০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে এক গ্রামে সাত ভাষা সৈনিক; ছিলো চক্ষু আড়ালে

###    বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম বাদেকাপাড়া। জেলা শহরের লাগোয়া হওয়ায় গ্রামটির পরিচিতি রয়েছে। এই গ্রামেই বাড়ি একুশে পদক প্রাপ্ত ভাষা সৈনিক ড. হালিমা খাতুনসহ সাত ভাষা সৈনিকের। কিন্তু একটি গ্রামে সাতজন ভাষা সৈনিকের বাড়ি থাকলেও, কোন অশুভ কারণে বিষয়টি ছিলো চক্ষু আড়ালে। এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সাত ভাষা সৈনিকের স্মরণে দেকাড়াপাডা পল্লী মঙ্গল সমিতির উদ্যোগে নানা আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভাষা সৈনিকদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপরেই শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পন করেন ভাষা সৈনিকদের পরিবারের সদস্যরা। পরে  স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। পুস্পস্তবক অর্পন শেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের তাৎপর্য বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বুলবুল কবির। এ সময়, কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিতুর রহমান পল্টন, বাগেরহাট সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম,বাদেকাড়াপাডা পল্লী মঙ্গল সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বুলু,নারী ইউপি সদস্য আবেদা সুলতানা ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম উপস্থিত ছিলেন। পরে শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা বলেন, ভাষা সৈনিকদের স্মরণে করা এই অনুষ্ঠান মাতৃভাষার প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা সৃষ্টি করবে।  এই গ্রামের সাত ভাষা সৈনিক হলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন, সাবেক ছাত্র নেতা শেখ আশরাফ হোসেন, এ.জেড. এম দেলোয়ার হোসেন, শেখ নজিবর রহমান, শেখ মারুফুল হক, শেখ ইজাবুল হক ও ভাষা সৈনিক শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ হাবিবুর রহমান। এদের মধ্যে শেখ নজিবর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিতুর রহমান পল্টন বলেন, ভাষা সৈনিকরা জাতির সূর্য সন্তান। তাদেরকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন। অধ্যাপক বুলবুল কবির বলেন, বাঙালি জাতির জন্য ভাষা আন্দোলন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। এক গ্রাম থেকে সাতজন ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, এটা অনেক গর্বের। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গলাচিপায় বেড়েছে বাতাস ও নদীর পানি

বাগেরহাটে এক গ্রামে সাত ভাষা সৈনিক; ছিলো চক্ষু আড়ালে

প্রকাশিত সময় : ০২:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম বাদেকাপাড়া। জেলা শহরের লাগোয়া হওয়ায় গ্রামটির পরিচিতি রয়েছে। এই গ্রামেই বাড়ি একুশে পদক প্রাপ্ত ভাষা সৈনিক ড. হালিমা খাতুনসহ সাত ভাষা সৈনিকের। কিন্তু একটি গ্রামে সাতজন ভাষা সৈনিকের বাড়ি থাকলেও, কোন অশুভ কারণে বিষয়টি ছিলো চক্ষু আড়ালে। এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সাত ভাষা সৈনিকের স্মরণে দেকাড়াপাডা পল্লী মঙ্গল সমিতির উদ্যোগে নানা আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভাষা সৈনিকদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপরেই শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পন করেন ভাষা সৈনিকদের পরিবারের সদস্যরা। পরে  স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। পুস্পস্তবক অর্পন শেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের তাৎপর্য বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বুলবুল কবির। এ সময়, কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিতুর রহমান পল্টন, বাগেরহাট সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম,বাদেকাড়াপাডা পল্লী মঙ্গল সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বুলু,নারী ইউপি সদস্য আবেদা সুলতানা ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম উপস্থিত ছিলেন। পরে শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা বলেন, ভাষা সৈনিকদের স্মরণে করা এই অনুষ্ঠান মাতৃভাষার প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা সৃষ্টি করবে।  এই গ্রামের সাত ভাষা সৈনিক হলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন, সাবেক ছাত্র নেতা শেখ আশরাফ হোসেন, এ.জেড. এম দেলোয়ার হোসেন, শেখ নজিবর রহমান, শেখ মারুফুল হক, শেখ ইজাবুল হক ও ভাষা সৈনিক শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ হাবিবুর রহমান। এদের মধ্যে শেখ নজিবর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিতুর রহমান পল্টন বলেন, ভাষা সৈনিকরা জাতির সূর্য সন্তান। তাদেরকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন। অধ্যাপক বুলবুল কবির বলেন, বাঙালি জাতির জন্য ভাষা আন্দোলন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। এক গ্রাম থেকে সাতজন ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, এটা অনেক গর্বের। ##