০৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অনিয়ম, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সময় টিভির বার্তা প্রধানকে হয়রানি; নিন্দা ও প্রতিবাদ

###    পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের তোয়াক্কা না করে ফল প্রকাশ, ফেল করা ছাত্রকে পাস করানোসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়লেও, বহাল তবিয়তে রয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক। বিতর্কিত সাবেক ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর আমলে সংঘটিত এসব অপকর্মের বিচার চাওয়ায় দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন কলিমুল্লাহ চক্রের প্রভাবশালী সদস্য সামসুল হক। আর একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তার দুর্নীতি অনুসন্ধান ও তদন্তে কমিটি গঠনের খবর স্ক্রলে প্রচারের অপরাধে সময় সংবাদের বার্তা প্রধান ও স্থানীয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক।

২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে ফল প্রকাশের একটি ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ভিসি ড. কলিমুল্লাহবিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ৭ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক গংয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষকের বিস্তারিত নম্বরপত্র ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই ২০১৭ সালের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ ব্যাপারে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলেও, এই অভিযোগ করার অপরাধে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ চৌধুরী জানান, উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সময়ে আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। ওই অভিযোগ দেয়ার পরে আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিলো। পরে সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়।এরপর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র শামীম ইসলাম ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ল্যাব-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও তাকে প্রমোটেড দেখানো হয়। এই ফলাফলের যাচাইকারী ছিলেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক।

এ বিষয়ে বেরোবির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী জানান, ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের রেজাল্ট নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে একটা এজেন্ডা হয়েছিলো। ওই কাউন্সিলে ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের ছাত্র শামীম ইসলামের রেজাল্টের অসঙ্গিত একাডেমিক কাউন্সিলের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটি একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। কমিটি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এ পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফলাফল প্রস্তুতকারী ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের অসাবধানতার কারণে ‘এফ’ গ্রেড প্রাপ্ত ছাত্র শামীম ইসলামকে ‘প্রমোটেড’ দেখানো হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে ২০২২ সালের ৩১ মে উপউপাচার্য ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দেয়া অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণক দফতরের ফলাফল প্রস্তুতকারী মাহবুবার রহমান ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের অসতর্কতা ও অসাবধনতার কারণে ‘এফ’ গ্রেড প্রাপ্ত শিক্ষার্থী শামীম ইসলামকে ‘প্রমোটেড’ দেখানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যায় প্রশাসনের বিভিন্ন নথি ও চিঠিপত্রে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের নামসহ বারবার বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর একাডেমিক কাউন্সিলের ৪২তম সভার কার্যবিবরণীতে তথ্যানুসন্ধান কমিটির পুরো প্রতিবেদনটির উল্লেখ রয়েছে।

২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর সিন্ডিকেটের ৯১তম সভায় তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অনুমোদন হলে ঘটনাটি তদন্তে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।ওই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, এটা প্রথমে একটা তথ্য-অনুসন্ধান কমিটি হয়েছিলো। সেই কমিটি তথ্য সংগ্রহ করে একটা ফাইল জমা দেয়। তার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। দুটি ঘটনায় উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের নাম ঘুরেফিরে উঠে আসে। শুরু থেকেই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও বিতর্কিত ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য হওয়ায় সেসময় ঘটনাগুলো ধামাচাপা থাকে। কিন্তু ড. কলিমুল্লাহর বিদায়ের পর নতুন ভিসি ড. হাসিবুর রশীদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সামসুল হকের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন।

সামসুল হকের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ অবগত হবার পর ২০২২ সালের ৮ আগস্ট সময় সংবাদের স্ক্রলে ‘রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন’ শীরোনামে খবরটি প্রকাশিত হয়।

এই খবর প্রকাশের পর ২০২২ সালে ২১ সেপ্টেম্বর রংপুরের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮-এর ২৫(১) (ক)/২৯ ধারায় মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে ৫০ লাখ টাকার মানহানির অভিযোগ তুলে সময় টেলিভিশনের বার্তা প্রধান মুজতবা দানিশ ও রংপুরের ব্যুরো প্রধান রতন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে সময় সংবাদের হেড অব নিউজ মুজতবা দানিশ বলেন, ঠিকানা যাচাইয়ের কথা বলে প্রথমে শাহবাগ থানার পুলিশ আসে তার কর্মস্থল সময় টেলিভিশনে। এরপর আসে কলাবাগান থানার পুলিশ। চাহিদামত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দেয়া হয় পুলিশকে। এর কিছুদিন না যেতেই মুজতবা দানিশের স্ত্রীর ইস্কাটনের সচিব ভবনে হাজির হন রমনা থানার আরেকজন। প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে তিনিও চলে যান। এরই মধ্যে মুজতবা দানিশের স্ত্রী হাতিরঝিলের বাসায় উঠলে সবশেষ মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সেখানেও হাজির হন হাতিরঝিল থানার এএসআই মাহাবুব। যার আচরণ ছিলো একেবারে অপেশাদারসুলভ।

এক, দুই, তিন থানা নয়, সময় টেলিভিশনের র্বাতা প্রধান মুজতবা দানিশের খুজছে ৫ থানার পুলিশ। সময় টিভির বার্তা প্রধানের দাবি, হয়রানির জন্যই একই বিষয়ে একাধিক থানার পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড।

সময় সংবাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতে মামলার আবেদনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

পুটিয়া উপজেলা নির্বাচনে ৩৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন

অনিয়ম, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সময় টিভির বার্তা প্রধানকে হয়রানি; নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রকাশিত সময় : ১২:৪৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের তোয়াক্কা না করে ফল প্রকাশ, ফেল করা ছাত্রকে পাস করানোসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়লেও, বহাল তবিয়তে রয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক। বিতর্কিত সাবেক ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর আমলে সংঘটিত এসব অপকর্মের বিচার চাওয়ায় দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন কলিমুল্লাহ চক্রের প্রভাবশালী সদস্য সামসুল হক। আর একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তার দুর্নীতি অনুসন্ধান ও তদন্তে কমিটি গঠনের খবর স্ক্রলে প্রচারের অপরাধে সময় সংবাদের বার্তা প্রধান ও স্থানীয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক।

২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে ফল প্রকাশের একটি ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ভিসি ড. কলিমুল্লাহবিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ৭ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক গংয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষকের বিস্তারিত নম্বরপত্র ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই ২০১৭ সালের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ ব্যাপারে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলেও, এই অভিযোগ করার অপরাধে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ চৌধুরী জানান, উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সময়ে আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। ওই অভিযোগ দেয়ার পরে আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিলো। পরে সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়।এরপর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র শামীম ইসলাম ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ল্যাব-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও তাকে প্রমোটেড দেখানো হয়। এই ফলাফলের যাচাইকারী ছিলেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক।

এ বিষয়ে বেরোবির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী জানান, ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের রেজাল্ট নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে একটা এজেন্ডা হয়েছিলো। ওই কাউন্সিলে ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের ছাত্র শামীম ইসলামের রেজাল্টের অসঙ্গিত একাডেমিক কাউন্সিলের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটি একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। কমিটি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এ পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফলাফল প্রস্তুতকারী ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের অসাবধানতার কারণে ‘এফ’ গ্রেড প্রাপ্ত ছাত্র শামীম ইসলামকে ‘প্রমোটেড’ দেখানো হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে ২০২২ সালের ৩১ মে উপউপাচার্য ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দেয়া অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণক দফতরের ফলাফল প্রস্তুতকারী মাহবুবার রহমান ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের অসতর্কতা ও অসাবধনতার কারণে ‘এফ’ গ্রেড প্রাপ্ত শিক্ষার্থী শামীম ইসলামকে ‘প্রমোটেড’ দেখানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যায় প্রশাসনের বিভিন্ন নথি ও চিঠিপত্রে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের নামসহ বারবার বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর একাডেমিক কাউন্সিলের ৪২তম সভার কার্যবিবরণীতে তথ্যানুসন্ধান কমিটির পুরো প্রতিবেদনটির উল্লেখ রয়েছে।

২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর সিন্ডিকেটের ৯১তম সভায় তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অনুমোদন হলে ঘটনাটি তদন্তে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।ওই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, এটা প্রথমে একটা তথ্য-অনুসন্ধান কমিটি হয়েছিলো। সেই কমিটি তথ্য সংগ্রহ করে একটা ফাইল জমা দেয়। তার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। দুটি ঘটনায় উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের নাম ঘুরেফিরে উঠে আসে। শুরু থেকেই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও বিতর্কিত ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য হওয়ায় সেসময় ঘটনাগুলো ধামাচাপা থাকে। কিন্তু ড. কলিমুল্লাহর বিদায়ের পর নতুন ভিসি ড. হাসিবুর রশীদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সামসুল হকের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন।

সামসুল হকের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ অবগত হবার পর ২০২২ সালের ৮ আগস্ট সময় সংবাদের স্ক্রলে ‘রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হকের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন’ শীরোনামে খবরটি প্রকাশিত হয়।

এই খবর প্রকাশের পর ২০২২ সালে ২১ সেপ্টেম্বর রংপুরের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮-এর ২৫(১) (ক)/২৯ ধারায় মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে ৫০ লাখ টাকার মানহানির অভিযোগ তুলে সময় টেলিভিশনের বার্তা প্রধান মুজতবা দানিশ ও রংপুরের ব্যুরো প্রধান রতন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে সময় সংবাদের হেড অব নিউজ মুজতবা দানিশ বলেন, ঠিকানা যাচাইয়ের কথা বলে প্রথমে শাহবাগ থানার পুলিশ আসে তার কর্মস্থল সময় টেলিভিশনে। এরপর আসে কলাবাগান থানার পুলিশ। চাহিদামত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দেয়া হয় পুলিশকে। এর কিছুদিন না যেতেই মুজতবা দানিশের স্ত্রীর ইস্কাটনের সচিব ভবনে হাজির হন রমনা থানার আরেকজন। প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে তিনিও চলে যান। এরই মধ্যে মুজতবা দানিশের স্ত্রী হাতিরঝিলের বাসায় উঠলে সবশেষ মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সেখানেও হাজির হন হাতিরঝিল থানার এএসআই মাহাবুব। যার আচরণ ছিলো একেবারে অপেশাদারসুলভ।

এক, দুই, তিন থানা নয়, সময় টেলিভিশনের র্বাতা প্রধান মুজতবা দানিশের খুজছে ৫ থানার পুলিশ। সময় টিভির বার্তা প্রধানের দাবি, হয়রানির জন্যই একই বিষয়ে একাধিক থানার পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড।

সময় সংবাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতে মামলার আবেদনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।