০২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে সংখ্যালঘুর বাড়িতে পুলিশী তান্ডব :  ঐক্য পরিষদের নিন্দা ও শাস্তি দাবী

###    বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১২ নং জিউধরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে জ্যোতিন অধিকারীর বাড়িতে তালা ভেঙ্গে পুলিশী তান্ডব চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৫ফেব্রুয়ারী শনিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এসময় এলোমেলো করা হয়েছে দেবতার বিগ্রহ এবং ভাঙ্গা হয়েছে পূজা ও কীর্ত্তনের সামগ্রী। সনজিত অধিকারী, প্রসেনজিৎ অধিকারী ও তাদের পিতা জ্যোতিন অধিকারী এই বাড়িতে কয়েক বছর যাবত বসবাস করছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানিয়েছে।

বাড়ীর মালিক জ্যোতিন অধিকারীর অভিযোগে জানা গেছে, ২৫ফেব্রুয়ারী রাতে গ্রাম পুলিশ রনজিত মন্ডলকে সাথে নিয়ে লক্ষ্মীখালী পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা সুফল সরকার বাড়ির সামনে গিয়ে চিৎকার করে বাড়ির মালিকদের ডাকতে থাকে। সে সময়ে বাড়ির ভেতরে কেউ না থাকায় সাড়া না পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। সেসময় ঘটনাস্থলে পরিবারের কেউ না থাকায় গ্রাম পুলিশ রনজিতের মাধ্যমে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সনজিতের ভাই প্রসেনজিৎ অধিকারীকে মুঠোফোনে জানায়, “তোমাদের বিরুদ্ধে ওসি সাহেবের কাছে অভিযোগ আছে। আমি তোমাদের বাড়ি থেকে কিছু আলামত ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছি, তোমরা আগামীকাল সকাল ১০টায় লক্ষ্মীখালী  পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করবে।” সনজিতের ভাই প্রসেনজিৎ বিভিন্নভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা ওখানে পৌঁছে যেতেও চায়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা সুফল তাদের কোনো কথাই না শুনে বাড়ি থেকে কাঠ, বাঁশ সহ বিভিন্ন সামগ্রী নছিমন গাড়ি এনে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা তাদের বাড়ি পৌঁছে সেখানে ছত্তার খলিফা ও মজিবরসহ কয়েকজন অপরিচিত লোককে দেখতে পায়। সনজিতদের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সনজিত, প্রসেনজিৎসহ ওদের বাড়ির লোকেরা দেখতে পায় ইতিমধ্যে তাদের ঘরের বেশ ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে মন্দিরের দেবতার বিগ্রহগুলো এলোমেলো করে ভাঙ্গা হয়েছে। ঢোল, ডংকা ছিড়ে ফেলা হয়েছে এবং নিত্যপূজার সামগ্রী তছনছ করা হয়েছে।

সনজিত অধিকারী ২০১৮সালে সেখানে জমি কিনে নতুন বাড়ি তৈরি করে। একই খতিয়ানভুক্ত জমি ক্রয় করে এলাকার ছত্তার খলিফা। সনজিতের ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ কাজ শেষের দিকে এলে ছত্তার দাবি করে এই জমি তার। কিন্তু সনজিত অধিকারীর দলিল, দলিলের চৌহদ্দি, নামজারি সবকিছু সঠিক থাকায় স্থানীয় সালিসীতে সে জিতে যায় কিন্তু ছত্তারের হয়রানি থেকে রক্ষা পায় না। অবশেষে সনজিত আদালতের দ্বারস্থ হয়, জারি হয় ১৪৪ ধারা। আদালতের বিচার শেষে রায় আসে সনজিতদের পক্ষে। কিন্তু রায় পেলেও পুলিশ কর্মকর্তা সুফল সরকার সে সবের তোয়াক্কা না করে তাদের ঘর ভাঙচুর করে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে বলা হয়, এই ধরনের পুলিশী নির্যাতনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা বিনষ্ট করবে। কেন্দ্রীয় কমিটি অবিলম্বে পুলিশ কর্মকর্তা সুফল সরকার ও স্থানীয় দখলদারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষ বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি করেছে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে সংখ্যালঘুর বাড়িতে পুলিশী তান্ডব :  ঐক্য পরিষদের নিন্দা ও শাস্তি দাবী

প্রকাশিত সময় : ০৩:২৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩

###    বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১২ নং জিউধরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে জ্যোতিন অধিকারীর বাড়িতে তালা ভেঙ্গে পুলিশী তান্ডব চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৫ফেব্রুয়ারী শনিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এসময় এলোমেলো করা হয়েছে দেবতার বিগ্রহ এবং ভাঙ্গা হয়েছে পূজা ও কীর্ত্তনের সামগ্রী। সনজিত অধিকারী, প্রসেনজিৎ অধিকারী ও তাদের পিতা জ্যোতিন অধিকারী এই বাড়িতে কয়েক বছর যাবত বসবাস করছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানিয়েছে।

বাড়ীর মালিক জ্যোতিন অধিকারীর অভিযোগে জানা গেছে, ২৫ফেব্রুয়ারী রাতে গ্রাম পুলিশ রনজিত মন্ডলকে সাথে নিয়ে লক্ষ্মীখালী পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা সুফল সরকার বাড়ির সামনে গিয়ে চিৎকার করে বাড়ির মালিকদের ডাকতে থাকে। সে সময়ে বাড়ির ভেতরে কেউ না থাকায় সাড়া না পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। সেসময় ঘটনাস্থলে পরিবারের কেউ না থাকায় গ্রাম পুলিশ রনজিতের মাধ্যমে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সনজিতের ভাই প্রসেনজিৎ অধিকারীকে মুঠোফোনে জানায়, “তোমাদের বিরুদ্ধে ওসি সাহেবের কাছে অভিযোগ আছে। আমি তোমাদের বাড়ি থেকে কিছু আলামত ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছি, তোমরা আগামীকাল সকাল ১০টায় লক্ষ্মীখালী  পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করবে।” সনজিতের ভাই প্রসেনজিৎ বিভিন্নভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা ওখানে পৌঁছে যেতেও চায়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা সুফল তাদের কোনো কথাই না শুনে বাড়ি থেকে কাঠ, বাঁশ সহ বিভিন্ন সামগ্রী নছিমন গাড়ি এনে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা তাদের বাড়ি পৌঁছে সেখানে ছত্তার খলিফা ও মজিবরসহ কয়েকজন অপরিচিত লোককে দেখতে পায়। সনজিতদের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সনজিত, প্রসেনজিৎসহ ওদের বাড়ির লোকেরা দেখতে পায় ইতিমধ্যে তাদের ঘরের বেশ ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে মন্দিরের দেবতার বিগ্রহগুলো এলোমেলো করে ভাঙ্গা হয়েছে। ঢোল, ডংকা ছিড়ে ফেলা হয়েছে এবং নিত্যপূজার সামগ্রী তছনছ করা হয়েছে।

সনজিত অধিকারী ২০১৮সালে সেখানে জমি কিনে নতুন বাড়ি তৈরি করে। একই খতিয়ানভুক্ত জমি ক্রয় করে এলাকার ছত্তার খলিফা। সনজিতের ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ কাজ শেষের দিকে এলে ছত্তার দাবি করে এই জমি তার। কিন্তু সনজিত অধিকারীর দলিল, দলিলের চৌহদ্দি, নামজারি সবকিছু সঠিক থাকায় স্থানীয় সালিসীতে সে জিতে যায় কিন্তু ছত্তারের হয়রানি থেকে রক্ষা পায় না। অবশেষে সনজিত আদালতের দ্বারস্থ হয়, জারি হয় ১৪৪ ধারা। আদালতের বিচার শেষে রায় আসে সনজিতদের পক্ষে। কিন্তু রায় পেলেও পুলিশ কর্মকর্তা সুফল সরকার সে সবের তোয়াক্কা না করে তাদের ঘর ভাঙচুর করে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে বলা হয়, এই ধরনের পুলিশী নির্যাতনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা বিনষ্ট করবে। কেন্দ্রীয় কমিটি অবিলম্বে পুলিশ কর্মকর্তা সুফল সরকার ও স্থানীয় দখলদারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষ বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি করেছে। ##