১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
অগ্নিঝরা মার্চ’র ২৩তম দিন আজ :

বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাসভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন

###    অগ্নিঝরা মার্চ’র ২৩তম দিন আজ। অগ্নিঝরা ইতিহাস, বিষাদ ও বেদনার মাস এই মার্চ মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ’র মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ হঠাৎ এক হটকারী সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার আপামর জনতা। চাপা উদ্বেগ, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি। অবরুদ্ধ গণমানুষ ইতোমধ্যে প্রস্তুত চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। লক্ষ্য একটাই, নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা। স্বাধীনতাকামী বাঙালির ঐক্য সুদৃঢ় হচ্ছিল প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায় ২৩ মার্চ ছিল মঙ্গলবার। এদিনে পশ্চিম পাকিস্তান ও ঢাকার প্রেসিডেন্ট হাউস ‘পাকিস্তান প্রজাতন্ত্র দিবস’ পালন করলেও গোটা পূর্ব পাকিস্তানে তা পালিত হয় ‘ঐতিহাসিক লাহোর দিবস’ হিসেবে। পাকিস্তান দিবসকে ন্যাপ (ভাসানী) ‘স্বাধীন পূর্ববঙ্গ দিবস’ এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে। মূলত আজ ঐতিহাসিক ২৩ মার্চ ছিলো “পতাকা দিবস”। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এদিন মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে প্রথমবারের মতো সারাদেশে সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র আঁকা স্বাধীন বাংলার পতাকা ও চলমান আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
৭১’র এদিনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ধানম-ির ৩২ নম্বর বাসভবনে নিজ হাতে পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে তখন লাখো জনতা সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটি। এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীন বাংলার পতাকা বিতরণ করা হয়। ঢাকার সেক্রেটারিয়েট, প্রধান বিচারপতি ভবন, হাইকোর্ট, ইপিআর ও রাজারবাগ পুলিশ সদর দফতর, ঢাকা বেতার ও টেলিভিশন ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মুখ্য সচিবের বাসভবনসহ সব সরকারি-বেসরকারি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করার সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাধা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানায় ছাত্র-জনতা। প্রতিবাদের মুখে সেনাবাহিনী পিছু হটলে ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। এদিন ঢাকায় নেপাল, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও চীনা দূতাবাসে এবং সোভিয়েত কনস্যুলেট ও ব্রিটিশ হাইকমিশনেও পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলার পর প্রভাতফেরি বের করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ। তবে স্বাধীন বাংলা বা পাকিস্তান কোনো দেশের পতাকাই তোলা হয়নি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে।
১৯৭১ সালের আজকের দিনে প্রেসিডেন্ট ভবন ও সেনা সদর দফতর ছাড়া দেশের সর্বত্র স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। লাঠি ও বন্দুকের মাথায় স্বাধীন বাংলার পতাকা বেঁধে মিছিল বের করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। পশ্চিম পাকিস্তান ও ঢাকার প্রেসিডেন্ট হাউসে দিনটিতে পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হলেও, পূর্ব পাকিস্তানে এবার তা পালিত হয় ঐতিহাসিক লাহোর দিবস হিসেবে। তথাকথিত পাকিস্তান দিবসকে স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘প্রতিরোধ দিবস’ এবং ন্যাপ (ভাসানী) ‘স্বাধীন পূর্ববঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করে। ঐতিহাসিক এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ঢাকার পল্টন ময়দানে জয় বাংলা (স্বেচ্ছাসেবক) বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও মহড়া অনুুষ্ঠিত হয়। এ বাহিনীর সদস্যরা সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানান জাতীয় পতাকার প্রতি। এ সময় ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি বাজানো হয়। পূর্ববাংলার সব জায়গা থেকে পাকিস্তানের শেষ চিহ্নটি জাতীয় পতাকা অবলুপ্ত করে দেওয়া হয়। পরে জয় বাংলা বাহিনীর গার্ড অব অনার নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের তিন শীর্ষ নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন। ৩০৩ টি রাইফেল থেকে উপর্যুপরি আকাশের দিকে গুলিবর্ষণ করা হয়। এর পর জয় বাংলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী জনসমুদ্রের স্বতস্ফূর্ত জনতাকে নিয়ে মার্চপাস্ট করে ৩২ নম্বরে গিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর হাতে বাংলাদেশের পতাকাটি তুলে দেন। পতাকাটি গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান উচ্চারণ করেন সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, ‘বাংলার মানুষ কারও করুণার পাত্র নয়। আপন শক্তির দুর্জয় ক্ষমতাবলেই বাঙালি স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবে।’ উল্লেখ্য যে, আমাদের আন্দোলনের মূল স্থপতি বঙ্গবন্ধু ছিলেন এবং ২৩ মার্চ তারই অভিবাদন গ্রহণ করা বাহ্যত সংগত ছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। কেননা, তিনি ঐ দিন অভিবাদন গ্রহণ করলে ঘুরেফিরে বিচ্ছিন্নতাবাদের অপবাদটি তার কাঁধে বর্তাত। আজকের এই দিনে পাকিস্তান পিপলস পার্টিও প্রধান জুফিকার আলী ভুট্টো ও খান আব্দুল কাইয়ুম পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সকালে ও সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়ার পরামর্শদাতাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন দিবস, এটা ইতিহাস স্বীকৃত বাস্তব। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, এই পতাকা যত দিন আপন মহিমায় গৌরবদীপ্ত ভঙ্গিমায় বাঙালির সুতীব্র আবেগের আবির মাখিয়ে উড্ডীয়মান থাকবে, তত দিন দিগন্তবিস্তীর্ণ আকাশের বক্ষে প্রদীপ্ত সূর্যের মতো শাশ্বত ও স্মরণীয় থাকবে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

অগ্নিঝরা মার্চ’র ২৩তম দিন আজ :

বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাসভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন

প্রকাশিত সময় : ০৯:২০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩

###    অগ্নিঝরা মার্চ’র ২৩তম দিন আজ। অগ্নিঝরা ইতিহাস, বিষাদ ও বেদনার মাস এই মার্চ মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ’র মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ হঠাৎ এক হটকারী সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার আপামর জনতা। চাপা উদ্বেগ, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি। অবরুদ্ধ গণমানুষ ইতোমধ্যে প্রস্তুত চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। লক্ষ্য একটাই, নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা। স্বাধীনতাকামী বাঙালির ঐক্য সুদৃঢ় হচ্ছিল প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায় ২৩ মার্চ ছিল মঙ্গলবার। এদিনে পশ্চিম পাকিস্তান ও ঢাকার প্রেসিডেন্ট হাউস ‘পাকিস্তান প্রজাতন্ত্র দিবস’ পালন করলেও গোটা পূর্ব পাকিস্তানে তা পালিত হয় ‘ঐতিহাসিক লাহোর দিবস’ হিসেবে। পাকিস্তান দিবসকে ন্যাপ (ভাসানী) ‘স্বাধীন পূর্ববঙ্গ দিবস’ এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে। মূলত আজ ঐতিহাসিক ২৩ মার্চ ছিলো “পতাকা দিবস”। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এদিন মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে প্রথমবারের মতো সারাদেশে সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র আঁকা স্বাধীন বাংলার পতাকা ও চলমান আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
৭১’র এদিনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ধানম-ির ৩২ নম্বর বাসভবনে নিজ হাতে পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে তখন লাখো জনতা সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটি। এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীন বাংলার পতাকা বিতরণ করা হয়। ঢাকার সেক্রেটারিয়েট, প্রধান বিচারপতি ভবন, হাইকোর্ট, ইপিআর ও রাজারবাগ পুলিশ সদর দফতর, ঢাকা বেতার ও টেলিভিশন ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মুখ্য সচিবের বাসভবনসহ সব সরকারি-বেসরকারি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করার সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাধা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানায় ছাত্র-জনতা। প্রতিবাদের মুখে সেনাবাহিনী পিছু হটলে ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। এদিন ঢাকায় নেপাল, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও চীনা দূতাবাসে এবং সোভিয়েত কনস্যুলেট ও ব্রিটিশ হাইকমিশনেও পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলার পর প্রভাতফেরি বের করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ। তবে স্বাধীন বাংলা বা পাকিস্তান কোনো দেশের পতাকাই তোলা হয়নি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে।
১৯৭১ সালের আজকের দিনে প্রেসিডেন্ট ভবন ও সেনা সদর দফতর ছাড়া দেশের সর্বত্র স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। লাঠি ও বন্দুকের মাথায় স্বাধীন বাংলার পতাকা বেঁধে মিছিল বের করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। পশ্চিম পাকিস্তান ও ঢাকার প্রেসিডেন্ট হাউসে দিনটিতে পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হলেও, পূর্ব পাকিস্তানে এবার তা পালিত হয় ঐতিহাসিক লাহোর দিবস হিসেবে। তথাকথিত পাকিস্তান দিবসকে স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘প্রতিরোধ দিবস’ এবং ন্যাপ (ভাসানী) ‘স্বাধীন পূর্ববঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করে। ঐতিহাসিক এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ঢাকার পল্টন ময়দানে জয় বাংলা (স্বেচ্ছাসেবক) বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও মহড়া অনুুষ্ঠিত হয়। এ বাহিনীর সদস্যরা সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানান জাতীয় পতাকার প্রতি। এ সময় ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি বাজানো হয়। পূর্ববাংলার সব জায়গা থেকে পাকিস্তানের শেষ চিহ্নটি জাতীয় পতাকা অবলুপ্ত করে দেওয়া হয়। পরে জয় বাংলা বাহিনীর গার্ড অব অনার নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের তিন শীর্ষ নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন। ৩০৩ টি রাইফেল থেকে উপর্যুপরি আকাশের দিকে গুলিবর্ষণ করা হয়। এর পর জয় বাংলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী জনসমুদ্রের স্বতস্ফূর্ত জনতাকে নিয়ে মার্চপাস্ট করে ৩২ নম্বরে গিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর হাতে বাংলাদেশের পতাকাটি তুলে দেন। পতাকাটি গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান উচ্চারণ করেন সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, ‘বাংলার মানুষ কারও করুণার পাত্র নয়। আপন শক্তির দুর্জয় ক্ষমতাবলেই বাঙালি স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবে।’ উল্লেখ্য যে, আমাদের আন্দোলনের মূল স্থপতি বঙ্গবন্ধু ছিলেন এবং ২৩ মার্চ তারই অভিবাদন গ্রহণ করা বাহ্যত সংগত ছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। কেননা, তিনি ঐ দিন অভিবাদন গ্রহণ করলে ঘুরেফিরে বিচ্ছিন্নতাবাদের অপবাদটি তার কাঁধে বর্তাত। আজকের এই দিনে পাকিস্তান পিপলস পার্টিও প্রধান জুফিকার আলী ভুট্টো ও খান আব্দুল কাইয়ুম পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সকালে ও সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়ার পরামর্শদাতাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন দিবস, এটা ইতিহাস স্বীকৃত বাস্তব। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, এই পতাকা যত দিন আপন মহিমায় গৌরবদীপ্ত ভঙ্গিমায় বাঙালির সুতীব্র আবেগের আবির মাখিয়ে উড্ডীয়মান থাকবে, তত দিন দিগন্তবিস্তীর্ণ আকাশের বক্ষে প্রদীপ্ত সূর্যের মতো শাশ্বত ও স্মরণীয় থাকবে। ##