০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খুলনায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে সমাবেশ পন্ড : তিনজন গুলিবিদ্ধসহ আহত-৪০, আটক-৩০

###    খুলনায় বিএনপির কর্মীসভা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৩জন গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ অন্তত ৪০জন আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খুলনা প্রেসক্লাবে বিএনপির কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৩০জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির কর্মী সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়। প্রেসক্লাব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সরকারের পদত্যাগ, মামলা ও গণগ্রেপ্তার বন্ধ, সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং ১০দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ আবু নাসের ব্যাংক্যুয়েট হলে কর্মী সমাবেশ আহ্বান করে বিএনপি।মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে কর্মীসভা ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন, জেলা বিএনপির সভাপতি আমীর এজাজ খান, সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ মহানগর ও জেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি মিছিল সমাবেশের দিকে যাওয়ার সময় বেশকিছু নেতার্মী রাস্তায় বসে পড়ে ও দাড়িয়ে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদেরকে বাধা দিলে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। পরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতার্মীরা। পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। পুলিশও লাঠি চার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ৪০ জন আহত হয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ৩০-৩৫ জনকে আটক করেছে বলে বিএনপির নেতারা দাবী করেছেন। তবে পুলিশ বলেছে, বিএনপির নেতার্মীরা রাস্তা আটকিয়ে জনসাধারনের চরাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল। তাদেরকে রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার কথা বলা হলে বাকবিতন্ডার পর তারা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৭ জন পুলিশ আহত হয়। পুলিশের উপর হামলার পরই পুলিশ লাঠি লার্জ, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন অভিযোগ করেন, খুলনা প্রেসক্রাবের ব্যাংক্যুয়েট হলে বিএনপির কর্মীসভা ও সমাবেশ চলছিল। বিনা উস্কানিতে  পুলিশ সমাবেশ পন্ড করতে গুলি, টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। পুলিশের হামলায় তাদের ৪০ জন নেতাকমী আহত হয়েছে। এ সময় দিঘলিয়া সেনাটি ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান, ১২নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্মআহবায়ক জাহিদুর রহমান রিপন, পাইকগাছা উপজেলার যুবদল নেতা মোঃ তাজমুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।পুলিশ অন্তত ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে বলে তিনি দাবী করেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন, দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে খুলনায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পুলিশ সেখানে বাধা দেয়ায় খুলনা প্রেস্লোবের শহীদ আবু নাসের ব্যাংক্যুয়েট হল চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী কেন্দ্রীয় নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাদের সমাবেশ পন্ড করার জন্য পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা করে। পুলিশের হামলায় বিএনপির অন্তত ৪০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাদের ৩০ জনকে আটক করেছে। তিনি এ হামলার নিন্দা জানান। তিনি আরও বলেন, পুলিশের এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।

তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) মো: তাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ আবু নাসের ব্যাংক্যুয়েট হলে বিএনপির কর্মীসভা ছিল। সবকিছুই ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। কিন্তু তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ স্থলে পৌছালে বিএনপির বেশকিছু নেতাকর্মী মিছিল থেকে রাস্তায় অবস্থান নেয়। পুলিশ মানুষের চলাচলের এ সময় রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য বললে বিএনপির কিছু কর্মীরা পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কিছু উশৃঙ্খল কর্মী ‍পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।এ সময় পুলিশ আত্নরক্ষায় টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।বিএনপির নেতার্মীদের ইটপাটকেলের ও লাঠির আঘাতে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। এ সময় পুলিশ বিএনপির ১০ জনকে আটক করেছে বলেও তিনি জানান। সদর থানার ওসি মো: হাসান আল মামুন বলেন, অনুমতি ছাড়াই সমাবেশের চেষ্টা করছিল বিএনপি। তারাই পুলিশের ওপর হামলা করেছে।ঘটনার পর পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি । ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

গলাচিপায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের মাধ্যমে রাস্তা উন্মুক্ত করায় প্রসংশিত মেয়র

খুলনায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে সমাবেশ পন্ড : তিনজন গুলিবিদ্ধসহ আহত-৪০, আটক-৩০

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩

###    খুলনায় বিএনপির কর্মীসভা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৩জন গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ অন্তত ৪০জন আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খুলনা প্রেসক্লাবে বিএনপির কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৩০জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির কর্মী সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়। প্রেসক্লাব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সরকারের পদত্যাগ, মামলা ও গণগ্রেপ্তার বন্ধ, সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং ১০দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ আবু নাসের ব্যাংক্যুয়েট হলে কর্মী সমাবেশ আহ্বান করে বিএনপি।মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে কর্মীসভা ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন, জেলা বিএনপির সভাপতি আমীর এজাজ খান, সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ মহানগর ও জেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি মিছিল সমাবেশের দিকে যাওয়ার সময় বেশকিছু নেতার্মী রাস্তায় বসে পড়ে ও দাড়িয়ে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদেরকে বাধা দিলে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। পরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতার্মীরা। পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। পুলিশও লাঠি চার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ৪০ জন আহত হয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ৩০-৩৫ জনকে আটক করেছে বলে বিএনপির নেতারা দাবী করেছেন। তবে পুলিশ বলেছে, বিএনপির নেতার্মীরা রাস্তা আটকিয়ে জনসাধারনের চরাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল। তাদেরকে রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার কথা বলা হলে বাকবিতন্ডার পর তারা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৭ জন পুলিশ আহত হয়। পুলিশের উপর হামলার পরই পুলিশ লাঠি লার্জ, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন অভিযোগ করেন, খুলনা প্রেসক্রাবের ব্যাংক্যুয়েট হলে বিএনপির কর্মীসভা ও সমাবেশ চলছিল। বিনা উস্কানিতে  পুলিশ সমাবেশ পন্ড করতে গুলি, টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। পুলিশের হামলায় তাদের ৪০ জন নেতাকমী আহত হয়েছে। এ সময় দিঘলিয়া সেনাটি ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান, ১২নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্মআহবায়ক জাহিদুর রহমান রিপন, পাইকগাছা উপজেলার যুবদল নেতা মোঃ তাজমুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।পুলিশ অন্তত ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে বলে তিনি দাবী করেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন, দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে খুলনায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পুলিশ সেখানে বাধা দেয়ায় খুলনা প্রেস্লোবের শহীদ আবু নাসের ব্যাংক্যুয়েট হল চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী কেন্দ্রীয় নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাদের সমাবেশ পন্ড করার জন্য পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা করে। পুলিশের হামলায় বিএনপির অন্তত ৪০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাদের ৩০ জনকে আটক করেছে। তিনি এ হামলার নিন্দা জানান। তিনি আরও বলেন, পুলিশের এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।

তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) মো: তাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ আবু নাসের ব্যাংক্যুয়েট হলে বিএনপির কর্মীসভা ছিল। সবকিছুই ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। কিন্তু তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ স্থলে পৌছালে বিএনপির বেশকিছু নেতাকর্মী মিছিল থেকে রাস্তায় অবস্থান নেয়। পুলিশ মানুষের চলাচলের এ সময় রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য বললে বিএনপির কিছু কর্মীরা পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কিছু উশৃঙ্খল কর্মী ‍পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।এ সময় পুলিশ আত্নরক্ষায় টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।বিএনপির নেতার্মীদের ইটপাটকেলের ও লাঠির আঘাতে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। এ সময় পুলিশ বিএনপির ১০ জনকে আটক করেছে বলেও তিনি জানান। সদর থানার ওসি মো: হাসান আল মামুন বলেন, অনুমতি ছাড়াই সমাবেশের চেষ্টা করছিল বিএনপি। তারাই পুলিশের ওপর হামলা করেছে।ঘটনার পর পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি । ##