০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনে দেখা দিয়েছে ফাঁটল, স্বাস্থ্য সেবা ঝুকিতে

###    শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগরী যশোরের  নওয়াপাড়ার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ হাসপাতালটিতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ যশোর সদর, নড়াইল, মণিরামপুর ও খুলনার ফুলতলা উপজেলার একাংশের রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। ফলে কেবল নওয়াপাড়া শহরের বিপুল জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা দিতে গলধঘর্ম হাসপাতালটিকে সারা বছর রোগীর ব্যাপক চাপ সামাল দিতে হয়। যে কারনে প্রায় দেড় যুগ আগে ৩৫ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। কিন্তু এ উন্নিতকরণ কেবল কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। হাসপাতালটিতে কেবল রোগীর চাপই বাড়ছে। কিন্তু বাড়েনি নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা। উপরোন্ত অর্ধশত বছর আগে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। প্রতিনিয়ত অবকাঠামো খসে পড়ছে রোগীদের বেডে। ইতিপূর্বে পলেস্তারা খসে পড়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যেমন চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে তেমনি ডাক্তার ও সেবিকারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা চলমান রেখেছেন। ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। তবুও চরম অবহেলিত এ হাসপাতালটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের এবং ১০০ শয্যায় উন্নীত করে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি বরাবরই ভুলন্ঠিত হচ্ছে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন চিকিৎসক ও রোগীরা। জানাগেছে, ১৯৭৫ সালে নির্মিত হাসপাতাল ভবনটি ১৯৭৮ সালে চিকিৎসা সেবায় যাত্রা শুরু করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মাথার উপরে ছাদের পলেস্তারা অসংখ্য জায়গায় খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও দেখা গেছে বড় বড় ফাঁটল। সেবিকাদের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বসে আছেন তিনজন সেবিকা। তাদের মাথার উপরের ছাদ বিধ্বস্ত অবস্থা। শয্যা সংকটের হাসপাতালটিতে রোগীরা মেজেতে বিছানা করে ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকদের চেম্বারগুলোতে জোড়া-তালি দিয়ে কাজ ব্যবহার করছেন। খোদ হাসপাতালের টিএইচও এর কক্ষটিও এই জড়াজিন্ন ভবনে। তবে তার ভবনটিতে টাইলস দিয়ে এবং রং-চং করে ভবনের পৌঢ়ত্ব্য ঢেকে দেয়া হয়েছে। এ যেন ষাটোর্ধ নারীকে পার্লারে ঘষে-মেজে যৌবণে ফেরানোর বৃথা চেষ্টা মাত্র। যশোর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সুত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার খবরে সম্প্রতি গত তারিখে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন। এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের অনুরোধ করেছেন। অন্যথায় বড়ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার শংকাও প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রকৌশল অফিস সূত্র আরও জানায়, অর্ধশত বছর আগে নির্মিত ভবনটির আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কমে গেছে রেইন ফোর্সমেন্টের স্ট্রেইনথ। ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ স্থানে হাসপাতালটির কার্যক্রম স্থানান্তর জরুরী। এদিকে হাসপাতাল রেজিস্টার সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় সাড়ে ৫ শতাধিক রোগী। সীমীত জনবল দিয়ে হাসপাতালটিতে এত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। তবুও একঝাঁক তরুণ চিকিৎসকের উদ্যমের কারনে চিকিৎসা সেবা চলমান রাখা সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালটির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য অসংখ্যবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও অদ্যবধি ৩১ শয্যার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চলতে হচ্ছে হাসপাতালটিকে। এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান নির্বাহী প্রকৌশলীর পরিদর্শন ও উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি নিজেও রোগী ও চিকিৎসক-সেবিকাদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। এই মুহুর্তে ভবনটি থেকে স্বাস্থ্য সেবা সরিয়ে নেয়ারও কোন ব্যবস্থা নেই। অচিরেই হাসপাতালটিকে একশ’ শয্যায় উন্নীত করে সে অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অন্যথায় জান মালের ক্ষতির আশংকাও করছেন তিনি।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দশমিনায় পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করায় দুই শিক্ষার্থী বহিস্কার

অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনে দেখা দিয়েছে ফাঁটল, স্বাস্থ্য সেবা ঝুকিতে

প্রকাশিত সময় : ১১:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগরী যশোরের  নওয়াপাড়ার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ হাসপাতালটিতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ যশোর সদর, নড়াইল, মণিরামপুর ও খুলনার ফুলতলা উপজেলার একাংশের রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। ফলে কেবল নওয়াপাড়া শহরের বিপুল জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা দিতে গলধঘর্ম হাসপাতালটিকে সারা বছর রোগীর ব্যাপক চাপ সামাল দিতে হয়। যে কারনে প্রায় দেড় যুগ আগে ৩৫ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। কিন্তু এ উন্নিতকরণ কেবল কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। হাসপাতালটিতে কেবল রোগীর চাপই বাড়ছে। কিন্তু বাড়েনি নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা। উপরোন্ত অর্ধশত বছর আগে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। প্রতিনিয়ত অবকাঠামো খসে পড়ছে রোগীদের বেডে। ইতিপূর্বে পলেস্তারা খসে পড়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যেমন চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে তেমনি ডাক্তার ও সেবিকারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা চলমান রেখেছেন। ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। তবুও চরম অবহেলিত এ হাসপাতালটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের এবং ১০০ শয্যায় উন্নীত করে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি বরাবরই ভুলন্ঠিত হচ্ছে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন চিকিৎসক ও রোগীরা। জানাগেছে, ১৯৭৫ সালে নির্মিত হাসপাতাল ভবনটি ১৯৭৮ সালে চিকিৎসা সেবায় যাত্রা শুরু করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মাথার উপরে ছাদের পলেস্তারা অসংখ্য জায়গায় খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও দেখা গেছে বড় বড় ফাঁটল। সেবিকাদের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বসে আছেন তিনজন সেবিকা। তাদের মাথার উপরের ছাদ বিধ্বস্ত অবস্থা। শয্যা সংকটের হাসপাতালটিতে রোগীরা মেজেতে বিছানা করে ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকদের চেম্বারগুলোতে জোড়া-তালি দিয়ে কাজ ব্যবহার করছেন। খোদ হাসপাতালের টিএইচও এর কক্ষটিও এই জড়াজিন্ন ভবনে। তবে তার ভবনটিতে টাইলস দিয়ে এবং রং-চং করে ভবনের পৌঢ়ত্ব্য ঢেকে দেয়া হয়েছে। এ যেন ষাটোর্ধ নারীকে পার্লারে ঘষে-মেজে যৌবণে ফেরানোর বৃথা চেষ্টা মাত্র। যশোর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সুত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার খবরে সম্প্রতি গত তারিখে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন। এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের অনুরোধ করেছেন। অন্যথায় বড়ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার শংকাও প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রকৌশল অফিস সূত্র আরও জানায়, অর্ধশত বছর আগে নির্মিত ভবনটির আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কমে গেছে রেইন ফোর্সমেন্টের স্ট্রেইনথ। ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ স্থানে হাসপাতালটির কার্যক্রম স্থানান্তর জরুরী। এদিকে হাসপাতাল রেজিস্টার সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় সাড়ে ৫ শতাধিক রোগী। সীমীত জনবল দিয়ে হাসপাতালটিতে এত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। তবুও একঝাঁক তরুণ চিকিৎসকের উদ্যমের কারনে চিকিৎসা সেবা চলমান রাখা সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালটির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য অসংখ্যবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও অদ্যবধি ৩১ শয্যার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চলতে হচ্ছে হাসপাতালটিকে। এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান নির্বাহী প্রকৌশলীর পরিদর্শন ও উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি নিজেও রোগী ও চিকিৎসক-সেবিকাদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। এই মুহুর্তে ভবনটি থেকে স্বাস্থ্য সেবা সরিয়ে নেয়ারও কোন ব্যবস্থা নেই। অচিরেই হাসপাতালটিকে একশ’ শয্যায় উন্নীত করে সে অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অন্যথায় জান মালের ক্ষতির আশংকাও করছেন তিনি।##