০৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আগামী বছর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২
  • ৫৭ পড়েছেন

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামী বছর (২০২৩) নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর বিশ্বে দুর্যোগ ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে আমাদের দেশ দুর্যোগপূর্ণ। সেজন্য কোনো জায়গা ও জলাশয় যেন খালি না থাকে। আমরা খাদ্য সংকট মেটাতে কৃষিখাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ জন্য সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের যেন কষ্ট না হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি চাই, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাবার মজুত আছে। বিভিন্ন দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা যাবে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সব সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সামগ্রিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সফল।

তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি অর্জনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ব নেতাদেরকে আহ্বান জানিয়েছি। এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহারে সবার ন্যায্য ও সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিলে যদি একজন কাউন্সিলরও আমাকে নেতৃত্বে না চায়, তাহলে আমি থাকব না। আমি বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, আমার অবর্তমানে যখন আমাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট করেছিল, তখন থেকেই এই শর্ত মেনে যাচ্ছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় পরিণত হয়েছি। এখন বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, মানবিক কারণে নিপীড়িত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

এর আগে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ দিনের সফর শেষে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশন এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার সফরকালে ব্রিটেনের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের সংবর্ধনা এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

মোল্লাহাটে বিয়ের জন্য মেয়েকে পছন্দ না করায় ছেলের ভগ্নিপতিকে হত্যা, আহত ১০

আগামী বছর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

প্রকাশিত সময় : ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামী বছর (২০২৩) নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর বিশ্বে দুর্যোগ ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে আমাদের দেশ দুর্যোগপূর্ণ। সেজন্য কোনো জায়গা ও জলাশয় যেন খালি না থাকে। আমরা খাদ্য সংকট মেটাতে কৃষিখাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ জন্য সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের যেন কষ্ট না হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি চাই, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাবার মজুত আছে। বিভিন্ন দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা যাবে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সব সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সামগ্রিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সফল।

তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি অর্জনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ব নেতাদেরকে আহ্বান জানিয়েছি। এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহারে সবার ন্যায্য ও সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিলে যদি একজন কাউন্সিলরও আমাকে নেতৃত্বে না চায়, তাহলে আমি থাকব না। আমি বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, আমার অবর্তমানে যখন আমাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট করেছিল, তখন থেকেই এই শর্ত মেনে যাচ্ছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় পরিণত হয়েছি। এখন বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, মানবিক কারণে নিপীড়িত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

এর আগে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ দিনের সফর শেষে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশন এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার সফরকালে ব্রিটেনের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের সংবর্ধনা এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।