০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খুলনা বিমান বন্দর প্রকল্পের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও পুনরায় কার্যক্রম শুরুর দাবি, ৩০মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মসারকলিপি প্রদান

###    খুলনার খানজাহান আলী বিমান বন্দর স্থগিত করায় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ (পিপিপি) সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারি অর্থায়নে খুলনা বিমান বন্দরের কাজ শুরু করার জোর দাবী জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ খুলনা বিমান বন্দর নির্মান বাস্তবায়নে আগামী দুই অর্থ বছরের বাজটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রেখে বিমান বন্দর নির্মান কাজ শেষ করার দাবী জানিয়ে আগামী ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবর খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। ১৯ মার্চ রবিবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সাংবাদ সম্মেলনে খুলনা উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ এসব দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উন্নয়ন কমিটির মহাসচিব শেখ মোহাম্মাদ আলী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় বাংলাদেশের মানুষের অদম্য আকাঙ্খা, প্রাণশক্তি আর ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের কারণে বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময় এখন বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এবং সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের অভিযাত্রায় খুলনাঞ্চল এখন শক্তিশালী অভিযাত্রী। যদি খুলনার সম্ভাবনা গুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায় তবে খুলনা আগামীতে উন্নত বাংলাদেশ উপহার দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। খুলনার প্রাকৃতিক এবং ভু-রাজনীতির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সড়ক, রেল, নৌ এবং সমুদ্রপথে ভারত, নেপাল, ভূটানের সাথে বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব। আর এ কারণেই খুলনায় বিমান বন্দর নির্মান একান্ত অপরিহার্য। নেতৃৃবন্দ বলেণ, খুলনায় বিমান বন্দর নির্মিত হোক এটি খুলনাসহ এতদাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এ দাবিতে খুলনাঞ্চলের আপামর জনগন উন্নয়ন কমিটির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন হটাৎ করে খুলনা বিমান বন্দর প্রকল্প স্থগিত করায় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দুঃখজনকও বটে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান, প্রকৌশলী আজাদুল হক, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মামুন রেজা, সাবেক সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন, সহ-সভাপতি শাহীন জামাল পন, অধ্যাপক মোঃ আবুল বাসার, মিজানুর রহমান বাবু, চৌধুরী মোঃ রায়হান ফরিদ, মামুনুরা জাকির খুকুমনি, অর্থ সম্পাদক মিনা আজিজুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, এ্যাড. শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, মিজানুর রহমান জিয়া, প্রচার সম্পাদক মফিদুল ইসলাম টুটুল, পরিবেশ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোল্লা মারুফ রশীদ, রকিব উদ্দিন ফারাজী, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, সমাজসেবা সম্পাদক মোঃ হায়দার আলী প্রমূখ।
এদিকে, খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দও পৃথক বিবৃতিতে খানজাহান আলী বিমান বন্দর স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল কওে কাজ শুরুর দাবী জানিয়েছেন। রবিবার এক বিবৃতিতে খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালিদ হোসেন ও মহাসচিব প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন বলেন, খুলনার বহুবিদ উন্নয়ন আন্দোলনের অন্যতম বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠার। যার ফলশ্রুতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাটের ফয়লায় বিমান বন্দর প্রকল্পটি গ্রহণ করেন প্রায় এক যুগ পূর্বে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিত্বে বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও কার্যকর বিনিয়োগকারী না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উক্ত প্রকল্পটি প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রদান করেছে। এই অনাকাক্সিক্ষত অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় খুলনা অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত দুঃখিত, মর্মাহত ও হতাশ। ইতোপূর্বে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পটি প্রচুর অর্থ ব্যয়ে পাইপ লাইন বসানোর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছিল। নেতৃবৃন্দ বলেন, কার্যকরী বিনিয়োগকারী না পেলে প্রয়োজনে রাজস্ব খাতের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেনÑমোংলা বন্দর, খানজাহান আলীর মাজার, ষাটগুম্বজ, সুন্দরবনের পর্যটন, শিল্পনগরীর খুলনার শিল্প-বাণিজ্য সচল রাখা, মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ও অর্থনৈতিক জোন কার্যকর করা, সর্বোপরি শিল্প-বাণিজ্যে পদ্ম সেতুর সুফল ভোগ করার জন্য খুলনায় একটি বিমান বন্দর অপরিহার্য। কেননা পদ্ম সেতু নির্মাণের ফলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সুগমন ও সময়ানুকূল্য হলেও বিশেষ করে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক যাতায়াত ও সময় স্বল্পতায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃদ্বয় আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলে জমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়ন বাবদ ব্যয় হওয়ায় বিপুল অঙ্কের অর্থের অপচয় হবে এবং অন্যদিকে অধিগ্রহণকৃত জমি অনাবাদি-অব্যবহৃত থাকবে। তাই দেশের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলার গুরুত্ব বিবেচনায় এবং এ অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতি গতিশীল রাখতে খুলনায় একটি বিমান বন্দর সময়ের একান্ত দাবী, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। নেতৃদ্বয় এজন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দশমিনায় পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করায় দুই শিক্ষার্থী বহিস্কার

খুলনা বিমান বন্দর প্রকল্পের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও পুনরায় কার্যক্রম শুরুর দাবি, ৩০মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মসারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত সময় : ০৮:০১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মার্চ ২০২৩

###    খুলনার খানজাহান আলী বিমান বন্দর স্থগিত করায় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ (পিপিপি) সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারি অর্থায়নে খুলনা বিমান বন্দরের কাজ শুরু করার জোর দাবী জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ খুলনা বিমান বন্দর নির্মান বাস্তবায়নে আগামী দুই অর্থ বছরের বাজটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রেখে বিমান বন্দর নির্মান কাজ শেষ করার দাবী জানিয়ে আগামী ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবর খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। ১৯ মার্চ রবিবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সাংবাদ সম্মেলনে খুলনা উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ এসব দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উন্নয়ন কমিটির মহাসচিব শেখ মোহাম্মাদ আলী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় বাংলাদেশের মানুষের অদম্য আকাঙ্খা, প্রাণশক্তি আর ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের কারণে বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময় এখন বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এবং সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের অভিযাত্রায় খুলনাঞ্চল এখন শক্তিশালী অভিযাত্রী। যদি খুলনার সম্ভাবনা গুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায় তবে খুলনা আগামীতে উন্নত বাংলাদেশ উপহার দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। খুলনার প্রাকৃতিক এবং ভু-রাজনীতির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সড়ক, রেল, নৌ এবং সমুদ্রপথে ভারত, নেপাল, ভূটানের সাথে বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব। আর এ কারণেই খুলনায় বিমান বন্দর নির্মান একান্ত অপরিহার্য। নেতৃৃবন্দ বলেণ, খুলনায় বিমান বন্দর নির্মিত হোক এটি খুলনাসহ এতদাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এ দাবিতে খুলনাঞ্চলের আপামর জনগন উন্নয়ন কমিটির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন হটাৎ করে খুলনা বিমান বন্দর প্রকল্প স্থগিত করায় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দুঃখজনকও বটে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান, প্রকৌশলী আজাদুল হক, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মামুন রেজা, সাবেক সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন, সহ-সভাপতি শাহীন জামাল পন, অধ্যাপক মোঃ আবুল বাসার, মিজানুর রহমান বাবু, চৌধুরী মোঃ রায়হান ফরিদ, মামুনুরা জাকির খুকুমনি, অর্থ সম্পাদক মিনা আজিজুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, এ্যাড. শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, মিজানুর রহমান জিয়া, প্রচার সম্পাদক মফিদুল ইসলাম টুটুল, পরিবেশ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোল্লা মারুফ রশীদ, রকিব উদ্দিন ফারাজী, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, সমাজসেবা সম্পাদক মোঃ হায়দার আলী প্রমূখ।
এদিকে, খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দও পৃথক বিবৃতিতে খানজাহান আলী বিমান বন্দর স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল কওে কাজ শুরুর দাবী জানিয়েছেন। রবিবার এক বিবৃতিতে খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালিদ হোসেন ও মহাসচিব প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন বলেন, খুলনার বহুবিদ উন্নয়ন আন্দোলনের অন্যতম বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠার। যার ফলশ্রুতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাটের ফয়লায় বিমান বন্দর প্রকল্পটি গ্রহণ করেন প্রায় এক যুগ পূর্বে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিত্বে বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও কার্যকর বিনিয়োগকারী না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উক্ত প্রকল্পটি প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রদান করেছে। এই অনাকাক্সিক্ষত অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় খুলনা অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত দুঃখিত, মর্মাহত ও হতাশ। ইতোপূর্বে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পটি প্রচুর অর্থ ব্যয়ে পাইপ লাইন বসানোর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছিল। নেতৃবৃন্দ বলেন, কার্যকরী বিনিয়োগকারী না পেলে প্রয়োজনে রাজস্ব খাতের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেনÑমোংলা বন্দর, খানজাহান আলীর মাজার, ষাটগুম্বজ, সুন্দরবনের পর্যটন, শিল্পনগরীর খুলনার শিল্প-বাণিজ্য সচল রাখা, মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ও অর্থনৈতিক জোন কার্যকর করা, সর্বোপরি শিল্প-বাণিজ্যে পদ্ম সেতুর সুফল ভোগ করার জন্য খুলনায় একটি বিমান বন্দর অপরিহার্য। কেননা পদ্ম সেতু নির্মাণের ফলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সুগমন ও সময়ানুকূল্য হলেও বিশেষ করে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক যাতায়াত ও সময় স্বল্পতায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃদ্বয় আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলে জমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়ন বাবদ ব্যয় হওয়ায় বিপুল অঙ্কের অর্থের অপচয় হবে এবং অন্যদিকে অধিগ্রহণকৃত জমি অনাবাদি-অব্যবহৃত থাকবে। তাই দেশের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলার গুরুত্ব বিবেচনায় এবং এ অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতি গতিশীল রাখতে খুলনায় একটি বিমান বন্দর সময়ের একান্ত দাবী, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। নেতৃদ্বয় এজন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ##