০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১৪তম দিন:

পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের তৃতীয় পর্ব শুরু

###    আজ ১৯৭১ ‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১৪তম দিন । অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির যৌক্তিক স্বপ্নপুুরণের স্বাধীনতার মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ’র মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু। স্বাধীনতা সংগ্রামে ১৯৭১ সালের এই মার্চেই রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, একাত্তরের মার্চ মাসের দিনগুলো ছিল থমথমে, উৎকণ্ঠা, শঙ্কায় পরিপূর্ণ। চাপা উদ্বেগ, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি। অবরুদ্ধ গণমানুষ ইতোমধ্যে প্রস্তুত চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। লক্ষ্য একটাই, নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা। স্বাধীনতাকামী বাঙালির ঐক্য সুদৃঢ় হচ্ছিল প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র আজকের দিনে পূর্ব বাংলার পেক্ষাপট পাল্টে যায় বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ডাকে। ৭১’র অগ্নিঝরা মার্চের ১৪তম দিনের ঘটনাপ্রবাহে আপামর জনতার সাথে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের পশ্চিমা শিল্পপতিদের নাভিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুর চার দফা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামরিক সরকারের প্রতি স্মরকলিপি প্রদান। । অসহযোগ আন্দোলনের কারণে ফল চালান করতে না পারায় লাহোরে শত শত মণ ফল নষ্ট। করাচিতে প্রতি পোন পান ১৫০ টাকায় বৃদ্ধি। ঢাকার পান না পেয়ে করাচিতে পান বিরল হয়ে পড়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার ব্যাপারে শর্তারোপ করে বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট দাবি পূরণের ইচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসতে চান, তা হলে আমি বসতে পারি। বঙ্গবন্ধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনোভাবেই বৈঠকে তৃতীয় কোনো পক্ষ উপস্থিত থাকতে পারবে না। এদিন রাতে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে নতুন নির্দেশ ঘোষণা করেন। এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন “একটি জাতীয় সরকার গঠন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণার” আহবান জানান।
১৯৭১ সালের ১৪ মার্চের দিনটি ছিল এমনই ঘটনাবহুল। আজ তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন। জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদানের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর ৪ দফা পূর্বশর্ত মেনে নেওয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-শ্রমিক, পেশাজীবী সংগঠন এবং যুব মহিলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পথে-প্রান্তরে সভা-সমাবেশ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকালে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ন্যাপ নেতা খান আবদুল ওয়ালী খান আলোচনা বৈঠকে মিলিত হন। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় জাতীয় পরিষদে আওয়ামী পার্লামেন্টারি দলের উপনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম কামরুজ্জামানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবন্ধু বলেন, স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্যই আমাদের সংগ্রাম। এদিন রাতে বঙ্গবন্ধু অপর এক বিবৃতিতে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে নতুন নির্দেশ ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির আকাক্সক্ষাকে নির্মূল করা যাবে না। আমরা অজেয়, কারণ আমরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে সংবাদপত্র প্রেস কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে সকালে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সমাবেশ শেষে মিছিলসহ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে তার হাতে একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়। তাতে নেতারা যে কোনো নির্দেশ পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অবিলম্বে একটি জাতীয় সরকার গঠন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি অনুরোধ জানান।
এদিন করাচিতে নিশাত পার্কে পিপলস পার্টির উদ্যোগে জনসভা অষ্ঠিত হয়। জনসভায় পিপিপির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের দুইঅংশের দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব করেন। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে তার সঙ্গে সংলাপ শুরু করার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানান। বরিশালে এক জনসভায় বাংলা জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অস্থায়ী সরকার গঠন করার আহ্বান জানান। ১১৫ নম্বর সামরিক নির্দেশের প্রতিবাদে দেশরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মচারীরা নগরীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে তার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
এদিন বাংলাদেশের জন্য খাদ্যশস্যবাহী ‘মন্টেসেলো ভিক্টরি’ নামের আরেকটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। ‘ওসান এন্ডুরাস’ নামের সমরাস্ত্রবাহী আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে নোঙর করে। বন্দর শ্রমিকদের অসহযোগিতার কারণে ৯ মার্চ ১৬ নম্বর জেটিতে সমরাস্ত্রবাহী অপর জাহাজ ‘সোয়াত’ এর সমরাস্ত্র খালাসের চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়। শেখ মুজিব সামরিক নির্দেশের জবাবে জীবনের বিনিময়ে ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাধীনভাবে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বসবাসের নিশ্চয়তার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরকার পরিচালনার জন্য তাজউদ্দীন আহমদ ৩৫ দফাভিত্তিক নির্দেশনামা জারি করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সম্পদ পাচার রোধের অংশ হিসেবে ঢাকার কয়েকটি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের তৃতীয় পর্ব শুরু হয় ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দশমিনায় পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করায় দুই শিক্ষার্থী বহিস্কার

‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১৪তম দিন:

পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের তৃতীয় পর্ব শুরু

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩

###    আজ ১৯৭১ ‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১৪তম দিন । অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির যৌক্তিক স্বপ্নপুুরণের স্বাধীনতার মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ’র মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু। স্বাধীনতা সংগ্রামে ১৯৭১ সালের এই মার্চেই রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, একাত্তরের মার্চ মাসের দিনগুলো ছিল থমথমে, উৎকণ্ঠা, শঙ্কায় পরিপূর্ণ। চাপা উদ্বেগ, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি। অবরুদ্ধ গণমানুষ ইতোমধ্যে প্রস্তুত চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। লক্ষ্য একটাই, নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা। স্বাধীনতাকামী বাঙালির ঐক্য সুদৃঢ় হচ্ছিল প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র আজকের দিনে পূর্ব বাংলার পেক্ষাপট পাল্টে যায় বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ডাকে। ৭১’র অগ্নিঝরা মার্চের ১৪তম দিনের ঘটনাপ্রবাহে আপামর জনতার সাথে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের পশ্চিমা শিল্পপতিদের নাভিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুর চার দফা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামরিক সরকারের প্রতি স্মরকলিপি প্রদান। । অসহযোগ আন্দোলনের কারণে ফল চালান করতে না পারায় লাহোরে শত শত মণ ফল নষ্ট। করাচিতে প্রতি পোন পান ১৫০ টাকায় বৃদ্ধি। ঢাকার পান না পেয়ে করাচিতে পান বিরল হয়ে পড়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার ব্যাপারে শর্তারোপ করে বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট দাবি পূরণের ইচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসতে চান, তা হলে আমি বসতে পারি। বঙ্গবন্ধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনোভাবেই বৈঠকে তৃতীয় কোনো পক্ষ উপস্থিত থাকতে পারবে না। এদিন রাতে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে নতুন নির্দেশ ঘোষণা করেন। এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন “একটি জাতীয় সরকার গঠন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণার” আহবান জানান।
১৯৭১ সালের ১৪ মার্চের দিনটি ছিল এমনই ঘটনাবহুল। আজ তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন। জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদানের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর ৪ দফা পূর্বশর্ত মেনে নেওয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-শ্রমিক, পেশাজীবী সংগঠন এবং যুব মহিলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পথে-প্রান্তরে সভা-সমাবেশ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকালে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ন্যাপ নেতা খান আবদুল ওয়ালী খান আলোচনা বৈঠকে মিলিত হন। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় জাতীয় পরিষদে আওয়ামী পার্লামেন্টারি দলের উপনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম কামরুজ্জামানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবন্ধু বলেন, স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্যই আমাদের সংগ্রাম। এদিন রাতে বঙ্গবন্ধু অপর এক বিবৃতিতে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে নতুন নির্দেশ ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির আকাক্সক্ষাকে নির্মূল করা যাবে না। আমরা অজেয়, কারণ আমরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে সংবাদপত্র প্রেস কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে সকালে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সমাবেশ শেষে মিছিলসহ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে তার হাতে একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়। তাতে নেতারা যে কোনো নির্দেশ পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অবিলম্বে একটি জাতীয় সরকার গঠন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি অনুরোধ জানান।
এদিন করাচিতে নিশাত পার্কে পিপলস পার্টির উদ্যোগে জনসভা অষ্ঠিত হয়। জনসভায় পিপিপির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের দুইঅংশের দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব করেন। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে তার সঙ্গে সংলাপ শুরু করার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানান। বরিশালে এক জনসভায় বাংলা জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অস্থায়ী সরকার গঠন করার আহ্বান জানান। ১১৫ নম্বর সামরিক নির্দেশের প্রতিবাদে দেশরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মচারীরা নগরীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে তার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
এদিন বাংলাদেশের জন্য খাদ্যশস্যবাহী ‘মন্টেসেলো ভিক্টরি’ নামের আরেকটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। ‘ওসান এন্ডুরাস’ নামের সমরাস্ত্রবাহী আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে নোঙর করে। বন্দর শ্রমিকদের অসহযোগিতার কারণে ৯ মার্চ ১৬ নম্বর জেটিতে সমরাস্ত্রবাহী অপর জাহাজ ‘সোয়াত’ এর সমরাস্ত্র খালাসের চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়। শেখ মুজিব সামরিক নির্দেশের জবাবে জীবনের বিনিময়ে ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাধীনভাবে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বসবাসের নিশ্চয়তার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরকার পরিচালনার জন্য তাজউদ্দীন আহমদ ৩৫ দফাভিত্তিক নির্দেশনামা জারি করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সম্পদ পাচার রোধের অংশ হিসেবে ঢাকার কয়েকটি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের তৃতীয় পর্ব শুরু হয় ##