০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কর্যক্রম বিশ্বে নতুন ও ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি করেছে

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ০৯:১৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ৩৫ পড়েছেন

###    বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও সময় সংঘটিত গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলংক অসহায়ের মত বয়ে বেড়িয়েছে কয়েক যুগ। এই সুযোগে এক সময় অনেক শীর্ষ অভিযুক্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়েছে। অসাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থার সুযোগে এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসিত করা হয়েছিল।’ তিনি বিচারের বিলম্বতা নিয়ে বলেন, ‘এমন বিলম্ব কোনো অপরাধীর দায়কে হ্রাস করে না বা তাকে কোনো দায়মুক্তিও দেয় না, এটা আজ আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘জেনোসাইড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আসলে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। এই প্রকৃতির বিচারের ধারাণাটি অবিচ্ছিন্নভাবে অপরাধের শিকার ব্যক্তির প্রতিকার পাওয়ার অধিকারের সাথে সম্পর্কিত। এরূপ বিচার প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত স্বচ্ছতার মূল ধারণাটি সংগত কারণেই অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার এবং ভিকটিমের অধিকারের মধ্যে একটি ভারসাম্য সৃষ্টি করে।’ তিনি বলেন, ‘দেশী বিদশেী বিশেষজ্ঞ ও নানা সংগঠনের আলোচনা ও সমালোচনায় এটিই মনে হয়েছে যে, আমাদের ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কাজের মান ও ধরন এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন ও ইতিবাচক এক ধারার সৃষ্টি করেছে। বিচার অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা, মান রক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইন বিজ্ঞান অনুসরণে প্রদত্ত রায় সমূহ দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছে বলেই অনেকে মনে করেন। আমাদের ট্রাইবুনালের বিচার কর্যক্রম দৃষ্টান্ত হয়ে রইবে।’
শুক্রবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে খুলনা গণহত্যা জাদুঘরের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল : জেনোসাইড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক নবম শহিদ স্মৃতি স্মারক বক্তৃতামালা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. এনায়েতর রহিম ও গণহত্যা জাদুঘরের টাস্টি ও লেখক শাহরিয়ার কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণহত্যা জাদুঘরের ট্রাস্টি কবি তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গণহত্যা জাদুঘরের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ট্রাস্টি স¤পাদক ড. চৌধুরী শহীদ কাদের।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মুনতাসীর মামুন দুই বিচারককে ধন্যবাদ ও অভিবাদন জানিয়ে বলেন, তারা এই মানবতা বিরোধী বিচারের কাজ দীর্ঘদিন যাবত যথাযথভাবে করেছেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, যাদের তারা মৃত্যুদ- দিয়েছিলেন তাদের অনেককে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর এখনো নি®পত্তি হয় নাই। তিনি আবেদন করেন যে, এই আপিলের বিষয়গুলো নি®পত্তি হওয়া বাঞ্চনীয়। কেননা, বিচার সমাপ্তি না হলে শহিদ ও ভুক্তভোগীরা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, শহিদেরও একটা অধিকার আছে। সেটা রক্ষা করতে হবে শ্রেণি পেশা পদ পদবি নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। কারণ, তাদের কারণেই আমরা এই দেশ পেয়েছি।
অনুষ্টানে অপর আলোচকরাও বিচার প্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন, যার সাহস ও দৃঢ় মনোলের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। স্মারক বক্তৃতাটি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল : জেনোসাইড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে ওবায়দুল হাসান এর সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আলোচনায় খুলনা শহরের গবেষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

মোল্লাহাটে বিয়ের জন্য মেয়েকে পছন্দ না করায় ছেলের ভগ্নিপতিকে হত্যা, আহত ১০

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কর্যক্রম বিশ্বে নতুন ও ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি করেছে

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও সময় সংঘটিত গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলংক অসহায়ের মত বয়ে বেড়িয়েছে কয়েক যুগ। এই সুযোগে এক সময় অনেক শীর্ষ অভিযুক্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়েছে। অসাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থার সুযোগে এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসিত করা হয়েছিল।’ তিনি বিচারের বিলম্বতা নিয়ে বলেন, ‘এমন বিলম্ব কোনো অপরাধীর দায়কে হ্রাস করে না বা তাকে কোনো দায়মুক্তিও দেয় না, এটা আজ আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘জেনোসাইড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আসলে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। এই প্রকৃতির বিচারের ধারাণাটি অবিচ্ছিন্নভাবে অপরাধের শিকার ব্যক্তির প্রতিকার পাওয়ার অধিকারের সাথে সম্পর্কিত। এরূপ বিচার প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত স্বচ্ছতার মূল ধারণাটি সংগত কারণেই অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার এবং ভিকটিমের অধিকারের মধ্যে একটি ভারসাম্য সৃষ্টি করে।’ তিনি বলেন, ‘দেশী বিদশেী বিশেষজ্ঞ ও নানা সংগঠনের আলোচনা ও সমালোচনায় এটিই মনে হয়েছে যে, আমাদের ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কাজের মান ও ধরন এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন ও ইতিবাচক এক ধারার সৃষ্টি করেছে। বিচার অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা, মান রক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইন বিজ্ঞান অনুসরণে প্রদত্ত রায় সমূহ দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছে বলেই অনেকে মনে করেন। আমাদের ট্রাইবুনালের বিচার কর্যক্রম দৃষ্টান্ত হয়ে রইবে।’
শুক্রবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে খুলনা গণহত্যা জাদুঘরের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল : জেনোসাইড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক নবম শহিদ স্মৃতি স্মারক বক্তৃতামালা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. এনায়েতর রহিম ও গণহত্যা জাদুঘরের টাস্টি ও লেখক শাহরিয়ার কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণহত্যা জাদুঘরের ট্রাস্টি কবি তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গণহত্যা জাদুঘরের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ট্রাস্টি স¤পাদক ড. চৌধুরী শহীদ কাদের।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মুনতাসীর মামুন দুই বিচারককে ধন্যবাদ ও অভিবাদন জানিয়ে বলেন, তারা এই মানবতা বিরোধী বিচারের কাজ দীর্ঘদিন যাবত যথাযথভাবে করেছেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, যাদের তারা মৃত্যুদ- দিয়েছিলেন তাদের অনেককে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর এখনো নি®পত্তি হয় নাই। তিনি আবেদন করেন যে, এই আপিলের বিষয়গুলো নি®পত্তি হওয়া বাঞ্চনীয়। কেননা, বিচার সমাপ্তি না হলে শহিদ ও ভুক্তভোগীরা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, শহিদেরও একটা অধিকার আছে। সেটা রক্ষা করতে হবে শ্রেণি পেশা পদ পদবি নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। কারণ, তাদের কারণেই আমরা এই দেশ পেয়েছি।
অনুষ্টানে অপর আলোচকরাও বিচার প্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন, যার সাহস ও দৃঢ় মনোলের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। স্মারক বক্তৃতাটি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল : জেনোসাইড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে ওবায়দুল হাসান এর সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আলোচনায় খুলনা শহরের গবেষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ##