০২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনা নগরীর ডাঃ বিপ্লব দাসের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

###

খুলনার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাঃ বিপ্লব কুমার দাসের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রী(১৮) রোগীকে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেল ছয়টার দিকে নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ শেখপাড়া এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাঁচ তলায় ডাক্তার বিপ্লব কুমার দাসের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। যৌন নির্যাতনের শিকার তরুণী পিরোজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে যান এস.আই শান্তনু কুমার।এ সময়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী (১৮) জানান, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে কিছুদিন আগে মাইগ্রেনের সমস্যায় চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ বিপ্লব কুমার দাসের চেম্বারে। তিনি নগরীর শেখপাড়া এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে তাকে দেখে এমআরআইসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। মঙ্গলবার (০৬জুন) ছোট বোনকে নিয়ে পিরোজপুর স্বরূপকাটি থেকে খুলনায় রিপোর্ট দেখাতে আসেন ওই কলেজ ছাত্রী। বিকেলে ডাক্তারের চেম্বারে রিপোর্ট দেখাতে গেলে কলেজ ছাত্রী (১৮) কে চেম্বারে একা রেখে অন্য সকলকেই বাইরে বের করে দেয় ডা: বিপ্লব দাস। পরে শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অযুহাতে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক তাকে পেশেন্ট বেডে শয্যাশায়ী(শুয়ায়ে) করে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করে ডাক্তার বিপ্লব। পরে ডাক্তারের রুম থেকে বেরিয়ে এসে অঝোরেই কাঁদতে থাকেন কলেজ ছাত্রী। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্য রোগী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। তখন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য পরীক্ষা-নীরিক্ষার রিপোর্ট খারাপ এসেছে সেই ভয়ে রোগী কান্নাকাটি করছে বলে সবাইকে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কলেজ ছাত্রী যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির বিষয়টি উপস্থিত সকলকে বলেন। খবর পেয় ঘটনাস্থলে সোনাডাঙ্গা পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়। এ সময় কলেজ ছাত্রী ও তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোন ঘটনাটি সকলকে জানান।  কলেজ ছাত্রীর ছোট বোন বলেন, “আমার আপার মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে। এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু আপুকে রুমের ভিতরে রেখে ডাক্তার সবাইকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ পরে আপু বাইরে এসে খুব কান্না করছিল। আপুকে কি হয়েছে জানতে চাইলে সে বলল- ডাক্তার তাকে জড়িয়ে ধরে ও বিচানায় শুইয়ে খারাপ কিছু করেছে। আপু খুব কান্না করছে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এস.আই শান্তনু কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ শুনেছি। থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ডা: বিপ্লব দাসকে চেম্বারে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ম্যানেজার মোঃ সোহেল চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি শুনতে পেয়ে আমি নিচে এসে দেখি একটি মেয়ে কান্নাকাটি করছে। অন্য রোগীদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় মেয়েটি চেম্বার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার বিপ্লব কুমার দাসকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন মেয়েটির মাথাব্যথা আছে এবং শ্বাসকষ্ট আছে এরআগেও মেয়েটি আমার কাছে এসেছে। পরবর্তীতে পুলিশ এবং সাংবাদিকরা আসে। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ মেয়েটিকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এ সম্বন্ধে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। যদি যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি জানান। সেজন্য যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. বিপ্লব কুমার দাস বলেন, বলার কিছু নেই সম্পূর্ণ বিষয়টি সাজানো। কারণ এত দ্রুত কিভাবে একটি মেয়ে কান্নকাটি করার সাথে সাথেই পুলিশ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত হলো। মেয়েটি এরআগেও আমার কাছে এসেছে চিকিৎসা নিতে। রোগীর মাথা ব্যথার সমস্যা রয়েছে। আমি তাকে এ বিষয়গুলো নিয়ে জিজ্ঞাসা করছিলাম। আর আমার চেম্বারের দরজা খোলাই ছিল। অন্য রোগীরাও উপস্থিত ছিল। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব কিছু সাজানো হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। তবে কেন তিনি ঘটনাস্থলের চেম্বার থেকে পালিয়ে গেলেন সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি। এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: মমতাজুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী কোন অভিযোগ না দেয়ায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি। পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই ছাত্রীকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মো: তাজুল ইসলাম জানান,  নগরীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজন চিকিৎসা কর্তৃক নারী রোগীর যৌন হয়রানির বিষয়ে শুনেছি।  সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পুলিশে হেফাজতে আনে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়নি।  ভুক্তভোগীকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।  তবে কেন মামলা করা হলো না সে বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দেননি। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

খুলনা নগরীর ডাঃ বিপ্লব দাসের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৪:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩

###

খুলনার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাঃ বিপ্লব কুমার দাসের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রী(১৮) রোগীকে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেল ছয়টার দিকে নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ শেখপাড়া এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাঁচ তলায় ডাক্তার বিপ্লব কুমার দাসের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। যৌন নির্যাতনের শিকার তরুণী পিরোজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে যান এস.আই শান্তনু কুমার।এ সময়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী (১৮) জানান, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে কিছুদিন আগে মাইগ্রেনের সমস্যায় চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ বিপ্লব কুমার দাসের চেম্বারে। তিনি নগরীর শেখপাড়া এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে তাকে দেখে এমআরআইসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। মঙ্গলবার (০৬জুন) ছোট বোনকে নিয়ে পিরোজপুর স্বরূপকাটি থেকে খুলনায় রিপোর্ট দেখাতে আসেন ওই কলেজ ছাত্রী। বিকেলে ডাক্তারের চেম্বারে রিপোর্ট দেখাতে গেলে কলেজ ছাত্রী (১৮) কে চেম্বারে একা রেখে অন্য সকলকেই বাইরে বের করে দেয় ডা: বিপ্লব দাস। পরে শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অযুহাতে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক তাকে পেশেন্ট বেডে শয্যাশায়ী(শুয়ায়ে) করে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করে ডাক্তার বিপ্লব। পরে ডাক্তারের রুম থেকে বেরিয়ে এসে অঝোরেই কাঁদতে থাকেন কলেজ ছাত্রী। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্য রোগী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। তখন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য পরীক্ষা-নীরিক্ষার রিপোর্ট খারাপ এসেছে সেই ভয়ে রোগী কান্নাকাটি করছে বলে সবাইকে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কলেজ ছাত্রী যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির বিষয়টি উপস্থিত সকলকে বলেন। খবর পেয় ঘটনাস্থলে সোনাডাঙ্গা পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়। এ সময় কলেজ ছাত্রী ও তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোন ঘটনাটি সকলকে জানান।  কলেজ ছাত্রীর ছোট বোন বলেন, “আমার আপার মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে। এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু আপুকে রুমের ভিতরে রেখে ডাক্তার সবাইকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ পরে আপু বাইরে এসে খুব কান্না করছিল। আপুকে কি হয়েছে জানতে চাইলে সে বলল- ডাক্তার তাকে জড়িয়ে ধরে ও বিচানায় শুইয়ে খারাপ কিছু করেছে। আপু খুব কান্না করছে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এস.আই শান্তনু কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ শুনেছি। থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ডা: বিপ্লব দাসকে চেম্বারে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ম্যানেজার মোঃ সোহেল চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি শুনতে পেয়ে আমি নিচে এসে দেখি একটি মেয়ে কান্নাকাটি করছে। অন্য রোগীদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় মেয়েটি চেম্বার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার বিপ্লব কুমার দাসকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন মেয়েটির মাথাব্যথা আছে এবং শ্বাসকষ্ট আছে এরআগেও মেয়েটি আমার কাছে এসেছে। পরবর্তীতে পুলিশ এবং সাংবাদিকরা আসে। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ মেয়েটিকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এ সম্বন্ধে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। যদি যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি জানান। সেজন্য যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. বিপ্লব কুমার দাস বলেন, বলার কিছু নেই সম্পূর্ণ বিষয়টি সাজানো। কারণ এত দ্রুত কিভাবে একটি মেয়ে কান্নকাটি করার সাথে সাথেই পুলিশ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত হলো। মেয়েটি এরআগেও আমার কাছে এসেছে চিকিৎসা নিতে। রোগীর মাথা ব্যথার সমস্যা রয়েছে। আমি তাকে এ বিষয়গুলো নিয়ে জিজ্ঞাসা করছিলাম। আর আমার চেম্বারের দরজা খোলাই ছিল। অন্য রোগীরাও উপস্থিত ছিল। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব কিছু সাজানো হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। তবে কেন তিনি ঘটনাস্থলের চেম্বার থেকে পালিয়ে গেলেন সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি। এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: মমতাজুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী কোন অভিযোগ না দেয়ায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি। পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই ছাত্রীকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মো: তাজুল ইসলাম জানান,  নগরীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজন চিকিৎসা কর্তৃক নারী রোগীর যৌন হয়রানির বিষয়ে শুনেছি।  সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পুলিশে হেফাজতে আনে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়নি।  ভুক্তভোগীকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।  তবে কেন মামলা করা হলো না সে বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দেননি। ##