০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু’র ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, মামলা পুন:তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের দাবী

####

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালু’র ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, স্মরণসভাসহ নানান কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অবস্থিত শহীদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন খুলনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।পরে প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের আয়োজনে স্মরণসভা ও দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়।খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজার সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, শেখ আবু হাসান ও ফারুক আহমেদ, মরহুম সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর বড় ছেলে ও দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক আসিফ কবীর ও ছোট ছেলে আশিক কবীর, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রিয়াজ, ক্লাবের সহকারী সম্পাদক সুনীল কুমার দাস চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ মাহমুদ হাসান সোহেল, ক্লাব সদস্য মোঃ আব্দুল হামিদ প্রমুখ। স্মরণ সভায় বক্তারা সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু হত্যা মামলা পুন:তদন্ত দাবি করে বলেন, শহীদ সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু হত্যাকান্ডের মোটিভ, পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগানদাতা ও গডফাদারের পরিচয় গত ১৯বছরেও উন্মোচন হয়নি। এ হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করতে সরকারের কাছে আহবান জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলের উচ্চ আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানানো হয়।

স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলনে ক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম কাজল ও শেখ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, কার্যনির্বাহী সদস্য মো: তরিকুল ইসলাম,  ক্লাব সদস্য আলমগীর হান্নান, শেখ কামরুল আহসান, হারুন-অর-রশীদ, ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু, আব্দুল মালেক, আব্দুস সাত্তার, এজাজ আলী, এস এম নূর হাসান জনি, দীলিপ কুমার বর্মন, রিংটন মন্ডল, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শশাংক স্বর্ণকার, প্রবীর কুমার বিশ্বাস, অস্থায়ী সদস্য কাজী ফজলে রাব্বী শান্ত, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ হেলাল মোল্লা, মো: রায়হান মোল্লা, খান মোহাম্মদ আজরফ হোসেন (মামুন খান), তুফান গাইনসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ। স্মরণসভায় সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত সকল সাংবাদিকদের আত্মার শান্তি কামনা করে দাঁড়িয়ে ০১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। শেষে দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, শহীদ সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দৈনিক জন্মভূমি ও দৈনিক রাজপথের দাবি এবং মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে দৈনিক জন্মভূমি ভবনে শহিদ হুমায়ূন কবীর বালুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা।বাদ আছর আলহেরা জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৭ জুন নগরীর শান্তিধাম মোড়ের নিজ পত্রিকা অফিসের সামনে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন হুমায়ুন কবীর বালু। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২৮ জুন খুলনা থানার তৎকালীন এসআই মারুফ আহমদ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক ধারায় দুইটি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।এছাড়া হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় ২০২১সালের ১৮ জানুয়ারি খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

ইঞ্জিন চালিত বাইক চোর সিন্ডিকেটের ৫ সদস্য গ্রেফতার

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু’র ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, মামলা পুন:তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের দাবী

প্রকাশিত সময় : ০৩:১৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুন ২০২৩

####

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালু’র ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, স্মরণসভাসহ নানান কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অবস্থিত শহীদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন খুলনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।পরে প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের আয়োজনে স্মরণসভা ও দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়।খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজার সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, শেখ আবু হাসান ও ফারুক আহমেদ, মরহুম সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর বড় ছেলে ও দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক আসিফ কবীর ও ছোট ছেলে আশিক কবীর, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রিয়াজ, ক্লাবের সহকারী সম্পাদক সুনীল কুমার দাস চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ মাহমুদ হাসান সোহেল, ক্লাব সদস্য মোঃ আব্দুল হামিদ প্রমুখ। স্মরণ সভায় বক্তারা সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু হত্যা মামলা পুন:তদন্ত দাবি করে বলেন, শহীদ সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু হত্যাকান্ডের মোটিভ, পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগানদাতা ও গডফাদারের পরিচয় গত ১৯বছরেও উন্মোচন হয়নি। এ হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করতে সরকারের কাছে আহবান জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলের উচ্চ আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানানো হয়।

স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলনে ক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম কাজল ও শেখ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, কার্যনির্বাহী সদস্য মো: তরিকুল ইসলাম,  ক্লাব সদস্য আলমগীর হান্নান, শেখ কামরুল আহসান, হারুন-অর-রশীদ, ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু, আব্দুল মালেক, আব্দুস সাত্তার, এজাজ আলী, এস এম নূর হাসান জনি, দীলিপ কুমার বর্মন, রিংটন মন্ডল, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শশাংক স্বর্ণকার, প্রবীর কুমার বিশ্বাস, অস্থায়ী সদস্য কাজী ফজলে রাব্বী শান্ত, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ হেলাল মোল্লা, মো: রায়হান মোল্লা, খান মোহাম্মদ আজরফ হোসেন (মামুন খান), তুফান গাইনসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ। স্মরণসভায় সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত সকল সাংবাদিকদের আত্মার শান্তি কামনা করে দাঁড়িয়ে ০১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। শেষে দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, শহীদ সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দৈনিক জন্মভূমি ও দৈনিক রাজপথের দাবি এবং মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে দৈনিক জন্মভূমি ভবনে শহিদ হুমায়ূন কবীর বালুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা।বাদ আছর আলহেরা জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৭ জুন নগরীর শান্তিধাম মোড়ের নিজ পত্রিকা অফিসের সামনে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন হুমায়ুন কবীর বালু। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২৮ জুন খুলনা থানার তৎকালীন এসআই মারুফ আহমদ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক ধারায় দুইটি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।এছাড়া হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় ২০২১সালের ১৮ জানুয়ারি খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়। ##