১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টিনন্দন মধুমতি সেতু পার হতে লাগবে যত টাকা

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ১০:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২
  • ৩৭ পড়েছেন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতি নদীর ওপর কালনা পয়েন্টে নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেনের দৃষ্টিনন্দন ‘মধুমতি সেতু’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ সেতুর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই জনসাধারণসহ সেতুতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।

এ সেতু দিয়ে পারাপার হলে টোল দিতে হবে। মধুমতি সেতুর টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মধুমতি সেতু পারাপারের জন্য বড় ট্রেইলার ৫৬৫ টাকা, তিন বা ততোধিক এক্সেল বিশিষ্ট ট্রাক ৪৫০ টাকা, দুই এক্সেল বিশিষ্ট মাঝারি ট্রাক ২২৫, ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার ট্রলার ও ট্রাক্টর ১৩৫ টাকা, বড় বাসের ক্ষেত্রে ২০৫ টাকা, মিনিবাস বা কোস্টার ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস, পিকআপ, কনভারশনকৃত জিপ ও রে-কার ৯০ টাকা, প্রাইভেটকার ৫৫ টাকা, অটোটেম্পো, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকা এবং রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেলের ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মধুমতি সেতু উদ্বোধনের পরপরই সেতুটি দেখার জন্য সেতুর উপরে হাজারও মানুষের ঢল নামে। আনন্দের জোয়ারে ভাসছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মধুমতি সেতুর কাজ শুরু হয়। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ৯৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মিত হয়েছে। সেতুর মাঝখানে বসানো হয়েছে ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্টিলের স্প্যান; যা ধনুকের মতো বাঁকা।

৬ লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির ও দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১০ মিটার।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহম্মদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় নড়াইলের লোহাগড়ায় সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজা, নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তি, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লুর রহমান চৌধুরী, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মুহিত উদ্দিন, নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোসা. সাদিরা খাতুন, প্রকল্পের পরিচালক শ্যামল ভট্টাচার্য, সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজগর আলী, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ূর রহমান প্রমুখ।

এ সেতুর পূর্বপাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং পশ্চিমপাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা। বহুল কাঙ্ক্ষিত মধুমতি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রবেশদ্বার কালনা পয়েন্টে মধুমতি সেতুর ফলে কর্মসংস্থান বাড়াবে, অবহেলিত এলাকাকে উন্নতি করবে।

মধুমতি সেতু উদ্বোধন হওয়ায় দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ সুফল ভোগ করতে পারবেন। ঢাকা থেকে নড়াইলে আসতে সর্বোচ্চ ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। দক্ষিণ অঞ্চলের সব জেলার দূরত্ব অনেক কমে যাবে।

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি এ্যাম্বুলেন্স অকেজো, চরম দূর্ভোগে রোগীরা

দৃষ্টিনন্দন মধুমতি সেতু পার হতে লাগবে যত টাকা

প্রকাশিত সময় : ১০:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতি নদীর ওপর কালনা পয়েন্টে নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেনের দৃষ্টিনন্দন ‘মধুমতি সেতু’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ সেতুর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই জনসাধারণসহ সেতুতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।

এ সেতু দিয়ে পারাপার হলে টোল দিতে হবে। মধুমতি সেতুর টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মধুমতি সেতু পারাপারের জন্য বড় ট্রেইলার ৫৬৫ টাকা, তিন বা ততোধিক এক্সেল বিশিষ্ট ট্রাক ৪৫০ টাকা, দুই এক্সেল বিশিষ্ট মাঝারি ট্রাক ২২৫, ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার ট্রলার ও ট্রাক্টর ১৩৫ টাকা, বড় বাসের ক্ষেত্রে ২০৫ টাকা, মিনিবাস বা কোস্টার ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস, পিকআপ, কনভারশনকৃত জিপ ও রে-কার ৯০ টাকা, প্রাইভেটকার ৫৫ টাকা, অটোটেম্পো, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকা এবং রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেলের ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মধুমতি সেতু উদ্বোধনের পরপরই সেতুটি দেখার জন্য সেতুর উপরে হাজারও মানুষের ঢল নামে। আনন্দের জোয়ারে ভাসছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মধুমতি সেতুর কাজ শুরু হয়। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ৯৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মিত হয়েছে। সেতুর মাঝখানে বসানো হয়েছে ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্টিলের স্প্যান; যা ধনুকের মতো বাঁকা।

৬ লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির ও দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১০ মিটার।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহম্মদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় নড়াইলের লোহাগড়ায় সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজা, নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তি, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লুর রহমান চৌধুরী, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মুহিত উদ্দিন, নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোসা. সাদিরা খাতুন, প্রকল্পের পরিচালক শ্যামল ভট্টাচার্য, সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজগর আলী, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ূর রহমান প্রমুখ।

এ সেতুর পূর্বপাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং পশ্চিমপাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা। বহুল কাঙ্ক্ষিত মধুমতি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রবেশদ্বার কালনা পয়েন্টে মধুমতি সেতুর ফলে কর্মসংস্থান বাড়াবে, অবহেলিত এলাকাকে উন্নতি করবে।

মধুমতি সেতু উদ্বোধন হওয়ায় দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ সুফল ভোগ করতে পারবেন। ঢাকা থেকে নড়াইলে আসতে সর্বোচ্চ ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। দক্ষিণ অঞ্চলের সব জেলার দূরত্ব অনেক কমে যাবে।