১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তুরস্ক ও সিরিয়ায় মৃত্যুপুরী:মৃতের সংখ্যা ৪,৩০০

  • নিউজ ডেস্ক।।
  • প্রকাশিত সময় : ১১:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ৬৬ পড়েছেন

###    তুরস্ক ও সিরিয়ায় সোমবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশ দুটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩’শ ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা মঙ্গলবার জীবিতদের উদ্ধারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গাজিয়ানতেপে সিরিয়া সীমান্তের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত এক শতাব্দীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ভাগ। এটি স্থানীয় সময় ভোর সোয়া চারটার দিকে আঘাত হানে। গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে বিভিন্ন শহরে ৫ হাজার ৬শ’র বেশি  ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বহুতল আবাসিক ভবন রয়েছে। ভূমিকম্পের সময়ে লোকজন ঘুমিয়ে ছিল।
তুরস্কের ত্রাণ সংস্থা এএফএডি জানায়, কেবলমাত্র তুরস্কেই ২ হাজার  ৯’শ ২১ জন মারা গেছেন। সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৪’শ ৪৪ জন উল্লেখ করা হয়েছে। মোট প্রাণহানি ৪ হাজার ৩’শ ৬৫ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বেড়ে এ সংখ্যা ২০ হাজারে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করছেন  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । এদিকে, তুরস্কে এ পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও বেশি এবং সিরিয়ায় ৩ হাজার ৪’শ ১১ জন আহত হয়েছে।

ইউক্রেন থেকে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের অনেকগুলো দেশ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বরফ বৃষ্টি ও শুন্যের  কাছাকাছি তাপমাত্রার কারণে সহায়তা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বড়ো বড়ো বিমান বন্দর গুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। তুষার ঝড় ও বরফের কারণে রাস্তায় চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সহায়তার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে।  আতঙ্কিত নগরবাসিরা হিমশীতল রাতে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। অনেকেই ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে। ভুক্তভোগী মোস্তফা কোয়েনকু (৫৫) জানান, তিনি তার স্ত্রী ও পাঁচসন্তান নিয়ে গাড়িতে রয়েছেন। আমরা ঘরে যেতে পারছি না। সকলেই ভয়ে আছে।
এদিকে বছরের পর বছর গৃহ যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আহতদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খবরে বলা হয়েছে, আলেপ্পো, লাটাকিয়া, হামা ও টারটাসে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। দেশটিতে ১৯৯৯ সালে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ১৭ হাজার লোক নিহত হয়।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গলাচিপায় বেড়েছে বাতাস ও নদীর পানি

তুরস্ক ও সিরিয়ায় মৃত্যুপুরী:মৃতের সংখ্যা ৪,৩০০

প্রকাশিত সময় : ১১:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    তুরস্ক ও সিরিয়ায় সোমবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশ দুটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩’শ ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা মঙ্গলবার জীবিতদের উদ্ধারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গাজিয়ানতেপে সিরিয়া সীমান্তের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত এক শতাব্দীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ভাগ। এটি স্থানীয় সময় ভোর সোয়া চারটার দিকে আঘাত হানে। গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে বিভিন্ন শহরে ৫ হাজার ৬শ’র বেশি  ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বহুতল আবাসিক ভবন রয়েছে। ভূমিকম্পের সময়ে লোকজন ঘুমিয়ে ছিল।
তুরস্কের ত্রাণ সংস্থা এএফএডি জানায়, কেবলমাত্র তুরস্কেই ২ হাজার  ৯’শ ২১ জন মারা গেছেন। সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৪’শ ৪৪ জন উল্লেখ করা হয়েছে। মোট প্রাণহানি ৪ হাজার ৩’শ ৬৫ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বেড়ে এ সংখ্যা ২০ হাজারে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করছেন  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । এদিকে, তুরস্কে এ পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও বেশি এবং সিরিয়ায় ৩ হাজার ৪’শ ১১ জন আহত হয়েছে।

ইউক্রেন থেকে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের অনেকগুলো দেশ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বরফ বৃষ্টি ও শুন্যের  কাছাকাছি তাপমাত্রার কারণে সহায়তা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বড়ো বড়ো বিমান বন্দর গুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। তুষার ঝড় ও বরফের কারণে রাস্তায় চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সহায়তার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে।  আতঙ্কিত নগরবাসিরা হিমশীতল রাতে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। অনেকেই ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে। ভুক্তভোগী মোস্তফা কোয়েনকু (৫৫) জানান, তিনি তার স্ত্রী ও পাঁচসন্তান নিয়ে গাড়িতে রয়েছেন। আমরা ঘরে যেতে পারছি না। সকলেই ভয়ে আছে।
এদিকে বছরের পর বছর গৃহ যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আহতদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খবরে বলা হয়েছে, আলেপ্পো, লাটাকিয়া, হামা ও টারটাসে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। দেশটিতে ১৯৯৯ সালে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ১৭ হাজার লোক নিহত হয়।##