০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্বাধীনতা অর্জণে “স্বাধীন বাংলা বেতার” কেন্দ্রের ছিলো অগ্রণী ভূমিকা।

আজ ‘বিশ্ব বেতার দিবস’

  • নিউজ ডেক্স।।
  • প্রকাশিত সময় : ১০:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ৪৭ পড়েছেন

###    আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব বেতার দিবস’।  তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সাল থেকে দেশে বিশ্ব বেতার দিবস পালন হচ্ছে। বিশ্ব বেতার দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি অনুসরণীয় মডেল দেশ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। ‘বেতার ও শান্তি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘৫ম বিশ্ব বেতার দিবস’ উদযাপনের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- র‌্যালি, শ্রোতা সম্মেলন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ও ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুসান মেরি ভিজ বিশেষ অতিথি থাকবেন । বেতার ভবনে  বাংলাদেশ বেতার এর আয়োজন করছে।বেতারের মহাপরিচালক নাসরুল্লাহ মো. ইরফান গতকাল বলেন, দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংক্ষিপ্ত র‌্যালি হবে। এর পর বেতার ভবনে থাকবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান।বাংলাদেশ বেতার তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। বেতারের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলের ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এর ৩২ বছরের মাথায় একই দিনে বিজয় লাভের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় গণমাধ্যম বেতার জনগণের কাছে তথ্য ও বিনোদন পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সাধারণ মানুষের কাছে বেতার হতে পারে শান্তি ও স্থিতিশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বেতার একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। স্বাধীন গণমাধ্যম দেশ জাতির কল্যাণ ও মুক্তির আলোকবর্তিকা। বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেতারের শ্রোতামণ্ডলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বেতার দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গর্বিত উত্তরসূরি বাংলাদেশ বেতার আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনমানুষের তথ্য, শিক্ষা ও বিনোদনের অন্যতম উৎস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে বেগবান করতে বাংলাদেশ বেতার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, এ প্রত্যাশা করি। তিনি বিশ্ব বেতার দিবস-২০২২’ উপলক্ষে নেওয়া সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই দেশে গণমাধ্যমের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, জনমানুষের কাছে নানা তথ্য পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ বেতার মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মহান মুক্তিযুদ্ধে দ্বিতীয় ফ্রন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ তৎকালীন স্বৈরশাসকের বাধা উপেক্ষা করে ৮ মার্চে বেতারে প্রচার মুক্তিকামী বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বাংলাদেশ বেতার নিরলসভাবে এ দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরাই দেশে প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর অনুমোদন দেই। আমরা ২০০৯ সাল থেকে গণমাধ্যম, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ প্রণয়ন করে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে অনেকগুলো টেলিভিশন, এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ফলে টেলিভিশন সম্প্রচারে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। দেশের গণমাধ্যম এখন পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।

বাংলাদেশ বেতার তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। বেতারের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলের ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এর ৩২ বছরের মাথায় একই দিনে বিজয় লাভের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ।স্বাধীনতা অর্যনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রর ছিলো অগ্রণী ভূমিকা। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, আগামীর বাংলাদেশ হবে রেডিওর বাংলাদেশ। সরকার ইতোমধ্যে ২৮টি প্রাইভেট এফএম এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ বেতার ১২টি আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র এবং ৩৫টি এফএম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ২০০০ সালে থেকে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নয়নমূলক তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি সেবা, জীবনঘনিষ্ট যাবতীয় তথ্য জনগণের মাঝে সহজ ভাষায় প্রচারের লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিও চালু করতে সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করে আসছে।
দেশে বর্তমানে ১৬টি কমিউনিটি রেডিও প্রতিদিন ১২৫ ঘণ্টারও বেশি সময় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। ১ হাজার তরুণের অংশগ্রহণে নতুন ধারার এ গণমাধ্যমটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ১৪টি জেলার ৬৮টি উপজেলার প্রায় ৫৫ লাখ জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিওর সুবিধা ভোগ করছে বলে জানিয়েছে বিএনএনআরসি। কমিউনিটি রেডিও স্টেশন পর্যায়ে ৫ হাজার ‘শ্রোতা ক্লাব’ গঠিত হয়েছে শ্রোতাদের সমন্বয়ে।
এদিকে, তথ্য মন্ত্রণালয় কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি ও সদিচ্ছার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিওবিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ হচ্ছে কমিউনিটি রেডিও বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নকারী দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ। তথ্য মন্ত্রণালয় ১৬টি কমিউনিটি রেডিওর সঙ্গে আরও ১৬টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দিয়েছে। বিএনএনআরসি আশা করছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১৬টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের কাজ শুরু করবে।
বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী এএইচএম বজলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি রেডিওগুলোর মূল প্রভাব হলো জনগণের দোরগোড়ায় স্থাপিত এই গণমাধ্যম দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজেদের কথা সরাসরিভাবে বলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তৈরি হয়েছে কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর সোচ্চার করা ও শোনার সুযোগ।  তিনি আরও বলেন, এই নতুন গণমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তথ্য এবং যোগাযোগের অধিকার এনে দিয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতকরণে জনপ্রতিনিধি, সরকারি এবং বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনসাধারণের সংলাপ আদান-প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান খাতগুলোর সঙ্গে জনসাধারণের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এবং কমেন-এর সময় উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিত হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ খবর জানার ক্ষেত্রে উপকূলের মানুষের প্রধান উৎস ছিল কমিউনিটি রেডিও।এ মুহূর্তে আরও অন্তত ৫০-৬০টি কমিউনিটি রেডিওর আনুমোদন দিলে গ্যাপ এলাকা যথা মিডিয়া ডার্ক এলাকাগুলো কমিউনিটি রেডিওর আওতায় আসবে বলে তিনি মনে করেন। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার খুলনা অনুরুপ কর্মসুচি গ্রহণ করেছে।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

স্বাধীনতা অর্জণে “স্বাধীন বাংলা বেতার” কেন্দ্রের ছিলো অগ্রণী ভূমিকা।

আজ ‘বিশ্ব বেতার দিবস’

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব বেতার দিবস’।  তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সাল থেকে দেশে বিশ্ব বেতার দিবস পালন হচ্ছে। বিশ্ব বেতার দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি অনুসরণীয় মডেল দেশ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। ‘বেতার ও শান্তি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘৫ম বিশ্ব বেতার দিবস’ উদযাপনের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- র‌্যালি, শ্রোতা সম্মেলন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ও ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুসান মেরি ভিজ বিশেষ অতিথি থাকবেন । বেতার ভবনে  বাংলাদেশ বেতার এর আয়োজন করছে।বেতারের মহাপরিচালক নাসরুল্লাহ মো. ইরফান গতকাল বলেন, দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংক্ষিপ্ত র‌্যালি হবে। এর পর বেতার ভবনে থাকবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান।বাংলাদেশ বেতার তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। বেতারের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলের ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এর ৩২ বছরের মাথায় একই দিনে বিজয় লাভের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় গণমাধ্যম বেতার জনগণের কাছে তথ্য ও বিনোদন পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সাধারণ মানুষের কাছে বেতার হতে পারে শান্তি ও স্থিতিশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বেতার একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। স্বাধীন গণমাধ্যম দেশ জাতির কল্যাণ ও মুক্তির আলোকবর্তিকা। বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেতারের শ্রোতামণ্ডলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বেতার দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গর্বিত উত্তরসূরি বাংলাদেশ বেতার আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনমানুষের তথ্য, শিক্ষা ও বিনোদনের অন্যতম উৎস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে বেগবান করতে বাংলাদেশ বেতার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, এ প্রত্যাশা করি। তিনি বিশ্ব বেতার দিবস-২০২২’ উপলক্ষে নেওয়া সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই দেশে গণমাধ্যমের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, জনমানুষের কাছে নানা তথ্য পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ বেতার মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মহান মুক্তিযুদ্ধে দ্বিতীয় ফ্রন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ তৎকালীন স্বৈরশাসকের বাধা উপেক্ষা করে ৮ মার্চে বেতারে প্রচার মুক্তিকামী বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বাংলাদেশ বেতার নিরলসভাবে এ দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরাই দেশে প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর অনুমোদন দেই। আমরা ২০০৯ সাল থেকে গণমাধ্যম, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ প্রণয়ন করে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে অনেকগুলো টেলিভিশন, এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ফলে টেলিভিশন সম্প্রচারে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। দেশের গণমাধ্যম এখন পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।

বাংলাদেশ বেতার তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। বেতারের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলের ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এর ৩২ বছরের মাথায় একই দিনে বিজয় লাভের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ।স্বাধীনতা অর্যনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রর ছিলো অগ্রণী ভূমিকা। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, আগামীর বাংলাদেশ হবে রেডিওর বাংলাদেশ। সরকার ইতোমধ্যে ২৮টি প্রাইভেট এফএম এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ বেতার ১২টি আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র এবং ৩৫টি এফএম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ২০০০ সালে থেকে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নয়নমূলক তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি সেবা, জীবনঘনিষ্ট যাবতীয় তথ্য জনগণের মাঝে সহজ ভাষায় প্রচারের লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিও চালু করতে সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করে আসছে।
দেশে বর্তমানে ১৬টি কমিউনিটি রেডিও প্রতিদিন ১২৫ ঘণ্টারও বেশি সময় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। ১ হাজার তরুণের অংশগ্রহণে নতুন ধারার এ গণমাধ্যমটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ১৪টি জেলার ৬৮টি উপজেলার প্রায় ৫৫ লাখ জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিওর সুবিধা ভোগ করছে বলে জানিয়েছে বিএনএনআরসি। কমিউনিটি রেডিও স্টেশন পর্যায়ে ৫ হাজার ‘শ্রোতা ক্লাব’ গঠিত হয়েছে শ্রোতাদের সমন্বয়ে।
এদিকে, তথ্য মন্ত্রণালয় কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি ও সদিচ্ছার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিওবিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ হচ্ছে কমিউনিটি রেডিও বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নকারী দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ। তথ্য মন্ত্রণালয় ১৬টি কমিউনিটি রেডিওর সঙ্গে আরও ১৬টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দিয়েছে। বিএনএনআরসি আশা করছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১৬টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের কাজ শুরু করবে।
বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী এএইচএম বজলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি রেডিওগুলোর মূল প্রভাব হলো জনগণের দোরগোড়ায় স্থাপিত এই গণমাধ্যম দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজেদের কথা সরাসরিভাবে বলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তৈরি হয়েছে কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর সোচ্চার করা ও শোনার সুযোগ।  তিনি আরও বলেন, এই নতুন গণমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তথ্য এবং যোগাযোগের অধিকার এনে দিয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতকরণে জনপ্রতিনিধি, সরকারি এবং বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনসাধারণের সংলাপ আদান-প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান খাতগুলোর সঙ্গে জনসাধারণের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এবং কমেন-এর সময় উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিত হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ খবর জানার ক্ষেত্রে উপকূলের মানুষের প্রধান উৎস ছিল কমিউনিটি রেডিও।এ মুহূর্তে আরও অন্তত ৫০-৬০টি কমিউনিটি রেডিওর আনুমোদন দিলে গ্যাপ এলাকা যথা মিডিয়া ডার্ক এলাকাগুলো কমিউনিটি রেডিওর আওতায় আসবে বলে তিনি মনে করেন। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার খুলনা অনুরুপ কর্মসুচি গ্রহণ করেছে।##