০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্প স্থগিত রাখা সিদ্ধান্ত :

খুলনার খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মান হচ্ছে না

###    খুলনাঞ্চলের মানুসের প্রানের দাবী ও প্রত্যাশার খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মান আপাতত হচ্ছে না। সবশেষ সম্ভাব্যতা যাচাই রির্পেটে বর্তমান পেক্ষাপটে খানজাহান আলী বিমান বন্দও নির্মান লাভজনক হবে না বলে প্রতিবেদন দেওয়ায় খুলনা বিমান বন্দর প্রকল্প স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রানের দাবি ও চাহিদা থাকার পরও আপাতত বিমান বন্দর পাচ্ছে না খুলনা অঞ্চলের মানুষ। প্রায় তিন দশক আগে মোংলা সমুদ্র বন্দর ও সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে খুলনার অর্থনৈতিক ও পর্যটনের গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিমান বন্দর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য বাগেরহাটের রামপালের ফয়লায় রুই দফায় অনেক জমিও অধিগ্রহণ করা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী শনিবার সাংবাদিকদের জানান, মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিমান বন্দরের চাহিদা তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন স্বাচ্ছন্দ্যে কম সময়ে ভ্রমণ করতে চায়। তবে এখনই দেশে নতুন কোনো বিমান বন্দর তৈরির পরিকল্পনা সরকারের নেই। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, শর্ট টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর হিসেবে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লায় খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৮ সালে প্রকল্পের জন্য ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালের ৫ মার্চ খানজাহান আলী বিমান বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আরও ৬’শ ২৬ দশমিক ৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। একই বছরের জুলাইয়ে পূনরায় শুরু হয় প্রকল্পটির কাজ। পরে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) আওতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গ্রহণের জন্য নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫’শ ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা যায়, পিপিপিতে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বেবিচক। মূলত, পিপিপির আওতায় তৈরির পর বিমানবন্দরটি কতটা লাভজনক হবে, সেটি যাচাই করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে বেবিচকের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত বৈঠকে খানজাহান আলী বিমান বন্দরের বিষয়টি তোলা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিমান বন্দরটি নির্মাণ করে লাভজনক করা সম্ভব হবে না। পরামর্শ হিসেবে বলা হয়, পিপিপিতে নির্মাণ করলে পরবর্তী সময়ে লাভজনক করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ভর্তুকি দিতে হবে অথবা যাত্রীদের প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত গুনতে হবে। সব বিবেচনায় প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে দূরত্ব ও সড়ক পথের অবস্থা বিবেচনা করে নতুন এবং বন্ধ থাকা বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ মুহূর্তে নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিবর্তে চালু থাকা বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর সচল রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে আন্তর্জাতিক। আর বরিশাল, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও কক্সবাজার হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বিমান বন্দর। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ থেকে আন্তর্জাতিক মানে নেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে। সৈয়দপুর বিমান বন্দর চারটি দেশের সীমানার কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগত এ বন্দরটি আন্তর্জাতিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের আরও পাঁচটি বিমান বন্দর বন্ধ রয়েছে । সেগুলো হচ্ছে ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, শমসেরনগর ও কুমিল্লা বিমান বন্দর। এসব বিমান বন্দর চালু করা যায় কি না সেটি খতিয়ে দেখছে বেবিচক। বেবিচক সুত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী ছিল তিন লাখ। কোভিড মহামারির আগে ২০১৯ সালে ছিল ২৫ লাখ। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ, যা ২০১৯ সালে বেড়ে ৮৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালে আকাশপথে আনুমানিক ৭০ হাজার মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করা হয়। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার টন। করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে আসে। ##

 

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

যশোরে জমি-জায়গা বিরোধের জের: ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্প স্থগিত রাখা সিদ্ধান্ত :

খুলনার খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মান হচ্ছে না

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩

###    খুলনাঞ্চলের মানুসের প্রানের দাবী ও প্রত্যাশার খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মান আপাতত হচ্ছে না। সবশেষ সম্ভাব্যতা যাচাই রির্পেটে বর্তমান পেক্ষাপটে খানজাহান আলী বিমান বন্দও নির্মান লাভজনক হবে না বলে প্রতিবেদন দেওয়ায় খুলনা বিমান বন্দর প্রকল্প স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রানের দাবি ও চাহিদা থাকার পরও আপাতত বিমান বন্দর পাচ্ছে না খুলনা অঞ্চলের মানুষ। প্রায় তিন দশক আগে মোংলা সমুদ্র বন্দর ও সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে খুলনার অর্থনৈতিক ও পর্যটনের গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিমান বন্দর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য বাগেরহাটের রামপালের ফয়লায় রুই দফায় অনেক জমিও অধিগ্রহণ করা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী শনিবার সাংবাদিকদের জানান, মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিমান বন্দরের চাহিদা তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন স্বাচ্ছন্দ্যে কম সময়ে ভ্রমণ করতে চায়। তবে এখনই দেশে নতুন কোনো বিমান বন্দর তৈরির পরিকল্পনা সরকারের নেই। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, শর্ট টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর হিসেবে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লায় খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৮ সালে প্রকল্পের জন্য ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালের ৫ মার্চ খানজাহান আলী বিমান বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আরও ৬’শ ২৬ দশমিক ৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। একই বছরের জুলাইয়ে পূনরায় শুরু হয় প্রকল্পটির কাজ। পরে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) আওতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গ্রহণের জন্য নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫’শ ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা যায়, পিপিপিতে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বেবিচক। মূলত, পিপিপির আওতায় তৈরির পর বিমানবন্দরটি কতটা লাভজনক হবে, সেটি যাচাই করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে বেবিচকের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত বৈঠকে খানজাহান আলী বিমান বন্দরের বিষয়টি তোলা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিমান বন্দরটি নির্মাণ করে লাভজনক করা সম্ভব হবে না। পরামর্শ হিসেবে বলা হয়, পিপিপিতে নির্মাণ করলে পরবর্তী সময়ে লাভজনক করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ভর্তুকি দিতে হবে অথবা যাত্রীদের প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত গুনতে হবে। সব বিবেচনায় প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে দূরত্ব ও সড়ক পথের অবস্থা বিবেচনা করে নতুন এবং বন্ধ থাকা বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ মুহূর্তে নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিবর্তে চালু থাকা বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর সচল রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে আন্তর্জাতিক। আর বরিশাল, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও কক্সবাজার হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বিমান বন্দর। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ থেকে আন্তর্জাতিক মানে নেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে। সৈয়দপুর বিমান বন্দর চারটি দেশের সীমানার কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগত এ বন্দরটি আন্তর্জাতিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের আরও পাঁচটি বিমান বন্দর বন্ধ রয়েছে । সেগুলো হচ্ছে ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, শমসেরনগর ও কুমিল্লা বিমান বন্দর। এসব বিমান বন্দর চালু করা যায় কি না সেটি খতিয়ে দেখছে বেবিচক। বেবিচক সুত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী ছিল তিন লাখ। কোভিড মহামারির আগে ২০১৯ সালে ছিল ২৫ লাখ। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ, যা ২০১৯ সালে বেড়ে ৮৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালে আকাশপথে আনুমানিক ৭০ হাজার মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করা হয়। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার টন। করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে আসে। ##