১১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
কর্মকর্তার বিচার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবী

কয়রায় বন কর্মকর্তাকে চাদা না দেওয়ায় একের পর এক মিথ্যা মামলায় হয়রানী

 ###     কয়রায় বন বিভাগের কোবাদক ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুল ইসলামের দাবীকৃত মোটা অংকের চাদা না দেওয়ায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করছে এলাকার কাঁকড়া ব্যবসায়ীসহ সাধারন গ্রামবাসীকে। রবিবার উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের দয়াল সরকারের পুত্র ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি বিপুল কুমার সরকার কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন। বন কর্মকর্তার বিচার ও শাস্তি এবং দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২২সালের ১০জুন রাত্রে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের বেড়িবাঁধের পুর্বপাশ্বে ১টি বন্যশুকর প্রবেশ করে। আমার মাতা নমিতা সরকার ঐ রাত্রে মৎস্য ঘেরে আটন ঝাড়ার জন্য যাওয়ার পতিমধ্যে বন্যশুকরটি তার পায়ে কামড় দিয়ে আহত করে। তার চিৎকারে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজন আমার মাতা নমিতা সরকারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরদিন সকালে কয়রা উপজলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এলাকায় বন্যশুকরের বিক্ষিপ্ত ছোটাছুটিতে আতংক সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন বন্যশুকরটিকে বনে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলে একপর্যায়ে শুকরটি মারা যায়। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কোবাদক স্টেশনের স্টাফরা ১টি মৃত বন্যশুকর উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। পরদিন কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুল ইসলাম আমার নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমি ঘটনাস্থলে না থাকা সত্বেও আমাকে ও আমার পিতা দয়াল সরকারকে আসামী করে ১৪জুন ১টি বন মামলা(নং-এফসিআর-৬১-২০২২,তাং-১৪/৬/২০২২) দায়ের করে। ঐ মামলায় আমরা জামিন প্রাপ্ত হই।

সংবাদ সম্মলন তিনি আরও জানান, বন বিভাগের কোবাদক স্টেশনের স্টাফরা ২০২২সালের ২৮ আগষ্ট কপোতাক্ষ নদে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সময় কাঁকড়া আহরণের অভিযাগে ৪০ কেজি কাঁকড়া সহ উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের আজগর আলী নামের ১ব্যাক্তিকে আটক করে। হঠাৎ একদিন ঘড়িলাল বাজারে আমার কাঁকড়া ডিপোতে আমাকে পুলিশ ধরতে আসে। ধরতে আসার কারণ জানতে চাইলে জানতে পারি, কাঁকড়া অভিযানের ঘটনায় আমাকে ৩নং আসামী করা হয়েছে। আমি উক্ত মামলায় আটক হয়ে  ১সপ্তাহ জেল হাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পাই। আমি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ী ফিরে এসে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে কোবাদক স্টেশনের ঐ কর্মকর্তা আমাকে হুমকি দেয়। এছাড়া স্টেশনের ঐ কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে তাদের সাথে সমাঝোতা না করলে আরো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হবে বলেও ভয়ভীতি দেয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা হতে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।

এবিষয়ে কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদা দাবীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কেন বিপুল সরকারকে বারে বারে মিথ্যা মামলায় আসামী করছেন এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

কর্মকর্তার বিচার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবী

কয়রায় বন কর্মকর্তাকে চাদা না দেওয়ায় একের পর এক মিথ্যা মামলায় হয়রানী

প্রকাশিত সময় : ০৮:১১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

 ###     কয়রায় বন বিভাগের কোবাদক ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুল ইসলামের দাবীকৃত মোটা অংকের চাদা না দেওয়ায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করছে এলাকার কাঁকড়া ব্যবসায়ীসহ সাধারন গ্রামবাসীকে। রবিবার উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের দয়াল সরকারের পুত্র ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি বিপুল কুমার সরকার কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন। বন কর্মকর্তার বিচার ও শাস্তি এবং দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২২সালের ১০জুন রাত্রে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের বেড়িবাঁধের পুর্বপাশ্বে ১টি বন্যশুকর প্রবেশ করে। আমার মাতা নমিতা সরকার ঐ রাত্রে মৎস্য ঘেরে আটন ঝাড়ার জন্য যাওয়ার পতিমধ্যে বন্যশুকরটি তার পায়ে কামড় দিয়ে আহত করে। তার চিৎকারে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজন আমার মাতা নমিতা সরকারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরদিন সকালে কয়রা উপজলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এলাকায় বন্যশুকরের বিক্ষিপ্ত ছোটাছুটিতে আতংক সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন বন্যশুকরটিকে বনে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলে একপর্যায়ে শুকরটি মারা যায়। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কোবাদক স্টেশনের স্টাফরা ১টি মৃত বন্যশুকর উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। পরদিন কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুল ইসলাম আমার নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমি ঘটনাস্থলে না থাকা সত্বেও আমাকে ও আমার পিতা দয়াল সরকারকে আসামী করে ১৪জুন ১টি বন মামলা(নং-এফসিআর-৬১-২০২২,তাং-১৪/৬/২০২২) দায়ের করে। ঐ মামলায় আমরা জামিন প্রাপ্ত হই।

সংবাদ সম্মলন তিনি আরও জানান, বন বিভাগের কোবাদক স্টেশনের স্টাফরা ২০২২সালের ২৮ আগষ্ট কপোতাক্ষ নদে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সময় কাঁকড়া আহরণের অভিযাগে ৪০ কেজি কাঁকড়া সহ উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের আজগর আলী নামের ১ব্যাক্তিকে আটক করে। হঠাৎ একদিন ঘড়িলাল বাজারে আমার কাঁকড়া ডিপোতে আমাকে পুলিশ ধরতে আসে। ধরতে আসার কারণ জানতে চাইলে জানতে পারি, কাঁকড়া অভিযানের ঘটনায় আমাকে ৩নং আসামী করা হয়েছে। আমি উক্ত মামলায় আটক হয়ে  ১সপ্তাহ জেল হাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পাই। আমি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ী ফিরে এসে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে কোবাদক স্টেশনের ঐ কর্মকর্তা আমাকে হুমকি দেয়। এছাড়া স্টেশনের ঐ কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে তাদের সাথে সমাঝোতা না করলে আরো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হবে বলেও ভয়ভীতি দেয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা হতে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।

এবিষয়ে কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদা দাবীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কেন বিপুল সরকারকে বারে বারে মিথ্যা মামলায় আসামী করছেন এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি। ##