০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দেশে প্রান্তিক পর্যায়ে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবী

  • অফিস ডেক্স।।
  • প্রকাশিত সময় : ০৯:১৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০২৩
  • ২৯ পড়েছেন

###    খুলনায় নারী-পুরুষের সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে তাঁদের মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে নগরীর অভিজাত হোটেলে স্বেচ্চাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শ্যামল সিংহ রায়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগ নারী সেলের আহবায়ক এ্যাডঃ শামীমা সুলতানা শীলু, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মফিদুল ইসলাম, সিপিবির মহানগর কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারি এ্যাডঃ মোমিনুল ইসলাম, কনসেন্স এর নির্বাহি পরিচালক সেলিম বুলবুল, খুলনা পোল্ট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মহানগর কমিটির সাধারন সম্পাদক জয় বৈদ্য। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনউদ্যোগ,খুলনার সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পদায়ন হয়েছে, নারী-পুরুষ সমন্বয়ে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে এ বাস্তবতা ভিন্ন। নারীরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন, তারা কাজে ফাঁকি দেন না। সে জন্যই অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নারীদের শ্রমিক হিসেবে নিতে অনেকেই আগ্রহী হন; কিন্তু মজুরি দেয়ার সময় তাদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে সামাজিক মুক্তি প্রয়োজন। নারীর মর্যাদা সুরক্ষায় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তনের গতি বাড়াতে হবে। এরই অংশ হিসেবে অতি দরিদ্র, সাধারণ দরিদ্র, দক্ষ অথবা কম দক্ষ সকল বিবেচনায় নারী ও পুরুষের মজুরিবৈষম্য , নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, কৃষিকাজ, মাঠে দিনমজুরী, ইটভাটা, গৃহস্থালি, নির্মাণ ও বিভিন্ন কলকারখানার কাজসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাজেই নারীরা পুরুষের সমান মজুরি পান না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ বৈষম্য অনেক বেশি। মালিকদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ‘সস্তা শ্রমে কাজ আদায় করা। তাই নারীদের কাছ থেকে সস্তা মূল্যে শ্রম আদায় করে বেশি মুনাফা করা। বেশি মুনাফা লোভের কারণে তারা এমন বৈষম্য করেই যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকায় নারীদের কম মজুরি দিয়ে বঞ্চিত করছেন মালিকরা। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে তদারকির প্রয়োজন। তা না হলে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের বৈষম্য কমবে না। দেশের পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের ৮০ শতাংশই নারী। বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ। তার মানে হচ্ছে নারী শ্রমিকরাই দক্ষ। দক্ষ না হলে তো এই শিল্পটা আজ বিশ্বদরবারে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত না। নারীরা দক্ষতা ও শৃঙ্খলভাবে কাজ করেন। কিন্তু এরপরও পুরুষের চেয়ে তাদের মজুরি কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবী করা হয়। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দেশে প্রান্তিক পর্যায়ে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবী

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০২৩

###    খুলনায় নারী-পুরুষের সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে তাঁদের মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে নগরীর অভিজাত হোটেলে স্বেচ্চাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শ্যামল সিংহ রায়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগ নারী সেলের আহবায়ক এ্যাডঃ শামীমা সুলতানা শীলু, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মফিদুল ইসলাম, সিপিবির মহানগর কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারি এ্যাডঃ মোমিনুল ইসলাম, কনসেন্স এর নির্বাহি পরিচালক সেলিম বুলবুল, খুলনা পোল্ট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মহানগর কমিটির সাধারন সম্পাদক জয় বৈদ্য। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনউদ্যোগ,খুলনার সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পদায়ন হয়েছে, নারী-পুরুষ সমন্বয়ে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে এ বাস্তবতা ভিন্ন। নারীরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন, তারা কাজে ফাঁকি দেন না। সে জন্যই অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নারীদের শ্রমিক হিসেবে নিতে অনেকেই আগ্রহী হন; কিন্তু মজুরি দেয়ার সময় তাদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে সামাজিক মুক্তি প্রয়োজন। নারীর মর্যাদা সুরক্ষায় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তনের গতি বাড়াতে হবে। এরই অংশ হিসেবে অতি দরিদ্র, সাধারণ দরিদ্র, দক্ষ অথবা কম দক্ষ সকল বিবেচনায় নারী ও পুরুষের মজুরিবৈষম্য , নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, কৃষিকাজ, মাঠে দিনমজুরী, ইটভাটা, গৃহস্থালি, নির্মাণ ও বিভিন্ন কলকারখানার কাজসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাজেই নারীরা পুরুষের সমান মজুরি পান না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ বৈষম্য অনেক বেশি। মালিকদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ‘সস্তা শ্রমে কাজ আদায় করা। তাই নারীদের কাছ থেকে সস্তা মূল্যে শ্রম আদায় করে বেশি মুনাফা করা। বেশি মুনাফা লোভের কারণে তারা এমন বৈষম্য করেই যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকায় নারীদের কম মজুরি দিয়ে বঞ্চিত করছেন মালিকরা। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে তদারকির প্রয়োজন। তা না হলে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের বৈষম্য কমবে না। দেশের পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের ৮০ শতাংশই নারী। বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ। তার মানে হচ্ছে নারী শ্রমিকরাই দক্ষ। দক্ষ না হলে তো এই শিল্পটা আজ বিশ্বদরবারে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত না। নারীরা দক্ষতা ও শৃঙ্খলভাবে কাজ করেন। কিন্তু এরপরও পুরুষের চেয়ে তাদের মজুরি কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবী করা হয়। ##