০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনায় বিএনপি ও পুলিশের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ : লাঠিচার্জ-টিয়ারশেল নিক্ষেপ, পুলিশসহ আহত ৩০, আটক ৮

###

খুলনায় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচী নিয়ে বিএনপি ও পুলিম পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করেছে। শনিবার দুপুরে মহানগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় অফিসের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করে মহানগর ও জেলা বিএনপি। এ কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য বিএনপির মিছিল আসার সময় পুলিশ হামলা করেছে বলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন।এতে বিএনপির ২০নেতাকর্মী আহত ও ৫জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান নেতারা। অপরদিকে, বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের উপর ইটপাটকেলসহ হামলা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অবিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের উপর বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে হামলা করার ঘটনায় ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয় চত্বরে ১০ দফা দাবিতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে, পুলিশের হামলায় বিএনপি’র ২০ জন নেতাকর্মী আহত এবং ৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।

জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি ১০ দফা দাবিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। এ কর্মসূচীতে মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও জেলা-উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহবায়ক আমীর এজাজ খান, নগর সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন, জেলা সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নুসহ দলের মহানগর ও জেলা শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, এ অবস্থান কর্মসূচীতে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যোগদানের জন্য খুলনা থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদেরকে বাঁধা দেয়। তখন দুইদিক থেকে পৃথক দুটি মিছিল সমাবেশের দিকে যাওয়ার সময় বিএনপি’র কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এসময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ গ্যাসগান ও শর্টগান মারতে বাধ্য হয়। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়। তবে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন পুলিশ বিনা কারণে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। বিকেলে প্রেস ব্রিফিং করে বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তারা বলেন, পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের হামলায় বিএনপির ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫নং ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ কবির শেখ, রূপসা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রুবেল মীর, বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহাদুর মুন্সী, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক শাহিন মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক তামিম মোল্লা, খুলনা জেলা যুবদলের সাজু হাওলাদার, খুলনা জেলা ছাত্রদলের মনিরুজ্জামান নয়ন হাওলাদার, ইয়াসিন, ফিরোজ মাহমুদ, ইসমাইল হোসেন, ইস্তিয়াক আহমেদ ইস্তি, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েত, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরি হাসানুর রশিদ মিরাজ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিএনপির ৫ জনকে আটক করেছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। প্রেস বিফ্রিং থেকে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।


খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, শনিবার বিএনপি’র অবস্থান কর্মসূচী ছিল। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম যাতে শান্তিশৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটে। কিন্তু হঠাৎ করে বিএনপির মিছিল থেকে উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল মারা শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা ও জানমাল রক্ষায় পুলিশ গ্যাসগান ও শর্টগান মারতে বাধ্য হয়। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ১০ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিএনপি’র ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার বিএনপি’র একটি প্রোগ্রাম ছিল। আমরা এখানে অবস্থান করছিলাম যাতে শান্তিশৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটে। কিন্তু হঠাৎ করে বিএনপির দু’টি দল দুইদিক থেকে আসে, স্লোগান দিতে থাকে। এদের মধ্যে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা হঠাৎ করে আমাদের ইটপাটকেল মারা শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্যাসগান ও শর্টগান মারতে বাধ্য হই। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

যশোরে জমি-জায়গা বিরোধের জের: ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

খুলনায় বিএনপি ও পুলিশের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ : লাঠিচার্জ-টিয়ারশেল নিক্ষেপ, পুলিশসহ আহত ৩০, আটক ৮

প্রকাশিত সময় : ০২:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩

###

খুলনায় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচী নিয়ে বিএনপি ও পুলিম পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করেছে। শনিবার দুপুরে মহানগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় অফিসের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করে মহানগর ও জেলা বিএনপি। এ কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য বিএনপির মিছিল আসার সময় পুলিশ হামলা করেছে বলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন।এতে বিএনপির ২০নেতাকর্মী আহত ও ৫জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান নেতারা। অপরদিকে, বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের উপর ইটপাটকেলসহ হামলা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অবিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের উপর বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে হামলা করার ঘটনায় ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয় চত্বরে ১০ দফা দাবিতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে, পুলিশের হামলায় বিএনপি’র ২০ জন নেতাকর্মী আহত এবং ৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।

জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি ১০ দফা দাবিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। এ কর্মসূচীতে মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও জেলা-উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহবায়ক আমীর এজাজ খান, নগর সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন, জেলা সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নুসহ দলের মহানগর ও জেলা শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, এ অবস্থান কর্মসূচীতে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যোগদানের জন্য খুলনা থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদেরকে বাঁধা দেয়। তখন দুইদিক থেকে পৃথক দুটি মিছিল সমাবেশের দিকে যাওয়ার সময় বিএনপি’র কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এসময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ গ্যাসগান ও শর্টগান মারতে বাধ্য হয়। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়। তবে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন পুলিশ বিনা কারণে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। বিকেলে প্রেস ব্রিফিং করে বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তারা বলেন, পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের হামলায় বিএনপির ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫নং ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ কবির শেখ, রূপসা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রুবেল মীর, বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহাদুর মুন্সী, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক শাহিন মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক তামিম মোল্লা, খুলনা জেলা যুবদলের সাজু হাওলাদার, খুলনা জেলা ছাত্রদলের মনিরুজ্জামান নয়ন হাওলাদার, ইয়াসিন, ফিরোজ মাহমুদ, ইসমাইল হোসেন, ইস্তিয়াক আহমেদ ইস্তি, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েত, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরি হাসানুর রশিদ মিরাজ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিএনপির ৫ জনকে আটক করেছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। প্রেস বিফ্রিং থেকে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।


খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, শনিবার বিএনপি’র অবস্থান কর্মসূচী ছিল। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম যাতে শান্তিশৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটে। কিন্তু হঠাৎ করে বিএনপির মিছিল থেকে উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল মারা শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা ও জানমাল রক্ষায় পুলিশ গ্যাসগান ও শর্টগান মারতে বাধ্য হয়। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ১০ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিএনপি’র ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার বিএনপি’র একটি প্রোগ্রাম ছিল। আমরা এখানে অবস্থান করছিলাম যাতে শান্তিশৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটে। কিন্তু হঠাৎ করে বিএনপির দু’টি দল দুইদিক থেকে আসে, স্লোগান দিতে থাকে। এদের মধ্যে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা হঠাৎ করে আমাদের ইটপাটকেল মারা শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্যাসগান ও শর্টগান মারতে বাধ্য হই। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ##