১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
অগ্নিঝরা মার্চ’র ৯ম দিন :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃবৃন্দের সভায় ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়

###    আজ অগ্নিঝরা মার্চ-এর ৯ম দিন। অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির যৌক্তিক স্বপ্নপুরণের মাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণ হয়। বাঙালীর রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতার সূর্য পূর্ব দিগন্তে উদিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের এই মার্চেই। ১৯৭১ সালে এসে যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, যদিও তার গোড়াপত্তন হয়েছিল বহু বছর আগে; ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন এবং ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ এর মার্চে এসে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বপ্নপুরণের যৌক্তিক পরিণতিতে রুপ নেয়। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র আজকের দিনে পূর্ব বাংলার পেক্ষাপট পুরোপুরি পাল্টে যায় বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ডাকে। প্রিয় নেতার প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনে উত্তাল বিক্ষুব্ধ জনতার বিদ্রোহ-সংগ্রামের ঢেউ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া প্রবাহিত হতে থাকে। এর আগের দিন (৮ মার্চ) বাঙালীর প্রচন্ড বিক্ষোভে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার করতে বাধ্য হয় পাকি শাসকগোষ্ঠী। ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচারের পর থেকেই বিভাগীয় শহর ছাড়িয়ে পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে বাংলার দামাল ছেলেরা চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। শুরু হয় স্বাধনীতার প্রস্তুতি। জেগে উঠা বাংলার দামাল ছেলেরা দলে দলে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য স্বাধীন “বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠনের কাজ শুরু করে। অন্যদিকে আগের মতোই উত্তাল জনতা মিটিং-মিছিলে প্রকম্পিত করে রাখে সারাদেশ। ১৯৭১ এর ৯ মার্চ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী সকল সরকারি অফিস অচল হয়ে যায়। ঢাকা হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, প্রাদেশিক সেক্রেটারিয়েট, ডেপুটি কমিশনারের অফিস, ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট ও কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য অফিস, ইপিআই, ওয়াপদা, ওয়াসাসহ সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পাকিস্তান এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ রুট বন্ধ ছিল। ব্যাংক খোলা ছিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। আন্দলনরত পূর্ব পাকিস্থানের সকল নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানায়-“শেখ মুজিবের শর্ত মেনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ রোধে যতœবান হউন”। ৭১’র আজকের দিনে পল্টন ময়দানে বিরাট জনসভায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষণা বলেন, ‘শেখ মুজিবের নির্দেশিত ২৫ মার্চের মধ্যে কোনো কিছু না করা হলে আমি শেখ মুজিবের সঙ্গে মিলে ১৯৫২ সালের মতো তুমুল গণ-আন্দোলন শুরু করবো।’ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে উদ্দেশ্য করে ন্যাপ নেতা ভাসানীর বলেছিলেন, ‘একদিন ভারতের বুকে নির্বিচারে গণহত্যা করে, জালিয়ানওয়ালাবাগের মর্মান্তিক ইতিহাস রচনা করে, অত্যাচার-অবিচারের বন্যা বইয়ে দিয়েও প্রবল পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সরকারের শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। পাক-ভারত উপমহাদেশকে শত্রুতে পরিণত না করে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে মধ্যে সরে যাওয়াই তারা মঙ্গলকর মনে করেছে। যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে একদিন সূর্য অস্ত যেতো না, রূঢ় বাস্তবতার কষাঘাতে সেই সাম্রাজ্যের সূর্যও আজ অস্তমিত। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে তাই বলি- অনেক হয়েছে, আর নয়। তিক্ততা বাড়িয়ে আর লাভ নেই। লা-কুম দ্বী’নুকুম অলইয়া-দ্বীন’ (তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার) এ নিয়মে শেখ মুজিবের আহবান পুর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে লও।’ পল্টন ময়দানে ‘স্বাধীন বাংলা আন্দোলন কমিটির’ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় মওলানা ভাসানীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি প্রচারপত্রে ‘পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চিত জনসাধারণের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের আজাদী রক্ষা ও মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয়। আজকের দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে ভাসানীর কথা হয়।
১৯৭১-এর আজকের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক (ইকবাল) হল ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের জরুরি সভায় ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সভায় আরেকটি প্রস্তাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বাংলাদেশে জাতীয় সরকার’ গঠনের জন্য অনুরোধ করা হয়। আজকের দিনে ঢাকা থেকে বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নিতে স্ব-স্ব দেশ থেকে প্রেরিত বিমান ঢাকায় অবতরণ করে । ‘প্রয়োজনবোধে’ জাতিসংঘের স্টাফ ও তাদের পরিবারকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এদিকে, রাজশাহীতে ৯ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রোজ রাত ৯টা থেকে আট ঘণ্টার জন্য (ভোর ৫টা পর্যন্ত) কারফিউ জারি করে পাকি সামরিক জান্তা। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান এক বিবৃতিতে, ‘ অবিলম্বে সান্ধ্য আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান’। যৌক্তিক স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ করে হত্যার প্রতিবাদে আজকের দিনে শহরের বাসাবাড়ি, বাস, রিকশা, দোকানপাট, সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসে কালো পতাকা উড্ডীন করা হয়। এভাবেই ধাপে ধাপে উড্ডিন হতে থাকে স্বাধীনতার সূর্য। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

কুয়েটে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত সকাল ৭ টায় 

অগ্নিঝরা মার্চ’র ৯ম দিন :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃবৃন্দের সভায় ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়

প্রকাশিত সময় : ১০:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

###    আজ অগ্নিঝরা মার্চ-এর ৯ম দিন। অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির যৌক্তিক স্বপ্নপুরণের মাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণ হয়। বাঙালীর রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতার সূর্য পূর্ব দিগন্তে উদিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের এই মার্চেই। ১৯৭১ সালে এসে যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, যদিও তার গোড়াপত্তন হয়েছিল বহু বছর আগে; ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন এবং ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ এর মার্চে এসে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বপ্নপুরণের যৌক্তিক পরিণতিতে রুপ নেয়। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র আজকের দিনে পূর্ব বাংলার পেক্ষাপট পুরোপুরি পাল্টে যায় বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ডাকে। প্রিয় নেতার প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনে উত্তাল বিক্ষুব্ধ জনতার বিদ্রোহ-সংগ্রামের ঢেউ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া প্রবাহিত হতে থাকে। এর আগের দিন (৮ মার্চ) বাঙালীর প্রচন্ড বিক্ষোভে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার করতে বাধ্য হয় পাকি শাসকগোষ্ঠী। ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচারের পর থেকেই বিভাগীয় শহর ছাড়িয়ে পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে বাংলার দামাল ছেলেরা চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। শুরু হয় স্বাধনীতার প্রস্তুতি। জেগে উঠা বাংলার দামাল ছেলেরা দলে দলে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য স্বাধীন “বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠনের কাজ শুরু করে। অন্যদিকে আগের মতোই উত্তাল জনতা মিটিং-মিছিলে প্রকম্পিত করে রাখে সারাদেশ। ১৯৭১ এর ৯ মার্চ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী সকল সরকারি অফিস অচল হয়ে যায়। ঢাকা হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, প্রাদেশিক সেক্রেটারিয়েট, ডেপুটি কমিশনারের অফিস, ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট ও কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য অফিস, ইপিআই, ওয়াপদা, ওয়াসাসহ সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পাকিস্তান এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ রুট বন্ধ ছিল। ব্যাংক খোলা ছিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। আন্দলনরত পূর্ব পাকিস্থানের সকল নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানায়-“শেখ মুজিবের শর্ত মেনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ রোধে যতœবান হউন”। ৭১’র আজকের দিনে পল্টন ময়দানে বিরাট জনসভায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষণা বলেন, ‘শেখ মুজিবের নির্দেশিত ২৫ মার্চের মধ্যে কোনো কিছু না করা হলে আমি শেখ মুজিবের সঙ্গে মিলে ১৯৫২ সালের মতো তুমুল গণ-আন্দোলন শুরু করবো।’ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে উদ্দেশ্য করে ন্যাপ নেতা ভাসানীর বলেছিলেন, ‘একদিন ভারতের বুকে নির্বিচারে গণহত্যা করে, জালিয়ানওয়ালাবাগের মর্মান্তিক ইতিহাস রচনা করে, অত্যাচার-অবিচারের বন্যা বইয়ে দিয়েও প্রবল পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সরকারের শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। পাক-ভারত উপমহাদেশকে শত্রুতে পরিণত না করে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে মধ্যে সরে যাওয়াই তারা মঙ্গলকর মনে করেছে। যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে একদিন সূর্য অস্ত যেতো না, রূঢ় বাস্তবতার কষাঘাতে সেই সাম্রাজ্যের সূর্যও আজ অস্তমিত। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে তাই বলি- অনেক হয়েছে, আর নয়। তিক্ততা বাড়িয়ে আর লাভ নেই। লা-কুম দ্বী’নুকুম অলইয়া-দ্বীন’ (তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার) এ নিয়মে শেখ মুজিবের আহবান পুর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে লও।’ পল্টন ময়দানে ‘স্বাধীন বাংলা আন্দোলন কমিটির’ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় মওলানা ভাসানীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি প্রচারপত্রে ‘পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চিত জনসাধারণের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের আজাদী রক্ষা ও মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয়। আজকের দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে ভাসানীর কথা হয়।
১৯৭১-এর আজকের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক (ইকবাল) হল ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের জরুরি সভায় ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সভায় আরেকটি প্রস্তাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বাংলাদেশে জাতীয় সরকার’ গঠনের জন্য অনুরোধ করা হয়। আজকের দিনে ঢাকা থেকে বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নিতে স্ব-স্ব দেশ থেকে প্রেরিত বিমান ঢাকায় অবতরণ করে । ‘প্রয়োজনবোধে’ জাতিসংঘের স্টাফ ও তাদের পরিবারকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এদিকে, রাজশাহীতে ৯ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রোজ রাত ৯টা থেকে আট ঘণ্টার জন্য (ভোর ৫টা পর্যন্ত) কারফিউ জারি করে পাকি সামরিক জান্তা। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান এক বিবৃতিতে, ‘ অবিলম্বে সান্ধ্য আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান’। যৌক্তিক স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ করে হত্যার প্রতিবাদে আজকের দিনে শহরের বাসাবাড়ি, বাস, রিকশা, দোকানপাট, সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসে কালো পতাকা উড্ডীন করা হয়। এভাবেই ধাপে ধাপে উড্ডিন হতে থাকে স্বাধীনতার সূর্য। ##