০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার 

অভয়নগরে নকল লতিফ বিড়ি বিক্রয় ও চাকুরি দেওয়ার নামে প্রতারণা

###    যশোরের অভয়নগরে নকল লতিফ বিড়ি বিক্রয় ও চাকুরি দেওয়ার নামে ষ্টাম্পে সই করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নিবার্হী অফিসার বরাবর দেয়াপাড়া গ্রামের মৃত. কালাম মোল্যার ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালিন সময়ে আশরাফুল বেকার হয়ে বাড়ির লোকজনকে নিয়ে দিনাপিত করতে থাকেন। অসহায় জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে কাজ খুঁজতে থাকেন। এলাকার পরিচিত বাবলু শেখ নামের এক ব্যক্তি লতিফ বিড়ি কারখানা ও গোডাউনে কাজ দেন। কাজে  যোগদানের পর ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তারা সাদা ষ্ট্যাম্পে সই করে নেয়। কয়েক মাস যাওয়ার পরে তিনি জানতে পারেন। লতিফ বিড়ি সরকারে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ও নকল ব্যান্ড রোল বানিয়ে অভয়নগর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় বিক্রয় করে আসছেন। এক পযার্য়ে আশরাফুল কাজ করবো না বলে তাদের জানিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানের কর্তারাদের কাছে সাদা ষ্ট্যাম্প ফেরত চাইলে। তারা টালবাহানা করতে থাকে। কয়েকমাস যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, অন্যান্যে ব্যক্তিদের কাছ থেকে সইযুক্ত সাদা ষ্ট্যম্পে নিয়ে মামলা করে । ভুকক্তেভুগীদের সাথে প্রতারনা ও জিম্মী করে তারা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগে আরো জানা যায়, উপজেলার নওয়াপাড়া পাচঁকবর এলাকার আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে মো. শাকিল হোসেন ও মো. শামিম বিশ্বাস লতিফ বিড়ির কারখানা ও গোডাউন দেখাশুনা করেন। মো. শাকিল হোসেন সাদা ষ্ট্যাম্পে সই করে নিয়ে যশোরে কোর্টে ৩ লাখ টাকা কর্জ্জ্ব দেখিয়ে আশরাফুলের নামে মামলা দায়ের করেন, তারিখ ২৯/১/২৩। সি আর ৭৬/২৩। মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছ থেকে ১০০ টাকার ষ্ট্যাম্প দুইটা ও ৫০ টাকার ষ্ট্যাম্প একটি চাকুরী বাবদে জমা নেয়। আমার অসহায়ত্ব সুযোগ নিয়ে আমাকে মামলা দিয়ে আমার সাথে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। লতিফ বিড়ি নকল কিনা তা মালামাল চেক করলে পাওয়া যাবে। তাদের বাড়ির ভিতর গোপন জায়গায় নকল সরাঞ্জাম রয়েছে। আমার জানা মতে ৬/৭ মাস আগে নকল লতিফ বিড়ির দায়ে এ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে রাজস্ব বিভাগ। তাদের ঝিকরগাছা ও অভয়নগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গোডাউন রয়েছে। উল্লেখ্য, ঝিকরগাছায় গত জুন ০৩, ২০২০ সালে নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত এক লাখ শলাকা লতিফ বিড়ি ও ২০ হাজার পিস নকল ব্যান্ড রোল উদ্ধার করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোরের কর্মকর্তারা। ঝিকরগাছায় উপজেলার রাজারডুমুরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির মামলা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২১ সালে ১৬ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি ও ২ হাজার ৭০০ পিস নকল ব্যান্ড রোল এবং আর এক জনের থেকে ২৯ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি ও ১১ হাজার ৭৬০ পিস নকল ব্যান্ড রোল উদ্ধার করা হয়। ওই সময় এছাড়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৫৫ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি ও ৫ হাজার ৫৪০ পিস নকল ব্যান্ড রোল জব্দ করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ।  প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনের ধারা ১১১ অনুযায়ী যশোর বিচারিক আদালতে ফৌজদারি মামলা এবং ধারা ৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।  এই সংবাদটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে মো. শাকিল হোসেন বলেন, আশরাফুল আমাদের লতিফ বিড়ি কারখানায় সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতো । টাকা ধার নেয়ায় যশোরে কোর্টে ৩ লাখ টাকা কর্জ্জ্ব দেখিয়ে মামলা করি। সাদা ষ্টাম্পের কথা বললে তিনি এড়িয়ে যান। মো. শামিন বিশ্বাস জানান, নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি শলাকা সর্ম্পকে বললে তিনি স্থানীয় এক নেতাকে নিয়ে দেখা করতে চান বলে মুঠোফোনটি কেটে দেন। আব্দুল লতিফ মুঠোফোনে বলেন, ষ্ট্যাম্পে সই করা, নকল ব্যান্ড রোল, রাজস্ব ফাকিঁ দেওয়ার বিষয়ে বললে তিনি ছেলেদের সাথে কথা বলতে বলেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার মেজবাহ উদদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক একীভূতকরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা রুখে দাড়ানোর আহবান

রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার 

অভয়নগরে নকল লতিফ বিড়ি বিক্রয় ও চাকুরি দেওয়ার নামে প্রতারণা

প্রকাশিত সময় : ০৫:২২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    যশোরের অভয়নগরে নকল লতিফ বিড়ি বিক্রয় ও চাকুরি দেওয়ার নামে ষ্টাম্পে সই করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নিবার্হী অফিসার বরাবর দেয়াপাড়া গ্রামের মৃত. কালাম মোল্যার ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালিন সময়ে আশরাফুল বেকার হয়ে বাড়ির লোকজনকে নিয়ে দিনাপিত করতে থাকেন। অসহায় জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে কাজ খুঁজতে থাকেন। এলাকার পরিচিত বাবলু শেখ নামের এক ব্যক্তি লতিফ বিড়ি কারখানা ও গোডাউনে কাজ দেন। কাজে  যোগদানের পর ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তারা সাদা ষ্ট্যাম্পে সই করে নেয়। কয়েক মাস যাওয়ার পরে তিনি জানতে পারেন। লতিফ বিড়ি সরকারে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ও নকল ব্যান্ড রোল বানিয়ে অভয়নগর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় বিক্রয় করে আসছেন। এক পযার্য়ে আশরাফুল কাজ করবো না বলে তাদের জানিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানের কর্তারাদের কাছে সাদা ষ্ট্যাম্প ফেরত চাইলে। তারা টালবাহানা করতে থাকে। কয়েকমাস যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, অন্যান্যে ব্যক্তিদের কাছ থেকে সইযুক্ত সাদা ষ্ট্যম্পে নিয়ে মামলা করে । ভুকক্তেভুগীদের সাথে প্রতারনা ও জিম্মী করে তারা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগে আরো জানা যায়, উপজেলার নওয়াপাড়া পাচঁকবর এলাকার আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে মো. শাকিল হোসেন ও মো. শামিম বিশ্বাস লতিফ বিড়ির কারখানা ও গোডাউন দেখাশুনা করেন। মো. শাকিল হোসেন সাদা ষ্ট্যাম্পে সই করে নিয়ে যশোরে কোর্টে ৩ লাখ টাকা কর্জ্জ্ব দেখিয়ে আশরাফুলের নামে মামলা দায়ের করেন, তারিখ ২৯/১/২৩। সি আর ৭৬/২৩। মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছ থেকে ১০০ টাকার ষ্ট্যাম্প দুইটা ও ৫০ টাকার ষ্ট্যাম্প একটি চাকুরী বাবদে জমা নেয়। আমার অসহায়ত্ব সুযোগ নিয়ে আমাকে মামলা দিয়ে আমার সাথে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। লতিফ বিড়ি নকল কিনা তা মালামাল চেক করলে পাওয়া যাবে। তাদের বাড়ির ভিতর গোপন জায়গায় নকল সরাঞ্জাম রয়েছে। আমার জানা মতে ৬/৭ মাস আগে নকল লতিফ বিড়ির দায়ে এ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে রাজস্ব বিভাগ। তাদের ঝিকরগাছা ও অভয়নগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গোডাউন রয়েছে। উল্লেখ্য, ঝিকরগাছায় গত জুন ০৩, ২০২০ সালে নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত এক লাখ শলাকা লতিফ বিড়ি ও ২০ হাজার পিস নকল ব্যান্ড রোল উদ্ধার করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোরের কর্মকর্তারা। ঝিকরগাছায় উপজেলার রাজারডুমুরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির মামলা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২১ সালে ১৬ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি ও ২ হাজার ৭০০ পিস নকল ব্যান্ড রোল এবং আর এক জনের থেকে ২৯ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি ও ১১ হাজার ৭৬০ পিস নকল ব্যান্ড রোল উদ্ধার করা হয়। ওই সময় এছাড়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৫৫ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি ও ৫ হাজার ৫৪০ পিস নকল ব্যান্ড রোল জব্দ করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ।  প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনের ধারা ১১১ অনুযায়ী যশোর বিচারিক আদালতে ফৌজদারি মামলা এবং ধারা ৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।  এই সংবাদটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে মো. শাকিল হোসেন বলেন, আশরাফুল আমাদের লতিফ বিড়ি কারখানায় সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতো । টাকা ধার নেয়ায় যশোরে কোর্টে ৩ লাখ টাকা কর্জ্জ্ব দেখিয়ে মামলা করি। সাদা ষ্টাম্পের কথা বললে তিনি এড়িয়ে যান। মো. শামিন বিশ্বাস জানান, নকল ব্যান্ড রোলযুক্ত লতিফ বিড়ি শলাকা সর্ম্পকে বললে তিনি স্থানীয় এক নেতাকে নিয়ে দেখা করতে চান বলে মুঠোফোনটি কেটে দেন। আব্দুল লতিফ মুঠোফোনে বলেন, ষ্ট্যাম্পে সই করা, নকল ব্যান্ড রোল, রাজস্ব ফাকিঁ দেওয়ার বিষয়ে বললে তিনি ছেলেদের সাথে কথা বলতে বলেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার মেজবাহ উদদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।##