির্মাণের সময় সিদ্ধার্থ দাস গণপতি চক্রবর্তীর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আদালতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা: পুলিশ জানায়, গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করছিলেন। ভোরে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখতে পান এবং ধমক দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মান-সম্মানের ক্ষতি হবে-এমন আশঙ্কা থেকে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। শব্দ শুনে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সেখানে এলে তাদেরও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ ওরফে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়।
নিজেদের আড়াল করতে বিদ্যুতের তার কাটে: পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ হলে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ প্লাস দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেন। সকালে মানুষজনের চলাচল শুরু হলে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তারা বাসার ভেতরেই অবস্থান করেন। পরে শুক্রবার নামাজের সময় লোকজনের চলাচল কম থাকায় তারা বাসা থেকে বের হয়ে যান। পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর মুগ্ধ দাসকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি প্রায় তিন কিলোমিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে একটি শ্মশানের কেয়ারটেকারের কক্ষের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেয়ারটেকারের জবানবন্দি: পুলিশ জানায়, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাস। জবানবন্দিতে তিনি জানান, চারজনকে হত্যার পর সিদ্ধার্থ দাস সেখানে গিয়ে আশ্রয় ও পানি চেয়েছিলেন। তবে তিনি তাকে পানি বা আশ্রয় দেননি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ সেখান থেকে সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করে।
ডোমের বক্তব্য সঠিক নয়: পুলিশ; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডোমের বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোমের একটি বক্তব্য শুনেছি। সেটি সঠিক নয়। তিনি বলেন, গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে-ময়নাতদন্তে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। নিহত শিক্ষকের স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর মরদেহে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বলেন, মরদেহের যে অংশ বাতাসের সংস্পর্শে থাকে, সে অংশ ধীরে ধীরে কালো হয়ে যায়। পুরো মরদেহ পচনপ্রক্রিয়ার মধ্যেও কালো হয়ে যেতে পারে। ময়নাতদন্তে অ্যাসিড বা ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন আসামির বাবার: এদিকে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে ‘ভুয়া’ দাবি করেছেন সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস। তিনি বলেন, পুলিশের এমন বক্তব্য শুনে আমি অবাক। নিজের মতো করে কাগজ দেখে ইচ্ছামতো কথা বলছে। আমার ছেলেটাকে শেষ করে দিল। যা বলছে, সব মিথ্যা কথা। আমার ছেলে এমন কাজ করতে পারে না। আমি বাবা, আমিই তো জানি।
রংপুর ব্যুরো : 


















