০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চিতলমারীতে নারী ইউপি সদস্যকে জুতা পেটা ও কুপ্রস্তাবকারী উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়ালের শাস্তি দাবী

  • অফিস ডেক্স।।
  • প্রকাশিত সময় : ০৮:০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ৬৫ পড়েছেন

###    বাগেরহাটের চিতলমারীতে নারী ইউপি সদস্য ভূক্তভোগী কবিতা রানী রানাকে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে জুতা পেটা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনেরও কুপ্রস্তাব দেওয়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়ালের বিচার ও কঠিন শাস্তির দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য। মঙ্গলবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্ত্যবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তার বিচারের এ দাবী জানান।

উপজেলার চরবানিয়ারি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী(৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য ভূক্তভোগী কবিতা রানা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, “চিতলমারীর চরবানিয়ারি ইউনিয়নে অসহায় ও দু:স্থ্যদের জন্য মোট ১৬৮টি ভিজিডি কার্ড সরকারী বরাদ্ধ আসেছ। এরমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান অর্চনা দেবি বড়াল ঝর্ণা নিজেই নিয়েছে ৮৪টি কার্ড। ইউপি সদস্য কবিতা রানার ০৩ ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ৬টা কার্ড দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে ২টি কার্ড চেয়ারম্যান কেটে দিয়ে দু:স্থ্যদের না দিয়ে অবস্থা সম্পন্ন ও চাকুরীজীবি পরিবারের নারীদেরকে প্রদান করেছেন। গত ২৩ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে পরিষদের নির্ধারিত সভায় চেয়ারম্যানের কাছে ২টি কার্ড বাতিলের কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান অর্চনা দেবী বড়াল ও তার স্বামী চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল আমার (নারী ইউপি সদস্য কবিতা রানা) ওপর হামলা চালায়। আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল সকলের সামনেই আমাকে জুতা পেটা করে।” লিখিত অভিযোগে তিনি আরও বলেন, “উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল এরআগে আমাকে (নারী ইউপি সদস্য কবিতা রানা) অনৈতিক সম্পর্ক করার কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। অশোক বড়ালের কুপ্রস্তাব না মেনে নেয়ার কারণে তার স্ত্রী ইউপি চেয়ারম্যানকে দিয়ে আমার কার্ড দুটি বাতিল করে দিয়েছে। এবং উপজেলায় গিয়ে আরও চারটি কার্ড বাতিল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। এছাড়া আমাকে পরিষদে ঢুকতেও নিষেধ করেছে অশোক বড়াল।েউপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়াল ইউনিয়ন পরিষদের কেউ না হয়েও স্ত্রী ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে সকল ইউপি মেম্বরদের উপর প্রভাব বিস্তার ও হুমকি-ধামকি এবং নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের হুমকি ও ভয়ভীতির কারনে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়াল অযাচিথভাবে ইউনিয়ন পরিষদের গিয়ে জুতাপেটাসহ শারিরিক নির্যাতন ও কুপ্রস্তাব দেয়ার ঘটনার বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কবিতা রানী রানা। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়ালের সুষ্ঠ বিচার ও নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভয়ভীতিহীনভাবে যেন ইউনিয়ন পরিষদের কাজ করতে পারেন সেজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ উধ্বর্তন কতৃর্পক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ইউপি মেম্বর কবিতা রানী রানার অভিযোগের বিষয়ে ১৫ফেব্রুয়ারী জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সরেজমিন তদন্তে জাবেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে চরবানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অর্চনা দেবী বড়ালের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি ইউপি সদস্য কবিতা রানাকে জুতা পেটা করিনি। আমি শুধু জুতা খুলে মারার কথা বলেছি। এছাড়া ইউপি মেম্বর কবিতা রানীকে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কুপ্রস্তাব দেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, সে (ইউপি সদস্য) যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে তা তদন্ত হবে। জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক তদন্তে আসবেন। তদন্তে সত্যতা পেলে যে ব্যবস্থা নেয় তাই হবে।
বাগেরহাটের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ শাহিনুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, চিতলমারী উপজেলা পরিদর্শনে গেলে একজন নারী ইউপি সদস্য আমাকে মৌখিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিল। পরে লিখিতভাবেও অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্তের জন্য ১৫ফেব্রুয়ারী চিতলমারীতে যাবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

মোল্লাহাটে বিয়ের জন্য মেয়েকে পছন্দ না করায় ছেলের ভগ্নিপতিকে হত্যা, আহত ১০

চিতলমারীতে নারী ইউপি সদস্যকে জুতা পেটা ও কুপ্রস্তাবকারী উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়ালের শাস্তি দাবী

প্রকাশিত সময় : ০৮:০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    বাগেরহাটের চিতলমারীতে নারী ইউপি সদস্য ভূক্তভোগী কবিতা রানী রানাকে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে জুতা পেটা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনেরও কুপ্রস্তাব দেওয়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়ালের বিচার ও কঠিন শাস্তির দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য। মঙ্গলবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্ত্যবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তার বিচারের এ দাবী জানান।

উপজেলার চরবানিয়ারি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী(৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য ভূক্তভোগী কবিতা রানা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, “চিতলমারীর চরবানিয়ারি ইউনিয়নে অসহায় ও দু:স্থ্যদের জন্য মোট ১৬৮টি ভিজিডি কার্ড সরকারী বরাদ্ধ আসেছ। এরমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান অর্চনা দেবি বড়াল ঝর্ণা নিজেই নিয়েছে ৮৪টি কার্ড। ইউপি সদস্য কবিতা রানার ০৩ ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ৬টা কার্ড দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে ২টি কার্ড চেয়ারম্যান কেটে দিয়ে দু:স্থ্যদের না দিয়ে অবস্থা সম্পন্ন ও চাকুরীজীবি পরিবারের নারীদেরকে প্রদান করেছেন। গত ২৩ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে পরিষদের নির্ধারিত সভায় চেয়ারম্যানের কাছে ২টি কার্ড বাতিলের কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান অর্চনা দেবী বড়াল ও তার স্বামী চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল আমার (নারী ইউপি সদস্য কবিতা রানা) ওপর হামলা চালায়। আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল সকলের সামনেই আমাকে জুতা পেটা করে।” লিখিত অভিযোগে তিনি আরও বলেন, “উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল এরআগে আমাকে (নারী ইউপি সদস্য কবিতা রানা) অনৈতিক সম্পর্ক করার কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। অশোক বড়ালের কুপ্রস্তাব না মেনে নেয়ার কারণে তার স্ত্রী ইউপি চেয়ারম্যানকে দিয়ে আমার কার্ড দুটি বাতিল করে দিয়েছে। এবং উপজেলায় গিয়ে আরও চারটি কার্ড বাতিল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। এছাড়া আমাকে পরিষদে ঢুকতেও নিষেধ করেছে অশোক বড়াল।েউপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়াল ইউনিয়ন পরিষদের কেউ না হয়েও স্ত্রী ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে সকল ইউপি মেম্বরদের উপর প্রভাব বিস্তার ও হুমকি-ধামকি এবং নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের হুমকি ও ভয়ভীতির কারনে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়াল অযাচিথভাবে ইউনিয়ন পরিষদের গিয়ে জুতাপেটাসহ শারিরিক নির্যাতন ও কুপ্রস্তাব দেয়ার ঘটনার বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কবিতা রানী রানা। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক বড়ালের সুষ্ঠ বিচার ও নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভয়ভীতিহীনভাবে যেন ইউনিয়ন পরিষদের কাজ করতে পারেন সেজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ উধ্বর্তন কতৃর্পক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ইউপি মেম্বর কবিতা রানী রানার অভিযোগের বিষয়ে ১৫ফেব্রুয়ারী জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সরেজমিন তদন্তে জাবেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে চরবানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অর্চনা দেবী বড়ালের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি ইউপি সদস্য কবিতা রানাকে জুতা পেটা করিনি। আমি শুধু জুতা খুলে মারার কথা বলেছি। এছাড়া ইউপি মেম্বর কবিতা রানীকে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কুপ্রস্তাব দেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, সে (ইউপি সদস্য) যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে তা তদন্ত হবে। জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক তদন্তে আসবেন। তদন্তে সত্যতা পেলে যে ব্যবস্থা নেয় তাই হবে।
বাগেরহাটের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ শাহিনুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, চিতলমারী উপজেলা পরিদর্শনে গেলে একজন নারী ইউপি সদস্য আমাকে মৌখিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিল। পরে লিখিতভাবেও অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্তের জন্য ১৫ফেব্রুয়ারী চিতলমারীতে যাবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। ##