০৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কেসিসিতে কঠোর নিরাপত্তায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত

####

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন শেষ হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ও হাঙ্গামা এবং জাল ভোট দেয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। সোমবার সকাল ০৮টার আগে থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও নতুন ভোটারদের মধ্যেই বেশী উৎসাহ লক্ষ করা গেছে। তবে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতিও বেড়েছে। নগরীর ৩১টি ওর্ডের কয়েকটি স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বি কাউন্সিলর প্রার্থীদের সর্থকদের মধ্যে কিছু ‍উত্তেজনা দেখা গেলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা সংঘর্ষ ও হাঙ্গামায় রূপ নেয়নি।  বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্র ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।এদিকে, দুই মেয়র প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের আ: আউয়াল ও জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু  ইভিএমে ভোট দেয়া নিয়ে সমস্যা ও ইভিএমে কারচুপিরও অভিযোগ ‍তুলেছেন। তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ভোট সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ এবং ইভিএমে ভোট কারচুপির কোন ‍সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন।

সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ২৭টি ভোট কেন্দ্রে ঘুরে ভোটের নানাবিধ চিত্র পাওয়া গেছে। সোমবার ভোট শুরু আগেই সকাল সাড়ে সাতটায় নগরীর নিরালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেকা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ভোট গ্রহন কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিয়ে ভোটারের জন্য অপেক্সায় আছেন। একই সাথে বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টরাও কেন্দ্রে পৌছেছেন। নিরালা মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে ১০-১২জন ভোটার এসেছেন।এ স্কুলের একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, নিরালা মাধ্যমিক স্কুলেই ২০৭,২০৮,২০৯ ও ২১০ এই ৪টি কেন্দ্রে রয়েছে। এখানের ৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১১হাজার ৭১৩জন।এখানে ভোট দিতে আসা আ: সাত্তার, খাদিজা বেগম ও এ্যাড. মোশাররফ হোসেনের সাথে কথা হয়। তারা জানান, ভোট কেন্দ্রের বাইরের ও ভিতরের পরিস্তিতি খুবই ভালো। কোথাও কোন সমস্যা তারা দেখেন নি বা ভোট কেন্দ্রে আসতে কোন সমস্যা হয়নি।পরিবেশ অনেক সুন্দর দেখছেন। ইভিএমে ভোট দেয়ার বিষয়ে তারা বলেন, ইভিএম ‍ সুন্দর একটি ব্যবস্থা। ভোট দিতে তেমন কোন সময় ব্যয় হয়নি। আবার ভোট দেয়ার আগেই আমার ছবিসহ সবকিছুই দেখে নিতে পেরেছি। এবং পচ্ছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে পেরে অনেক খুশী। সকাল আটটা ১৫মিনিটের সময় নগরীর সোনাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০৫ ও ২০৬নং কেন্দ্রে কয়েকজন ভোটারকে  দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রিক্সা চালক খলিলুর রহমান বলেন, তিনি রিক্সা চালান তাই প্রথমেই ভোট দিয়ে তিনি রিক্সা চালানোর কাজে যাবেন। সেজন্য আগেই এসে ভোট দিচ্ছেন। তিনি আগে এই এলাকায় থাকাকালে ভোটার হয়েছিলেন।তাই ভোট দিতে এসেছেন।কিন্তু এখন তিনি রিয়া বাজার এলাকায় থাকেন। ভোটের পরিবেশ ও ইভিএমে প্রথম ভোট দিলেও কোন সমস্যা হয়নি। এছাড়া খুবই তাড়াতাড়ি ভোট দিতে পেরে খুশী বলেও জানান। এ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ২হাজার ৫২৪জন। সকাল সাড়ে আটটায় ইকবালনগর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রের ৬টি ‍বুথে শুধুমাত্র নৌকার ৬জন এজেন্ট রয়েছে। আর কোন মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট নেই। পরে লাঙ্গল প্রতিকের একজন এজেন্ট আসেন। তবে এ স্কুলে ০৬টি বুথের সবগুলোতেই লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট দেয়নি। তারা মাত্র একজন এজেন্ট দিয়েছে। তারপেরও এজেন্টের বিষয়ে সঠিক নিয়ম প্রতিপালন না করায় প্রথমে সমস্যা হয়েছিল। পরে তাদের দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করায় সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার দেবাশীষ ‍কুন্ডু। এ কেন্দ্রে বেশকিছু নারী ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যারা লাইনে দাড়িয়ে থেকে ভোট দিচ্ছেন। এই কেন্দ্রের লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট মো: রায়হান জানান, তিনি একাই এ কেন্দ্রের এজেন্ট। ৬টি বুথ থাকলেও অন্যবুথে কেন এজেন্ট দেয়া হয়নি সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। সকাল পৌনে নয়টায় সরকারী সিটি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও একই অবস্থা। শুধুমাত্র নৌকার প্রার্থীর এজেন্ট রয়েছে। বাকীদের কোন পুরোপুরি এজেন্ট দেয়া হয়নি। সেখানের ১২টি ‍বুথের মধ্যে লাঙ্গলের প্রার্থীর সাবিকুন্নাহার নামে একজন এজেন্ট পাওয়া যায়। কিন্তু আরও ১১টি ‍বুথে তাদের কোন এজেন্ট নেই। এ কেন্দ্রে ভোটর ১৬৮০জন।

নগরীর পাইওনিয়ার মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টায় ভোট দেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।এ সময় তার সাথে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কেন্্রেদর দ্বিতীয় তলায় একটি ‍বুথে ভোট দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সকালে ভোট গ্রহন শুরুর পর থেকেই কয়েকটি কেন্দ্রে আমি ঘুরেছি। ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো দেখেছি। সুন্দর ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কমিশন ও প্রশাসন নিরাপত্তা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। যেভাবে ভোট হচ্ছে সেটাতে মনে হয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান। তিনি আরো বলেন, গত ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে তিনি মেয়ার পদে পরাজিত হলেও ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনেও ভোটারদের ভোটে ফলাফল যাই হোক না কেন তিনি মেনে নেবেন। তিনি বলেন, সকালে ভোটার উপস্থিতি একটু কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে। কারন মানুষ তাদের সকালের কাজ সেরেই ভোট দিতে আসে। ফলে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কোন শংকা নেই। নির্বাচনে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ ভোটার ভোট দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট দিয়ে কোন শংকা তার নেই। বরং ইভিএমে ভোট হওয়ায় অনেক সহজে ও স্বাচ্ছন্দে মানুষ ভোট দিতে পারছে। ইভিএমে ফাকি দেয়া বা রেজাল্ট পাল্টানোর কোন সুযোগও নেই। যারা ইভিএম নিয়ে অভিযোগ করছে তারা শুধুই রাজনৈতিক কারনেই করছে বলে জানান তিনি। এরআগে একই কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর সহধর্মীনি পরিবেশ ও জলবায়ু উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। এ সময় তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।এ কেন্দ্রে আশি বছর বয়সী নারী রহিমা বেগম তার নাতিনীর সাথে ভোট দিতে আসেন। তিনি শারীরিকভাবে কিছূটা অসুস্থ্য থাকলেও নাতনীর সহায়তা নিয়ে ভোট দিতে আসেন। তিনি জানান, জীবনের শেষ প্রান্তে এসেছেন। তাই এবারের ভোটটা মিস করছেন না। আগামীতে বোট দিতে পারবেন কিনা সেই শংকায় কষ্ট করে হলেও তিনি এসেছেন। আর মেশিনে ভোট দিতে পেরে খুবই খুশী। কারন তিনি এরআগে কখনও মেশিনে ভোট দেননি। তিনি বলেন, হাতে সিল মেরে ভোট দেয়ার চেয়ে মেশিন অনেক ভালো। এবং তাড়াতাড়িই ভোট দিতে পেরেছি। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ১হাজার ৫২৫জন।

বেলা পৌনে এগারোটায় নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামান দারুল কোরয়ান হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঘুরে কয়েকটি কেন্দ্রের ইভিএম কাজ করছে না এমন অভিযোগ পেয়েছেন। এমনকি হাতপাখায় ভোট দিলেও সে ভোট নৌকায় চলে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন,এ সরকারের সময়ে আগের নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। সেজন্য এবারেও সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ‍সুষ্ঠু আছে। এভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত থাকলে এবং ইভিএমগুলো দ্রুত ঠিক করে সুষ্ঠাভাবে ভোট হলে তিনি বিজয়ী হবেন। তিনি আশা করেন নির্বাচন কমিশন যে কথা দিয়েছেন তা তারা রাখবেন। তিনি জনগনের ভোটে যে ফলাফল হোক না কেন মেনে নেবেন বলেও জানান। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২হাজার ৪৮জন। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘন্টায় ভোট পড়ে ১০.৫ শতাংশ বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ইভিএমে কোন সমস্যা নেই। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভোটারের না বোঝার কারনে ভোট দিতে একটু সময় বেশী লাগতে পারে। তাদের কাছে অতিরিক্ত মেশিন রয়েছে। কোন ইভিএম মেশিন একটা নষ্ট হলে দ্রুততার সাথে পরিবর্তন করে আরেকটা মেশিন দিয়ে ভোট গ্রহন করা সম্ভব। পাশের বানিয়াখামার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। এ কেন্দ্রে নারী ভোটারদের বেশী দেখা গেছে। এখানে বেশকিছু সংখ্যক নারী ভোটার লাইন দিয়ে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল। সেখানে কথা হয় তাছলিমা খাতুন ও শরিফা বেগম নামে দুই ভোটারের সাথে। তারা জানান, তাদের ভোট কেন্দ্রে আসতে রাস্তায় কোন সমস্যা হয়নি। বা ভোট কেন্দ্রে না যেতেও কেউ হুমকিও দেয়নি। ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ খুবই সুন্দর। ভোটও দিয়েছেন খুবই ভালোভাবে। ইভিএমে তারা এরআগে কখনও ভোট দেননি। প্রথমবারের মত ইভিএমে ভোট দিয়ে আনন্দিত তারা। ইভিএমে ভোট দিতে তাদের খুবই সহজ মনে হয়েছে। এভাবে ভোট হলে মানুষ আনন্দ মনে ভোট দিতে আসবে বলে তারা জানান। বেলা

বেলা সাড়ে এগারোটায় খুলনায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু খুলনা কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন. আজকে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে বিষয়ে শংকা রয়েছে। এ সরকারের অধীনে পূর্বে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি।  তাই আজকের ভোটও সুষ্ঠু হবে না বলে তিনি জানান। বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোট প্রদান ধীরগতি ও নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি নয়াবাটি, পল্লীমঙ্গল ও মোল্লাপাড়া সরকারি স্কুল কেন্দ্রে ইভিএম কাজ করছে না বলে জানান। তিনি বলেন, ১৭৩২টা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৭০০টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পেরেছেন।  তারপরও কিছু কিছু কেন্দ্রে তার এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ইভিএম-এর ভোটে কারচুপির আশঙ্কা করেছেন। তবে তিনি ভোটের ফলাফল বিষয়ে পরে মতামত ব্যক্ত করবেন বলেও জানান। এ কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বৃদ্ধ থেকে তরুন সব বয়সী ভোটাররাই এখানে ভোট দিয়েছেন। এখানে কথা ঞয় প্রথমবার ভোট দিতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী প্রিয়ংকা ও রহিমা খাতুনের সাথে। তারা জানান, জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে ভালোই লেগেছে। একটা অন্য রকম অনুভূতি তাদের হয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা ইভিএমে ভোট দেয়া তাদের কাছে খুবই আধুনিক মনে হয়েছে। আমরা যে একটি ডিজিটাল দেশের নাগরিক সেটার একটা অনুভূতি আমার পেয়েছি। ভোট কেন্্রেদর ব্যবস্তাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও তারা সন্তুষ্ঠ। কতা হয় অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ রায়ের সাথে। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের কারনে সকাল সকাল ভোট দিতে এসেছেন। বাইরের পরিস্তিতি ও ভিতরের পরিস্থিতি দেখে খুবই বারো মনে হয়েছে। আর ইভিএমে ভোট দিতে পেরে তিনিও আনন্দিত। জীবনের শেষ প্রান্ডে এসে একটি ইলেকট্রোনিক মেশিনে বোট দিতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন। পরে রহিমা বেগম প্রাইমারী স্কুল, পল্লীমঙ্গল এলাকার পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা কলেজ, গল্রামারী এলাকার সেন্ট পলস হাই স্কুল, লায়ন্স কলেজিয়েট স্কুল, পাইওনিয়ার কলেজ, পিটিআই কেন্দ্র ঘুরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনের চিত্র পাওয়া গেছে।

দুপুরের দিকে নগরীর ১২নং ওর্ডের খালিশপুর স্যাটেলাইট স্কুল কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট প্রদানের সমস্যার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা যায়। তবে স্যাটেলাইট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কিংকর বিশ্বাস জানান, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি এ কেন্দ্রের ভোটার নন। ম্যিথা ও ভাওতাবাজি কথা বলছেন। ভোট দিয়ে বাইরে গিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়ে বিতর্কিত করতে চাইছেন তিনি। তার কেন্দ্রে এধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। তবে এ কেন্দ্রের বাইরে সাদারন মানুষের অনেক জটলা দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি পুলিশ ও প্রশাসনের বিষয়। আমি তাদেরকে বলেছি। কিন্তু শ্রমিক এলাকা হওয়ায় তাদেরকে শান্ত রাখা যাচ্ছে না। কাউন্সিল প্রার্থীদের সমর্থক এসব মানুষ জটিলতা সৃষ্টি করছে। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিষ্টেট এসে ব্যবস্তা নিলে সবাই ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। একই বাউন্ডারীর মধ্যে স্যাটেলাইট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সেখানে গিয়ে পুরুষদের বেশী ভিড় দেখা গেছে। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো: আনোয়ারুল কবির জানান, তার কেন্দ্রে মোট বোটার ২হাজার ৫০২জন। দুপুর একটা পর্যন্ত প্রায় ৭০০বোট কাষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, তার কেন্দ্রে একজন লোক ভোট দিতে এসে হাতপাকায় বোট দিতে গিয়ে ভুল করে নৌকায় ভোট দিয়েছেন।কিন্তু তিনি অভিযোগ করছেন ইভিএমে ভুল করেছে। এটা ইভিএম মেশিনের নয়-ওই ভোটারের ভুল। তিনি নিজের ভুলকে আমাদের উপর চাপাতে চাইছেন। বিষয়টি কমিশনকেও জানানো হয়েছে। এছাড়া এখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে সেটার ভিডিও দেখলেই প্রমান পাওয়া যাবে। একানে কোন ইভিএম মেশিন নষ্ট বা সমস্যা হয়নি। যিনি বরছেন তিনি সঠিক কথা না বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। এ কেন্দ্রও ৬টি বুথ থাকলেও সেখানে হাতপাকার ও লাঙ্গলের কোন এজেন্ট ছিল না। প্রিজাইডিং অফিসার জানান, হাতপাখা বা লাঙ্গলের প্রার্থী এখানে কোন এজেন্ট দেয়ার কোন কাগজপত্র দেয়নি। পরে বিকেল আড়াইটার দিকে দৌলতপুরের দেয়ানা উত্তরপাড়া মা্যধমিক স্কুল, দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক স্কুল, মধ্যডাঙ্গা স্কুল ও পাবলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও কোন ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিকেল সাতে তিনটার দিকে নগরীল ৬নং ঘাটে এরমাদ আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয় কেন্দ্রে বেশ ‍উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কাউন্ষির প্রার্থী মামসুজ্জামান মিয়া স্বপন অনেক লোকজন নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে প্রতিপক্ষ কাউন্সিল প্রার্থীর লোকজন বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। এক পর্যায়ে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেটের উপস্থিতি ও তৎপরতায় তা শান্ত হয়। এ সময় পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিরে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ছেড়ে সরে পড়ে। বাকী এক ঘন্টা সময় নিবির্ঘ্নে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসি নির্বাচনে সকাল থেকে থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো: আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রায় ৫০টির বেশী কেন্দ্রে ঘুরেছেন। তবে কোথাও কোন অভিযোগ পাননি বা কোন প্রার্থীও কোন অভিযোগ করেন নি। পরিবেশ নিয়েও কোন অভিযোগ নেই। ইভিএমে সমস্যা বিষয়ে তিনি কোন খবর পাননি। বা কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। তিনি বলেন, দুই মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ বিষয়টি তিনি দ্রুততার সাথে খোজ খবর নিয়েছেন। কিন্তু তার কোন সত্যতা পাননি। তিনি বলেন, সকলের সহযোগীতায় খুলনা সিটিতে একটি সুষ্ঠু, শান্তির্ণ ও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন অনুষ্টান সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারন মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন, সাধারণ ৩১টি ও সংরক্ষিত ১০টি মিলে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৭৫ জন প্রার্থী।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

দশমিনায় পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করায় দুই শিক্ষার্থী বহিস্কার

কেসিসিতে কঠোর নিরাপত্তায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩

####

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন শেষ হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ও হাঙ্গামা এবং জাল ভোট দেয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। সোমবার সকাল ০৮টার আগে থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও নতুন ভোটারদের মধ্যেই বেশী উৎসাহ লক্ষ করা গেছে। তবে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতিও বেড়েছে। নগরীর ৩১টি ওর্ডের কয়েকটি স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বি কাউন্সিলর প্রার্থীদের সর্থকদের মধ্যে কিছু ‍উত্তেজনা দেখা গেলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা সংঘর্ষ ও হাঙ্গামায় রূপ নেয়নি।  বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্র ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।এদিকে, দুই মেয়র প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের আ: আউয়াল ও জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু  ইভিএমে ভোট দেয়া নিয়ে সমস্যা ও ইভিএমে কারচুপিরও অভিযোগ ‍তুলেছেন। তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ভোট সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ এবং ইভিএমে ভোট কারচুপির কোন ‍সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন।

সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ২৭টি ভোট কেন্দ্রে ঘুরে ভোটের নানাবিধ চিত্র পাওয়া গেছে। সোমবার ভোট শুরু আগেই সকাল সাড়ে সাতটায় নগরীর নিরালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেকা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ভোট গ্রহন কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিয়ে ভোটারের জন্য অপেক্সায় আছেন। একই সাথে বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টরাও কেন্দ্রে পৌছেছেন। নিরালা মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে ১০-১২জন ভোটার এসেছেন।এ স্কুলের একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, নিরালা মাধ্যমিক স্কুলেই ২০৭,২০৮,২০৯ ও ২১০ এই ৪টি কেন্দ্রে রয়েছে। এখানের ৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১১হাজার ৭১৩জন।এখানে ভোট দিতে আসা আ: সাত্তার, খাদিজা বেগম ও এ্যাড. মোশাররফ হোসেনের সাথে কথা হয়। তারা জানান, ভোট কেন্দ্রের বাইরের ও ভিতরের পরিস্তিতি খুবই ভালো। কোথাও কোন সমস্যা তারা দেখেন নি বা ভোট কেন্দ্রে আসতে কোন সমস্যা হয়নি।পরিবেশ অনেক সুন্দর দেখছেন। ইভিএমে ভোট দেয়ার বিষয়ে তারা বলেন, ইভিএম ‍ সুন্দর একটি ব্যবস্থা। ভোট দিতে তেমন কোন সময় ব্যয় হয়নি। আবার ভোট দেয়ার আগেই আমার ছবিসহ সবকিছুই দেখে নিতে পেরেছি। এবং পচ্ছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে পেরে অনেক খুশী। সকাল আটটা ১৫মিনিটের সময় নগরীর সোনাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০৫ ও ২০৬নং কেন্দ্রে কয়েকজন ভোটারকে  দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রিক্সা চালক খলিলুর রহমান বলেন, তিনি রিক্সা চালান তাই প্রথমেই ভোট দিয়ে তিনি রিক্সা চালানোর কাজে যাবেন। সেজন্য আগেই এসে ভোট দিচ্ছেন। তিনি আগে এই এলাকায় থাকাকালে ভোটার হয়েছিলেন।তাই ভোট দিতে এসেছেন।কিন্তু এখন তিনি রিয়া বাজার এলাকায় থাকেন। ভোটের পরিবেশ ও ইভিএমে প্রথম ভোট দিলেও কোন সমস্যা হয়নি। এছাড়া খুবই তাড়াতাড়ি ভোট দিতে পেরে খুশী বলেও জানান। এ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ২হাজার ৫২৪জন। সকাল সাড়ে আটটায় ইকবালনগর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রের ৬টি ‍বুথে শুধুমাত্র নৌকার ৬জন এজেন্ট রয়েছে। আর কোন মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট নেই। পরে লাঙ্গল প্রতিকের একজন এজেন্ট আসেন। তবে এ স্কুলে ০৬টি বুথের সবগুলোতেই লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট দেয়নি। তারা মাত্র একজন এজেন্ট দিয়েছে। তারপেরও এজেন্টের বিষয়ে সঠিক নিয়ম প্রতিপালন না করায় প্রথমে সমস্যা হয়েছিল। পরে তাদের দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করায় সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার দেবাশীষ ‍কুন্ডু। এ কেন্দ্রে বেশকিছু নারী ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যারা লাইনে দাড়িয়ে থেকে ভোট দিচ্ছেন। এই কেন্দ্রের লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট মো: রায়হান জানান, তিনি একাই এ কেন্দ্রের এজেন্ট। ৬টি বুথ থাকলেও অন্যবুথে কেন এজেন্ট দেয়া হয়নি সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। সকাল পৌনে নয়টায় সরকারী সিটি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও একই অবস্থা। শুধুমাত্র নৌকার প্রার্থীর এজেন্ট রয়েছে। বাকীদের কোন পুরোপুরি এজেন্ট দেয়া হয়নি। সেখানের ১২টি ‍বুথের মধ্যে লাঙ্গলের প্রার্থীর সাবিকুন্নাহার নামে একজন এজেন্ট পাওয়া যায়। কিন্তু আরও ১১টি ‍বুথে তাদের কোন এজেন্ট নেই। এ কেন্দ্রে ভোটর ১৬৮০জন।

নগরীর পাইওনিয়ার মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টায় ভোট দেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।এ সময় তার সাথে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কেন্্রেদর দ্বিতীয় তলায় একটি ‍বুথে ভোট দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সকালে ভোট গ্রহন শুরুর পর থেকেই কয়েকটি কেন্দ্রে আমি ঘুরেছি। ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো দেখেছি। সুন্দর ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কমিশন ও প্রশাসন নিরাপত্তা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। যেভাবে ভোট হচ্ছে সেটাতে মনে হয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান। তিনি আরো বলেন, গত ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে তিনি মেয়ার পদে পরাজিত হলেও ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনেও ভোটারদের ভোটে ফলাফল যাই হোক না কেন তিনি মেনে নেবেন। তিনি বলেন, সকালে ভোটার উপস্থিতি একটু কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে। কারন মানুষ তাদের সকালের কাজ সেরেই ভোট দিতে আসে। ফলে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কোন শংকা নেই। নির্বাচনে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ ভোটার ভোট দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট দিয়ে কোন শংকা তার নেই। বরং ইভিএমে ভোট হওয়ায় অনেক সহজে ও স্বাচ্ছন্দে মানুষ ভোট দিতে পারছে। ইভিএমে ফাকি দেয়া বা রেজাল্ট পাল্টানোর কোন সুযোগও নেই। যারা ইভিএম নিয়ে অভিযোগ করছে তারা শুধুই রাজনৈতিক কারনেই করছে বলে জানান তিনি। এরআগে একই কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর সহধর্মীনি পরিবেশ ও জলবায়ু উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। এ সময় তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।এ কেন্দ্রে আশি বছর বয়সী নারী রহিমা বেগম তার নাতিনীর সাথে ভোট দিতে আসেন। তিনি শারীরিকভাবে কিছূটা অসুস্থ্য থাকলেও নাতনীর সহায়তা নিয়ে ভোট দিতে আসেন। তিনি জানান, জীবনের শেষ প্রান্তে এসেছেন। তাই এবারের ভোটটা মিস করছেন না। আগামীতে বোট দিতে পারবেন কিনা সেই শংকায় কষ্ট করে হলেও তিনি এসেছেন। আর মেশিনে ভোট দিতে পেরে খুবই খুশী। কারন তিনি এরআগে কখনও মেশিনে ভোট দেননি। তিনি বলেন, হাতে সিল মেরে ভোট দেয়ার চেয়ে মেশিন অনেক ভালো। এবং তাড়াতাড়িই ভোট দিতে পেরেছি। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ১হাজার ৫২৫জন।

বেলা পৌনে এগারোটায় নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামান দারুল কোরয়ান হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঘুরে কয়েকটি কেন্দ্রের ইভিএম কাজ করছে না এমন অভিযোগ পেয়েছেন। এমনকি হাতপাখায় ভোট দিলেও সে ভোট নৌকায় চলে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন,এ সরকারের সময়ে আগের নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। সেজন্য এবারেও সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ‍সুষ্ঠু আছে। এভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত থাকলে এবং ইভিএমগুলো দ্রুত ঠিক করে সুষ্ঠাভাবে ভোট হলে তিনি বিজয়ী হবেন। তিনি আশা করেন নির্বাচন কমিশন যে কথা দিয়েছেন তা তারা রাখবেন। তিনি জনগনের ভোটে যে ফলাফল হোক না কেন মেনে নেবেন বলেও জানান। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২হাজার ৪৮জন। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘন্টায় ভোট পড়ে ১০.৫ শতাংশ বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ইভিএমে কোন সমস্যা নেই। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভোটারের না বোঝার কারনে ভোট দিতে একটু সময় বেশী লাগতে পারে। তাদের কাছে অতিরিক্ত মেশিন রয়েছে। কোন ইভিএম মেশিন একটা নষ্ট হলে দ্রুততার সাথে পরিবর্তন করে আরেকটা মেশিন দিয়ে ভোট গ্রহন করা সম্ভব। পাশের বানিয়াখামার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। এ কেন্দ্রে নারী ভোটারদের বেশী দেখা গেছে। এখানে বেশকিছু সংখ্যক নারী ভোটার লাইন দিয়ে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল। সেখানে কথা হয় তাছলিমা খাতুন ও শরিফা বেগম নামে দুই ভোটারের সাথে। তারা জানান, তাদের ভোট কেন্দ্রে আসতে রাস্তায় কোন সমস্যা হয়নি। বা ভোট কেন্দ্রে না যেতেও কেউ হুমকিও দেয়নি। ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ খুবই সুন্দর। ভোটও দিয়েছেন খুবই ভালোভাবে। ইভিএমে তারা এরআগে কখনও ভোট দেননি। প্রথমবারের মত ইভিএমে ভোট দিয়ে আনন্দিত তারা। ইভিএমে ভোট দিতে তাদের খুবই সহজ মনে হয়েছে। এভাবে ভোট হলে মানুষ আনন্দ মনে ভোট দিতে আসবে বলে তারা জানান। বেলা

বেলা সাড়ে এগারোটায় খুলনায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু খুলনা কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন. আজকে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে বিষয়ে শংকা রয়েছে। এ সরকারের অধীনে পূর্বে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি।  তাই আজকের ভোটও সুষ্ঠু হবে না বলে তিনি জানান। বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোট প্রদান ধীরগতি ও নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি নয়াবাটি, পল্লীমঙ্গল ও মোল্লাপাড়া সরকারি স্কুল কেন্দ্রে ইভিএম কাজ করছে না বলে জানান। তিনি বলেন, ১৭৩২টা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৭০০টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পেরেছেন।  তারপরও কিছু কিছু কেন্দ্রে তার এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ইভিএম-এর ভোটে কারচুপির আশঙ্কা করেছেন। তবে তিনি ভোটের ফলাফল বিষয়ে পরে মতামত ব্যক্ত করবেন বলেও জানান। এ কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বৃদ্ধ থেকে তরুন সব বয়সী ভোটাররাই এখানে ভোট দিয়েছেন। এখানে কথা ঞয় প্রথমবার ভোট দিতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী প্রিয়ংকা ও রহিমা খাতুনের সাথে। তারা জানান, জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে ভালোই লেগেছে। একটা অন্য রকম অনুভূতি তাদের হয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা ইভিএমে ভোট দেয়া তাদের কাছে খুবই আধুনিক মনে হয়েছে। আমরা যে একটি ডিজিটাল দেশের নাগরিক সেটার একটা অনুভূতি আমার পেয়েছি। ভোট কেন্্রেদর ব্যবস্তাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও তারা সন্তুষ্ঠ। কতা হয় অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ রায়ের সাথে। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের কারনে সকাল সকাল ভোট দিতে এসেছেন। বাইরের পরিস্তিতি ও ভিতরের পরিস্থিতি দেখে খুবই বারো মনে হয়েছে। আর ইভিএমে ভোট দিতে পেরে তিনিও আনন্দিত। জীবনের শেষ প্রান্ডে এসে একটি ইলেকট্রোনিক মেশিনে বোট দিতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন। পরে রহিমা বেগম প্রাইমারী স্কুল, পল্লীমঙ্গল এলাকার পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা কলেজ, গল্রামারী এলাকার সেন্ট পলস হাই স্কুল, লায়ন্স কলেজিয়েট স্কুল, পাইওনিয়ার কলেজ, পিটিআই কেন্দ্র ঘুরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনের চিত্র পাওয়া গেছে।

দুপুরের দিকে নগরীর ১২নং ওর্ডের খালিশপুর স্যাটেলাইট স্কুল কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট প্রদানের সমস্যার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা যায়। তবে স্যাটেলাইট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কিংকর বিশ্বাস জানান, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি এ কেন্দ্রের ভোটার নন। ম্যিথা ও ভাওতাবাজি কথা বলছেন। ভোট দিয়ে বাইরে গিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়ে বিতর্কিত করতে চাইছেন তিনি। তার কেন্দ্রে এধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। তবে এ কেন্দ্রের বাইরে সাদারন মানুষের অনেক জটলা দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি পুলিশ ও প্রশাসনের বিষয়। আমি তাদেরকে বলেছি। কিন্তু শ্রমিক এলাকা হওয়ায় তাদেরকে শান্ত রাখা যাচ্ছে না। কাউন্সিল প্রার্থীদের সমর্থক এসব মানুষ জটিলতা সৃষ্টি করছে। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিষ্টেট এসে ব্যবস্তা নিলে সবাই ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। একই বাউন্ডারীর মধ্যে স্যাটেলাইট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সেখানে গিয়ে পুরুষদের বেশী ভিড় দেখা গেছে। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো: আনোয়ারুল কবির জানান, তার কেন্দ্রে মোট বোটার ২হাজার ৫০২জন। দুপুর একটা পর্যন্ত প্রায় ৭০০বোট কাষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, তার কেন্দ্রে একজন লোক ভোট দিতে এসে হাতপাকায় বোট দিতে গিয়ে ভুল করে নৌকায় ভোট দিয়েছেন।কিন্তু তিনি অভিযোগ করছেন ইভিএমে ভুল করেছে। এটা ইভিএম মেশিনের নয়-ওই ভোটারের ভুল। তিনি নিজের ভুলকে আমাদের উপর চাপাতে চাইছেন। বিষয়টি কমিশনকেও জানানো হয়েছে। এছাড়া এখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে সেটার ভিডিও দেখলেই প্রমান পাওয়া যাবে। একানে কোন ইভিএম মেশিন নষ্ট বা সমস্যা হয়নি। যিনি বরছেন তিনি সঠিক কথা না বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। এ কেন্দ্রও ৬টি বুথ থাকলেও সেখানে হাতপাকার ও লাঙ্গলের কোন এজেন্ট ছিল না। প্রিজাইডিং অফিসার জানান, হাতপাখা বা লাঙ্গলের প্রার্থী এখানে কোন এজেন্ট দেয়ার কোন কাগজপত্র দেয়নি। পরে বিকেল আড়াইটার দিকে দৌলতপুরের দেয়ানা উত্তরপাড়া মা্যধমিক স্কুল, দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক স্কুল, মধ্যডাঙ্গা স্কুল ও পাবলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও কোন ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিকেল সাতে তিনটার দিকে নগরীল ৬নং ঘাটে এরমাদ আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয় কেন্দ্রে বেশ ‍উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কাউন্ষির প্রার্থী মামসুজ্জামান মিয়া স্বপন অনেক লোকজন নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে প্রতিপক্ষ কাউন্সিল প্রার্থীর লোকজন বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। এক পর্যায়ে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেটের উপস্থিতি ও তৎপরতায় তা শান্ত হয়। এ সময় পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিরে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ছেড়ে সরে পড়ে। বাকী এক ঘন্টা সময় নিবির্ঘ্নে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসি নির্বাচনে সকাল থেকে থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো: আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রায় ৫০টির বেশী কেন্দ্রে ঘুরেছেন। তবে কোথাও কোন অভিযোগ পাননি বা কোন প্রার্থীও কোন অভিযোগ করেন নি। পরিবেশ নিয়েও কোন অভিযোগ নেই। ইভিএমে সমস্যা বিষয়ে তিনি কোন খবর পাননি। বা কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। তিনি বলেন, দুই মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ বিষয়টি তিনি দ্রুততার সাথে খোজ খবর নিয়েছেন। কিন্তু তার কোন সত্যতা পাননি। তিনি বলেন, সকলের সহযোগীতায় খুলনা সিটিতে একটি সুষ্ঠু, শান্তির্ণ ও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন অনুষ্টান সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারন মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন, সাধারণ ৩১টি ও সংরক্ষিত ১০টি মিলে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৭৫ জন প্রার্থী।##