০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুই মেয়র প্রার্থীর ইভিএমে সমস্যা ও কারচুপির অভিযোগ, তবে আওয়ামীলীগ প্রাথী বলেলেন সুষ্ঠু হচ্ছে

####

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সকাল ০৮টা থেকে শুরু হয়েছে। ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নেয়া হয়েছে পাচস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বুথের সামনে ভোটারদের উপস্থিত হতে দেকা গেছে। তবে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতি বেড়েছে। তবে দুই মেয়র প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের আ: আউয়াল ও জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু  ইভিএমে ভোট দেয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারা ইভিএমে কারচুপিরও অভিযোগ ‍তুলেছেন। তবে আওয়ামীলীগের তালুকদার আব্দুল খালেক ভোট সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে জানিয়ে বলেছেন ইভিএমে বোট কারচুপির কোন ‍সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

নগরীর বিভিন্ন এরাকার ১০টি ভোট কেন্দ্রে ঘুরে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সকাল ৮টার আগেই কেন্দ্রগুরোতে আইন-শৃঙ্খরা বাহিনীর সদস্য ও বোট গ্রহন কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিয়ে ভোটারের জন্য অপেক্সায় আছেন। সকাল সাড়ে সাতটায় নিরালা মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টরা আছেন। ১০-১২জনের মত ভোটার এসেছেন। একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, এ স্কুলেই ২০৭,২০৮,২০৯ ও ২১০ এই ৪টি কেন্দ্রে রয়েছে। এখানের ৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১১হাজার ৭১৩জন।  সেকানে কতা হয় আ: সাত্তার, কাদিজা বেগম ও এ্যাড. মোশাররফ হোসেনের সাথে। তারা জানান, বোট কেন্দ্রের বাইরের ও ভিতরের পরিস্তিতি খুবই ভালো। কোথাও কোন সমস্যা তারা দেখেননি বা ভোট কেন্দ্রে আসতে কোন সমস্যা হয়নি। নগরীর সোনাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০৫ ও ২০৬নং কেন্দ্র অবস্থিত। সেখানে সকাল ৮টা ১৫মিনিটে কয়েকজন ভোটার  দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রিক্সা চালক খলিলুর রহমান বলেন, তিনি রিক্সা চারান তাই প্রথমেই ভোট দিয়ে তিনি রিক্সা চালানোর কাজে যাবেন। সেজন্য আগেই এসে ভোট দিচ্ছেন। তিনি ভোটের পরিবেশ ও ইভিএমে ভোট প্রথম ভোট দিলেও খুবই তাড়াতাড়ি ভোট দিতে পেরে খুশী বলেও জানান। এ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ২৫২৪জন। সকাল সাড়ে আটটায় ইকবালনগর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় শুধুমাত্র নৌকার এজেন্ট রয়েছে। আর কারো এজেন্ট নেই। পরে লাঙ্গল প্রতিকের একজন এজেন্ট আসেন। তবে এ স্কুলে ০৬টি বুথ থাকলে সব বুথেই লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট দেয়নি বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার দেবাশীষ ‍কুন্ডু।  এ কেন্দ্রে বেশকিছু নারী ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জাপার লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট মো: রায়হান জানান, তিনি একাই এ কেন্দ্রের এজেন্ট। ৬টি বুথ থাকলেও অন্যবুথে কেন এজেন্ট দেয়া হয়নি সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

সকাল ৯টায় নগরীর পাইওনিয়ার মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। ভোটদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,  সকাল থেকেই কয়েকটি কেন্দ্রে আমি ঘুরেছি। ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো দেখেছি। সুন্দর ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে। যেভাবে ভোট হচ্ছে সেটাতে মনে হয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান। তিনি আরো বলেন, ভোটারদের ভোটে ফলাফল যাই হোক না কেন তিনি মেনে নেবেন। গত ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে তিনি মেয়ার পদে পরাজিত হলেও ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন। তিনি বেলেন, সকালে বোটার উপস্থিতি একটু কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে। মানুষ তাদের সকালের কাজ সেরেই ভোট দিতে আসে। কাজেই ভোটার নিয়ে কোন শংকা নেই। নির্বাচনে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ ভোটার ভোট দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। ইভিএমে ভোট দিয়ে কোন শংকা তার নেই। বরং ইভিএমে ভোট হওয়ায় অনেক সহজে ও স্বাচ্ছন্দে মানুষ ভোট দিতে পারছে বলে তিনি মনে করেন। যারা ইভিএম নিয়ে অভিযোগ করছে তারা শুধুই রাজনৈতিক কারনেই করছে বলে জানান তিনি। এর আগে একই কেন্দ্রে ভোট দেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার।

বেলা পৌনে এগারোটায় নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামান দারুল কোনার হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঘুরে কয়েকটি কেন্দ্রের ইভিএম কাজ করছে না এমন অভিযোগ পেয়েছেন। এমনকি হাতপাখায় ভোট দিলেও সে ভোট নৌকায় চলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন,এ সরকারের সময়ে আগের নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। সেজন্য এবারেও সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ  সময় তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ‍সুষ্ঠু আছে। এভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত থাকলে এবং  ইভিএমগুলো দ্রুত ঠিক করে সুষ্ঠাভাবে ভোট হরে তিনি বিজয়ী হবেন। তিনি আশা করেন নির্বাচন কমিশন যে কথা দিয়েছেন তা তারা রাখবেন। তিনি জনগনের ভোটে যে ফলাফল হোক না কেন মেনে নেবেন বলেও জানান। এ মোট ভোটার ২০৪৮জন। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘন্টায় ভোট পড়েছে ১০.৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ইভিএমে কোন সমস্যা নেই। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভোটারের বোজার সময় নেওয়ায় ভোট দিতে একটু সময় বেশী লাগতে পারে। তাদের কাছে অতিরিক্ত মেশিন রয়েছে। ইভিএম মেশিন একটা নষ্ট হলে দ্রুততার সাথে পরিবর্তন করে আরেকটা দেয়া সম্ভব।

এ কেন্দ্রে নারী ভোটারদের বেীশ দেখা গেছে। এখানে কতা হয় তাছলিমা খাতুন ও শরিফা বেগম নামে দুই ভোটারের। তারা জানান, তাদের ভোট কেন্দ্রে আসতে কোন সমস্যা হয়নি। ভোটও দিয়েছেন খুবই ভারোভাবে। ইভিএমে তারা এরআগে কখনও ভোট দেননি। তবে ইভিএমে ভোট দিতে তাদের খুবই সহজ মনে হয়েছে। এভাবে বোট হলে মানুষ আনন্দ মনে ভোট দিতে আসবে বলে তাদের মনে হয়।

এদিকে, খুলনায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু খুলনা কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ভোটদান শেষে বলেছেন আজকে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে বিষয়ে শংকা রয়েছে। এ সরকারের অধীনে পূর্বে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি।  তাই আজকের ভোটও সুষ্ঠু হবে না বলে তিনি জানান। বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোট প্রদান ধীরগতি ও নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি নয়াবাটি, পল্লীমঙ্গল ও মোল্লাপাড়া সরকারি স্কুল কেন্দ্রে ইভিএম কাজ করছে না বলে জানান। তিনি বলেন, ১৭৩২টা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৭০০টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পেরেছেন।  তারপরও কিছু কিছু কেন্দ্রে তার এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ইভিএম-এর ভোটে কারচুপির আশঙ্কা করেছেন। তবে তিনি ভোটের ফলাফল বিষয়ে পরে মতামত ব্যক্ত করবেন বলেও জানান।

এ কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বৃদ্ধ থেকে তরুন সব বয়সী ভোটাররাই এখানে ভোট দিয়েছেন। এখানে কথা ঞয় প্রথমবার ভোট দিতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী প্রিয়ংকা ও রহিমা খাতুনের সাথে। তারা জানান, জীভনে প্রথমবার ভোট দিতে ভালোই লেগেছে। একটা অন্য রকম অনুভূতি তাদের হয়েছে। তারচেয়ে বড় কতা ইভিএমে ভোট দেয়া তাদের কাছে খুবই আধুনিক মনে হয়েছে। আমরা যে একটি ডিজিটাল দেশের নাগরিক সেটার একটা অনুভূতি আমার পেয়েছি। ভোট কেন্্রেদর ব্যবস্তাপনা ও আইন-শৃঙ্খরা পরিস্থিতিতেও তারা সন্তুষ্ঠ। কতা হয় অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ রায়েল সাথে। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের কারনে সকাল সকাল ভোট দিতে এসেছেন। বাইরের পরিস্তিতি ও ভিতরের পরিস্থিতি দেখে খুবই বারো মনে হয়েছে। আর ইভিএমে ভোট দিতে পেরে তিনিও আনন্দিত। জীবনের শেষ প্রান্ডে এসে একটি ইলেকট্রোনিক মেশিনে বোট দিতে পারা বাগ্যের ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং  অফিসার মো: আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রায় ৫০টির বেশী কেন্দ্রে ঘুরেছেন। তবে কোথাও কোন অবিযোগ পাননি বা কোন প্রার্থীও কোন অভিযোগ করেন নি। পরিবেশ নিয়েও কোন অভিযোগ নেই। ইভিএমে সমস্যা বিষয়ে তিনি কোন খবর পাননি। বা কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। তিনি বলেন, দুই মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ বিষয়টি তিনি দ্রুততার সাথে খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্তা নিবেন বলেও জানান। তিনি দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোটামুটি ২০-২২শতাংশ ভোট পড়েছে বলেও জানিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন, সাধারণ ৩১টি ও সংরক্ষিত ১০টি মিলে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৫ জন প্রার্থী। কেসিসি নির্বাচনে ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এরম্যেধ পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে তারা ভোট প্রদান করবেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

গলাচিপায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের মাধ্যমে রাস্তা উন্মুক্ত করায় প্রসংশিত মেয়র

দুই মেয়র প্রার্থীর ইভিএমে সমস্যা ও কারচুপির অভিযোগ, তবে আওয়ামীলীগ প্রাথী বলেলেন সুষ্ঠু হচ্ছে

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩

####

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সকাল ০৮টা থেকে শুরু হয়েছে। ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নেয়া হয়েছে পাচস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বুথের সামনে ভোটারদের উপস্থিত হতে দেকা গেছে। তবে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতি বেড়েছে। তবে দুই মেয়র প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের আ: আউয়াল ও জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু  ইভিএমে ভোট দেয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারা ইভিএমে কারচুপিরও অভিযোগ ‍তুলেছেন। তবে আওয়ামীলীগের তালুকদার আব্দুল খালেক ভোট সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে জানিয়ে বলেছেন ইভিএমে বোট কারচুপির কোন ‍সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

নগরীর বিভিন্ন এরাকার ১০টি ভোট কেন্দ্রে ঘুরে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সকাল ৮টার আগেই কেন্দ্রগুরোতে আইন-শৃঙ্খরা বাহিনীর সদস্য ও বোট গ্রহন কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিয়ে ভোটারের জন্য অপেক্সায় আছেন। সকাল সাড়ে সাতটায় নিরালা মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টরা আছেন। ১০-১২জনের মত ভোটার এসেছেন। একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, এ স্কুলেই ২০৭,২০৮,২০৯ ও ২১০ এই ৪টি কেন্দ্রে রয়েছে। এখানের ৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১১হাজার ৭১৩জন।  সেকানে কতা হয় আ: সাত্তার, কাদিজা বেগম ও এ্যাড. মোশাররফ হোসেনের সাথে। তারা জানান, বোট কেন্দ্রের বাইরের ও ভিতরের পরিস্তিতি খুবই ভালো। কোথাও কোন সমস্যা তারা দেখেননি বা ভোট কেন্দ্রে আসতে কোন সমস্যা হয়নি। নগরীর সোনাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০৫ ও ২০৬নং কেন্দ্র অবস্থিত। সেখানে সকাল ৮টা ১৫মিনিটে কয়েকজন ভোটার  দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রিক্সা চালক খলিলুর রহমান বলেন, তিনি রিক্সা চারান তাই প্রথমেই ভোট দিয়ে তিনি রিক্সা চালানোর কাজে যাবেন। সেজন্য আগেই এসে ভোট দিচ্ছেন। তিনি ভোটের পরিবেশ ও ইভিএমে ভোট প্রথম ভোট দিলেও খুবই তাড়াতাড়ি ভোট দিতে পেরে খুশী বলেও জানান। এ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ২৫২৪জন। সকাল সাড়ে আটটায় ইকবালনগর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় শুধুমাত্র নৌকার এজেন্ট রয়েছে। আর কারো এজেন্ট নেই। পরে লাঙ্গল প্রতিকের একজন এজেন্ট আসেন। তবে এ স্কুলে ০৬টি বুথ থাকলে সব বুথেই লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট দেয়নি বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার দেবাশীষ ‍কুন্ডু।  এ কেন্দ্রে বেশকিছু নারী ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জাপার লাঙ্গল প্রতিকের এজেন্ট মো: রায়হান জানান, তিনি একাই এ কেন্দ্রের এজেন্ট। ৬টি বুথ থাকলেও অন্যবুথে কেন এজেন্ট দেয়া হয়নি সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

সকাল ৯টায় নগরীর পাইওনিয়ার মাধ্যমিক স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। ভোটদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,  সকাল থেকেই কয়েকটি কেন্দ্রে আমি ঘুরেছি। ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো দেখেছি। সুন্দর ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে। যেভাবে ভোট হচ্ছে সেটাতে মনে হয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান। তিনি আরো বলেন, ভোটারদের ভোটে ফলাফল যাই হোক না কেন তিনি মেনে নেবেন। গত ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে তিনি মেয়ার পদে পরাজিত হলেও ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন। তিনি বেলেন, সকালে বোটার উপস্থিতি একটু কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে। মানুষ তাদের সকালের কাজ সেরেই ভোট দিতে আসে। কাজেই ভোটার নিয়ে কোন শংকা নেই। নির্বাচনে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ ভোটার ভোট দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। ইভিএমে ভোট দিয়ে কোন শংকা তার নেই। বরং ইভিএমে ভোট হওয়ায় অনেক সহজে ও স্বাচ্ছন্দে মানুষ ভোট দিতে পারছে বলে তিনি মনে করেন। যারা ইভিএম নিয়ে অভিযোগ করছে তারা শুধুই রাজনৈতিক কারনেই করছে বলে জানান তিনি। এর আগে একই কেন্দ্রে ভোট দেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার।

বেলা পৌনে এগারোটায় নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামান দারুল কোনার হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঘুরে কয়েকটি কেন্দ্রের ইভিএম কাজ করছে না এমন অভিযোগ পেয়েছেন। এমনকি হাতপাখায় ভোট দিলেও সে ভোট নৌকায় চলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন,এ সরকারের সময়ে আগের নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। সেজন্য এবারেও সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ  সময় তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ‍সুষ্ঠু আছে। এভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত থাকলে এবং  ইভিএমগুলো দ্রুত ঠিক করে সুষ্ঠাভাবে ভোট হরে তিনি বিজয়ী হবেন। তিনি আশা করেন নির্বাচন কমিশন যে কথা দিয়েছেন তা তারা রাখবেন। তিনি জনগনের ভোটে যে ফলাফল হোক না কেন মেনে নেবেন বলেও জানান। এ মোট ভোটার ২০৪৮জন। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘন্টায় ভোট পড়েছে ১০.৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ইভিএমে কোন সমস্যা নেই। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভোটারের বোজার সময় নেওয়ায় ভোট দিতে একটু সময় বেশী লাগতে পারে। তাদের কাছে অতিরিক্ত মেশিন রয়েছে। ইভিএম মেশিন একটা নষ্ট হলে দ্রুততার সাথে পরিবর্তন করে আরেকটা দেয়া সম্ভব।

এ কেন্দ্রে নারী ভোটারদের বেীশ দেখা গেছে। এখানে কতা হয় তাছলিমা খাতুন ও শরিফা বেগম নামে দুই ভোটারের। তারা জানান, তাদের ভোট কেন্দ্রে আসতে কোন সমস্যা হয়নি। ভোটও দিয়েছেন খুবই ভারোভাবে। ইভিএমে তারা এরআগে কখনও ভোট দেননি। তবে ইভিএমে ভোট দিতে তাদের খুবই সহজ মনে হয়েছে। এভাবে বোট হলে মানুষ আনন্দ মনে ভোট দিতে আসবে বলে তাদের মনে হয়।

এদিকে, খুলনায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু খুলনা কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ভোটদান শেষে বলেছেন আজকে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে বিষয়ে শংকা রয়েছে। এ সরকারের অধীনে পূর্বে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি।  তাই আজকের ভোটও সুষ্ঠু হবে না বলে তিনি জানান। বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোট প্রদান ধীরগতি ও নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি নয়াবাটি, পল্লীমঙ্গল ও মোল্লাপাড়া সরকারি স্কুল কেন্দ্রে ইভিএম কাজ করছে না বলে জানান। তিনি বলেন, ১৭৩২টা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৭০০টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পেরেছেন।  তারপরও কিছু কিছু কেন্দ্রে তার এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ইভিএম-এর ভোটে কারচুপির আশঙ্কা করেছেন। তবে তিনি ভোটের ফলাফল বিষয়ে পরে মতামত ব্যক্ত করবেন বলেও জানান।

এ কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বৃদ্ধ থেকে তরুন সব বয়সী ভোটাররাই এখানে ভোট দিয়েছেন। এখানে কথা ঞয় প্রথমবার ভোট দিতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী প্রিয়ংকা ও রহিমা খাতুনের সাথে। তারা জানান, জীভনে প্রথমবার ভোট দিতে ভালোই লেগেছে। একটা অন্য রকম অনুভূতি তাদের হয়েছে। তারচেয়ে বড় কতা ইভিএমে ভোট দেয়া তাদের কাছে খুবই আধুনিক মনে হয়েছে। আমরা যে একটি ডিজিটাল দেশের নাগরিক সেটার একটা অনুভূতি আমার পেয়েছি। ভোট কেন্্রেদর ব্যবস্তাপনা ও আইন-শৃঙ্খরা পরিস্থিতিতেও তারা সন্তুষ্ঠ। কতা হয় অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ রায়েল সাথে। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের কারনে সকাল সকাল ভোট দিতে এসেছেন। বাইরের পরিস্তিতি ও ভিতরের পরিস্থিতি দেখে খুবই বারো মনে হয়েছে। আর ইভিএমে ভোট দিতে পেরে তিনিও আনন্দিত। জীবনের শেষ প্রান্ডে এসে একটি ইলেকট্রোনিক মেশিনে বোট দিতে পারা বাগ্যের ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং  অফিসার মো: আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রায় ৫০টির বেশী কেন্দ্রে ঘুরেছেন। তবে কোথাও কোন অবিযোগ পাননি বা কোন প্রার্থীও কোন অভিযোগ করেন নি। পরিবেশ নিয়েও কোন অভিযোগ নেই। ইভিএমে সমস্যা বিষয়ে তিনি কোন খবর পাননি। বা কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। তিনি বলেন, দুই মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ বিষয়টি তিনি দ্রুততার সাথে খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্তা নিবেন বলেও জানান। তিনি দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোটামুটি ২০-২২শতাংশ ভোট পড়েছে বলেও জানিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন, সাধারণ ৩১টি ও সংরক্ষিত ১০টি মিলে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৫ জন প্রার্থী। কেসিসি নির্বাচনে ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এরম্যেধ পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে তারা ভোট প্রদান করবেন। ##