০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিষয়টি কলেজ ও জেলা প্রশাসন স্বীকার করলেও বিষয়টি তদন্তের ব্যবস্থা হয়নি।

পাবনা মেডিকেল কলেজের জাতীয় পতাকা নামিয়ে নিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

###    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে পতাকা উত্তোলনে ‘নিয়ম না মানার অভিযোগ তুলে’ পাবনা মেডিকেল কলেজের জাতীয় পতাকা নামিয়ে নিয়েছেন এক ম্যাজিস্ট্রেট। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে পাবনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফের পতাকা উত্তোলন করলে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন স্বীকার করলেও ওই ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি; বিষয়টি তদন্তের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, সকালে পাবনা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছিল। দুপুরের দিকে একজন ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে পতাকা পরিদর্শন কমিটির একটি দল ‘বিধি মোতাবেক পতাকা টাঙানো হয়নি’ অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে টাঙানো পতাকাটি খুলে নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা কলেজ ভবনে তালা ঝুলিয়ে সামনের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন।  আলোচনার পর আবার পতাকা তোলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, সকল বিধি মোতাবেক পতাকা টাঙানো হলেও ম্যাজিস্ট্রেট তা খুলে নিয়ে গেছেন। এর প্রতিবাদে তারা কলেজ ভবনে তালা দিয়েছিলেন। পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ওবায়দল্লাহ ইবনে আলী বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমাদের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে ক্যাম্পাসে টাঙানো পতাকা ছেঁড়া ও রং ঠিক নেই বলে খুলে ফেলতে বলেন। তার নির্দেশে এক কর্মচারী পতাকাটি খুলে ফেললে তিনি সেই পতাকা নিয়ে চলে যান। “তিনি আমাদেরকে তার নাম-পদবি কিছুই বলেননি। পরে জেলা প্রশাসককে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।”  অধ্যক্ষ আরও বলেন, “পরবর্তীতে আমাদের শিক্ষার্থীরা কলেজের ভবনে তালা ঝুলিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। তারপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন।”  তিনি জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার পর পাবনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) ও পতাকা পরিদর্শন কমিটির প্রধান কাজী আতাউর রহমার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তারা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফের পতাকা উত্তোলন করলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। আবার পতাকা তোলার পর কলেজের তালা খোলা হয়। পতাকাটি আসলে ছেঁড়া কিংবা রংচটা ছিল কিনা সে বিষয়ে অধ্যক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  তবে এই মেডিকেল কলেজের একাডেমিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ডা. টাউস বলেন, অনুষ্ঠানে তিনি থাকলেও পতাকাটি ছেঁড়া কিংবা রংচটা ছিল কিনা তা তিনি বলতে পারছেন না। এ ঘটনা তদন্তের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ বিষয়ে পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে।”  পতাকা নামিয়ে নেওয়া ওই ম্যাজিস্ট্রেটের নাম প্রকাশে অপরাগতা জানিয়ে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তেমন কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। সমান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আলোচনার মধ্যদিয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে।”##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত 

বিষয়টি কলেজ ও জেলা প্রশাসন স্বীকার করলেও বিষয়টি তদন্তের ব্যবস্থা হয়নি।

পাবনা মেডিকেল কলেজের জাতীয় পতাকা নামিয়ে নিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশিত সময় : ১১:১৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে পতাকা উত্তোলনে ‘নিয়ম না মানার অভিযোগ তুলে’ পাবনা মেডিকেল কলেজের জাতীয় পতাকা নামিয়ে নিয়েছেন এক ম্যাজিস্ট্রেট। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে পাবনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফের পতাকা উত্তোলন করলে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন স্বীকার করলেও ওই ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি; বিষয়টি তদন্তের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, সকালে পাবনা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছিল। দুপুরের দিকে একজন ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে পতাকা পরিদর্শন কমিটির একটি দল ‘বিধি মোতাবেক পতাকা টাঙানো হয়নি’ অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে টাঙানো পতাকাটি খুলে নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা কলেজ ভবনে তালা ঝুলিয়ে সামনের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন।  আলোচনার পর আবার পতাকা তোলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, সকল বিধি মোতাবেক পতাকা টাঙানো হলেও ম্যাজিস্ট্রেট তা খুলে নিয়ে গেছেন। এর প্রতিবাদে তারা কলেজ ভবনে তালা দিয়েছিলেন। পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ওবায়দল্লাহ ইবনে আলী বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমাদের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে ক্যাম্পাসে টাঙানো পতাকা ছেঁড়া ও রং ঠিক নেই বলে খুলে ফেলতে বলেন। তার নির্দেশে এক কর্মচারী পতাকাটি খুলে ফেললে তিনি সেই পতাকা নিয়ে চলে যান। “তিনি আমাদেরকে তার নাম-পদবি কিছুই বলেননি। পরে জেলা প্রশাসককে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।”  অধ্যক্ষ আরও বলেন, “পরবর্তীতে আমাদের শিক্ষার্থীরা কলেজের ভবনে তালা ঝুলিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। তারপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন।”  তিনি জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার পর পাবনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) ও পতাকা পরিদর্শন কমিটির প্রধান কাজী আতাউর রহমার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তারা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফের পতাকা উত্তোলন করলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। আবার পতাকা তোলার পর কলেজের তালা খোলা হয়। পতাকাটি আসলে ছেঁড়া কিংবা রংচটা ছিল কিনা সে বিষয়ে অধ্যক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  তবে এই মেডিকেল কলেজের একাডেমিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ডা. টাউস বলেন, অনুষ্ঠানে তিনি থাকলেও পতাকাটি ছেঁড়া কিংবা রংচটা ছিল কিনা তা তিনি বলতে পারছেন না। এ ঘটনা তদন্তের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ বিষয়ে পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে।”  পতাকা নামিয়ে নেওয়া ওই ম্যাজিস্ট্রেটের নাম প্রকাশে অপরাগতা জানিয়ে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তেমন কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। সমান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আলোচনার মধ্যদিয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে।”##