০৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বটিয়াঘাটায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ ব্যাপক সাফল্য

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ১২:৪৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অক্টোবর ২০২২
  • ৬৩ পড়েছেন

অফ-সিজনের আস্থা,পাকিজ, হানিকুইন ও ব্লাকবেবি জাতের তরমুজ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বটিয়াঘাটার তরমুজ চাষিরা। ঘেরের আইলে ও মাচায় তরমুজ চাষে ব্যাপক লাভ। এসময় সেচ কম লাগে, সার কম প্রয়োজন হয়,এমনকি দামও অনেক বেশি। যে কারণে অফ সিজনের তরমুজ চাষিদের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন গুনছেন। চলতি বছরে বটিয়াঘাটা উপজেলায় সব থেকে বেশি চাষ এবং বাম্পার ফলন হয়েছে আস্থা জাতীয় তরমুজ চাষে। বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সুরখালী ইউনিয়নে ৩৫ হেক্টর, বটিয়াঘাটা ইউনিয়নে ৩ হেক্টর, জলমা ইউনিয়নে ১ হেক্টর ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে ১১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমির তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা, সে মোতাবেক এবছর বটিয়াঘাটায় তরমুজ বিক্রি হবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হয় ১০/১২ হাজার টাকা কিন্তু সেই ক্ষেত বিক্রি হচ্ছে ৮০/৯০ হাজার টাকা। প্রতিটা তরমুজ ৪/৫ কেজি ওজন যার বর্তমান বাজার মুল্য ৪৫/৪৮ টাকা কেজি। তাছাড়া তরমুজের ক্ষেতে পাশাপাশি সীম, বরবটি, উচ্ছে ও টমেটো চাষ হচ্ছে। সুন্দরমহল গ্রামের কৃষক গেলাম হোসেন, বারোআড়িয়া গ্রামের কৃষক নিক্যানন্দ বিশ্বাস ও শম্ভুনগর গ্রামের কৃষক নারায়ণ মন্ডল বলেন, আমাদের এলাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার সরদার আব্দুল মান্নান ভাইয়ের পরামর্শে ঘেরের আইলে আমরা অফশিজন তরমুজ চাষ করেছি, তার সব সময় খোজখবর নেওয়ার কারণে অল্প খরচে অধিক লাভবান হয়েছি। আশা করি আগামীতে এই চাষ ব্যাপক হারে হবে। ভেন্নাবুনিয়া গ্রামের কৃষক সমিরন জোয়ার্দার ও কিসমত ফুলতলা গ্রামের কৃষক সুজন মন্ডল বলেন, আমাদের এলাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার দিপন কুমার হালদার এর পরামর্শে আমরা ঘের কেটেছি,সেই ঘেরের আইলে তরমুজ চাষে অল্প খরচে অধিক লাভবান হয়েছি। তাছাড়া,তরমুজের পাশাপাশি সীম,বরবটি, উচ্ছে ও টমেটো চাষ করছি। সার্বিক বিষয় বটিয়াঘাটা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন,অফ-সিজন তরমুজ চাষাবাদে কৃষদের ঝুকি অনেক কম। এ সময়ে কোন শিলা বৃষ্টি হয়না, ফলে তরমুজ নষ্ট হওয়ার কোন ঝুকি থাকেনা। কৃষকদের সেচ দেওয়া লাগেনা, ফলে উৎপাদন খরচও কম হয়। অফ-সিজন তরমুজের দাম কৃষকগণ খুব ভাল পেয়ে থাকেন, এজন্য অফসিজন তরমুজ চাষে কৃষকরা দিন দিন বেশি ঝুকে পড়ছেন। এ বছর বটিয়াঘাটা উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের আবাদ হয়েছে। এ বছর তরমুজ বিক্রি ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে এর চাষাবাদ আরো বাড়বে।

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গলাচিপায় বেড়েছে বাতাস ও নদীর পানি

বটিয়াঘাটায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ ব্যাপক সাফল্য

প্রকাশিত সময় : ১২:৪৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অক্টোবর ২০২২

অফ-সিজনের আস্থা,পাকিজ, হানিকুইন ও ব্লাকবেবি জাতের তরমুজ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বটিয়াঘাটার তরমুজ চাষিরা। ঘেরের আইলে ও মাচায় তরমুজ চাষে ব্যাপক লাভ। এসময় সেচ কম লাগে, সার কম প্রয়োজন হয়,এমনকি দামও অনেক বেশি। যে কারণে অফ সিজনের তরমুজ চাষিদের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন গুনছেন। চলতি বছরে বটিয়াঘাটা উপজেলায় সব থেকে বেশি চাষ এবং বাম্পার ফলন হয়েছে আস্থা জাতীয় তরমুজ চাষে। বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সুরখালী ইউনিয়নে ৩৫ হেক্টর, বটিয়াঘাটা ইউনিয়নে ৩ হেক্টর, জলমা ইউনিয়নে ১ হেক্টর ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে ১১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমির তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা, সে মোতাবেক এবছর বটিয়াঘাটায় তরমুজ বিক্রি হবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হয় ১০/১২ হাজার টাকা কিন্তু সেই ক্ষেত বিক্রি হচ্ছে ৮০/৯০ হাজার টাকা। প্রতিটা তরমুজ ৪/৫ কেজি ওজন যার বর্তমান বাজার মুল্য ৪৫/৪৮ টাকা কেজি। তাছাড়া তরমুজের ক্ষেতে পাশাপাশি সীম, বরবটি, উচ্ছে ও টমেটো চাষ হচ্ছে। সুন্দরমহল গ্রামের কৃষক গেলাম হোসেন, বারোআড়িয়া গ্রামের কৃষক নিক্যানন্দ বিশ্বাস ও শম্ভুনগর গ্রামের কৃষক নারায়ণ মন্ডল বলেন, আমাদের এলাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার সরদার আব্দুল মান্নান ভাইয়ের পরামর্শে ঘেরের আইলে আমরা অফশিজন তরমুজ চাষ করেছি, তার সব সময় খোজখবর নেওয়ার কারণে অল্প খরচে অধিক লাভবান হয়েছি। আশা করি আগামীতে এই চাষ ব্যাপক হারে হবে। ভেন্নাবুনিয়া গ্রামের কৃষক সমিরন জোয়ার্দার ও কিসমত ফুলতলা গ্রামের কৃষক সুজন মন্ডল বলেন, আমাদের এলাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার দিপন কুমার হালদার এর পরামর্শে আমরা ঘের কেটেছি,সেই ঘেরের আইলে তরমুজ চাষে অল্প খরচে অধিক লাভবান হয়েছি। তাছাড়া,তরমুজের পাশাপাশি সীম,বরবটি, উচ্ছে ও টমেটো চাষ করছি। সার্বিক বিষয় বটিয়াঘাটা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন,অফ-সিজন তরমুজ চাষাবাদে কৃষদের ঝুকি অনেক কম। এ সময়ে কোন শিলা বৃষ্টি হয়না, ফলে তরমুজ নষ্ট হওয়ার কোন ঝুকি থাকেনা। কৃষকদের সেচ দেওয়া লাগেনা, ফলে উৎপাদন খরচও কম হয়। অফ-সিজন তরমুজের দাম কৃষকগণ খুব ভাল পেয়ে থাকেন, এজন্য অফসিজন তরমুজ চাষে কৃষকরা দিন দিন বেশি ঝুকে পড়ছেন। এ বছর বটিয়াঘাটা উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের আবাদ হয়েছে। এ বছর তরমুজ বিক্রি ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে এর চাষাবাদ আরো বাড়বে।