১১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনায় চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্যের মধ্যকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় তদন্ত শুরু

  • অফিস ডেক্স।।
  • প্রকাশিত সময় : ০৬:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ এপ্রিল ২০২৩
  • ৯৬ পড়েছেন

###       খুলনা মহানগরীর শেখপাড়ার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের সাথে পুলিশের এক এএসআইয়ের সৃষ্ট অনাকাংখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির তদন্ত কার্যক্রম আজ (৮ এপ্রিল) শনিবার শুরু হয়েছে । ইতোমধ্যেই কমিটির সদস্যরা ঢাকা থেকে এসে খুলনা সার্কিট হাউজে অবস্থান করেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া কমিটির সদস্য সচিব ও খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো: ইউসুপ আলী স্বাক্ষরিত এক নোটিশেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নগরীর শেখপাড়াস্থ হক নার্সিং হোমে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সংগঠিত ঘটনায় কেএমপির সোনাডাঙ্গা থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়। যদিও প্রথম মামলাটি করেন ওই ক্লিনিকের কর্মরত চিকিৎসক ও শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্লাষ্টিক এন্ড বার্ণ ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান, সহকারী অধ্যাপক ডা: শেখ নিশাত আব্দুল্লাহ। মামলায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করাকালীন অপর রোগীর পিতা ও সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত এএসআই মো: নাঈমুজ্জানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনেন। পাল্টা মামলায় এএসআই নাঈমুজ্জামানের স্ত্রী নুসরাত আরা ময়না তার মেয়েকে চিকিৎসার নামে ডা: নিশাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আপত্তিকর এসএমএস দেয়াসহ তাকে উত্যক্ত করার অভিযোগ আনেন।

তবে নুসরাত আরা ময়নার মামলাটি কাউন্টার মামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন পয়লা মার্চ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করে। চিকিৎসক ধর্মঘটের ফলে খুলনার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল এসেও কোন সুরাহা করতে পারেনি। চিকিৎসক ধর্মঘটের ফলে খুলনার নাগরিকদের মধ্যেও দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক পর্যায়ে কয়েকটি সংগঠন ধর্মঘটের বিকল্প কর্মসূচি দেয়ার দাবি জানিয়ে মানব বন্ধন, বিবৃতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

ধর্মঘটের চতুর্থ দিন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খারেক ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনের সাথে বিএমএ’র বৈঠকের পর ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও পরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিএমএ’র একটি প্রতিনিধি দল স্বাক্ষাত করে। সেখানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি হয়। কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব ছাড়াও পুলিশের এসপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং বিএমএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদককে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানায়। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক।

যদিও ১২ মার্চের বৈঠকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে খুলনা বিএমএ’র সভাপতি ডা: শেখ বাহারুল আলম বলেন, তদন্ত শুরু হচ্ছে বৈঠকের ২৬দিন পর। এজন্য ইতোমধ্যে বিএমএ’র নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, তদন্তের নামে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হলে খুলনার বিএমএ’র কার্যকরী পরিষদের সভা ডেকে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

খুলনায় চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্যের মধ্যকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় তদন্ত শুরু

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ এপ্রিল ২০২৩

###       খুলনা মহানগরীর শেখপাড়ার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের সাথে পুলিশের এক এএসআইয়ের সৃষ্ট অনাকাংখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির তদন্ত কার্যক্রম আজ (৮ এপ্রিল) শনিবার শুরু হয়েছে । ইতোমধ্যেই কমিটির সদস্যরা ঢাকা থেকে এসে খুলনা সার্কিট হাউজে অবস্থান করেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া কমিটির সদস্য সচিব ও খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো: ইউসুপ আলী স্বাক্ষরিত এক নোটিশেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নগরীর শেখপাড়াস্থ হক নার্সিং হোমে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সংগঠিত ঘটনায় কেএমপির সোনাডাঙ্গা থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়। যদিও প্রথম মামলাটি করেন ওই ক্লিনিকের কর্মরত চিকিৎসক ও শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্লাষ্টিক এন্ড বার্ণ ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান, সহকারী অধ্যাপক ডা: শেখ নিশাত আব্দুল্লাহ। মামলায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করাকালীন অপর রোগীর পিতা ও সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত এএসআই মো: নাঈমুজ্জানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনেন। পাল্টা মামলায় এএসআই নাঈমুজ্জামানের স্ত্রী নুসরাত আরা ময়না তার মেয়েকে চিকিৎসার নামে ডা: নিশাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আপত্তিকর এসএমএস দেয়াসহ তাকে উত্যক্ত করার অভিযোগ আনেন।

তবে নুসরাত আরা ময়নার মামলাটি কাউন্টার মামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন পয়লা মার্চ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করে। চিকিৎসক ধর্মঘটের ফলে খুলনার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল এসেও কোন সুরাহা করতে পারেনি। চিকিৎসক ধর্মঘটের ফলে খুলনার নাগরিকদের মধ্যেও দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক পর্যায়ে কয়েকটি সংগঠন ধর্মঘটের বিকল্প কর্মসূচি দেয়ার দাবি জানিয়ে মানব বন্ধন, বিবৃতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

ধর্মঘটের চতুর্থ দিন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খারেক ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনের সাথে বিএমএ’র বৈঠকের পর ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও পরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিএমএ’র একটি প্রতিনিধি দল স্বাক্ষাত করে। সেখানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি হয়। কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব ছাড়াও পুলিশের এসপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং বিএমএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদককে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানায়। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক।

যদিও ১২ মার্চের বৈঠকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে খুলনা বিএমএ’র সভাপতি ডা: শেখ বাহারুল আলম বলেন, তদন্ত শুরু হচ্ছে বৈঠকের ২৬দিন পর। এজন্য ইতোমধ্যে বিএমএ’র নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, তদন্তের নামে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হলে খুলনার বিএমএ’র কার্যকরী পরিষদের সভা ডেকে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।##