০৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আশাশুনিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বানিজ্যের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষিকার সংবাদ সম্মেলন

###    সাতক্ষীরার আশাশুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সামছুল আলম অবৈধভাবে ৩টি পদে নিয়োগ দিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে আমি সুনামের সহিত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। ২০০৯ সালে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্য কর্তৃক ডিও লেটারের মাধ্যমে আশাশুনি গ্রামের আবুল ঢালীর পুত্র মো. সামছুল আলম দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের পায়তারা শুরু করে। ঢালী সামছুল আলম সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ০৯জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করে আত্মসাত করেছে। আমাকে চাপে ফেলে এই নিয়োগ সম্পন্ন করে। আমার চাকুরির মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ২০২০ সালের আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ স্কুল ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে আমার প্রতি সকল সদস্য সন্তুষ্ট হয়ে আমার চাকুরির মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধি করে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ০২/০১/২০২১ তারিখে পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি বিদ্যালয়ে যোগদান করি। কিন্তু চুক্তিকালীন বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করেনি। এমনকি আমাকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নিয়োগের পায়তারা চালাতে থাকে। এমতাবস্থায় ১০/০৬/২০২২ তারিখে দৈনিক কাফেলা ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় উক্ত ৩টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আশাশুনি সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। যার নম্বর দেং ৯০/২২। মামলাটি মিছ আপিল ৫২/২২ নং মামলায় রূপান্তরিত হয়ে বিজ্ঞ আদালতে চলমান আছে। এছাড়া উক্ত মামলায় গত ২১/০৬/২০২২ তারিখে আমার চাকুরির মেওয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থ্যা ৩১/১২/২২ তারিখ পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সভাপতি ঢালী সামছুল আলম আইন ও আদালতের তোয়াক্কা করে উক্ত ৩টি পদে নিয়োগের পায়তারা শুরু করে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৪ মে ২০২৩ তারিখে দৈনিক সাতনদীসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সভাপতির নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে উক্ত ৩টি পদে নিয়োগের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ২০ লক্ষ, অহিদুল ইসলাম ১২ লক্ষ এবং সুরাইয়া সুলতানার কাছ থেকে ৮লক্ষ টাকা ঢালী সামছুল আলম হাতিয়ে নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর নিয়োগ বাণিজ্যের অবৈধ অর্থ হালাল করার জন্য ৮ মে ২০২৩ তারিখ পাতানো নিয়োগ বোর্ড করে। উক্ত পদে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছে পরীক্ষা ৮ থেকে ১০ঘণ্টা পূর্বে। অথচ নিয়োগ বোর্ডের প্রবেশ পত্র পরীক্ষার এক সপ্তাহ পূর্বে পাঠানোর নীতিমালা রয়েছে। সে নীতিমালা অমান্য করে যাতে অন্যান্য প্রার্থীরা উপস্থিত না হয় সে লক্ষে এ চক্রান্ত করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার বোর্ড বদরতলা জেসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টি আশাশুনি সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটারের দূরত্ব। সদরের নিয়োগ পরীক্ষা কেন প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়ে হবে। প্রকৃতপক্ষে ঢালী সামছুল আলম ৪০লক্ষ টাকা হজম করতে অবৈধভাবে পাতানো নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান অক্ষুন্ন রাখতে অবৈধ নিয়োগ বন্ধসহ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

যশোরে জমি-জায়গা বিরোধের জের: ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

আশাশুনিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বানিজ্যের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষিকার সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩

###    সাতক্ষীরার আশাশুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সামছুল আলম অবৈধভাবে ৩টি পদে নিয়োগ দিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে আমি সুনামের সহিত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। ২০০৯ সালে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্য কর্তৃক ডিও লেটারের মাধ্যমে আশাশুনি গ্রামের আবুল ঢালীর পুত্র মো. সামছুল আলম দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের পায়তারা শুরু করে। ঢালী সামছুল আলম সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ০৯জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করে আত্মসাত করেছে। আমাকে চাপে ফেলে এই নিয়োগ সম্পন্ন করে। আমার চাকুরির মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ২০২০ সালের আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ স্কুল ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে আমার প্রতি সকল সদস্য সন্তুষ্ট হয়ে আমার চাকুরির মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধি করে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ০২/০১/২০২১ তারিখে পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি বিদ্যালয়ে যোগদান করি। কিন্তু চুক্তিকালীন বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করেনি। এমনকি আমাকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নিয়োগের পায়তারা চালাতে থাকে। এমতাবস্থায় ১০/০৬/২০২২ তারিখে দৈনিক কাফেলা ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় উক্ত ৩টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আশাশুনি সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। যার নম্বর দেং ৯০/২২। মামলাটি মিছ আপিল ৫২/২২ নং মামলায় রূপান্তরিত হয়ে বিজ্ঞ আদালতে চলমান আছে। এছাড়া উক্ত মামলায় গত ২১/০৬/২০২২ তারিখে আমার চাকুরির মেওয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থ্যা ৩১/১২/২২ তারিখ পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সভাপতি ঢালী সামছুল আলম আইন ও আদালতের তোয়াক্কা করে উক্ত ৩টি পদে নিয়োগের পায়তারা শুরু করে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৪ মে ২০২৩ তারিখে দৈনিক সাতনদীসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সভাপতির নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে উক্ত ৩টি পদে নিয়োগের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ২০ লক্ষ, অহিদুল ইসলাম ১২ লক্ষ এবং সুরাইয়া সুলতানার কাছ থেকে ৮লক্ষ টাকা ঢালী সামছুল আলম হাতিয়ে নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর নিয়োগ বাণিজ্যের অবৈধ অর্থ হালাল করার জন্য ৮ মে ২০২৩ তারিখ পাতানো নিয়োগ বোর্ড করে। উক্ত পদে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছে পরীক্ষা ৮ থেকে ১০ঘণ্টা পূর্বে। অথচ নিয়োগ বোর্ডের প্রবেশ পত্র পরীক্ষার এক সপ্তাহ পূর্বে পাঠানোর নীতিমালা রয়েছে। সে নীতিমালা অমান্য করে যাতে অন্যান্য প্রার্থীরা উপস্থিত না হয় সে লক্ষে এ চক্রান্ত করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার বোর্ড বদরতলা জেসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টি আশাশুনি সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটারের দূরত্ব। সদরের নিয়োগ পরীক্ষা কেন প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়ে হবে। প্রকৃতপক্ষে ঢালী সামছুল আলম ৪০লক্ষ টাকা হজম করতে অবৈধভাবে পাতানো নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান অক্ষুন্ন রাখতে অবৈধ নিয়োগ বন্ধসহ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ##