০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়া সাথে খুলনা ও ফরিদপুর রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস  চলাচল বন্ধ

###      কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের বাসমালিক এবং পরিবহন শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে কুষ্টিয়ার সাথে খুলনা ও ফরিদপুর রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধের কারণে অনেকেই বাস কাউন্টারে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সকালে শহরের মজমপুর বাস ডিপো ও শহরতলীর চৌড়হাঁস এলাকার বাস টার্মিনালে এই দুই রটে যাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেকে যাত্রীকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আপাতত দুটি রুটে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ৯ এপ্রিলের মধ্যে সমাধান না হলে কুষ্টিয়ার সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। কুষ্টিয়া জেলা বাসমালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েকদিন ধরেই ঝিনাইদহ শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে ফরিদপুরের ট্রিপ নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জেরে ৫ এপ্রিল মধ্যরাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় কুষ্টিয়ার গড়াই পরিবহনের স্টাফদের মারধর করেন ঝিনাইদহ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এর প্রতিবাদে শুক্রবার ভোর থেকে কুষ্টিয়া-খুলনাগামী গড়াই-রূপসা পরিবহন এবং কুষ্টিয়া থেকে ফরিদপুরগামী সব যাত্রীবাহী বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

খুলনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শেখ আসলাম হোসেন বলেন, পরিবার নিয়ে খুলনায় যাওয়ার জন্য টিকিট কাউন্টারে এসে দেখি বাস বন্ধ। এখন কীভাবে খুলনায় যাবো দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আমার মতো অনেক যাত্রীকেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঝিনাইদহ যাওয়ার জন্য মজমপুর গেটে আসেন রত্না বেগম। এসে জানতে পারেন বাস চলছে না। দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে গন্তব্যস্থল যাবেন এ নিয়ে চিন্তিত তিনি। কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাবলু বলেন, ঝিনাইদহ শ্রমিক ইউনিয়ন বেশি ট্রিপের অন্যায্য দাবিতে আমাদের শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, বাস ভাঙচুর করেছে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, ঝিনাইদহ মোটরশ্রমিক নেতারা বাসের নতুন ট্রিপ দাবি করছেন। তাদের এ অন্যায্য দাবির কারণেই মূলত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আমরা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বসি। এ সময় ঝিনাইদহ জেলার শ্রমিকরা কুষ্টিয়ার পরিবহন স্টাফদের মারধর করে এবং বাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিক-মালিক গ্রুপ উভয় মিলে দুই রুটে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

ডুমুরিয়ায় মোটরসাইকেল-ইঞ্জিন ভ্যান সংঘর্ষে নিহত-২,আহত-৪

কুষ্টিয়া সাথে খুলনা ও ফরিদপুর রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস  চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত সময় : ০৭:৩৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ এপ্রিল ২০২৩

###      কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের বাসমালিক এবং পরিবহন শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে কুষ্টিয়ার সাথে খুলনা ও ফরিদপুর রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধের কারণে অনেকেই বাস কাউন্টারে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সকালে শহরের মজমপুর বাস ডিপো ও শহরতলীর চৌড়হাঁস এলাকার বাস টার্মিনালে এই দুই রটে যাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেকে যাত্রীকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আপাতত দুটি রুটে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ৯ এপ্রিলের মধ্যে সমাধান না হলে কুষ্টিয়ার সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। কুষ্টিয়া জেলা বাসমালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েকদিন ধরেই ঝিনাইদহ শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে ফরিদপুরের ট্রিপ নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জেরে ৫ এপ্রিল মধ্যরাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় কুষ্টিয়ার গড়াই পরিবহনের স্টাফদের মারধর করেন ঝিনাইদহ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এর প্রতিবাদে শুক্রবার ভোর থেকে কুষ্টিয়া-খুলনাগামী গড়াই-রূপসা পরিবহন এবং কুষ্টিয়া থেকে ফরিদপুরগামী সব যাত্রীবাহী বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

খুলনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শেখ আসলাম হোসেন বলেন, পরিবার নিয়ে খুলনায় যাওয়ার জন্য টিকিট কাউন্টারে এসে দেখি বাস বন্ধ। এখন কীভাবে খুলনায় যাবো দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আমার মতো অনেক যাত্রীকেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঝিনাইদহ যাওয়ার জন্য মজমপুর গেটে আসেন রত্না বেগম। এসে জানতে পারেন বাস চলছে না। দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে গন্তব্যস্থল যাবেন এ নিয়ে চিন্তিত তিনি। কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাবলু বলেন, ঝিনাইদহ শ্রমিক ইউনিয়ন বেশি ট্রিপের অন্যায্য দাবিতে আমাদের শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, বাস ভাঙচুর করেছে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, ঝিনাইদহ মোটরশ্রমিক নেতারা বাসের নতুন ট্রিপ দাবি করছেন। তাদের এ অন্যায্য দাবির কারণেই মূলত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আমরা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বসি। এ সময় ঝিনাইদহ জেলার শ্রমিকরা কুষ্টিয়ার পরিবহন স্টাফদের মারধর করে এবং বাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিক-মালিক গ্রুপ উভয় মিলে দুই রুটে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।##