০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
মোংলার রুজভেল্ট জেটি এবং বিআইডব্লিউটিএ’র জেটি পরিদর্শন

নদী কেউ দখল করতে পারবে না, যেখানেই অবৈধ দখলদার পাবো, সেখানেই তাদেরকে উচ্ছেদ করবো : নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

###    নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তারই নির্দেশে নদীর দুই পাশ দখলদারমুক্ত করতে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে।নদী কেউ দখল করতে পারবে না, যেখানেই অবৈধ দখলদার পাবো, সেখানেই তাদেরকে উচ্ছেদ করবো। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। শুধু তা নয়, নদী যাতে দূষণমুক্ত থাকে সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি। খুলনাও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি বর্তমান সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এখানে ড্রেজারবেজ করেছি, যেখানে পার্মানেন্ট ড্রেজার থাকবে। ভৈরব অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি নদী। বানিজ্যিক ও যাত্রী পরিবহনে ভৈরব অন্যতম একটি মাধ্যম। খুলনা থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত এর কর্মব্যাস্ততা দেখা যায়।নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এ নদীর চ্যানেলগুলো ধরে রাখার জন্য ড্রেজারবেজ করছি, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। একইসঙ্গে নদীর দুই পাশের দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-“মানুষের রক্ত শিরার প্রবাহ যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন কিন্ত মানুষের প্রাণ থাকে না। তেমনি নদীর প্রবাহ বন্ধ হলে বাংলাদেশের প্রাণ থাকবে না।” কাজেই যারা নদীর প্রাণ কেড়ে নিতে চাচ্ছে, তারা বাংলাদেশের শত্রু। আমরা এই শত্রুদের চিহ্নিত করে নদীকে প্রবাহমান করবো।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের রুজভেল্ট জেটি এবং বিআইডব্লিউটিএ’র জেটি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির দুর্নীতি ও আঞ্চলিকতার কারনে শিল্পনগরী খুলনাকে মৃত শহরে পরিণত করেছিল। সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে শিপইয়ার্ড চালু করার পদক্ষেপ নেয়। এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বে খুলনা শিপইয়ার্ড অতিপরিচিত নাম । খুলনাকে আবার নতুন করে জাগরণ তৈরি করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়েছি। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর চট্টগ্রামের সক্ষমতা নিয়ে আগামীদিন আসতে যাচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হচ্ছে মোংলা বন্দর । যখন এর পূর্ণতা পাবে তখন খুলনায় আবার নতুনভাবে জাগরণ তৈরি হবে। সেই জাগরণের নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকে খুলনার যে পরিবর্তন দেখছেন, এই পরিবর্তনটা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে। সুন্দরবনের দর্শনার্থীদের জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এখানে অনেক ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে গঙ্গা বিলাস এসেছে, আবার আসবে, বিদেশীদের আসা অব্যাহত থাকবে। খানজাহান আলী এয়ারপোর্টও হবে ইনশাআল্লাহ।প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীকে রক্ষা করার জন্য সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। শ্রমিকদের বেতন পুনবিবেচনার দাবিতে ১৮ মার্চ মালিকদের নৌযান বন্ধের হুশিয়ারি বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মালিকদের শ্রমিকদের স্বার্থ আগে দেখতে হবে। শ্রমিকরা না খেয়ে মরে যাবে তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাবে না, চিকিৎসা পাবে না। এই অমানবিকতা আমরা দেখতে চাই না। এখানে সমতা দরকার, শ্রেণিবিন্যাস থাকবে না। সকলে সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের থাকবে, আমরা এটাই চাই।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

মোংলার রুজভেল্ট জেটি এবং বিআইডব্লিউটিএ’র জেটি পরিদর্শন

নদী কেউ দখল করতে পারবে না, যেখানেই অবৈধ দখলদার পাবো, সেখানেই তাদেরকে উচ্ছেদ করবো : নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৬:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩

###    নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তারই নির্দেশে নদীর দুই পাশ দখলদারমুক্ত করতে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে।নদী কেউ দখল করতে পারবে না, যেখানেই অবৈধ দখলদার পাবো, সেখানেই তাদেরকে উচ্ছেদ করবো। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। শুধু তা নয়, নদী যাতে দূষণমুক্ত থাকে সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি। খুলনাও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি বর্তমান সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এখানে ড্রেজারবেজ করেছি, যেখানে পার্মানেন্ট ড্রেজার থাকবে। ভৈরব অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি নদী। বানিজ্যিক ও যাত্রী পরিবহনে ভৈরব অন্যতম একটি মাধ্যম। খুলনা থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত এর কর্মব্যাস্ততা দেখা যায়।নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এ নদীর চ্যানেলগুলো ধরে রাখার জন্য ড্রেজারবেজ করছি, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। একইসঙ্গে নদীর দুই পাশের দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-“মানুষের রক্ত শিরার প্রবাহ যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন কিন্ত মানুষের প্রাণ থাকে না। তেমনি নদীর প্রবাহ বন্ধ হলে বাংলাদেশের প্রাণ থাকবে না।” কাজেই যারা নদীর প্রাণ কেড়ে নিতে চাচ্ছে, তারা বাংলাদেশের শত্রু। আমরা এই শত্রুদের চিহ্নিত করে নদীকে প্রবাহমান করবো।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের রুজভেল্ট জেটি এবং বিআইডব্লিউটিএ’র জেটি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির দুর্নীতি ও আঞ্চলিকতার কারনে শিল্পনগরী খুলনাকে মৃত শহরে পরিণত করেছিল। সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে শিপইয়ার্ড চালু করার পদক্ষেপ নেয়। এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বে খুলনা শিপইয়ার্ড অতিপরিচিত নাম । খুলনাকে আবার নতুন করে জাগরণ তৈরি করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়েছি। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর চট্টগ্রামের সক্ষমতা নিয়ে আগামীদিন আসতে যাচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হচ্ছে মোংলা বন্দর । যখন এর পূর্ণতা পাবে তখন খুলনায় আবার নতুনভাবে জাগরণ তৈরি হবে। সেই জাগরণের নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকে খুলনার যে পরিবর্তন দেখছেন, এই পরিবর্তনটা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে। সুন্দরবনের দর্শনার্থীদের জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এখানে অনেক ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে গঙ্গা বিলাস এসেছে, আবার আসবে, বিদেশীদের আসা অব্যাহত থাকবে। খানজাহান আলী এয়ারপোর্টও হবে ইনশাআল্লাহ।প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীকে রক্ষা করার জন্য সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। শ্রমিকদের বেতন পুনবিবেচনার দাবিতে ১৮ মার্চ মালিকদের নৌযান বন্ধের হুশিয়ারি বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মালিকদের শ্রমিকদের স্বার্থ আগে দেখতে হবে। শ্রমিকরা না খেয়ে মরে যাবে তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাবে না, চিকিৎসা পাবে না। এই অমানবিকতা আমরা দেখতে চাই না। এখানে সমতা দরকার, শ্রেণিবিন্যাস থাকবে না। সকলে সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের থাকবে, আমরা এটাই চাই।##