১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণাঞ্চলের গাছে গাছে আমের মুকুল: স্বপ্ন দেখছে বাগন মালিকরা

‘আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা / ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে / মামার বাড়ে যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে / আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে / রঙিন করি মুখ…।’ পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এবারো আমের গাছ মুকুলে মুকলে ছেয়ে গেছে। গাছে গাছে থোকা থোকা আমের মুকুল সবার চোখ জুড়াচ্ছে। আশা জাগাচ্ছে গৃহস্থ্যসহ চাষিদের মনেও। ইতোমধ্যে সবুজ থেকে হলুদ বর্ণ ধারন করেছে আমের মুকুল।বাতাসে মৌ মৌ গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।

পরিপূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে আবাদ ও উৎপাদন না হলেও দক্ষিণাঞ্চলে আম কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের আবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ফল আবাদের উপযোগী। প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত এঅঞ্চলে গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ধরনের ফলের আবাদ ও উৎপাদন ক্রমশ বাড়ছে। সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ টন আম উৎপাদন হয়, তার অন্তত দেড় লাখ টনই হচ্ছে এঅঞ্চলের জেলাগুলোতে। ইতোমধ্যে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ‘বারি-১১’ নামের বার মাসী আম উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডাল। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি  আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপা অন্যতম। ইতিমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।  বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা’র বিভিন্ন এলাকায় মৌসুম ছাড়াই বছরে চার বার উন্নতজাতের সুমিষ্ট আম উৎপাদন হচ্ছে। এতে অর্ধ শতাধিক কৃষক পরিবার ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে।ফেলে এলাকার অনেকেই এ আম চাষে ঝুকছেন।এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছে বাগান মালিকরা।

বাগান মালিক আবদুল  ও আলাউদ্দিন জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে তাদের বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। কিছু গাছে গাছে মুকুল বের হচ্ছে। তারা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান বাগান মালিকরা। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, আবাদ ও উৎপাদন উপযোগী জলবায়ুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলকে আম আবাদের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আর সে লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠ কর্মীদের উদাসীনতা পরিহার করে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করারও তাগিদ দিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর। ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অধিকতর গুরুত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে।মূলত আবহাওয়াগত কারনে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। কিৃষিঅধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, এ সময় বাগানে বসবাস করা হপার বা ফুদকী পোকা মুকুলের ক্ষতি করে থাকে। এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করতে হবে। ঠাণ্ডার কারণে এমনিতেই হপার পোকা গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকে। তবে আরও এক সপ্তাহ পরে দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। একই সাথে সালফার জাতীয় ছত্রাক নাসক স্প্রে করার পরামর্শ  তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন জানিয়েছেন।কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দক্ষিণাঞ্চলের গাছে গাছে আমের মুকুল: স্বপ্ন দেখছে বাগন মালিকরা

প্রকাশিত সময় : ১০:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

‘আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা / ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে / মামার বাড়ে যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে / আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে / রঙিন করি মুখ…।’ পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এবারো আমের গাছ মুকুলে মুকলে ছেয়ে গেছে। গাছে গাছে থোকা থোকা আমের মুকুল সবার চোখ জুড়াচ্ছে। আশা জাগাচ্ছে গৃহস্থ্যসহ চাষিদের মনেও। ইতোমধ্যে সবুজ থেকে হলুদ বর্ণ ধারন করেছে আমের মুকুল।বাতাসে মৌ মৌ গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।

পরিপূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে আবাদ ও উৎপাদন না হলেও দক্ষিণাঞ্চলে আম কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের আবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ফল আবাদের উপযোগী। প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত এঅঞ্চলে গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ধরনের ফলের আবাদ ও উৎপাদন ক্রমশ বাড়ছে। সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ টন আম উৎপাদন হয়, তার অন্তত দেড় লাখ টনই হচ্ছে এঅঞ্চলের জেলাগুলোতে। ইতোমধ্যে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ‘বারি-১১’ নামের বার মাসী আম উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডাল। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি  আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপা অন্যতম। ইতিমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।  বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা’র বিভিন্ন এলাকায় মৌসুম ছাড়াই বছরে চার বার উন্নতজাতের সুমিষ্ট আম উৎপাদন হচ্ছে। এতে অর্ধ শতাধিক কৃষক পরিবার ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে।ফেলে এলাকার অনেকেই এ আম চাষে ঝুকছেন।এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছে বাগান মালিকরা।

বাগান মালিক আবদুল  ও আলাউদ্দিন জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে তাদের বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। কিছু গাছে গাছে মুকুল বের হচ্ছে। তারা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান বাগান মালিকরা। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, আবাদ ও উৎপাদন উপযোগী জলবায়ুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলকে আম আবাদের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আর সে লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠ কর্মীদের উদাসীনতা পরিহার করে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করারও তাগিদ দিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর। ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অধিকতর গুরুত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে।মূলত আবহাওয়াগত কারনে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। কিৃষিঅধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, এ সময় বাগানে বসবাস করা হপার বা ফুদকী পোকা মুকুলের ক্ষতি করে থাকে। এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করতে হবে। ঠাণ্ডার কারণে এমনিতেই হপার পোকা গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকে। তবে আরও এক সপ্তাহ পরে দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। একই সাথে সালফার জাতীয় ছত্রাক নাসক স্প্রে করার পরামর্শ  তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন জানিয়েছেন।কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ##