০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনার ডুমুরিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ২  ডজন অবৈধ মিনি ইটভাটা: পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, ঝুঁকিতে পরিবেশ

###    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের লোকালয়ে গঁড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ মিনি ইটভাটা। দেদারসে পুড়ছে কাঠ, কালো ধোঁয়ায় দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই, সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজলার ধামালিয়া ইউনিয়নের চেঁচুড়ী গ্রামে চেচুড়ী কে. বি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কে.বি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা প্রতিবন্ধী স্কুল এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোল ঘেষে পাড়া-মহল্লার ভিতর গড়ে উঠেছে ২২টি অবৈধ মিনি ইটভাটা (ফাঁজা)। এর অপর পাশে নিকটবর্তী রয়েছে ভবদহ মহাবিদ্যালয়।

 আইন ও বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে অধিক মুনফা লাভের আশায়, স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি কয়েক বছর যাবৎ সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ভাটায় ইট পোড়ানো কাজ।  হরি নদী পাড়ের মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট, কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে নারকেল, শিরিশ, বাবলা, বাঁশ ও খেঁজুর গাছের কাঠের গুঁড়ি । এসব কাঠ পোড়ানো কালো ধোঁয়ায় একদিকে যেমন পরিবেশ মারাত্বক ভাবে দূষিত হচ্ছে অপরদিকে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার মানুষ বিশেষ করে শিশুরা ।  একইভাবে  ফলদ ও বনজ গাছ কেটে সাবাড় করার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রয়েছে চরম হুমকির মুখে। গ্রাম্য সংস্কৃতির কালের ভদ্রে এক সময়ে কোন ব্যক্তি বা গোষ্টি এমনি ভাবে ইট পুড়িয়ে বাড়ি তৈরী করে থাকতেন। বর্তমান উন্নয়ন মূখী  পরিবেশে সমাজ  সচেতনতার এ যূগে ব্যক্তি স্বার্থে কিছু লোক যত্র তত্র বাণিজ্যিক ভাবে অবৈধ মিনি ইটভাটা স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত করে এলাকার  সচেতন মানুষকে  উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামের প্রধান সড়ক সংলগ্ন স্থাপিত ভাটাগুলোর দূষিত ধোয়ায় একদিকে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দূষিত দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়ায়  পাঠদানে মনোযোগী হতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চরম বিঘ্নিত হচ্ছে । চেচুড়ী কে বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, ইট পোড়ানোর সময় স্কুলের মধ্যে ভাটার ধোঁয়া আসে । যখন ধোয়া আসে তখন চোখ পোড়া ভাব লাগে । তাছাড়া সার্বক্ষণিক একটা গন্ধ পাওয়া যায় এতে অস্বস্তি বোধ হয়। পথচারী আরজিনা বেগম জানান,  প্রধান সড়কের একেবারেই কোল ঘেঁষে গড়ে উঠা ইটের ফাঁজা গুলোতে ইট পোড়ানোর সময় দূষিত ধোয়ায় চলাচল করার সময় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নেয়া যায়না কষ্ট হয়। ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন বলেন, একই সময় একাধিক ভাটায় ইট পোড়ানো কার্যক্রম চলতে থাকার ফলে সার্বক্ষণিক কালো ময়লাযুক্ত দূষিত ধোয়া এলাকায় ছড়াতে থাকে এতে সব সময়ই যেন মনে হয় গোটা এলাকার  আবহাওয়াটা দূষিত হয়ে রয়েছে । এছাড়া স্থানীয় অনেকের মতে এলাকায় শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বিশেষ করে শিশু রোগী ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয় জনবহুল এলাকার গ্রাম্য এসব রাস্তায় অতিরিক্ত বোঝাই দিয়ে কাঁঠ, ইট ও মাটি বহনের ফলে রাস্তা ধসে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । এমন অভিযোগ করেন কয়েক জন শিক্ষক সহ স্হানীয় বাসিন্দারা।  সূত্রে জানা গেছে ২০২০ সালের পর থেকে মূলত স্থানীয় পাল সম্প্রদায় ইট পোড়ানো (ব্যবসার) কার্যক্রম একটু জোরেশোরে শুরু করেছেন । এবিষয় এলাকার মোহন পাল, মন্টু পাল, মিলন পাল, অসিত পালসহ একাধিক ভাটা মালিক জানান, এক সময় তাদের পৈত্রিক পেশা ছিলো কুমার শিল্প।  যা এখন বিলুপ্তির পথে তাই বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে এবং চাহিদার কথা বিবেচনা করে ইট পোড়ানো কাজ শুরু করেছেন তারা । এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধামালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জহুরুল হক এ কার্যক্রম অবৈধ উল্লেখ করে বলেন, তাদের কোন দাপ্তরিক অনুমতি পত্র নেই। ট্রেড লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তারা মাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে  কোন দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই  স্হানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও কিছু প্রতিষ্ঠানকে  ম্যানেজ করে তারা ইট ভাটার সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।  কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী । ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

খুলনার ডুমুরিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ২  ডজন অবৈধ মিনি ইটভাটা: পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, ঝুঁকিতে পরিবেশ

প্রকাশিত সময় : ০৩:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ এপ্রিল ২০২৩

###    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের লোকালয়ে গঁড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ মিনি ইটভাটা। দেদারসে পুড়ছে কাঠ, কালো ধোঁয়ায় দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই, সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজলার ধামালিয়া ইউনিয়নের চেঁচুড়ী গ্রামে চেচুড়ী কে. বি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কে.বি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা প্রতিবন্ধী স্কুল এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোল ঘেষে পাড়া-মহল্লার ভিতর গড়ে উঠেছে ২২টি অবৈধ মিনি ইটভাটা (ফাঁজা)। এর অপর পাশে নিকটবর্তী রয়েছে ভবদহ মহাবিদ্যালয়।

 আইন ও বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে অধিক মুনফা লাভের আশায়, স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি কয়েক বছর যাবৎ সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ভাটায় ইট পোড়ানো কাজ।  হরি নদী পাড়ের মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট, কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে নারকেল, শিরিশ, বাবলা, বাঁশ ও খেঁজুর গাছের কাঠের গুঁড়ি । এসব কাঠ পোড়ানো কালো ধোঁয়ায় একদিকে যেমন পরিবেশ মারাত্বক ভাবে দূষিত হচ্ছে অপরদিকে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার মানুষ বিশেষ করে শিশুরা ।  একইভাবে  ফলদ ও বনজ গাছ কেটে সাবাড় করার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রয়েছে চরম হুমকির মুখে। গ্রাম্য সংস্কৃতির কালের ভদ্রে এক সময়ে কোন ব্যক্তি বা গোষ্টি এমনি ভাবে ইট পুড়িয়ে বাড়ি তৈরী করে থাকতেন। বর্তমান উন্নয়ন মূখী  পরিবেশে সমাজ  সচেতনতার এ যূগে ব্যক্তি স্বার্থে কিছু লোক যত্র তত্র বাণিজ্যিক ভাবে অবৈধ মিনি ইটভাটা স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত করে এলাকার  সচেতন মানুষকে  উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামের প্রধান সড়ক সংলগ্ন স্থাপিত ভাটাগুলোর দূষিত ধোয়ায় একদিকে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দূষিত দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়ায়  পাঠদানে মনোযোগী হতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চরম বিঘ্নিত হচ্ছে । চেচুড়ী কে বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, ইট পোড়ানোর সময় স্কুলের মধ্যে ভাটার ধোঁয়া আসে । যখন ধোয়া আসে তখন চোখ পোড়া ভাব লাগে । তাছাড়া সার্বক্ষণিক একটা গন্ধ পাওয়া যায় এতে অস্বস্তি বোধ হয়। পথচারী আরজিনা বেগম জানান,  প্রধান সড়কের একেবারেই কোল ঘেঁষে গড়ে উঠা ইটের ফাঁজা গুলোতে ইট পোড়ানোর সময় দূষিত ধোয়ায় চলাচল করার সময় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নেয়া যায়না কষ্ট হয়। ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন বলেন, একই সময় একাধিক ভাটায় ইট পোড়ানো কার্যক্রম চলতে থাকার ফলে সার্বক্ষণিক কালো ময়লাযুক্ত দূষিত ধোয়া এলাকায় ছড়াতে থাকে এতে সব সময়ই যেন মনে হয় গোটা এলাকার  আবহাওয়াটা দূষিত হয়ে রয়েছে । এছাড়া স্থানীয় অনেকের মতে এলাকায় শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বিশেষ করে শিশু রোগী ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয় জনবহুল এলাকার গ্রাম্য এসব রাস্তায় অতিরিক্ত বোঝাই দিয়ে কাঁঠ, ইট ও মাটি বহনের ফলে রাস্তা ধসে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । এমন অভিযোগ করেন কয়েক জন শিক্ষক সহ স্হানীয় বাসিন্দারা।  সূত্রে জানা গেছে ২০২০ সালের পর থেকে মূলত স্থানীয় পাল সম্প্রদায় ইট পোড়ানো (ব্যবসার) কার্যক্রম একটু জোরেশোরে শুরু করেছেন । এবিষয় এলাকার মোহন পাল, মন্টু পাল, মিলন পাল, অসিত পালসহ একাধিক ভাটা মালিক জানান, এক সময় তাদের পৈত্রিক পেশা ছিলো কুমার শিল্প।  যা এখন বিলুপ্তির পথে তাই বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে এবং চাহিদার কথা বিবেচনা করে ইট পোড়ানো কাজ শুরু করেছেন তারা । এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধামালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জহুরুল হক এ কার্যক্রম অবৈধ উল্লেখ করে বলেন, তাদের কোন দাপ্তরিক অনুমতি পত্র নেই। ট্রেড লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তারা মাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে  কোন দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই  স্হানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও কিছু প্রতিষ্ঠানকে  ম্যানেজ করে তারা ইট ভাটার সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।  কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী । ##