১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নগরীতে বাড়ছে অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, শংকায় নগরবাসী

####

মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে বাড়ছে অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বিগত কয়েক মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাংচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ অপরাধের ঘটনায়  নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তার শংকা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ কোন তৎপরতা না থাকায় ধরা ছোয়ার বাইরে থাকছে এসব অপরাধীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে অপরাধ করে সটকে পড়ছে সন্ত্রাসীরা। খুলনা জেলায় গত মে এবং জুন মাসে ১৭৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া মহানগরীতে বিভিন্ন ঘটনায় জুন মাসে ১২৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। আর গত মে মাসে দায়ের হয় ১৪৮টি মামলা।তারপরও মামলার বাইরেও অনেক ঘটনা রয়ে যাচ্ছে। নগরীর ব্যস্ততম সড়ক কিংবা জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাগিদ দিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। ভূক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, ৮ জুলাই (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৫টায় সন্ত্রাসীরা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ২০নং ওয়ার্ডের ১৭০, শেরে বাংলা রোডের সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারীর মালিক সংকর কুমার ঘোষের ৬ তলা ভবনের নিচতলার গাড়ির গ্যারেজে রাখা ৪টি মোটর সাইকেলে ও ২টি বাইসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।  এতে করে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সাথে পাশে থাকা একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো গ-৪৫-৭৮৯১) পেছনের অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাইভেটকারটি দ্রুত গ্যারেজ হতে বের করায় এর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে ভবনের সিঁড়ি, ওয়ালের টাইলস ও প্লাস্টার পুড়ে খসে পড়ে। আগুনের ধোঁয়া ভবনটির ছয় তলার উপর দিয়ে বাহির হতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ফায়ার সার্ভিস খুলনা ইউনিটকে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ভুক্তভোগী শংকর কুমার ঘোষ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের কথা উল্লেখ করে সোমবার (১০ জুলাই) সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দন্ডবিধির ৪৪৮, ৪৩৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১০, তাং-১০/০৭/২০২৩)। এ ঘটনার প্রায় ১৮ দিন আগে গত ২০ জুন নগরীর ফুল মার্কেট এলাকায় দুপুর ১টায় দৈনিক দেশ সংযোগ অফিসে হামলা করে সম্পাদককে হত্যা চেষ্টা এবং ভাংচুর করে ৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের সনাক্ত করা গেলেও পুলিশ এ পর্যন্ত মাত্র ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে অপরিচিত কয়েকজন যুবক ভবনটির সামনে ঘোরাফেরা করছিলো। এক পর্যায়ে মাস্ক পরা একজন যুবক ভবনের প্রধান গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। আর আগুন লাগার সাথে সাথে দ্রুত গেট থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় সেই যুবক।  ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের মালিক ব্যবসায়ী সংকর কুমার ঘোষ জানান, ঘটনার দিন বিকাল ৫ টার সময় বড় ভাই শিবপদ ঘোষ ওই গাড়ির গ্যারেজে বিকট আওয়াজ শুনতে পান। এরপর ওই স্থানে যেয়ে দেখতে পান গ্যারেজের ভিতর থেকে আগুনের কুন্ডলী ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সিঁড়িঘর সংলগ্ন গ্যারেজে থাকা ৪টি মোটরসাইকেল এবং দু’টি বাইসাইকেল দ্রুত সময়ের মধ্যে পুড়ে ভস্মীভূত হয়। পাশে থাকা একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো গ-৪৫-৭৮৯১) অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় সর্বমোট প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রাইভেটকারটি দ্রুত গ্যারেজ হতে বের করতে সক্ষম হওয়ায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও আগুনে ভবনের সিঁড়ি, ওয়ালের টাইলস ও প্লাস্টার পুড়ে খসে পড়ে। আগুনের ধোঁয়া ভবনটির ছয় তলার উপর দিয়ে বাহির হতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ফায়ার সার্ভিস খুলনা ইউনিটকে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।  এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়েছে। নাশকতার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিও করেন তিনি।  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তঅ সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই সুকান্ত দাস জানান, আশাপাশের বিল্ডিংয়েল সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজন চিহ্নিত করা গেছে। তদন্তের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। যে হোক না কেন তাদেরকে আইনে আওতায় আনা হবে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

কুয়েটে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত সকাল ৭ টায় 

নগরীতে বাড়ছে অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, শংকায় নগরবাসী

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০২৩

####

মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে বাড়ছে অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বিগত কয়েক মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাংচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ অপরাধের ঘটনায়  নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তার শংকা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ কোন তৎপরতা না থাকায় ধরা ছোয়ার বাইরে থাকছে এসব অপরাধীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে অপরাধ করে সটকে পড়ছে সন্ত্রাসীরা। খুলনা জেলায় গত মে এবং জুন মাসে ১৭৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া মহানগরীতে বিভিন্ন ঘটনায় জুন মাসে ১২৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। আর গত মে মাসে দায়ের হয় ১৪৮টি মামলা।তারপরও মামলার বাইরেও অনেক ঘটনা রয়ে যাচ্ছে। নগরীর ব্যস্ততম সড়ক কিংবা জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাগিদ দিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। ভূক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, ৮ জুলাই (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৫টায় সন্ত্রাসীরা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ২০নং ওয়ার্ডের ১৭০, শেরে বাংলা রোডের সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারীর মালিক সংকর কুমার ঘোষের ৬ তলা ভবনের নিচতলার গাড়ির গ্যারেজে রাখা ৪টি মোটর সাইকেলে ও ২টি বাইসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।  এতে করে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সাথে পাশে থাকা একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো গ-৪৫-৭৮৯১) পেছনের অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাইভেটকারটি দ্রুত গ্যারেজ হতে বের করায় এর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে ভবনের সিঁড়ি, ওয়ালের টাইলস ও প্লাস্টার পুড়ে খসে পড়ে। আগুনের ধোঁয়া ভবনটির ছয় তলার উপর দিয়ে বাহির হতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ফায়ার সার্ভিস খুলনা ইউনিটকে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ভুক্তভোগী শংকর কুমার ঘোষ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের কথা উল্লেখ করে সোমবার (১০ জুলাই) সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দন্ডবিধির ৪৪৮, ৪৩৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১০, তাং-১০/০৭/২০২৩)। এ ঘটনার প্রায় ১৮ দিন আগে গত ২০ জুন নগরীর ফুল মার্কেট এলাকায় দুপুর ১টায় দৈনিক দেশ সংযোগ অফিসে হামলা করে সম্পাদককে হত্যা চেষ্টা এবং ভাংচুর করে ৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের সনাক্ত করা গেলেও পুলিশ এ পর্যন্ত মাত্র ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে অপরিচিত কয়েকজন যুবক ভবনটির সামনে ঘোরাফেরা করছিলো। এক পর্যায়ে মাস্ক পরা একজন যুবক ভবনের প্রধান গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। আর আগুন লাগার সাথে সাথে দ্রুত গেট থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় সেই যুবক।  ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের মালিক ব্যবসায়ী সংকর কুমার ঘোষ জানান, ঘটনার দিন বিকাল ৫ টার সময় বড় ভাই শিবপদ ঘোষ ওই গাড়ির গ্যারেজে বিকট আওয়াজ শুনতে পান। এরপর ওই স্থানে যেয়ে দেখতে পান গ্যারেজের ভিতর থেকে আগুনের কুন্ডলী ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সিঁড়িঘর সংলগ্ন গ্যারেজে থাকা ৪টি মোটরসাইকেল এবং দু’টি বাইসাইকেল দ্রুত সময়ের মধ্যে পুড়ে ভস্মীভূত হয়। পাশে থাকা একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো গ-৪৫-৭৮৯১) অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় সর্বমোট প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রাইভেটকারটি দ্রুত গ্যারেজ হতে বের করতে সক্ষম হওয়ায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও আগুনে ভবনের সিঁড়ি, ওয়ালের টাইলস ও প্লাস্টার পুড়ে খসে পড়ে। আগুনের ধোঁয়া ভবনটির ছয় তলার উপর দিয়ে বাহির হতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ফায়ার সার্ভিস খুলনা ইউনিটকে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।  এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়েছে। নাশকতার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিও করেন তিনি।  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তঅ সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই সুকান্ত দাস জানান, আশাপাশের বিল্ডিংয়েল সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজন চিহ্নিত করা গেছে। তদন্তের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। যে হোক না কেন তাদেরকে আইনে আওতায় আনা হবে। ##