১০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নির্মান শ্রমিক নেতা আটক

  • বাগেরহাট অফিস
  • প্রকাশিত সময় : ০১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ৪৭ পড়েছেন

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারিভাবে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে অর্থ হাতানোর অভিযোগে মোঃ ফিরোজ আলী খন্দকার (৪৫) নামের নির্মান শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের সোনাতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।আটকের বিরুদ্ধে বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহামুদ হাসান।
আটক মোঃ ফিরোজ আলী খন্দকার (৪৫) গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার নোয়াদা এলাকার মৃত মোকসেদ আলী খন্দকারের ছেলে। ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করতেন।সে বাগেরহাট সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সদর উপজেলার মুক্ষাইট এলাকার চা দোকানি আলামিন হোসেন জনি নামের এক ভুক্তভোগী বলেন,কিছুদিন পূর্বে ফিরোজ খন্দকারের সাথে আমার পরিচয় হয়।সে আমাকে সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।রাজি হলে অনলাইন আবেদন,মেডিকেল টেস্ট ওপুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাবদ ১২ হাজার টাকা নেয়।পরে তার দেওয়া একটি একাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে বললে আমার সন্দেহ হয়।তখন বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি আমাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন।আমাদের এলাকার আরো কয়েকজনের সাথে এমন প্রতারণা করেছে সে।বাগেরহাট সদর উপজেলা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী শেখ ফিরোজের স্ত্রী বলেন,ফিরোজ একজন জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা দীর্ঘ দিন শ্রমিক সংগঠনের সেক্রেটারী হিসাবে সততার সাথে দায়ীত্ব পালন করছেন।আগামী ৩০ শে সেপ্টেম্বর শ্রমিক ফেডারেশনের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পরাজয়ের ভয়ে প্রতিপক্ষরা এধরনের একটি ভুয়া মামলা দিয়েছেন।আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানাই।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহামুদ হাসান বলেন,আটক ব্যক্তি বাগেরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কানাডা,রোমানিয়া,মালয়শিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়ার কথা বলে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।এছাড়া তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য বাগেরহাট থেকে ২২০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ যেতে পারবে বলে প্রচার চালাতে থাকেন।বিভিন্ন ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে ব্যাংক চেক জমা দিতে বলেন।এবং পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গলাচিপায় বেড়েছে বাতাস ও নদীর পানি

বাগেরহাটে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নির্মান শ্রমিক নেতা আটক

প্রকাশিত সময় : ০১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারিভাবে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে অর্থ হাতানোর অভিযোগে মোঃ ফিরোজ আলী খন্দকার (৪৫) নামের নির্মান শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের সোনাতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।আটকের বিরুদ্ধে বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহামুদ হাসান।
আটক মোঃ ফিরোজ আলী খন্দকার (৪৫) গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার নোয়াদা এলাকার মৃত মোকসেদ আলী খন্দকারের ছেলে। ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করতেন।সে বাগেরহাট সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সদর উপজেলার মুক্ষাইট এলাকার চা দোকানি আলামিন হোসেন জনি নামের এক ভুক্তভোগী বলেন,কিছুদিন পূর্বে ফিরোজ খন্দকারের সাথে আমার পরিচয় হয়।সে আমাকে সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।রাজি হলে অনলাইন আবেদন,মেডিকেল টেস্ট ওপুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাবদ ১২ হাজার টাকা নেয়।পরে তার দেওয়া একটি একাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে বললে আমার সন্দেহ হয়।তখন বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি আমাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন।আমাদের এলাকার আরো কয়েকজনের সাথে এমন প্রতারণা করেছে সে।বাগেরহাট সদর উপজেলা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী শেখ ফিরোজের স্ত্রী বলেন,ফিরোজ একজন জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা দীর্ঘ দিন শ্রমিক সংগঠনের সেক্রেটারী হিসাবে সততার সাথে দায়ীত্ব পালন করছেন।আগামী ৩০ শে সেপ্টেম্বর শ্রমিক ফেডারেশনের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পরাজয়ের ভয়ে প্রতিপক্ষরা এধরনের একটি ভুয়া মামলা দিয়েছেন।আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানাই।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহামুদ হাসান বলেন,আটক ব্যক্তি বাগেরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কানাডা,রোমানিয়া,মালয়শিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়ার কথা বলে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।এছাড়া তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য বাগেরহাট থেকে ২২০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ যেতে পারবে বলে প্রচার চালাতে থাকেন।বিভিন্ন ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে ব্যাংক চেক জমা দিতে বলেন।এবং পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।