০২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী এবং মিল কল-কারখানা বাঁচানোর দাবীতে তামাক চাষীদের মানববন্ধন, 

###    দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলো এবং মিল কল-কারখানা বাঁচানো, দেশীয় ৩০টি কারখানাকে সিগারেট তৈরীল অনুমোদন প্রদান ও ২০১৮-১৯সালে পাশৃকত শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলোর জন্য তৈরি আলাদা নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন করেছে দেশীয় তামাক চাষী কল্যাণ সমিতি। বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে দেশীয় তামাক চাষী কল্যাণ সমিতি খুলনা বিভাগীয় ও কুষ্টিয়া জেলা কমিরি যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে দেশীয় তামাক চাষী কল্যান সমিতির আহবায়ক মো: আশরাফুল ইসলাম কবিরাজ, যুগ্মআহবায়ক মো: আকরাম আলী ও মো: আজাদুল ইসলাম, সদস্য মো: কাবিরুল ইসলাম, মো: জাকির হোসেন, মো: ইয়ারুল ইসলাম, মো: রানা, মো: আলিমুদ্দিন, মো: সৌখিন আলী, মো: আল হেলাল করম ও মো: শাহিনুজ্জামান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এদেশের অবহেলিত গরিব তামাক চাষীরা মাটি এবং আবহাওয়া তামাক চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হলেও ঠিকমত তামাক চাষ করতে পারছে না। কেননা আমরা তামাক চাষ করার পর সেটা ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছে না। দেশে বর্তমানে শুধুমাত্র দু’টি বিদেশী কোম্পানী বেশি পরিমান তামাক ক্রয় করে এবং দু-একটি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী অল্প পরিমান তামাক ক্রয় করে। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগেও আমরা ২৫ থেকে ৩০টি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর কাছে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে প্রচুর তামাক বিক্রি করতো। তখন এই সকল দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী কম দামের সিগারেট তৈরি করতো এবং বিদেশী কোম্পানীগুলো শুধুমাত্র বেশি দামের সিগারেট তৈরি করে বাজার জাত করতো। কৃষকরা তাদের জন্য তামাক উৎপাদন করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করতো। কিন্তু এখন বিদেশী কোম্পানীগুলো বেশি দামের সিগারেটের পাশাপাশি কম দামের সিগারেট উৎপাদন করে বাজার জাত করছে। ফলে তাদের সাথে দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী গুলো প্রতিযোগীতায় পেরে উঠছে না। এ কারনে দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলো আস্তে আস্তে বাজার হারাতে হারাতে নিঃস্ব হয়ে তাদের মিল কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে ত্রিশটি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর মধ্যে মাত্র দু-একটি কারখানা কোন মতে চলছে। বাকি গুলো বন্ধ হয়েগেছে। তারা কোন সিগারেট উৎপাদন করতে পারে না বিধায় কৃষকের কাছ থেকে তামাকও ক্রয় করতে পারে না। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত তামাক শুধুমাত্র দু’টি বিদেশী কোম্পানী ক্রয় করছে এবং কোন দেশীয় কোম্পানী ক্রয় করতে পারছে না বিদায় বিদেশী কোম্পানী দু’টিই উচ্চ গ্রেডের তামাক নিম্ন গ্রেডের দাম দিয়ে কম দামে কৃষকদেরকে বিক্রয় করতে বাধ্য করছে। প্রতিযোগীতা মূলক বাজার না থাকার কারনে কৃষকরাও তামাক চাষ করে মার কাচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশীয় কোম্পানীগুলো যদি আজ আগের মত ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, তাহলে কৃষকরা তামাকের ন্যায্য মূল্য পাবে এবং দেশের হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর বেকারত্ব দূর হবে। দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী কখনো এদেশ ছেড়ে যাবে না এবং তারা ব্যবসা বানিজ্য করে যে মুনাফা অর্জন করবে তা এদেশেই বিনিয়োগ করবে ফলে নতুন-নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ হবে এবং দেশের বেকারত্ব দূর হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল তামাক দিয়ে সিগারেট বানিয়ে বাজার জাত করে সরকার প্রতি বছর ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। তা শুধুমাত্র দু’টি বিদেশী কোম্পানীর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। এছাড়া প্রতি বছর অনেক তামাক বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের মা, আপনার কাছে আকুল আবেদন, আমাদের সুযোগ দিন, আমরা কাজ করে দু-মুঠো ডাল-ভাত খেতে চাই, আমরা উৎপাদন করতে চাই। আমাদের দেশের মাটি উর্বর, আমরা কৃষিকাজে ফিরে যেতে চাই। আমাদের কৃষি কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা আপনার কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ আপনি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলোকে বাঁচানোর জন্য যে নীতিমালা দিয়েছেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনার কাছে দাবী রাখতে চাই ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আপনি এবং অর্থমন্ত্রী ওয়াদা করেছিলেন এবং সংসদে বিল পাস করেছিলেন যে, শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী গুলোর জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরি করে যাতে তারা উৎপাদনে ফিরে আসতে পারে এবং ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। সুতরাং তারা সিগারেট উৎপাদন করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারলে, তাদের বাজার ফিরে পেলেই তারা কৃষকদের কাছে আসবে এবং কৃষকদের উৎপাদিত তামাক ক্রয় করবে, যাতে কৃষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে দু-মুঠো ডাল-ভাত খেতে পারবে। কাজেই ২০১৮ সালের বাজেটে শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর জন্য মহান জাতীয় সংসদে যে নীতিমালা অনুমোদন হয়েছিল সেটি দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করে ৩০টি দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী যেন বেচে থাকতে পারে সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী এবং মিল কল-কারখানা বাঁচানোর দাবীতে তামাক চাষীদের মানববন্ধন, 

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩

###    দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলো এবং মিল কল-কারখানা বাঁচানো, দেশীয় ৩০টি কারখানাকে সিগারেট তৈরীল অনুমোদন প্রদান ও ২০১৮-১৯সালে পাশৃকত শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলোর জন্য তৈরি আলাদা নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন করেছে দেশীয় তামাক চাষী কল্যাণ সমিতি। বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে দেশীয় তামাক চাষী কল্যাণ সমিতি খুলনা বিভাগীয় ও কুষ্টিয়া জেলা কমিরি যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে দেশীয় তামাক চাষী কল্যান সমিতির আহবায়ক মো: আশরাফুল ইসলাম কবিরাজ, যুগ্মআহবায়ক মো: আকরাম আলী ও মো: আজাদুল ইসলাম, সদস্য মো: কাবিরুল ইসলাম, মো: জাকির হোসেন, মো: ইয়ারুল ইসলাম, মো: রানা, মো: আলিমুদ্দিন, মো: সৌখিন আলী, মো: আল হেলাল করম ও মো: শাহিনুজ্জামান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এদেশের অবহেলিত গরিব তামাক চাষীরা মাটি এবং আবহাওয়া তামাক চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হলেও ঠিকমত তামাক চাষ করতে পারছে না। কেননা আমরা তামাক চাষ করার পর সেটা ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছে না। দেশে বর্তমানে শুধুমাত্র দু’টি বিদেশী কোম্পানী বেশি পরিমান তামাক ক্রয় করে এবং দু-একটি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী অল্প পরিমান তামাক ক্রয় করে। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগেও আমরা ২৫ থেকে ৩০টি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর কাছে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে প্রচুর তামাক বিক্রি করতো। তখন এই সকল দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী কম দামের সিগারেট তৈরি করতো এবং বিদেশী কোম্পানীগুলো শুধুমাত্র বেশি দামের সিগারেট তৈরি করে বাজার জাত করতো। কৃষকরা তাদের জন্য তামাক উৎপাদন করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করতো। কিন্তু এখন বিদেশী কোম্পানীগুলো বেশি দামের সিগারেটের পাশাপাশি কম দামের সিগারেট উৎপাদন করে বাজার জাত করছে। ফলে তাদের সাথে দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী গুলো প্রতিযোগীতায় পেরে উঠছে না। এ কারনে দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলো আস্তে আস্তে বাজার হারাতে হারাতে নিঃস্ব হয়ে তাদের মিল কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে ত্রিশটি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর মধ্যে মাত্র দু-একটি কারখানা কোন মতে চলছে। বাকি গুলো বন্ধ হয়েগেছে। তারা কোন সিগারেট উৎপাদন করতে পারে না বিধায় কৃষকের কাছ থেকে তামাকও ক্রয় করতে পারে না। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত তামাক শুধুমাত্র দু’টি বিদেশী কোম্পানী ক্রয় করছে এবং কোন দেশীয় কোম্পানী ক্রয় করতে পারছে না বিদায় বিদেশী কোম্পানী দু’টিই উচ্চ গ্রেডের তামাক নিম্ন গ্রেডের দাম দিয়ে কম দামে কৃষকদেরকে বিক্রয় করতে বাধ্য করছে। প্রতিযোগীতা মূলক বাজার না থাকার কারনে কৃষকরাও তামাক চাষ করে মার কাচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশীয় কোম্পানীগুলো যদি আজ আগের মত ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, তাহলে কৃষকরা তামাকের ন্যায্য মূল্য পাবে এবং দেশের হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর বেকারত্ব দূর হবে। দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী কখনো এদেশ ছেড়ে যাবে না এবং তারা ব্যবসা বানিজ্য করে যে মুনাফা অর্জন করবে তা এদেশেই বিনিয়োগ করবে ফলে নতুন-নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ হবে এবং দেশের বেকারত্ব দূর হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল তামাক দিয়ে সিগারেট বানিয়ে বাজার জাত করে সরকার প্রতি বছর ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। তা শুধুমাত্র দু’টি বিদেশী কোম্পানীর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। এছাড়া প্রতি বছর অনেক তামাক বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের মা, আপনার কাছে আকুল আবেদন, আমাদের সুযোগ দিন, আমরা কাজ করে দু-মুঠো ডাল-ভাত খেতে চাই, আমরা উৎপাদন করতে চাই। আমাদের দেশের মাটি উর্বর, আমরা কৃষিকাজে ফিরে যেতে চাই। আমাদের কৃষি কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা আপনার কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ আপনি শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলোকে বাঁচানোর জন্য যে নীতিমালা দিয়েছেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনার কাছে দাবী রাখতে চাই ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আপনি এবং অর্থমন্ত্রী ওয়াদা করেছিলেন এবং সংসদে বিল পাস করেছিলেন যে, শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী গুলোর জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরি করে যাতে তারা উৎপাদনে ফিরে আসতে পারে এবং ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। সুতরাং তারা সিগারেট উৎপাদন করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারলে, তাদের বাজার ফিরে পেলেই তারা কৃষকদের কাছে আসবে এবং কৃষকদের উৎপাদিত তামাক ক্রয় করবে, যাতে কৃষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে দু-মুঠো ডাল-ভাত খেতে পারবে। কাজেই ২০১৮ সালের বাজেটে শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর জন্য মহান জাতীয় সংসদে যে নীতিমালা অনুমোদন হয়েছিল সেটি দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করে ৩০টি দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানী যেন বেচে থাকতে পারে সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান। ##