১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ৭ দিনের জন্য স্থগিত

###      খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক নিশাত আবদুল্লাহকে মারধর ও লাঞ্চিতের অভিযোগে চিকিৎসকরা গত ১মার্চ থেকে সকল সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মবিরতি পালন করছে। যার ফলে খুলনার মানুষ চিকিৎসা নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছে। শনিবার অবশেষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন এবং খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি র্কপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রচেষ্ঠায় চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ৭দিনের জন্য স্থগিত করেছে খুলনা বিএমএ নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর পোনে ১২টা পযর্ন্ত খুলনা বিএম্এ ভবন সভা কক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দেও সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম। এ সময় তিনি বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গে বিএমএ নেতাদের বৈঠকের পর শর্তসাপেক্ষে সাত দিনের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হলো। তবে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিএমএ’র কার্যপরিষদের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনার কথা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানান তিনি। এ সময় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতি: মহাপরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সামিউল ইসলাম, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) শেখ দাউদ আদনান, উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মোবারক হোসেন দিগন্ত, খুলনার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মনজুরুল মুরশিদ, বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজসহ বিএমএ, বিপিএমপিএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি দল, বিএমএ নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা একাধিক বার বৈঠকে বসলেও কোনো ধরনের সমাধান আসেনি। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে খুলনার প্রশাসনের পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর শনিবার চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শনিবার সকালে খুলনা বিএমএ ভবনে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও বিএমএ নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসে কর্মবিরতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত এএসআই নাঈমুজ্জামান শেখ ও তার কয়েকজন সঙ্গী নগরীর শেখপাড়াস্থ হক নার্সিং হোমে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে তারা অস্ত্রোপচার কক্ষে ঢুকে ডা. নিশাত আবদুল্লাহকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় ডা. নিশাত আব্দুল্লাহহ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। বুধবার (১ মার্চ) একই থানায় এএসআই নাঈমুজ্জামান শেখের স্ত্রী নুসরাত আরা ময়না বাদী হয়ে ডা. নিশাত আব্দুল্লাহ এবং হক নার্সিং হোমের মালিক নুরুল হক ফকিরের বিরুদ্ধে শ্লীতাহানির অভিযোগে মামলা করেন। মারধরের ঘটনায় গত বুধবার (১ মার্চ) ভোর ছয়টা থেকে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করে আসছেন চিকিৎসকরা। এর ফলে চার দিন ধরে খুলনার সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরাও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। গত চারদিনে খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগীর মৃত্যু হয়। তারপরও অমানবিকভাবে দায়ী পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার ও ডা. নিশাত আবদুল্লাহর নামে করা মিথ্য মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কর্মসুচী দেন চিকিৎসকরা। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

বাকেরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ৭ দিনের জন্য স্থগিত

প্রকাশিত সময় : ০১:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মার্চ ২০২৩

###      খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক নিশাত আবদুল্লাহকে মারধর ও লাঞ্চিতের অভিযোগে চিকিৎসকরা গত ১মার্চ থেকে সকল সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মবিরতি পালন করছে। যার ফলে খুলনার মানুষ চিকিৎসা নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছে। শনিবার অবশেষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন এবং খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি র্কপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রচেষ্ঠায় চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ৭দিনের জন্য স্থগিত করেছে খুলনা বিএমএ নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর পোনে ১২টা পযর্ন্ত খুলনা বিএম্এ ভবন সভা কক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দেও সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম। এ সময় তিনি বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গে বিএমএ নেতাদের বৈঠকের পর শর্তসাপেক্ষে সাত দিনের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হলো। তবে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিএমএ’র কার্যপরিষদের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনার কথা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানান তিনি। এ সময় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতি: মহাপরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সামিউল ইসলাম, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) শেখ দাউদ আদনান, উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মোবারক হোসেন দিগন্ত, খুলনার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মনজুরুল মুরশিদ, বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজসহ বিএমএ, বিপিএমপিএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি দল, বিএমএ নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা একাধিক বার বৈঠকে বসলেও কোনো ধরনের সমাধান আসেনি। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে খুলনার প্রশাসনের পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর শনিবার চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শনিবার সকালে খুলনা বিএমএ ভবনে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও বিএমএ নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসে কর্মবিরতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত এএসআই নাঈমুজ্জামান শেখ ও তার কয়েকজন সঙ্গী নগরীর শেখপাড়াস্থ হক নার্সিং হোমে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে তারা অস্ত্রোপচার কক্ষে ঢুকে ডা. নিশাত আবদুল্লাহকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় ডা. নিশাত আব্দুল্লাহহ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। বুধবার (১ মার্চ) একই থানায় এএসআই নাঈমুজ্জামান শেখের স্ত্রী নুসরাত আরা ময়না বাদী হয়ে ডা. নিশাত আব্দুল্লাহ এবং হক নার্সিং হোমের মালিক নুরুল হক ফকিরের বিরুদ্ধে শ্লীতাহানির অভিযোগে মামলা করেন। মারধরের ঘটনায় গত বুধবার (১ মার্চ) ভোর ছয়টা থেকে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করে আসছেন চিকিৎসকরা। এর ফলে চার দিন ধরে খুলনার সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরাও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। গত চারদিনে খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগীর মৃত্যু হয়। তারপরও অমানবিকভাবে দায়ী পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার ও ডা. নিশাত আবদুল্লাহর নামে করা মিথ্য মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কর্মসুচী দেন চিকিৎসকরা। ##