১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ প্রকাশের পর সত্যতা পেয়েছে কতৃর্পক্ষ :

অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে ০৮ ওএমএস ডিলার ও ট্যাগ অফিসারকে শো’কজ, ডিলারের কার্যক্রম স্থগিত

###    খুলনা মহানগরীতে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী বাস্তবায়নে নিয়োজিত ওএমএস ডিলারদের অনিয়ম-দূর্নীতি ও খাদ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনা নিয়ে দৈনিক মধুমতি’তে সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে সরেজমিন মনিটোরিংয়ে গিয়ে সত্যতা পেয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। পত্রিকার সংবাদের সূত্র ধরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম সরেজমিন মনিটরিংয়ে গিয়ে ডিলার এবং তদারকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির দেখতে পায়। পরে সিটি মেয়রের নির্দেশনায় ২২মার্চ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম মহানগরীতে ওএমএসের চাল-আটা বিক্রয় কার্যাক্রমে অনিয়মের অভিযোগে ০৪ ডিলার ও ০৪ তদারকি কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। শোকজ নোটিশ পাওয়া ০৪ ডিলার হলো-মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স কাজী ট্রেডার্স, মেসার্স এ এন্ড টি ট্রেডার্স এবং মেসার্স ইমরান এন্টারপ্রাইজ। এসব ডিলারদের তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন, খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, খাদ্য পরিদর্শক সুব্রত কুমার কুন্ডু ও গাড়ী সহকারী মিজান শেখকেও শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে অভিযুক্ত ০৪ জন ডিলারকে তাদের ওএমএস পয়েন্টে চাল-আটা বিক্রয়ের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িক স্থগিত এবং তদারকি কর্মকর্তাদের ওএমএস কার্যক্রমের তদারকী কর্মকর্তা হতে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্ত ডিলার ও  তদারকি কর্মকর্তাদের ০৩ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। গত ২২মার্চ দৈনিক মধুমতি পত্রিকায় ‘‘নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই ওএমএসের পরিদর্শক, ডিলারদের অনিয়মে বঞ্চিত হতদরিদ্ররা, বাড়ছে ক্ষোভ’’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং শোকজ নোটিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের নেয়া খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় খুলনা মহানগরী এলাকার ৯২জন ওএমএস ডিলারের মধ্যে প্রতিদিন ৩৭ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএসের চাল-আট কমমূল্যে খোলা বাজারে বিক্রয় করা হয়। তার মধ্যে ২৪ জন ডিলার স্থায়ী দোকানে দেড় টন চাল ও ১ টন আটা এবং ১৩ জন ডিলার ট্রাক সেলের মাধ্যমে শুধুমাত্র ২ টন চাল খোলা বাজারের বিক্রয় করে। ওএমএসের প্রতিটি স্থায়ী দোকানে এবং ট্রাক সেলের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করতে ১জন করে তদারকী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। তারা ওএমএস ডিলার সঠিক নিয়মে ও সুষ্ঠুভাবে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করে কিনা সে বিষয়ে তদারকি করে থাকে। তবে গত ২২মার্চ নগরীর খালিশপুরের বায়তুল আকরাম জামে মসজিদ মার্কেট এলাকায় মেসার্স ইমরান এন্টারপ্রাইজ, খালিশপুরের চিত্রালী বাজার এলাকায় মেসার্স এ এন্ড টি ট্রেডার্স, খালিশপুর মানসী বিল্ডিং মোড় এলাকায় মেসার্স কাজী ট্রেডার্স ও খালিশপুর আরবান ক্লিনিকের সামনে মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ ওএমএস ডিলার হিসেবে কমমূল্যে দেড় টন চাল ও ১ টন আটা বিক্রয় করেন। যেখানে প্রতিজনের নিকট কমমূল্যে ৫কেজি চাল এবং ৫কেজি করে আটা বিক্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এসব পয়েন্টে তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে আঞ্চলিক ফুড মটর গ্যারেজের গাড়ী সহকারী মিজান শেখ, খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন, খুলনা মহেশ^রপাশা সিএসডির খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান এবং খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক সুব্রত কুমার কুন্ডু। ৪টি ডিলার পয়েন্টের মধ্যে মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এ এন্ড টি ট্রেডার্স, মেসার্স ইমরান এন্টারপ্রাইজ প্রতিজনের নিকট ৫কেজি চাল বিক্রয় করলেও ৫কেজি আট বিক্রয় না করে ২কেজি করে আটা বিক্রয় করেন। অন্যদিকে, খালিশপুর মানসী বিল্ডিং মোড় এলাকায় ওএমএস ডিলার মেসার্স কাজী ট্রেডার্স ওএমএসের আটার পর্যাপ্ত আটা থাকা সত্ত্বেও মজুদ আটা লুকিয়ে রেখে ভোক্তাদের নিকট চাল বিক্রয় করেন। খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম সরেজমিন আকস্মিক পরিদর্শনকালে ডিরারদের এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। পরবর্তীতে খুলনা সিটি মেয়র সরেজমিন পরিদর্শনে পাওয়া অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ প্রদান করেন। তারই প্রেক্ষিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দোষীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং অভিযুক্ত ৪ ডিলারকে তাদের ওএমএস পয়েন্টে চাল-আটা বিক্রয়ের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িক স্থগিত এবং তদারকি কর্মকর্তাদের ওএমএস কার্যক্রমের তদারকী কর্মকর্তা হতে অব্যহতি প্রদান করেছে। এ ঘটনায় মহানগরীর ওএমএসের ৯২ ডিলারের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রমজান আলী জানান, আমরা সকাল থেকে প্রত্যেক ভোক্তাকে ৫ কেজি করে আটা দিচ্ছিলাম। তবে দুপুরের দিকে লোকজন বেশী হওয়ায় সবাইকে দেয়ার জন্য ২ কেজি করে আটা দেয়া শুরু করি। আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক সুব্রত কুমার কুন্ডু জানান, খালিশপুর আরবান ক্লিনিকের সামনে মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ ওএমএস ডিলারের বিক্রয় কার্যক্রমে আমি তদারকি কর্মকর্তা ছিলাম। যেহেতু প্রত্যেক ডিলারকে দেড় টন চাল এবং ১ টন আটা দেয়া হয়। তাই সব ভোক্তা ৫ কেজি চাল নিলেও ৫ কেজি আটা পায় না। তাই লোকজন বেশি থাকায় ডিলার শেষের দিকে ভোক্তাদের নিকট ২ কেজি করে আটা বিক্রয় করেন।এ বিষয়ে মেসার্স কাজী ট্রেডার্সের প্রতিনিধি জেসমিন সুলতানা জানান, আমি শোকজ নোটিশ পেয়েছি। তবে মূল ঘটনা হলো আমাদের পয়েন্টে বন্টন করার সময়ে একপাশে ৩ বস্তা আটা রাখা ছিলো। বিলি করা খালি বস্তাগুলো ওই বস্তার উপর রাখা ছিলো। ডিসি ফুড মহোদয় না বুঝেই আমরা আটা লুকিয়ে রেখেছি বলে মন্তব্য করেছেন। এখানে আমাদের কোন দোষ নেই।

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম জানান, ওএমএস কার্যক্রমের ৪জন ডিলার এবং সেসব পয়েন্টের তদারকি কর্মকর্তাদের ওএমএস নীতিমালা ২০১৫-এর পরিপন্থি কাজ করেছে। খুলনার সিটি মেয়র এবং আমি নিজে এসব জায়গায় আকস্মিক পরিদর্শনকালে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। অনিয়মের প্রেক্ষিতে তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নেয়া খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কমমূল্যে চাল-আটা বিক্রয় করা হচ্ছে। সরকারের এ মহৎ প্রচেষ্টা তা কোনভাবেই নষ্ট করা যাবে না। এখানে কোন ধরণের অনিয়ম-দুর্নীতি কাম্য নয়। এখানে শুধু আমরাই নয়-খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনও তদারকি করছে।এ ধরণের তদারকি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, নগরীতে ওএমএস ডিলারদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে খবর পেয়ে কয়েকটি পয়েন্ট পরিদর্শন করে চাল-আটা বিক্রিতে অনিয়ম ধরা পড়ে। তাৎক্ষনিকভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। মাননীয় প্রধানন্ত্রীর খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য কমমূল্যে চাল-আটা বিক্রয়ের কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি যে বা যারাই করুক না কেন সে নিজের দলের হলেও ছাড় দেয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

কেইউজের নির্বাচন ২৯ জুন :  ভুয়া কমিটি নিয়ে বিভ্রান্ত না হতে সদস্যদের প্রতি নেতৃবৃন্দের আহ্বান

সংবাদ প্রকাশের পর সত্যতা পেয়েছে কতৃর্পক্ষ :

অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে ০৮ ওএমএস ডিলার ও ট্যাগ অফিসারকে শো’কজ, ডিলারের কার্যক্রম স্থগিত

প্রকাশিত সময় : ০৮:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

###    খুলনা মহানগরীতে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী বাস্তবায়নে নিয়োজিত ওএমএস ডিলারদের অনিয়ম-দূর্নীতি ও খাদ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনা নিয়ে দৈনিক মধুমতি’তে সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে সরেজমিন মনিটোরিংয়ে গিয়ে সত্যতা পেয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। পত্রিকার সংবাদের সূত্র ধরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম সরেজমিন মনিটরিংয়ে গিয়ে ডিলার এবং তদারকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির দেখতে পায়। পরে সিটি মেয়রের নির্দেশনায় ২২মার্চ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম মহানগরীতে ওএমএসের চাল-আটা বিক্রয় কার্যাক্রমে অনিয়মের অভিযোগে ০৪ ডিলার ও ০৪ তদারকি কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। শোকজ নোটিশ পাওয়া ০৪ ডিলার হলো-মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স কাজী ট্রেডার্স, মেসার্স এ এন্ড টি ট্রেডার্স এবং মেসার্স ইমরান এন্টারপ্রাইজ। এসব ডিলারদের তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন, খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, খাদ্য পরিদর্শক সুব্রত কুমার কুন্ডু ও গাড়ী সহকারী মিজান শেখকেও শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে অভিযুক্ত ০৪ জন ডিলারকে তাদের ওএমএস পয়েন্টে চাল-আটা বিক্রয়ের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িক স্থগিত এবং তদারকি কর্মকর্তাদের ওএমএস কার্যক্রমের তদারকী কর্মকর্তা হতে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্ত ডিলার ও  তদারকি কর্মকর্তাদের ০৩ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। গত ২২মার্চ দৈনিক মধুমতি পত্রিকায় ‘‘নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই ওএমএসের পরিদর্শক, ডিলারদের অনিয়মে বঞ্চিত হতদরিদ্ররা, বাড়ছে ক্ষোভ’’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং শোকজ নোটিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের নেয়া খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় খুলনা মহানগরী এলাকার ৯২জন ওএমএস ডিলারের মধ্যে প্রতিদিন ৩৭ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএসের চাল-আট কমমূল্যে খোলা বাজারে বিক্রয় করা হয়। তার মধ্যে ২৪ জন ডিলার স্থায়ী দোকানে দেড় টন চাল ও ১ টন আটা এবং ১৩ জন ডিলার ট্রাক সেলের মাধ্যমে শুধুমাত্র ২ টন চাল খোলা বাজারের বিক্রয় করে। ওএমএসের প্রতিটি স্থায়ী দোকানে এবং ট্রাক সেলের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করতে ১জন করে তদারকী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। তারা ওএমএস ডিলার সঠিক নিয়মে ও সুষ্ঠুভাবে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করে কিনা সে বিষয়ে তদারকি করে থাকে। তবে গত ২২মার্চ নগরীর খালিশপুরের বায়তুল আকরাম জামে মসজিদ মার্কেট এলাকায় মেসার্স ইমরান এন্টারপ্রাইজ, খালিশপুরের চিত্রালী বাজার এলাকায় মেসার্স এ এন্ড টি ট্রেডার্স, খালিশপুর মানসী বিল্ডিং মোড় এলাকায় মেসার্স কাজী ট্রেডার্স ও খালিশপুর আরবান ক্লিনিকের সামনে মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ ওএমএস ডিলার হিসেবে কমমূল্যে দেড় টন চাল ও ১ টন আটা বিক্রয় করেন। যেখানে প্রতিজনের নিকট কমমূল্যে ৫কেজি চাল এবং ৫কেজি করে আটা বিক্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এসব পয়েন্টে তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে আঞ্চলিক ফুড মটর গ্যারেজের গাড়ী সহকারী মিজান শেখ, খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন, খুলনা মহেশ^রপাশা সিএসডির খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান এবং খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক সুব্রত কুমার কুন্ডু। ৪টি ডিলার পয়েন্টের মধ্যে মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এ এন্ড টি ট্রেডার্স, মেসার্স ইমরান এন্টারপ্রাইজ প্রতিজনের নিকট ৫কেজি চাল বিক্রয় করলেও ৫কেজি আট বিক্রয় না করে ২কেজি করে আটা বিক্রয় করেন। অন্যদিকে, খালিশপুর মানসী বিল্ডিং মোড় এলাকায় ওএমএস ডিলার মেসার্স কাজী ট্রেডার্স ওএমএসের আটার পর্যাপ্ত আটা থাকা সত্ত্বেও মজুদ আটা লুকিয়ে রেখে ভোক্তাদের নিকট চাল বিক্রয় করেন। খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম সরেজমিন আকস্মিক পরিদর্শনকালে ডিরারদের এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। পরবর্তীতে খুলনা সিটি মেয়র সরেজমিন পরিদর্শনে পাওয়া অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ প্রদান করেন। তারই প্রেক্ষিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দোষীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং অভিযুক্ত ৪ ডিলারকে তাদের ওএমএস পয়েন্টে চাল-আটা বিক্রয়ের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িক স্থগিত এবং তদারকি কর্মকর্তাদের ওএমএস কার্যক্রমের তদারকী কর্মকর্তা হতে অব্যহতি প্রদান করেছে। এ ঘটনায় মহানগরীর ওএমএসের ৯২ ডিলারের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রমজান আলী জানান, আমরা সকাল থেকে প্রত্যেক ভোক্তাকে ৫ কেজি করে আটা দিচ্ছিলাম। তবে দুপুরের দিকে লোকজন বেশী হওয়ায় সবাইকে দেয়ার জন্য ২ কেজি করে আটা দেয়া শুরু করি। আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক সুব্রত কুমার কুন্ডু জানান, খালিশপুর আরবান ক্লিনিকের সামনে মেসার্স রমজান এন্টারপ্রাইজ ওএমএস ডিলারের বিক্রয় কার্যক্রমে আমি তদারকি কর্মকর্তা ছিলাম। যেহেতু প্রত্যেক ডিলারকে দেড় টন চাল এবং ১ টন আটা দেয়া হয়। তাই সব ভোক্তা ৫ কেজি চাল নিলেও ৫ কেজি আটা পায় না। তাই লোকজন বেশি থাকায় ডিলার শেষের দিকে ভোক্তাদের নিকট ২ কেজি করে আটা বিক্রয় করেন।এ বিষয়ে মেসার্স কাজী ট্রেডার্সের প্রতিনিধি জেসমিন সুলতানা জানান, আমি শোকজ নোটিশ পেয়েছি। তবে মূল ঘটনা হলো আমাদের পয়েন্টে বন্টন করার সময়ে একপাশে ৩ বস্তা আটা রাখা ছিলো। বিলি করা খালি বস্তাগুলো ওই বস্তার উপর রাখা ছিলো। ডিসি ফুড মহোদয় না বুঝেই আমরা আটা লুকিয়ে রেখেছি বলে মন্তব্য করেছেন। এখানে আমাদের কোন দোষ নেই।

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তাজুল ইসলাম জানান, ওএমএস কার্যক্রমের ৪জন ডিলার এবং সেসব পয়েন্টের তদারকি কর্মকর্তাদের ওএমএস নীতিমালা ২০১৫-এর পরিপন্থি কাজ করেছে। খুলনার সিটি মেয়র এবং আমি নিজে এসব জায়গায় আকস্মিক পরিদর্শনকালে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। অনিয়মের প্রেক্ষিতে তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নেয়া খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কমমূল্যে চাল-আটা বিক্রয় করা হচ্ছে। সরকারের এ মহৎ প্রচেষ্টা তা কোনভাবেই নষ্ট করা যাবে না। এখানে কোন ধরণের অনিয়ম-দুর্নীতি কাম্য নয়। এখানে শুধু আমরাই নয়-খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনও তদারকি করছে।এ ধরণের তদারকি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, নগরীতে ওএমএস ডিলারদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে খবর পেয়ে কয়েকটি পয়েন্ট পরিদর্শন করে চাল-আটা বিক্রিতে অনিয়ম ধরা পড়ে। তাৎক্ষনিকভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। মাননীয় প্রধানন্ত্রীর খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য কমমূল্যে চাল-আটা বিক্রয়ের কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি যে বা যারাই করুক না কেন সে নিজের দলের হলেও ছাড় দেয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ##