০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস অফিসে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • অফিস ডেক্স।।
  • প্রকাশিত সময় : ০১:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০২৩
  • ৪৭ পড়েছেন

###    রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ে যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের চিহ্নিত করে  হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৫ এপ্রিল) গণভবনে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ঋণের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সরকারের অর্থ বিভাগ সেতু কর্তৃপক্ষকে এই টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছিল।

মঙ্গলবার সকালে স্মরণকালের ভয়াবহ আগুনে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় বঙ্গবাজার। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের এনক্সকো ভবনেও। শুরু থেকে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৪৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে প্রাণন্তকর চেষ্টা চালায়। আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে বেগ পোহাতে হয়। এর মধ্যে উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বঙ্গবাজারের উল্টোপাশে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলায় আহত ফায়ার (মিডিয়া) রবিউল ইসলাম অন্তর (২৩) ও ফায়ার ফাইটার আতিকুর রহমান (২৪) ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
বুধবার গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে যারা জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। বঙ্গবাজারের আগুনের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে সরকারপ্রধান বলেন, যতটা সম্ভব সরকার ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রবল বাধা অতিক্রম করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে সক্ষমতা দেখিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর অনেক দেশের সঙ্গেই কথা বলেছিলাম; কিন্তু সবাই সরে দাঁড়িয়েছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রবল বাধা অতিক্রম করে এই সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। পদ্মা সেতু নিয়ে এমন একটা চক্রান্ত শুরু হয়েছিল যেটা খুবই দুঃখজনক। একটা অবাঞ্ছিত ঘটনা জন্ম দিয়ে এ সেতু নির্মাণে কেবল বাধা দেওয়াই হয়নি; আমাদের ওপর একটা বদনামও দিতে চেয়েছিল। আমরা সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। ‘একদিকে যখন বিশ্বব্যাংক টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিল, তখন সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সংস্থাও সরে দাঁড়াল। তখনই বলেছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে করব। বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা আমাজান নদীর পরই আসে পদ্মা নদীর নাম; কাজেই সেখানে একটা সেতু নির্মাণ করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, সেটা আমরা করতে পেরেছি–বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা কথা এখানে বলতে চাই, সরকার গঠনের পর থেকে লক্ষ করেছি, সবার মধ্যে একটা ধারণা ছিল কোনো না কোনোভাবে বা কারও কাছ থেকে সাহায্য না পেলে এক কদমও এগুতে পারব না। এ ধরনের ধারণা নিয়েই কিন্তু সবাই চলত। এ জিনিসটা কিন্তু খুব খারাপ লাগতো আমার কাছে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমরা যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি; মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি; একটি বিজয়ী জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদার বোধ থাকার কথা, সেখানেই বড় একটা ঘাটতি লক্ষ করতাম। সে কারণে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে যেদিন করতে পারব, সেদিন করব, তাছাড়া নয়। এভাবে কেউ (একটা সংস্থা) আমাদের অপমান করবে আর আমরা সেটা সহে নেব, এটা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিতে পেরেছে যে, আমরাও পারি। এটা আমাদের গর্ব, সক্ষমতা ও অহংকারের প্রতীক হয়ে থাকবে।’##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

গলাচিপায় ডা. এ কে এম আব্দুল খালেকের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন

বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস অফিসে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত সময় : ০১:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০২৩

###    রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ে যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের চিহ্নিত করে  হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৫ এপ্রিল) গণভবনে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ঋণের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সরকারের অর্থ বিভাগ সেতু কর্তৃপক্ষকে এই টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছিল।

মঙ্গলবার সকালে স্মরণকালের ভয়াবহ আগুনে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় বঙ্গবাজার। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের এনক্সকো ভবনেও। শুরু থেকে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৪৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে প্রাণন্তকর চেষ্টা চালায়। আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে বেগ পোহাতে হয়। এর মধ্যে উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বঙ্গবাজারের উল্টোপাশে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলায় আহত ফায়ার (মিডিয়া) রবিউল ইসলাম অন্তর (২৩) ও ফায়ার ফাইটার আতিকুর রহমান (২৪) ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
বুধবার গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে যারা জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। বঙ্গবাজারের আগুনের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে সরকারপ্রধান বলেন, যতটা সম্ভব সরকার ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রবল বাধা অতিক্রম করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে সক্ষমতা দেখিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর অনেক দেশের সঙ্গেই কথা বলেছিলাম; কিন্তু সবাই সরে দাঁড়িয়েছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রবল বাধা অতিক্রম করে এই সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। পদ্মা সেতু নিয়ে এমন একটা চক্রান্ত শুরু হয়েছিল যেটা খুবই দুঃখজনক। একটা অবাঞ্ছিত ঘটনা জন্ম দিয়ে এ সেতু নির্মাণে কেবল বাধা দেওয়াই হয়নি; আমাদের ওপর একটা বদনামও দিতে চেয়েছিল। আমরা সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। ‘একদিকে যখন বিশ্বব্যাংক টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিল, তখন সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সংস্থাও সরে দাঁড়াল। তখনই বলেছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে করব। বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা আমাজান নদীর পরই আসে পদ্মা নদীর নাম; কাজেই সেখানে একটা সেতু নির্মাণ করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, সেটা আমরা করতে পেরেছি–বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা কথা এখানে বলতে চাই, সরকার গঠনের পর থেকে লক্ষ করেছি, সবার মধ্যে একটা ধারণা ছিল কোনো না কোনোভাবে বা কারও কাছ থেকে সাহায্য না পেলে এক কদমও এগুতে পারব না। এ ধরনের ধারণা নিয়েই কিন্তু সবাই চলত। এ জিনিসটা কিন্তু খুব খারাপ লাগতো আমার কাছে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমরা যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি; মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি; একটি বিজয়ী জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদার বোধ থাকার কথা, সেখানেই বড় একটা ঘাটতি লক্ষ করতাম। সে কারণে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে যেদিন করতে পারব, সেদিন করব, তাছাড়া নয়। এভাবে কেউ (একটা সংস্থা) আমাদের অপমান করবে আর আমরা সেটা সহে নেব, এটা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিতে পেরেছে যে, আমরাও পারি। এটা আমাদের গর্ব, সক্ষমতা ও অহংকারের প্রতীক হয়ে থাকবে।’##