১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খুলনায় জামায়াত নেতার্মীদের গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ৪২ পড়েছেন

###    জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। প্রশাসন বিক্ষোভের অনুমতি না দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মহানগরী ও জেলায় গণগ্রেফতার চালিয়েছে। এ সময় নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের হয়রানী থেকে রক্ষা পায়নি বলে অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এ গনগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। খুলনা মহানগরী জামায়াতে সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল জানান, গত কয়েকদিন ধরে মহানগরী ও জেলায় পুলিশ গণগ্রেফতার চালিয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খালিশপুর থানার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. মনির হোসেন, মো. শাহিনুল ইসলাম, দৌলতপুর থানার শেখ আশরাফ হোসেন, হরিণটানা থানার মো. শাফায়াত হোসেন লিখন, আড়ংঘাটা থানার মো. রাজু আহমেদ, লবণচরা থানার কাজী কামাল, আব্দুস সামাদ, মুজাহিদুল ইসলাম, মো. নূরুল ইসলাম, মো. ওমর ফারুখ, মো. ওজিয়ার রহমান, খুলনা সদর থানার কামাল হোসেন, আরিফুল ইসলাম নাহিদ, হুসাইন শেখসহ ২০ গ্রেফতার করেছে।

এদিকে শনিবার বিকেলে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি চেয়ে পুলিশ কমিশনারের বরাবরে আবেদন করেছিল খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেই উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ঐ দিন বিকেল ৩ টায় নগরীর ডাকবাংলা মোড় থেকে মিছিল শুরু করে শিববাড়ি গিয়ে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখিত কর্মসূচি সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদানের জন্য পত্রে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টা পর্যন্ত কোন অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানান মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিক্ষোভ করার আবেদন করার পরও প্রশাসন অনুমতি না দিয়ে অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক আচরণ করেছে সরকার। সরকারের চাপে পুলিশ প্রশাসন উক্ত মিছিলের অনুমতি প্রদান না করে একটি দলের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ দেশের কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একটি প্রাচীন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এটি দেশ ও জাতির জন্য অব্যাহতভাবে খোদাভীরু ও যোগ্য নেতৃত্ব সরবরাহ করে চলেছে, যা জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে খুবই প্রয়োজন। দেশ ও জাতি গঠনে নিবেদিত এরকম একটি সংগঠনকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনে বিরত রাখা সরকারের অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী আচরণের পরিচায়ক। এই আচরণ তাদের দলীয় সংকীর্ণ ও হীন স্বার্থ বাস্তবায়নে তারা সহায়ক মনে করলেও এটি দেশ ও জাতির জন্যে বড়ই ক্ষতির কারণ হয়ে থাকবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক দল। জামায়াত বাংলাদেশের সকল অর্থবহ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে এবং দেশের পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনসহ শতশত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বর্তমানেও দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জামায়াতে ইসলামীকে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। এমনকি জামায়াতের কার্যালয় পর্যন্ত খুলতে দিচ্ছে না, সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করতে দিচ্ছে না। জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশের যে কোন নাগরিকের সাংবিধানিকভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নাগরিকদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। জামায়াতসহ বিরোধীদলকে কথা বলতে দিচ্ছে না। দেশে আজ নাগরিকদের বাক স্বাধীনতা নেই। জনগণের কন্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও ভাতের অধিকার হরণ করে জোরপূর্বক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বারংবার অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, ব্যবহার্য নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এদেশের সাধারণ জনগণকে অতিষ্ট করে তুলেছে। দেশে আজ আইনের শাসন নেই, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা সব কিছুকে ধ্বংস করে দিয়েছে এই সরকার। এই সরকারের প্রতি জনগণের কোন আস্থা নেই। তাই জামায়াত জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করছে। বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জামায়াত যখনই জনগণের অধিকার আদায়ে মাঠে ময়দানে কর্মসূচি ঘোষণা করে তখনই সরকার বাধা প্রদান করে, মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানি, জুলুম-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালায়। আমরা এই অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সরকারের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার জন্যে দেশে ও বহির্বিশ্বে সুনাম বহনকারী আইনশৃঙ্খলার সাথে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোকে অন্যায়, অসাংবিধানিক এবং অপেশাদারিত্ব আচরণে বাধ্য করে তাদের ইমেজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যা একটি রাষ্ট্রের জন্য কখনো সুখকর হতে পারে না। আমরা সরকারের এহেন আচরণের জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে সরকারের জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে সভা সমাবেশ ও মিছিলের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সরকারের পতন আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে ভোটের ও কথা বলার অধিকার আদায়ে কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জন্য খুলনাবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি । ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

কুয়েটে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত সকাল ৭ টায় 

খুলনায় জামায়াত নেতার্মীদের গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। প্রশাসন বিক্ষোভের অনুমতি না দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মহানগরী ও জেলায় গণগ্রেফতার চালিয়েছে। এ সময় নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের হয়রানী থেকে রক্ষা পায়নি বলে অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এ গনগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। খুলনা মহানগরী জামায়াতে সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল জানান, গত কয়েকদিন ধরে মহানগরী ও জেলায় পুলিশ গণগ্রেফতার চালিয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খালিশপুর থানার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. মনির হোসেন, মো. শাহিনুল ইসলাম, দৌলতপুর থানার শেখ আশরাফ হোসেন, হরিণটানা থানার মো. শাফায়াত হোসেন লিখন, আড়ংঘাটা থানার মো. রাজু আহমেদ, লবণচরা থানার কাজী কামাল, আব্দুস সামাদ, মুজাহিদুল ইসলাম, মো. নূরুল ইসলাম, মো. ওমর ফারুখ, মো. ওজিয়ার রহমান, খুলনা সদর থানার কামাল হোসেন, আরিফুল ইসলাম নাহিদ, হুসাইন শেখসহ ২০ গ্রেফতার করেছে।

এদিকে শনিবার বিকেলে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি চেয়ে পুলিশ কমিশনারের বরাবরে আবেদন করেছিল খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেই উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ঐ দিন বিকেল ৩ টায় নগরীর ডাকবাংলা মোড় থেকে মিছিল শুরু করে শিববাড়ি গিয়ে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখিত কর্মসূচি সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদানের জন্য পত্রে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টা পর্যন্ত কোন অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানান মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিক্ষোভ করার আবেদন করার পরও প্রশাসন অনুমতি না দিয়ে অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক আচরণ করেছে সরকার। সরকারের চাপে পুলিশ প্রশাসন উক্ত মিছিলের অনুমতি প্রদান না করে একটি দলের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ দেশের কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একটি প্রাচীন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এটি দেশ ও জাতির জন্য অব্যাহতভাবে খোদাভীরু ও যোগ্য নেতৃত্ব সরবরাহ করে চলেছে, যা জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে খুবই প্রয়োজন। দেশ ও জাতি গঠনে নিবেদিত এরকম একটি সংগঠনকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনে বিরত রাখা সরকারের অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী আচরণের পরিচায়ক। এই আচরণ তাদের দলীয় সংকীর্ণ ও হীন স্বার্থ বাস্তবায়নে তারা সহায়ক মনে করলেও এটি দেশ ও জাতির জন্যে বড়ই ক্ষতির কারণ হয়ে থাকবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক দল। জামায়াত বাংলাদেশের সকল অর্থবহ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে এবং দেশের পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনসহ শতশত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বর্তমানেও দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জামায়াতে ইসলামীকে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। এমনকি জামায়াতের কার্যালয় পর্যন্ত খুলতে দিচ্ছে না, সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করতে দিচ্ছে না। জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশের যে কোন নাগরিকের সাংবিধানিকভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নাগরিকদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। জামায়াতসহ বিরোধীদলকে কথা বলতে দিচ্ছে না। দেশে আজ নাগরিকদের বাক স্বাধীনতা নেই। জনগণের কন্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও ভাতের অধিকার হরণ করে জোরপূর্বক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বারংবার অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, ব্যবহার্য নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এদেশের সাধারণ জনগণকে অতিষ্ট করে তুলেছে। দেশে আজ আইনের শাসন নেই, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা সব কিছুকে ধ্বংস করে দিয়েছে এই সরকার। এই সরকারের প্রতি জনগণের কোন আস্থা নেই। তাই জামায়াত জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করছে। বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জামায়াত যখনই জনগণের অধিকার আদায়ে মাঠে ময়দানে কর্মসূচি ঘোষণা করে তখনই সরকার বাধা প্রদান করে, মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানি, জুলুম-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালায়। আমরা এই অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সরকারের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার জন্যে দেশে ও বহির্বিশ্বে সুনাম বহনকারী আইনশৃঙ্খলার সাথে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোকে অন্যায়, অসাংবিধানিক এবং অপেশাদারিত্ব আচরণে বাধ্য করে তাদের ইমেজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যা একটি রাষ্ট্রের জন্য কখনো সুখকর হতে পারে না। আমরা সরকারের এহেন আচরণের জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে সরকারের জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে সভা সমাবেশ ও মিছিলের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সরকারের পতন আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে ভোটের ও কথা বলার অধিকার আদায়ে কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জন্য খুলনাবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি । ##