০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
খুলনা এলজিইডিতে অনিয়ম-দূর্নীতির খোজে দুদকের অভিযান :

এলজিইডি’র  নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

।। ফলোআপ।।

###    খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে(এলজিইডি) অভিযান চালিয়েছে দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। গত বুধবার থেকে কয়েকদিন খুলনা দুদকের উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি টিম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে অভিযান চালায়। দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে খুলনা সমন্বিত জেলা অফিসের কর্মকর্তারা এ অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানাকলে দুদকের সদস্যরা অনিয়ম-দূর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারীসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানান গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এলজিইডি অফিসের এই ঘুষ, কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পেতে ও বিচারের দাবীতে গত সেপ্টেম্বর মাসে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ দায়ের করেন। ঠিকাদারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে খবর প্রকাশের সূত্র ধরে দুদক এনফোসর্মেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। তবে এ বিষয়ে খুলনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান কোন কথা বলতে রাজি হননি। জানা গেছে, খুলনা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে সাবেক হিসাব সহকারী মো: আমিরুল ইসলাম, ম্যাকানিক্যাল ফোরম্যান নরেশ চন্দ্রসহ ৬/৭জন আস্থাভাজনের সমন্বয়ে ঘুষ, কমিশন বানিজ্য এবং অনিয়ম-দূর্নীতির সিন্ডিকেট রয়েছে। খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান যোগদান করার পর এই সিন্ডিকেট অর্ধশতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাড়ী, বাড়ীসহ বিপুল পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তারা। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই সিন্ডিকেটের হয়রানি, অত্যাচার-নির্যাতন, অমানুষিক আচরন, ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ায় অতিষ্ঠ ঠিকাদাররা প্রতিকার ও বিচারের দাবীতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। দায়েরকৃত অভিযোগে ঠিকাদাররা বলেন, ২০২০ সালের অক্টোবরে খুলনা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো: কামরুজ্জামান যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকে তিনি অফিসের অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িত বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আস্তায় নিয়ে চরম অনিয়ম-দূর্নীতি শুরু করেন।ইতিমধ্যেই নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান খুলনা এলজিইডির সবগুলো প্রকল্প থেকে গত প্রায় দুই বছরে কমিশন ও ঘুষ নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। কিনেছেন দামী গাড়ী, করেছেন বাড়ীসহ অঢেল সম্পদ। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান দপ্তরের প্রতিটি কাজ থেকে ৩শতাংশ থেকে ১০শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে। বিশেষ করে গত এক বছরে(২০২১-২২ অর্থবছরে) কেবিএস-আরআইডিপি, কেডিআরআইডিপি, টিইউএলও বা থানা ইউনিয়ন ল্যান্ড অফিস নির্মান প্রকল্প, এফডিআরআইডিপি বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, পিইডিপি-৪ বা প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪, এনবিডিআইএনএনজিপিএস বা নতুন জাতীয়করনকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উ্ন্নয়ণ প্রকল্প, এনবিআইডিজিপিএস বা জাতীয়করনকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প,  সিআরএমআইডিপি বা বাজার উ্ন্নয়ন প্রকল্প(পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটাসহ ৪টি উপজেলায়), ভিআরআরপি, আইআরআইডিপি-৩, ইউটিএমআইডিপি বা ননমিউনিসিপ্যাল অবকাঠামো উন্নয়ণ প্রকল্প, ইউএমসি বা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মান প্রকল্প ও সিএএফডিআরআইআরপি বা ঘূর্নিঝড় আম্ফান ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ ১৩টি প্রকল্প থেকে শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ সকল প্রকল্পে গত অর্থবছরে প্রায় একশো ৯৪কোটি টাকার বরাদ্ধ এসেছে বলে জানা গেছে। ঠিকাদারদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোন কোন ঠিকাদার ফান্ডের টাকা দিতে রাজি না হলে তাদের বিল মাসের পর মাস আটকে রেখে হয়রানি করছে। অথচ দুই-একজন ঠিকাদার যারা সরকার বিরোধী ও বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের কাছ থেকে ফান্ডের জন্য বেশী টাকা নিয়ে অগ্রীম বিলও দিয়ে দিচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান।কিন্তু সাধারন ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ঠিকাদাররা তার কাছে গেলে বা অন্যদের বেশী ও অগ্রীম বিল পরিশোধের প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যবহার করে। এবং অনেক সময় হিসাব সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান তাদের নথিও ছুড়ে ফেলে দিয়ে অত্যাচার করে। গত ২০২১সালের সেপ্টেম্বরের ০২তারিখ ঠিকাদার ম্যানেজমেন্ট মিটিংয়ে বিষয়গুলো তুলে ধরলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান সেইসব ঠিকাদারকে ধমক দিয়ে শায়েস্তা করেন। এচাড়া সিন্ডিকেটের পক্ষের ২/১জন ঠিকারদারকে দিয়ে ভুয়া অভিযোগ করিয়েও প্রকৃত সত ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে হয়রানির খড়গ চালায়। এভাবে সবার মুখ বন্ধ রেখে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান সিন্ডিকেট চরমভাবে ঘুস ও দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে মোবাইল মেইন্টেনেন্স, আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন মেরামত কাজ ঠিকাদারদের নাম দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান নিজে যতসামান্য কাজ করে ৫কোটি টাকা আত্নসাত করেছেন। এছাড়া মেকানিক্যাল পোরম্যান নরেশ চন্দ্র সাহা জ্বালানী ও মোটরযান মেরামতের ভুয়া বিল করে আরো দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারী প্রতিটি রোলার বরাদ্ধ নিলে ফোরম্যান নরেশ সাহাকে ঘুষ দিতে হয় ১০হাজার টাকা। আর রোলার চললে নরেশ সাহাকে প্রতিদিনের জন্য ৫’হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। এভাবে গত ৪/৫বছর ধরে নরেশ চন্দ্র সাহা প্রায় ৫/৬কোটি টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়েছে।যে কারনে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া  নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান অফিসের আর্থিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ দপ্তরের মাষ্টাররোল কর্মচারী কার্যসহকারী ও মাষ্টাররোল কর্মচারীদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন। একই সাথে টেন্ডার, চুক্তিপত্র, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নকরন, ইথ্যাদি বিষয়ও তাদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান। এভাবে তার ঘুষ ও দূনীতির সিন্ডিকেটের সদস্যদেরকে দিয়ে সকল কাজ করিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ বিষয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করলে তাকে বদলী করাচ্ছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান খুলনা সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানে বদলী করিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া গত ২০২০-২১ অর্থবছরের মেরামত কাজের ৩০লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের আরও ৩০লাখ টাকা কোন ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করেননি। নাম স্বর্বস্ব কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে নিজে ও তার সিন্ডিকেটের লোকজনকে দিয়ে নামমাত্র কাজ করে অধিকাংশ টাকা আত্নসাত করেছেন।নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ২০২১সালের ১৮মার্চ নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ভবন মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১৫লাখ ৫০হাজার টাকার কাজ দেন ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্টানকে। এ প্রতিষ্টান থেকে তিনি ৭লাখ ৫০হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে টাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান এলজিইডির সরকারী ব্যাংক হিসাব (সোনালী ব্যাংক, সাউথ সেন্ট্রাল রোড শাখা,-চলতি হিসাব ণং-৩৩০০১৪৯৬, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, খুলনা) নাম্বারে ২০২১সালের ১০এপ্রিল জমা করেন। পরে তিনি ওই টাকা তুলে অন্য কাজ দেখিয়ে আত্নসাত করেন। যদিও নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান বা অফিসের অন্য কেহ অফিসের ব্যাংক হিসাবে কোন টাকা জমা করার কোন নিয়ম নেই।এছাড়া মোবাইল মেনন্টেনেন্স ও আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা মেসার্স সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাথী এন্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স নূরজাহান এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা নামমাত্র করে দুই অর্থবছরের বাকী টাকা আত্নসাত করেছেন।।এ কাজের বিষয়ে মেসার্স নূরজাহান এন্টারপ্রাইজের মালিক জাফর ইসলাম শান্ত জানান, তিনি কোন মেরামত ও সংস্কার কাজ করেননি। তার নাম ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের আস্তাভজান লোকজন করেছেন। এছাড়া মেসার্স সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো: মনজুর হোসেন লাবলু জানান, তিনিও গত ২০২০-২১ বা ২০২১-২২ অর্থবছরে কোন মেরামত ও সংস্কার কাজ করেননি। তার লাইসেন্স ও প্রতিষ্টানের নাম ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্য সাবেক হিসাব সহকারী আমিরুল ইসলাম করেছেন।এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে সরকারী কোটি কোটি টাকা যেমন আত্নসাত করছেন। তেমনি ঠিকাদারদের হয়রানি ও দূর্ব্যবহার করে বিভিন্ন ফান্ড ও কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন। যার কারনে বেশ কিছু ঠিকাদার ইতিমধ্যেই পথে বসেছে। অনেকেই আবার এলজিইডিতে ঠিকাদারী ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন।।এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানসহ তার সহযোগীদের এসব অনিয়ম, ঘুষ ও কমিশন বানিজ্য এবং দূর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক বদলীসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের মন্ত্রীর এবং দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানিয়ে দাবী করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।ঠিকাদারদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।ইতিমধ্যেই এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের অভিযোগ এবং অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছেন।

সোমবার খুলনা দুদকের উপপরিচালক মো: আব্দুল ওয়াদুদ মুঠোফোনে জানান, দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে তিনি ও খুলনা দুদকের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমীনসহ একটি টিম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে দ্রুততার সাথে এনফোসর্মেন্ট অভিযান চালায়। অভিযানাকলে দুদকের সদস্যরা অনিয়ম-দূর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, অফিস সহকারী, সাবেক হিসাব সহকারীসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ঘটনার সত্যতা নিরুপণে এ তাৎক্ষনিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এটি জাষ্ট প্রাথমিক তথ্য যে ঘটনার আদৌ কোন সত্যতা আছে কিনা সেটা জানান জন্য করা হয়। তারপর এ অভিযানে তারা যে সকল তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন সেগুলি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরর্তীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের যে ধরনের নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নিবেন। তবে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন করে কেন্দ্রীয় কার্যালয় আবারও রেগুলার ষ্টাডি, বিস্তারিত তদন্ত বা মামলা হতে পারে অথবা এটি প্রমানিত না হওয়ায় অধিকতর কার্যক্রম না চারানোর সিদ্ধান্তও হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরর্তী নিদের্শনার অপেক্সায় রয়েছেন।

এলজিইডির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খুলনা দুদকের টিমের সদস্যরা বুধবার ও বৃহষ্পতিবারসহ বিভিন্ন সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান, সাবেক হিসাব রক্ষক বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় বদলীকৃত আমিুরল ইসলামসহ কয়েকজনকে জিজ্হাসাবাদ করেছেন। এছাড়া ব্যাংকের হিসাব, খরচের হিসাব ও বিভিন্ন কাজের ডকুমেন্ট তলব করে দেখেছেন। কিন্তু দুদকের অভিযানের বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। একই সাথে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমান করতে বাগেরহাটের চিতলমারীর একজন ঠিকাদার ও সাতক্ষীরার তালার একজন ঠিকাদারকে দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করানোর চেষ্টা করেছেন। এবং বিগত দিনে যাদেরকে খুলনা থেকে বিভিন্ন স্থানে বদলী করিয়েছেন তাদের উপর দোষ চাপাতে অপচেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪সেপ্টেম্বর দৈনিক কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইনে খুলনা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬/৭জন আস্থাভাজনের সমন্বয়ে ঘুষ, কমিশন বানিজ্য এবং অনিয়ম-দূর্নীতির সিন্ডিকেটে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হয়রানি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ ঠিকাদাররা প্রতিকার চেয়ে প্রধান প্রকৌশলী, দুদক ও মন্ত্রীর কাছে অবিযোগ দাখিল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

মোল্লাহাটে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

খুলনা এলজিইডিতে অনিয়ম-দূর্নীতির খোজে দুদকের অভিযান :

এলজিইডি’র  নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশিত সময় : ১২:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২

।। ফলোআপ।।

###    খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে(এলজিইডি) অভিযান চালিয়েছে দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। গত বুধবার থেকে কয়েকদিন খুলনা দুদকের উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি টিম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে অভিযান চালায়। দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে খুলনা সমন্বিত জেলা অফিসের কর্মকর্তারা এ অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানাকলে দুদকের সদস্যরা অনিয়ম-দূর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারীসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানান গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এলজিইডি অফিসের এই ঘুষ, কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পেতে ও বিচারের দাবীতে গত সেপ্টেম্বর মাসে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ দায়ের করেন। ঠিকাদারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে খবর প্রকাশের সূত্র ধরে দুদক এনফোসর্মেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। তবে এ বিষয়ে খুলনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান কোন কথা বলতে রাজি হননি। জানা গেছে, খুলনা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে সাবেক হিসাব সহকারী মো: আমিরুল ইসলাম, ম্যাকানিক্যাল ফোরম্যান নরেশ চন্দ্রসহ ৬/৭জন আস্থাভাজনের সমন্বয়ে ঘুষ, কমিশন বানিজ্য এবং অনিয়ম-দূর্নীতির সিন্ডিকেট রয়েছে। খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান যোগদান করার পর এই সিন্ডিকেট অর্ধশতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাড়ী, বাড়ীসহ বিপুল পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তারা। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই সিন্ডিকেটের হয়রানি, অত্যাচার-নির্যাতন, অমানুষিক আচরন, ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ায় অতিষ্ঠ ঠিকাদাররা প্রতিকার ও বিচারের দাবীতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। দায়েরকৃত অভিযোগে ঠিকাদাররা বলেন, ২০২০ সালের অক্টোবরে খুলনা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো: কামরুজ্জামান যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকে তিনি অফিসের অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িত বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আস্তায় নিয়ে চরম অনিয়ম-দূর্নীতি শুরু করেন।ইতিমধ্যেই নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান খুলনা এলজিইডির সবগুলো প্রকল্প থেকে গত প্রায় দুই বছরে কমিশন ও ঘুষ নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। কিনেছেন দামী গাড়ী, করেছেন বাড়ীসহ অঢেল সম্পদ। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান দপ্তরের প্রতিটি কাজ থেকে ৩শতাংশ থেকে ১০শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে। বিশেষ করে গত এক বছরে(২০২১-২২ অর্থবছরে) কেবিএস-আরআইডিপি, কেডিআরআইডিপি, টিইউএলও বা থানা ইউনিয়ন ল্যান্ড অফিস নির্মান প্রকল্প, এফডিআরআইডিপি বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, পিইডিপি-৪ বা প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪, এনবিডিআইএনএনজিপিএস বা নতুন জাতীয়করনকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উ্ন্নয়ণ প্রকল্প, এনবিআইডিজিপিএস বা জাতীয়করনকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প,  সিআরএমআইডিপি বা বাজার উ্ন্নয়ন প্রকল্প(পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটাসহ ৪টি উপজেলায়), ভিআরআরপি, আইআরআইডিপি-৩, ইউটিএমআইডিপি বা ননমিউনিসিপ্যাল অবকাঠামো উন্নয়ণ প্রকল্প, ইউএমসি বা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মান প্রকল্প ও সিএএফডিআরআইআরপি বা ঘূর্নিঝড় আম্ফান ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ ১৩টি প্রকল্প থেকে শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ সকল প্রকল্পে গত অর্থবছরে প্রায় একশো ৯৪কোটি টাকার বরাদ্ধ এসেছে বলে জানা গেছে। ঠিকাদারদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোন কোন ঠিকাদার ফান্ডের টাকা দিতে রাজি না হলে তাদের বিল মাসের পর মাস আটকে রেখে হয়রানি করছে। অথচ দুই-একজন ঠিকাদার যারা সরকার বিরোধী ও বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের কাছ থেকে ফান্ডের জন্য বেশী টাকা নিয়ে অগ্রীম বিলও দিয়ে দিচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান।কিন্তু সাধারন ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ঠিকাদাররা তার কাছে গেলে বা অন্যদের বেশী ও অগ্রীম বিল পরিশোধের প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যবহার করে। এবং অনেক সময় হিসাব সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান তাদের নথিও ছুড়ে ফেলে দিয়ে অত্যাচার করে। গত ২০২১সালের সেপ্টেম্বরের ০২তারিখ ঠিকাদার ম্যানেজমেন্ট মিটিংয়ে বিষয়গুলো তুলে ধরলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান সেইসব ঠিকাদারকে ধমক দিয়ে শায়েস্তা করেন। এচাড়া সিন্ডিকেটের পক্ষের ২/১জন ঠিকারদারকে দিয়ে ভুয়া অভিযোগ করিয়েও প্রকৃত সত ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে হয়রানির খড়গ চালায়। এভাবে সবার মুখ বন্ধ রেখে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান সিন্ডিকেট চরমভাবে ঘুস ও দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে মোবাইল মেইন্টেনেন্স, আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন মেরামত কাজ ঠিকাদারদের নাম দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান নিজে যতসামান্য কাজ করে ৫কোটি টাকা আত্নসাত করেছেন। এছাড়া মেকানিক্যাল পোরম্যান নরেশ চন্দ্র সাহা জ্বালানী ও মোটরযান মেরামতের ভুয়া বিল করে আরো দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারী প্রতিটি রোলার বরাদ্ধ নিলে ফোরম্যান নরেশ সাহাকে ঘুষ দিতে হয় ১০হাজার টাকা। আর রোলার চললে নরেশ সাহাকে প্রতিদিনের জন্য ৫’হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। এভাবে গত ৪/৫বছর ধরে নরেশ চন্দ্র সাহা প্রায় ৫/৬কোটি টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়েছে।যে কারনে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া  নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান অফিসের আর্থিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ দপ্তরের মাষ্টাররোল কর্মচারী কার্যসহকারী ও মাষ্টাররোল কর্মচারীদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন। একই সাথে টেন্ডার, চুক্তিপত্র, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নকরন, ইথ্যাদি বিষয়ও তাদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান। এভাবে তার ঘুষ ও দূনীতির সিন্ডিকেটের সদস্যদেরকে দিয়ে সকল কাজ করিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ বিষয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করলে তাকে বদলী করাচ্ছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান খুলনা সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানে বদলী করিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া গত ২০২০-২১ অর্থবছরের মেরামত কাজের ৩০লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের আরও ৩০লাখ টাকা কোন ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করেননি। নাম স্বর্বস্ব কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে নিজে ও তার সিন্ডিকেটের লোকজনকে দিয়ে নামমাত্র কাজ করে অধিকাংশ টাকা আত্নসাত করেছেন।নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ২০২১সালের ১৮মার্চ নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ভবন মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১৫লাখ ৫০হাজার টাকার কাজ দেন ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্টানকে। এ প্রতিষ্টান থেকে তিনি ৭লাখ ৫০হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে টাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান এলজিইডির সরকারী ব্যাংক হিসাব (সোনালী ব্যাংক, সাউথ সেন্ট্রাল রোড শাখা,-চলতি হিসাব ণং-৩৩০০১৪৯৬, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, খুলনা) নাম্বারে ২০২১সালের ১০এপ্রিল জমা করেন। পরে তিনি ওই টাকা তুলে অন্য কাজ দেখিয়ে আত্নসাত করেন। যদিও নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান বা অফিসের অন্য কেহ অফিসের ব্যাংক হিসাবে কোন টাকা জমা করার কোন নিয়ম নেই।এছাড়া মোবাইল মেনন্টেনেন্স ও আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা মেসার্স সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাথী এন্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স নূরজাহান এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা নামমাত্র করে দুই অর্থবছরের বাকী টাকা আত্নসাত করেছেন।।এ কাজের বিষয়ে মেসার্স নূরজাহান এন্টারপ্রাইজের মালিক জাফর ইসলাম শান্ত জানান, তিনি কোন মেরামত ও সংস্কার কাজ করেননি। তার নাম ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের আস্তাভজান লোকজন করেছেন। এছাড়া মেসার্স সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো: মনজুর হোসেন লাবলু জানান, তিনিও গত ২০২০-২১ বা ২০২১-২২ অর্থবছরে কোন মেরামত ও সংস্কার কাজ করেননি। তার লাইসেন্স ও প্রতিষ্টানের নাম ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্য সাবেক হিসাব সহকারী আমিরুল ইসলাম করেছেন।এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে সরকারী কোটি কোটি টাকা যেমন আত্নসাত করছেন। তেমনি ঠিকাদারদের হয়রানি ও দূর্ব্যবহার করে বিভিন্ন ফান্ড ও কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন। যার কারনে বেশ কিছু ঠিকাদার ইতিমধ্যেই পথে বসেছে। অনেকেই আবার এলজিইডিতে ঠিকাদারী ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন।।এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানসহ তার সহযোগীদের এসব অনিয়ম, ঘুষ ও কমিশন বানিজ্য এবং দূর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক বদলীসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের মন্ত্রীর এবং দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানিয়ে দাবী করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।ঠিকাদারদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।ইতিমধ্যেই এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের অভিযোগ এবং অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছেন।

সোমবার খুলনা দুদকের উপপরিচালক মো: আব্দুল ওয়াদুদ মুঠোফোনে জানান, দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে তিনি ও খুলনা দুদকের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমীনসহ একটি টিম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে দ্রুততার সাথে এনফোসর্মেন্ট অভিযান চালায়। অভিযানাকলে দুদকের সদস্যরা অনিয়ম-দূর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, অফিস সহকারী, সাবেক হিসাব সহকারীসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ঘটনার সত্যতা নিরুপণে এ তাৎক্ষনিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এটি জাষ্ট প্রাথমিক তথ্য যে ঘটনার আদৌ কোন সত্যতা আছে কিনা সেটা জানান জন্য করা হয়। তারপর এ অভিযানে তারা যে সকল তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন সেগুলি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরর্তীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের যে ধরনের নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নিবেন। তবে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন করে কেন্দ্রীয় কার্যালয় আবারও রেগুলার ষ্টাডি, বিস্তারিত তদন্ত বা মামলা হতে পারে অথবা এটি প্রমানিত না হওয়ায় অধিকতর কার্যক্রম না চারানোর সিদ্ধান্তও হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরর্তী নিদের্শনার অপেক্সায় রয়েছেন।

এলজিইডির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খুলনা দুদকের টিমের সদস্যরা বুধবার ও বৃহষ্পতিবারসহ বিভিন্ন সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান, সাবেক হিসাব রক্ষক বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় বদলীকৃত আমিুরল ইসলামসহ কয়েকজনকে জিজ্হাসাবাদ করেছেন। এছাড়া ব্যাংকের হিসাব, খরচের হিসাব ও বিভিন্ন কাজের ডকুমেন্ট তলব করে দেখেছেন। কিন্তু দুদকের অভিযানের বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। একই সাথে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমান করতে বাগেরহাটের চিতলমারীর একজন ঠিকাদার ও সাতক্ষীরার তালার একজন ঠিকাদারকে দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করানোর চেষ্টা করেছেন। এবং বিগত দিনে যাদেরকে খুলনা থেকে বিভিন্ন স্থানে বদলী করিয়েছেন তাদের উপর দোষ চাপাতে অপচেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪সেপ্টেম্বর দৈনিক কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইনে খুলনা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬/৭জন আস্থাভাজনের সমন্বয়ে ঘুষ, কমিশন বানিজ্য এবং অনিয়ম-দূর্নীতির সিন্ডিকেটে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হয়রানি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ ঠিকাদাররা প্রতিকার চেয়ে প্রধান প্রকৌশলী, দুদক ও মন্ত্রীর কাছে অবিযোগ দাখিল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ##