১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনায় সহনীয় মাত্রার দ্বিগুনেরও বেশী মাত্রার শব্দ উৎপন্ন, স্থায়ী বধিরতার আশংকা

###    খুলনা শহরে প্রতিনিয়িত মানুষের সহনীয় মাত্রার দ্বিগুনেরও বেশী মাত্রার শব্দ উৎপন্ন হচ্ছে। যার ফলে শহরের ঘর বসতিপূর্ন, বাসষ্ট্যান্ড ও বাজার এলাকার মানুষের স্থায়ী বধিরতার আশংকা করছেন বিশষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মানুষের স্বাভাবিক বা সহনীয় শব্দের মাত্রা ৫৫ থেকে ৬০ডেসিবেল। কিন্তু খুলনায় প্রতিনিয়ত উৎপন্ন বিভিন্ন ধরণের শব্দের তীব্রতা ৪২ ডেসিবেল থেকে ১৪২ডেসিবেল। যা দিন দিন ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ডেসিবেলের অধিক শব্দ দীর্ঘ সময় ধরে থাকে তাহলে বধিরতা আর শব্দ ১০০ডেসিবেলের বেশী হলে স্থায়ী বধিরতা হতে পারে। খুলনায় আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বুধবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী। দিবসটি পালনে এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুরক্ষিত শ্রবণ, সুরক্ষিত জীবন’। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, শব্দদূষণ হ্রাস করা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত উচ্চশব্দের মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকার রাস্তায় যান চলাচলের ক্ষেত্রে যানবাহনে হর্ণের ব্যবহার যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। একই সাথে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ জরুরি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শব্দদূষণের ফলে মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস ও শ্রবণ ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হতে পারে। এছাড়া হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ, শ্রবণশক্তি হ্রাস, শিশুর মেধা বিকাশ ব্যাহত হওয়াসহ নানা রোগের কারণ এই শব্দদূষণ। এ দূষণরোধে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার, অযথা হর্ণ বাজানো, নির্মাণ কাজে উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার, যত্রতত্র লাউড স্পিকার ব্যবহার বন্ধ বা হ্রাস করা প্রয়োজন।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশে শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী হর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ। আবাসিক এলাকার পাঁচশত মিটারের মধ্যে শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী যন্ত্রপাতি দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ ঘন্টা ব্যবহার করা যাবে। তবে রাত ১০টার পর এ ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত নির্মাণকাজে শব্দদূষণকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের জরিপে দেখা যায় খুলনার শহরাঞ্চলে উৎপন্ন শব্দের তীব্রতা ৪২ থেকে ১৩২ ডেসিবল। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় বিভাগের ১০ জেলায় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত শব্দদূষণরোধে ১১৫টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৩৪৩টি মামলার মাধ্যমে চার লাখ ৫২ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা আদায় এবং ৬৬৪টি হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করেছে। খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহমেদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) মনিরা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মহাসীন আল মুরাদ ও খুলনা সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ কাজী আবু রাশেদ বক্তৃতা করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর আগে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

বাকেরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

খুলনায় সহনীয় মাত্রার দ্বিগুনেরও বেশী মাত্রার শব্দ উৎপন্ন, স্থায়ী বধিরতার আশংকা

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

###    খুলনা শহরে প্রতিনিয়িত মানুষের সহনীয় মাত্রার দ্বিগুনেরও বেশী মাত্রার শব্দ উৎপন্ন হচ্ছে। যার ফলে শহরের ঘর বসতিপূর্ন, বাসষ্ট্যান্ড ও বাজার এলাকার মানুষের স্থায়ী বধিরতার আশংকা করছেন বিশষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মানুষের স্বাভাবিক বা সহনীয় শব্দের মাত্রা ৫৫ থেকে ৬০ডেসিবেল। কিন্তু খুলনায় প্রতিনিয়ত উৎপন্ন বিভিন্ন ধরণের শব্দের তীব্রতা ৪২ ডেসিবেল থেকে ১৪২ডেসিবেল। যা দিন দিন ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ডেসিবেলের অধিক শব্দ দীর্ঘ সময় ধরে থাকে তাহলে বধিরতা আর শব্দ ১০০ডেসিবেলের বেশী হলে স্থায়ী বধিরতা হতে পারে। খুলনায় আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বুধবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী। দিবসটি পালনে এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুরক্ষিত শ্রবণ, সুরক্ষিত জীবন’। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, শব্দদূষণ হ্রাস করা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত উচ্চশব্দের মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকার রাস্তায় যান চলাচলের ক্ষেত্রে যানবাহনে হর্ণের ব্যবহার যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। একই সাথে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ জরুরি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শব্দদূষণের ফলে মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস ও শ্রবণ ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হতে পারে। এছাড়া হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ, শ্রবণশক্তি হ্রাস, শিশুর মেধা বিকাশ ব্যাহত হওয়াসহ নানা রোগের কারণ এই শব্দদূষণ। এ দূষণরোধে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার, অযথা হর্ণ বাজানো, নির্মাণ কাজে উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার, যত্রতত্র লাউড স্পিকার ব্যবহার বন্ধ বা হ্রাস করা প্রয়োজন।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশে শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী হর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ। আবাসিক এলাকার পাঁচশত মিটারের মধ্যে শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী যন্ত্রপাতি দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ ঘন্টা ব্যবহার করা যাবে। তবে রাত ১০টার পর এ ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত নির্মাণকাজে শব্দদূষণকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের জরিপে দেখা যায় খুলনার শহরাঞ্চলে উৎপন্ন শব্দের তীব্রতা ৪২ থেকে ১৩২ ডেসিবল। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় বিভাগের ১০ জেলায় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত শব্দদূষণরোধে ১১৫টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৩৪৩টি মামলার মাধ্যমে চার লাখ ৫২ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা আদায় এবং ৬৬৪টি হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করেছে। খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহমেদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) মনিরা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মহাসীন আল মুরাদ ও খুলনা সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ কাজী আবু রাশেদ বক্তৃতা করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর আগে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। ##