১০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনায় কোরবানীর পশুহাট : গ্রামে বেচাকেনা জমলেও শহরে হাতাশা

####

 

খুলনায় এ বছর কোরবানীর পশুহাটে বেচাকেনা শেষ মূর্হূতে জমজমাট হয়ে উঠেছে। সরকারী ছুটি হওয়ায় মঙ্গলবার উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকার কোরবানীর পশুহাটগুলোতে ব্যাপক ক্রেতার উপস্থিতিতে খুশী বিক্রেতারা। তবে শহরের পশুহাটগুলোতে তেমন লোক সমাগম ও বেচাকেনা না হওয়ায় হতাশায় পড়েছেন বিক্রেতারা। এবার পশুহাটের পাশাপাশি খামার থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু বিক্রি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে খামারীরা। পশুহাটের আয়োজকরা বলছেন, শেষ দুইদিন শহরের হাটুগলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়ার সাথে বিক্রিও অনেকগুন বেড়ে যাবে। জেলা প্রশাসন, ‍পুলিশ ও প্রানিসম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা কোরবানীর পশুহাটে বেচাকেনা ও নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন।

জেলা প্রানীসম্পদ দপ্তর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সিটি করপোরেশন এলাকা ও ৯উপজেলায় মোট ২২টি কোরবানীর পশুহাট স্থাপনে অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে মহানগরীর জোড়াগেট, ফুলবাড়ি গেট, দৌলতপুর ও শিরোমনি, ফুলতলা, ডুমুরিয়ার শাহপুর, খর্নিয়া ও চুকনগর, রূপসা, তেরখাদা, দাকোপের চালনা ও বাজুয়া, পাইকগাছার কপিলমুনি ও সদর, কয়রা এবং তেরখাদায় এসব পশুহাট স্থাপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই উপজেলার হাটগুলোতে গরু-ছাগলসহ পশু বেচাকেনায় জমজমাট হয়ে ‍উঠেছে।

মঙ্গলবার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর ও খর্নিয়ার কোরবানীর পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে প্রচুর পরিমানে দেশী ও শংকর জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় বিভিন্ন প্রকারের গরু ও ছাগল রয়েছে। একই সাথে ক্রেতারও কমতি নেই। বেচাকেনাও হচ্ছে হরদম। হাটে  কোরবানীল জন্য গরু কিনতে যোওয়া খুলনা শহরের টুটপাড়া এলাকার আবু নূরাইন জানান, তিনি প্রতিবারই খর্নিয়া হাট থেকে গরু কেনেন কোরবানীর জন্য। এবারও তিনি গরু কিনতে এসেছেন। তবে গতবারের তুলনায় দাম একটু বেশী মনে হচ্ছে। তবুও তিনি দেখেশুনে গরু কিনবেন বরেও জানান। আরেক ক্রেতা কেশবপুরের ম্যধকুল গ্রামের মফিজুর রহমান ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম জানান, তারা দেশী গরু কিনতে খর্নিয়া হাটে এসেছেন। হাটে প্রচুর দেশী গরু আছে। তারা যেটা পচ্ছন্দ করেছেন তার দাম বেশী চাওয়া হচ্ছে। দুইজনে ‍ুদটো গরু ঠিক করেছেন কিন্তু দামে ঠিক হলেই কিনবেন। এ হাটের গরু বিক্রেতা মো: শাহজাহান জানান, তিনি তারা থেকে দুটো গরু নিয়ে এসেছেন। মাঝারি মানের গরু হওয়ায় ক্রেতাও অনেক। তবে যে দাম বলছেন সেটাতে বিক্রি করলে লোকসান হবে। তিনি দুটো গরুর দাম তিনলাখ টাকা দাবী করেছেন। শাহপুর হাটের গরু বিক্রেতা মুজিবর রহমান জানান, তিনি দুই বছর ধরে চারটি গরু লালন-পালন করে হাটে এনেছেন। দুটো গরু ভালো দামে বিক্রি করেছেন। তবে বাকী দুটো গরু বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। দাম অর্ধেক বলছেন ক্রেতারা। শাহপুর হাটে প্রচুর সংখ্যক ক্রেতা দেখা গেছে। ক্রেতাদের চাহিদা দেশী ও মাঝারি মানের গরুর প্রতি বেশী বলেও জানান তিনি। এ হাটের ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই মোটামুটি খুশী গরু বেচাকেনা নিয়ে।

এদিকে, খুলনা মহানগরীর চারটি পশুহাটের সবচেয়ে বড় কোরবানীর হাট জোড়াগেট পশুর হাট। এ হাটে মঙ্গলবার বিকেলে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের পুরো এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমান গরু-ছাগল বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। কিন্তু তেমন ক্রেতা নেই। এজন্য বিক্রেতারা অনেকটাই হতাশ। জোড়াগেট পশুহাটে সবচেয়ে বড় গরু ‘বাগেরহাটের শান্ত’র বিক্রেতা আব্দুল নকিব জানান, তিনি দুই বছর ধরে এ গরুটি লালন-পালন করেছেন দেশীয় খাবার দিয়ে। এক বছরে ্রপায় দেড় লাখ টাকার খাবারে ব্যয় হয়েছে। তিনি গরুর দাম হাকিয়েছেন ১০লাখ টাকা। ৭লাখ টাকা দরদাম হচ্ছে। এ গরুর সাথে ৫০হাজার টাকা দামের একটা ছাগল ফ্রি দেয়ার ঘোষনাও দিয়েছেন তিনি। তারপরেও উপযুক্ত ক্রেতা পাচ্ছেন না। এ গরু বিক্রি করলে তার লোকাসানের সম্ভাবনায় বেশী দেখছেন বলে জানান তিনি। সাতক্ষীরার আশাশুনির খোকন সানা, দিঘলিয়ার পানিগাতির গোলাম কিবরিয়া গরু বিক্রি করতে এসেছেন এ হাটে। তাদের কাছে গরুর দাম কম বলে মনে হচ্ছে। এভাবে কমতে থাকলে তারা লোকসানে পড়বেন। আবার যদি বিক্রি না হয় তবে আবারও বাড়ীতে নিতে তারা বিপুল পরিমানে খরচ হবে সেই চিন্তায় পড়েছেন। ডুমুরিয়ার কৈয়া বাজারের শাকিল আহমেদ ও সজিব আহমেদ দুই ভাই গরু বিক্রি করতে এসেছেন। তারা খামারে ৩৬টা গরু লালন-পালন করেছিলেন। তার মধ্যে ৩২টা খামার থেকে বিক্রি করেছেন। বাকী চারটা গরু জোড়াগেট হাটে এনেছেন। কিন্তু দাম তাদের কাছে কম বলে মনে হচ্ছে। এ হাটে ক্রেতা বেশী না থাকায় দাম কম বলেও স্বীকার করেন তারা। তবে এ হাটের দেশী গরুর বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১৬টি গরু এনেছিলেন। ৭০হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরু ছিল। বেশীরভাগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি গরু বিক্রি করে খুশী বলে জানান। তবে জোড়াগেট কোরবানীর পশুর হাটের আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব কেসিসির ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন, খুলনা শহরের পাশের চারটি উপজেলায় পশুর হাট থাকায় বেশীরভাগ ক্রেতারা সেসব হাটেই পশু কিনতে গিয়েছেন। তবে ঈদের ‍ুদইদিন আগে থেকে ঈদের দিনও জোড়াগেট হাটে পশুর চাহিদা থাকে। প্রতি বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহষ্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিপুল পরিমান ক্রেতা আসবে। এবং এ হাটের পশু প্রায় সবই বিক্রি হয়ে যাবে বেরও তিনি আশা করেন।

খুলনা প্রানীসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর খুলনা জেলায় প্রায় ৮হাজার খামারে গবাদি পশু লালন-পালন ও উৎপাদন করা হয়েছে। এসব খামারে মোট ৯২হাজার ৩৭৫টি পশু উৎপাদিত হয়েছে। এরমধ্যে গরু রয়েছে ২৬হাজার ৪১৬টি, মহিষ ৩৬টি, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৬৫হাজার ৯১৩টি। পক্ষান্তরে কোরবানীর পশুর চাহিদা রয়েছে ৮৯হাজার  ৮৬৭টি। জেলায় কোরবানীযোগ্য উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে ২হাজার ৫০৮টি।  ইতিমধ্যেই ভারত থেকে গরু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশী হওলেও ভারতের পশু না এলে খামারীরা লোকসানে পড়বেন না বলে জানিয়েছেন জেলা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এসএম আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, খুলনায় এ বছর কোরবানীর পশু বেচাকেনার জন্য মোট ২২টি হাটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের পশু বেচাকেনা রোধে ৪০টি মনিটোরিং ও মেডিকেল টিম নিয়োগ করা হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার মো: মাহবুব হাসান বলেন, কোরবানীর পমুর হাটে গরু আনা-নেওয়ার সময় চাদাবাজির অভিযোগ সব সময় থাকে। তবে এ বছর কোন ধরনের চাদাবাজিকে টলারেট করা হবে না। সবগুলো থানাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে মনিটোরিং সেলও খোরা হয়েছে। কোরবানীর পশু কেনাবেচায় কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

বাকেরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

খুলনায় কোরবানীর পশুহাট : গ্রামে বেচাকেনা জমলেও শহরে হাতাশা

প্রকাশিত সময় : ০২:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুন ২০২৩

####

 

খুলনায় এ বছর কোরবানীর পশুহাটে বেচাকেনা শেষ মূর্হূতে জমজমাট হয়ে উঠেছে। সরকারী ছুটি হওয়ায় মঙ্গলবার উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকার কোরবানীর পশুহাটগুলোতে ব্যাপক ক্রেতার উপস্থিতিতে খুশী বিক্রেতারা। তবে শহরের পশুহাটগুলোতে তেমন লোক সমাগম ও বেচাকেনা না হওয়ায় হতাশায় পড়েছেন বিক্রেতারা। এবার পশুহাটের পাশাপাশি খামার থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু বিক্রি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে খামারীরা। পশুহাটের আয়োজকরা বলছেন, শেষ দুইদিন শহরের হাটুগলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়ার সাথে বিক্রিও অনেকগুন বেড়ে যাবে। জেলা প্রশাসন, ‍পুলিশ ও প্রানিসম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা কোরবানীর পশুহাটে বেচাকেনা ও নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন।

জেলা প্রানীসম্পদ দপ্তর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সিটি করপোরেশন এলাকা ও ৯উপজেলায় মোট ২২টি কোরবানীর পশুহাট স্থাপনে অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে মহানগরীর জোড়াগেট, ফুলবাড়ি গেট, দৌলতপুর ও শিরোমনি, ফুলতলা, ডুমুরিয়ার শাহপুর, খর্নিয়া ও চুকনগর, রূপসা, তেরখাদা, দাকোপের চালনা ও বাজুয়া, পাইকগাছার কপিলমুনি ও সদর, কয়রা এবং তেরখাদায় এসব পশুহাট স্থাপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই উপজেলার হাটগুলোতে গরু-ছাগলসহ পশু বেচাকেনায় জমজমাট হয়ে ‍উঠেছে।

মঙ্গলবার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর ও খর্নিয়ার কোরবানীর পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে প্রচুর পরিমানে দেশী ও শংকর জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় বিভিন্ন প্রকারের গরু ও ছাগল রয়েছে। একই সাথে ক্রেতারও কমতি নেই। বেচাকেনাও হচ্ছে হরদম। হাটে  কোরবানীল জন্য গরু কিনতে যোওয়া খুলনা শহরের টুটপাড়া এলাকার আবু নূরাইন জানান, তিনি প্রতিবারই খর্নিয়া হাট থেকে গরু কেনেন কোরবানীর জন্য। এবারও তিনি গরু কিনতে এসেছেন। তবে গতবারের তুলনায় দাম একটু বেশী মনে হচ্ছে। তবুও তিনি দেখেশুনে গরু কিনবেন বরেও জানান। আরেক ক্রেতা কেশবপুরের ম্যধকুল গ্রামের মফিজুর রহমান ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম জানান, তারা দেশী গরু কিনতে খর্নিয়া হাটে এসেছেন। হাটে প্রচুর দেশী গরু আছে। তারা যেটা পচ্ছন্দ করেছেন তার দাম বেশী চাওয়া হচ্ছে। দুইজনে ‍ুদটো গরু ঠিক করেছেন কিন্তু দামে ঠিক হলেই কিনবেন। এ হাটের গরু বিক্রেতা মো: শাহজাহান জানান, তিনি তারা থেকে দুটো গরু নিয়ে এসেছেন। মাঝারি মানের গরু হওয়ায় ক্রেতাও অনেক। তবে যে দাম বলছেন সেটাতে বিক্রি করলে লোকসান হবে। তিনি দুটো গরুর দাম তিনলাখ টাকা দাবী করেছেন। শাহপুর হাটের গরু বিক্রেতা মুজিবর রহমান জানান, তিনি দুই বছর ধরে চারটি গরু লালন-পালন করে হাটে এনেছেন। দুটো গরু ভালো দামে বিক্রি করেছেন। তবে বাকী দুটো গরু বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। দাম অর্ধেক বলছেন ক্রেতারা। শাহপুর হাটে প্রচুর সংখ্যক ক্রেতা দেখা গেছে। ক্রেতাদের চাহিদা দেশী ও মাঝারি মানের গরুর প্রতি বেশী বলেও জানান তিনি। এ হাটের ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই মোটামুটি খুশী গরু বেচাকেনা নিয়ে।

এদিকে, খুলনা মহানগরীর চারটি পশুহাটের সবচেয়ে বড় কোরবানীর হাট জোড়াগেট পশুর হাট। এ হাটে মঙ্গলবার বিকেলে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের পুরো এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমান গরু-ছাগল বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। কিন্তু তেমন ক্রেতা নেই। এজন্য বিক্রেতারা অনেকটাই হতাশ। জোড়াগেট পশুহাটে সবচেয়ে বড় গরু ‘বাগেরহাটের শান্ত’র বিক্রেতা আব্দুল নকিব জানান, তিনি দুই বছর ধরে এ গরুটি লালন-পালন করেছেন দেশীয় খাবার দিয়ে। এক বছরে ্রপায় দেড় লাখ টাকার খাবারে ব্যয় হয়েছে। তিনি গরুর দাম হাকিয়েছেন ১০লাখ টাকা। ৭লাখ টাকা দরদাম হচ্ছে। এ গরুর সাথে ৫০হাজার টাকা দামের একটা ছাগল ফ্রি দেয়ার ঘোষনাও দিয়েছেন তিনি। তারপরেও উপযুক্ত ক্রেতা পাচ্ছেন না। এ গরু বিক্রি করলে তার লোকাসানের সম্ভাবনায় বেশী দেখছেন বলে জানান তিনি। সাতক্ষীরার আশাশুনির খোকন সানা, দিঘলিয়ার পানিগাতির গোলাম কিবরিয়া গরু বিক্রি করতে এসেছেন এ হাটে। তাদের কাছে গরুর দাম কম বলে মনে হচ্ছে। এভাবে কমতে থাকলে তারা লোকসানে পড়বেন। আবার যদি বিক্রি না হয় তবে আবারও বাড়ীতে নিতে তারা বিপুল পরিমানে খরচ হবে সেই চিন্তায় পড়েছেন। ডুমুরিয়ার কৈয়া বাজারের শাকিল আহমেদ ও সজিব আহমেদ দুই ভাই গরু বিক্রি করতে এসেছেন। তারা খামারে ৩৬টা গরু লালন-পালন করেছিলেন। তার মধ্যে ৩২টা খামার থেকে বিক্রি করেছেন। বাকী চারটা গরু জোড়াগেট হাটে এনেছেন। কিন্তু দাম তাদের কাছে কম বলে মনে হচ্ছে। এ হাটে ক্রেতা বেশী না থাকায় দাম কম বলেও স্বীকার করেন তারা। তবে এ হাটের দেশী গরুর বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১৬টি গরু এনেছিলেন। ৭০হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরু ছিল। বেশীরভাগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি গরু বিক্রি করে খুশী বলে জানান। তবে জোড়াগেট কোরবানীর পশুর হাটের আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব কেসিসির ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন, খুলনা শহরের পাশের চারটি উপজেলায় পশুর হাট থাকায় বেশীরভাগ ক্রেতারা সেসব হাটেই পশু কিনতে গিয়েছেন। তবে ঈদের ‍ুদইদিন আগে থেকে ঈদের দিনও জোড়াগেট হাটে পশুর চাহিদা থাকে। প্রতি বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহষ্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিপুল পরিমান ক্রেতা আসবে। এবং এ হাটের পশু প্রায় সবই বিক্রি হয়ে যাবে বেরও তিনি আশা করেন।

খুলনা প্রানীসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর খুলনা জেলায় প্রায় ৮হাজার খামারে গবাদি পশু লালন-পালন ও উৎপাদন করা হয়েছে। এসব খামারে মোট ৯২হাজার ৩৭৫টি পশু উৎপাদিত হয়েছে। এরমধ্যে গরু রয়েছে ২৬হাজার ৪১৬টি, মহিষ ৩৬টি, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৬৫হাজার ৯১৩টি। পক্ষান্তরে কোরবানীর পশুর চাহিদা রয়েছে ৮৯হাজার  ৮৬৭টি। জেলায় কোরবানীযোগ্য উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে ২হাজার ৫০৮টি।  ইতিমধ্যেই ভারত থেকে গরু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশী হওলেও ভারতের পশু না এলে খামারীরা লোকসানে পড়বেন না বলে জানিয়েছেন জেলা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এসএম আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, খুলনায় এ বছর কোরবানীর পশু বেচাকেনার জন্য মোট ২২টি হাটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের পশু বেচাকেনা রোধে ৪০টি মনিটোরিং ও মেডিকেল টিম নিয়োগ করা হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার মো: মাহবুব হাসান বলেন, কোরবানীর পমুর হাটে গরু আনা-নেওয়ার সময় চাদাবাজির অভিযোগ সব সময় থাকে। তবে এ বছর কোন ধরনের চাদাবাজিকে টলারেট করা হবে না। সবগুলো থানাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে মনিটোরিং সেলও খোরা হয়েছে। কোরবানীর পশু কেনাবেচায় কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  ##