১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
খুলনা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আজ :

দুই প্যানেলের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, বিএনপি প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা

###    খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৩ সালের বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। নির্বাচনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্যানেলের প্রার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে সাইফুল-তারা পরিষদ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এবং খোকন-শহিদ পরিষদ আইনজীবী ভবনের সামনের সড়কে সংবাদ সম্মেলনে করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। তবে খোকন-শহিদ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ শনিবার রাতে ইমেইল বার্তায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত আজ রবিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। খোকন-শহিদ পরিষদের পক্ষে সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ-এর সিনিয়র কো-কনভেনর এড. গাজী আব্দুর বারী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে জানান, খাকন-শহিদ পরিষদের পক্ষ থেকে আজ শনিবার অনুষ্ঠিতব্য খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের দাবীতে নির্বাচনী কক্ষের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না এবং কোন দলের কোন প্রার্থী নির্বাচন কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবে না দাবি জানিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বিগত ৩ বছর যাবৎ নির্বাচন কক্ষের অবস্থান করে ভোটারদের দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করেন। অনেককে মোবাইলে ব্যালেটের ছবি তুলে তাকে ও তার পরিষদকে ভোট দেওয়া হয়েছে কিনা দেখাতে বাধ্য করেন। সম্মেলনে তারা আরো দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় ৫টি চিঠি দিয়ে তাদের কাছে উক্ত দাবী সমূহ পেশ করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম ও তারেক মাহমুদ তারা পরিষদের নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা স্বত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সভাপতি প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম-এর চেম্বার থেকে গত ১ সপ্তাহ যাবত ভোটারদের মাঝে প্রকাশ্যে সুটপিস, শাড়ী ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা দেখেও না দেখার ভান করছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার তারা পাননি বলেও জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বদলীয় ঐক্যজোটের সুস্পষ্টভাবে দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের সাইফুল ইসলাম ও তারিক মাহমুদ তারা ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করলে পাতানো নির্বাচন বর্জন করা হবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন দাবীর উত্তর নির্বাচন কমিশন দেয়নি। শনিবার দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের পর বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বেলা ২টায় কমিশনের চেয়ারম্যান-এর একক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের উক্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক এবং একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পায়তারা মাত্র। বারের গঠনতন্ত্রে ৫৭ ও ৫৭(১) ধারার কোথাও উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনের কোন প্রার্থী বা বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ ও পক্ষপাতমূলক বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, সর্বদলীয় ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলনের পর সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত সাইফুল-তারা পরিষদ সংবাদ সম্মেলনে করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের প্রার্থী এবং সমর্থকরা  নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করতে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। নিজেদের ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে তারা নির্বাচন কমিশনে বারবার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে সেসব সম্পূর্ণ অসত্য। বরং খোকন-শহিদ পরিষদ ও তাদের নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন এবং আইনজীবী সমিতির মূল্যবোধকে ভূলুন্ঠিত করছে। তারা সুষ্ঠভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটারদের সহযোগীতা কামনা করেন।

অন্যদিকে, শনিবার রাতে বিএনপি সমর্থিত খোকন-শহিদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ শনিবার রাতে ইমেইল বার্তায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত আজ রবিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে তিনি অভিাযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা সাত দফা দাবিনামা দিয়ে প্রতিকার চেয়েছিলেন। কিন্তু শনিবার দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের পর বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বেলা ২টায় কমিশনের চেয়ারম্যান-এর একক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের উক্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক এবং একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পায়তারা মাত্র। বারের গঠনতন্ত্রে ৫৭ ও ৫৭(১) ধারার কোথাও উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনের কোন প্রার্থী বা বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ ও পক্ষপাতমূলক। এমতাবস্থায় সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত শরিফুল ইসলাম জোয়াদ্দার খোকন ও এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ পরিষদের ১৪ জন প্রার্থী সকলে অত্যন্ত কষ্ট, দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নির্বাচন কমিশনের নিকট লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তাহাদেরকে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম থেকে তাহাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সে মোতাবেক সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ২০২৩ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ রবিার খুলনা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ১৩৮৭ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। নির্বাচনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত সাইফুল-তারা পরিষদের প্যানেলে প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন সভাপতি প্রার্থী বর্তমান সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এস এম তারিক মাহমুদ তারা। সহ-সভাপতি প্রার্থীরা হলেন এ্যাড. কে এম মিজানুর রহমান ও এ্যাড. শিরিণ আক্তার পপি,  যুগ্ম সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. তমাল কান্তি ঘোষ, লাইব্রেরী সম্পাদক এ্যাড. কাজী সাইফুল ইসলাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এ্যাড. মো আসাদুজ্জামান গাজী (মিল্টন), সদস্য প্রার্থী এ্যাড. এস এম আব্দুস সাত্তার, এ্যাড. সরদার আশরাফুর রহমান দিপু, এ্যাড. ওমর ফারুক রনি, এ্যাড. খাদিজা আক্তার (টুলু), এ্যাড. প্রজেশ রায়, এ্যাড. মো. মনিনুর ইসলাম (মনির), এ্যাড. সাবিরা সুলতানা (হ্যাপি)।  সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সমর্থিত খোকন-শহিদ প্যানেলে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী এ্যাড. শরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দাও খোকন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ, সহ-সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এ্যাড. মো. আসলাম হোসেন ও এ্যাড. মো. মহসিন চৌধুরী। যুগ্ম সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন এ্যাড. সেখ মো. মঈন উদ্দীন মারুফ। লাইব্রেরী সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. মো. আব্দুল হক গাজী, সাহিত্য ও সঙস্কৃতিক সম্পাদক এ্যাড. নুরুন নাহার নাজমুন নেছা জেবা, সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন এ্যাড. মো. আশফাক আহমেদ পারভেজ, এ্যাড. মো. জাকির হোসেন মিলন, এ্যাড. তাহেরা নাজমা মিতু, এ্যাড. আ. ফ. ম মুস্তাকুজ্জামান (মুক্তা), এ্যাড. মো. মুজাহিদুল ইসলাম, এ্যাড. জি এম মশিউর রহমান, এ্যড. শাকিরা ফেরদৌস (রিমি)। তবে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষনা দিয়েছে সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। শনিবার সন্ধ্যায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে তারা লিখিত আকারে বর্জনের বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্যও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

মোল্লাহাটে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

খুলনা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আজ :

দুই প্যানেলের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, বিএনপি প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা

প্রকাশিত সময় : ০১:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

###    খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৩ সালের বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। নির্বাচনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্যানেলের প্রার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে সাইফুল-তারা পরিষদ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এবং খোকন-শহিদ পরিষদ আইনজীবী ভবনের সামনের সড়কে সংবাদ সম্মেলনে করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। তবে খোকন-শহিদ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ শনিবার রাতে ইমেইল বার্তায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত আজ রবিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। খোকন-শহিদ পরিষদের পক্ষে সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ-এর সিনিয়র কো-কনভেনর এড. গাজী আব্দুর বারী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে জানান, খাকন-শহিদ পরিষদের পক্ষ থেকে আজ শনিবার অনুষ্ঠিতব্য খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের দাবীতে নির্বাচনী কক্ষের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না এবং কোন দলের কোন প্রার্থী নির্বাচন কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবে না দাবি জানিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বিগত ৩ বছর যাবৎ নির্বাচন কক্ষের অবস্থান করে ভোটারদের দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করেন। অনেককে মোবাইলে ব্যালেটের ছবি তুলে তাকে ও তার পরিষদকে ভোট দেওয়া হয়েছে কিনা দেখাতে বাধ্য করেন। সম্মেলনে তারা আরো দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় ৫টি চিঠি দিয়ে তাদের কাছে উক্ত দাবী সমূহ পেশ করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম ও তারেক মাহমুদ তারা পরিষদের নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা স্বত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সভাপতি প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম-এর চেম্বার থেকে গত ১ সপ্তাহ যাবত ভোটারদের মাঝে প্রকাশ্যে সুটপিস, শাড়ী ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা দেখেও না দেখার ভান করছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার তারা পাননি বলেও জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বদলীয় ঐক্যজোটের সুস্পষ্টভাবে দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের সাইফুল ইসলাম ও তারিক মাহমুদ তারা ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করলে পাতানো নির্বাচন বর্জন করা হবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন দাবীর উত্তর নির্বাচন কমিশন দেয়নি। শনিবার দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের পর বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বেলা ২টায় কমিশনের চেয়ারম্যান-এর একক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের উক্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক এবং একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পায়তারা মাত্র। বারের গঠনতন্ত্রে ৫৭ ও ৫৭(১) ধারার কোথাও উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনের কোন প্রার্থী বা বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ ও পক্ষপাতমূলক বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, সর্বদলীয় ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলনের পর সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত সাইফুল-তারা পরিষদ সংবাদ সম্মেলনে করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের প্রার্থী এবং সমর্থকরা  নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করতে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। নিজেদের ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে তারা নির্বাচন কমিশনে বারবার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে সেসব সম্পূর্ণ অসত্য। বরং খোকন-শহিদ পরিষদ ও তাদের নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন এবং আইনজীবী সমিতির মূল্যবোধকে ভূলুন্ঠিত করছে। তারা সুষ্ঠভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটারদের সহযোগীতা কামনা করেন।

অন্যদিকে, শনিবার রাতে বিএনপি সমর্থিত খোকন-শহিদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ শনিবার রাতে ইমেইল বার্তায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত আজ রবিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে তিনি অভিাযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা সাত দফা দাবিনামা দিয়ে প্রতিকার চেয়েছিলেন। কিন্তু শনিবার দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের পর বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বেলা ২টায় কমিশনের চেয়ারম্যান-এর একক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের উক্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক এবং একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পায়তারা মাত্র। বারের গঠনতন্ত্রে ৫৭ ও ৫৭(১) ধারার কোথাও উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনের কোন প্রার্থী বা বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ ও পক্ষপাতমূলক। এমতাবস্থায় সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত শরিফুল ইসলাম জোয়াদ্দার খোকন ও এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ পরিষদের ১৪ জন প্রার্থী সকলে অত্যন্ত কষ্ট, দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নির্বাচন কমিশনের নিকট লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তাহাদেরকে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম থেকে তাহাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সে মোতাবেক সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ২০২৩ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ রবিার খুলনা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ১৩৮৭ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। নির্বাচনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত সাইফুল-তারা পরিষদের প্যানেলে প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন সভাপতি প্রার্থী বর্তমান সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এস এম তারিক মাহমুদ তারা। সহ-সভাপতি প্রার্থীরা হলেন এ্যাড. কে এম মিজানুর রহমান ও এ্যাড. শিরিণ আক্তার পপি,  যুগ্ম সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. তমাল কান্তি ঘোষ, লাইব্রেরী সম্পাদক এ্যাড. কাজী সাইফুল ইসলাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এ্যাড. মো আসাদুজ্জামান গাজী (মিল্টন), সদস্য প্রার্থী এ্যাড. এস এম আব্দুস সাত্তার, এ্যাড. সরদার আশরাফুর রহমান দিপু, এ্যাড. ওমর ফারুক রনি, এ্যাড. খাদিজা আক্তার (টুলু), এ্যাড. প্রজেশ রায়, এ্যাড. মো. মনিনুর ইসলাম (মনির), এ্যাড. সাবিরা সুলতানা (হ্যাপি)।  সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সমর্থিত খোকন-শহিদ প্যানেলে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী এ্যাড. শরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দাও খোকন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ, সহ-সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এ্যাড. মো. আসলাম হোসেন ও এ্যাড. মো. মহসিন চৌধুরী। যুগ্ম সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন এ্যাড. সেখ মো. মঈন উদ্দীন মারুফ। লাইব্রেরী সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. মো. আব্দুল হক গাজী, সাহিত্য ও সঙস্কৃতিক সম্পাদক এ্যাড. নুরুন নাহার নাজমুন নেছা জেবা, সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন এ্যাড. মো. আশফাক আহমেদ পারভেজ, এ্যাড. মো. জাকির হোসেন মিলন, এ্যাড. তাহেরা নাজমা মিতু, এ্যাড. আ. ফ. ম মুস্তাকুজ্জামান (মুক্তা), এ্যাড. মো. মুজাহিদুল ইসলাম, এ্যাড. জি এম মশিউর রহমান, এ্যড. শাকিরা ফেরদৌস (রিমি)। তবে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষনা দিয়েছে সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। শনিবার সন্ধ্যায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে তারা লিখিত আকারে বর্জনের বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্যও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। ##