০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • অফিস ডেক্স।।
  • প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩
  • ৫১ পড়েছেন

###    সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সংগঠন কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি কোহিনুর আক্তার কনার সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি অপর্ণা মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সদস্য কমরেড আব্দুল করিম, সনজিত মন্ডল, সাহিত্যিক প্রভাত মজুমদার, মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা সহ-সম্পাদক রেখা খাতুন, সদস্য শিউলি বেগম, পিংকি বিশ্বাস, জয়নব খাতুন প্রমুখ। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পুঁজবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থা শ্রমজীবী নর-নারীর উপর অমানবিক শ্রমশোষণ চাপিয়ে দেয়। ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে শিল্পোন্নত দেশসমূহে নারীরা মজুরিভিত্তিক কাজে যোগ দেয়। কিন্তু সেখানকার অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ, শ্রমিকরা দৈনিক গড়ে ১৫ ঘণ্টা পরিশ্রম করতো, পিস-রেটে তাদের মজুরি দেয়া হতো, কাজের অমানবিক পরিবেশ ছিল, অভিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন করা হতো, ভোটাধিকার ছিল না। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের সুঁই কারখানার নারী শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে এবং হাজার হাজার নারীর মিছিলে পুলিশ নৃশংস হামলা চালায়। অসংখ্য নারী আহত ও গ্রেফতার হয়। এর ফলে আন্দোলন আরো জোরদার হয়। ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রম সময়ের দাবিতে গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক মে দিবসের রক্তাক্ত শ্রমিক অভ্যুত্থান। এরপর আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সোস্যালিস্ট পার্টির নেত্রী ক্লারা জেটকিন বহু সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ৮ মার্চকে নারী দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের যে গৌরবময় সংগ্রামী ইতিহাস তা বর্তমান সময়ের নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে শক্তি ও সাহস যোগাবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সমাজে নারীর প্রতি যে হীন দৃষ্টিভঙ্গি তা নারীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত ও নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা তৈরি করছে। ইরানে মাশা আমিনি হত্যা, আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা, বাংলাদেশে মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সায়েম সোবহানসহ ৮ জনকে অব্যাহতি, বরিশালের মোর্শেদা আক্তার সাথীকে কেরোসিনে পুড়িয়ে হত্যা, নরসিংদী রেলস্টেশনে নারী হেনস্তা, গাজীপুরে চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণ, খেলাফত আন্দোলনের সংরক্ষিত নারী আসনের বিলুপ্তি চাওয়া, নারী-পুরুষ সকলের ভোটাধিকার হরণ, গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ এমন হাজারো বিষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সমাজে নারীর অবস্থান। ফলে নারী দিবসের চেতনার সাথে সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এই অবক্ষয়ী পুঁজিবাদী সমাজ পরিবর্তন করে সমাজতন্ত্রের পথ ধরে সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সকল শ্রেণীপেশার নারীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানাচ্ছে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

বাকেরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

###    সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সংগঠন কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি কোহিনুর আক্তার কনার সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি অপর্ণা মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সদস্য কমরেড আব্দুল করিম, সনজিত মন্ডল, সাহিত্যিক প্রভাত মজুমদার, মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা সহ-সম্পাদক রেখা খাতুন, সদস্য শিউলি বেগম, পিংকি বিশ্বাস, জয়নব খাতুন প্রমুখ। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পুঁজবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থা শ্রমজীবী নর-নারীর উপর অমানবিক শ্রমশোষণ চাপিয়ে দেয়। ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে শিল্পোন্নত দেশসমূহে নারীরা মজুরিভিত্তিক কাজে যোগ দেয়। কিন্তু সেখানকার অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ, শ্রমিকরা দৈনিক গড়ে ১৫ ঘণ্টা পরিশ্রম করতো, পিস-রেটে তাদের মজুরি দেয়া হতো, কাজের অমানবিক পরিবেশ ছিল, অভিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন করা হতো, ভোটাধিকার ছিল না। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের সুঁই কারখানার নারী শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে এবং হাজার হাজার নারীর মিছিলে পুলিশ নৃশংস হামলা চালায়। অসংখ্য নারী আহত ও গ্রেফতার হয়। এর ফলে আন্দোলন আরো জোরদার হয়। ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রম সময়ের দাবিতে গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক মে দিবসের রক্তাক্ত শ্রমিক অভ্যুত্থান। এরপর আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সোস্যালিস্ট পার্টির নেত্রী ক্লারা জেটকিন বহু সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ৮ মার্চকে নারী দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের যে গৌরবময় সংগ্রামী ইতিহাস তা বর্তমান সময়ের নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে শক্তি ও সাহস যোগাবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সমাজে নারীর প্রতি যে হীন দৃষ্টিভঙ্গি তা নারীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত ও নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা তৈরি করছে। ইরানে মাশা আমিনি হত্যা, আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা, বাংলাদেশে মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সায়েম সোবহানসহ ৮ জনকে অব্যাহতি, বরিশালের মোর্শেদা আক্তার সাথীকে কেরোসিনে পুড়িয়ে হত্যা, নরসিংদী রেলস্টেশনে নারী হেনস্তা, গাজীপুরে চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণ, খেলাফত আন্দোলনের সংরক্ষিত নারী আসনের বিলুপ্তি চাওয়া, নারী-পুরুষ সকলের ভোটাধিকার হরণ, গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ এমন হাজারো বিষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সমাজে নারীর অবস্থান। ফলে নারী দিবসের চেতনার সাথে সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এই অবক্ষয়ী পুঁজিবাদী সমাজ পরিবর্তন করে সমাজতন্ত্রের পথ ধরে সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সকল শ্রেণীপেশার নারীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানাচ্ছে। ##