১০:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গরিবের শান্তির নীড় “মাটির ঘর”

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ০৮:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ৭০ পড়েছেন

 

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা প্রতিনিধি:
গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। যা এক সময় বাগেরহাট জেলার প্রতিটা গ্রামের মানুষের কাছে ‘গরীবের এসি বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিলো। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এই ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে বাগেরহাট জেলার প্রতিটা গ্রামে এবং মাটির ঘরের জায়গায় তৈরি হচ্ছে প্রাসাদসম অট্টালিকা। মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিচ্ছে ইট-পাথরের দালান ও একটু সুখের আশায় মানুষ কত কিছুই না করছে। তবুও মাটির ঘরের শান্তি ইট পাথরের দালান কোঠায় খুঁজে পাওয়া ভার।

মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, রুচিবোধের পরিবর্তন, পারিবারিক নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের সুরক্ষার কারণে এখন আর কেউ মাটির ঘরে থাকতে চান না। সচ্ছল মানুষেরা এখন ঝুঁকে পড়েছেন পাকা দালানের দিকে। তারপরও মানুষ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নগরায়ণের সাথে সাথে পাকা দালান কোঠা তৈরি করছেন। তাই আধুনিকতার ছোয়ায় আর সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যের মাটির তৈরি ঘর আজ প্রায় বিলুপ্তের পথে।

বেশিদিন আগের কথা নয়,বাগেরহাট জেলার প্রতিটি গ্রামে একসময় মানুষের নজর কাড়তো সুন্দর এ মাটির ঘর। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও খুবই শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

আধুনিকতার ছোঁয়া আর কালের বিবর্তনে বাগেরহাটের প্রতিটা গ্রামে এ চিরচেনা মাটির ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। অতীতে মাটির ঘর গরীবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে পরিচিত ছিল। এ ঘর শীত ও গরম মৌসুম আরামদায়ক তাই আরামের জন্য গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি অনেক বিত্তবান ও মাটির ঘর তৈরি করে থাকতেন।

এ বিষয়ে মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের দত্তেরমেঠ গ্রামের বাসিন্দা বাবু তরুণ সরকার বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। এটেল বা আঠালো মাটি কাঁদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হত। ১০-২০ ফুট উচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড়, টালি বা টিনের ছাউনি দেয়া হত। মাটির ঘর অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো। এসব মাটির ঘর তৈরি করতে কারিগরদের তিন-চার মাসের অধিক সময় লাগতো। গৃহিনীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা একে তাদের নিজ বসত ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তুলতেন।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমার বাপ, দাদার আমলে মাটির ঘরের সমারোহ ছিল অফুরন্ত কিন্তু আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তার স্হান দখল করে নিয়েছে ইট কিংবা কংক্রিটের বড়বড় অট্টালিকা যার ফলে মাটির তৈরি ঘর আজ গ্রাম থেকে বিলুপ্ত এবং বর্তমান প্রজন্ম এই মাটির ঘরের সাথে অপরিচিত।#

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গরিবের শান্তির নীড় “মাটির ঘর”

প্রকাশিত সময় : ০৮:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা প্রতিনিধি:
গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। যা এক সময় বাগেরহাট জেলার প্রতিটা গ্রামের মানুষের কাছে ‘গরীবের এসি বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিলো। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এই ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে বাগেরহাট জেলার প্রতিটা গ্রামে এবং মাটির ঘরের জায়গায় তৈরি হচ্ছে প্রাসাদসম অট্টালিকা। মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিচ্ছে ইট-পাথরের দালান ও একটু সুখের আশায় মানুষ কত কিছুই না করছে। তবুও মাটির ঘরের শান্তি ইট পাথরের দালান কোঠায় খুঁজে পাওয়া ভার।

মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, রুচিবোধের পরিবর্তন, পারিবারিক নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের সুরক্ষার কারণে এখন আর কেউ মাটির ঘরে থাকতে চান না। সচ্ছল মানুষেরা এখন ঝুঁকে পড়েছেন পাকা দালানের দিকে। তারপরও মানুষ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নগরায়ণের সাথে সাথে পাকা দালান কোঠা তৈরি করছেন। তাই আধুনিকতার ছোয়ায় আর সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যের মাটির তৈরি ঘর আজ প্রায় বিলুপ্তের পথে।

বেশিদিন আগের কথা নয়,বাগেরহাট জেলার প্রতিটি গ্রামে একসময় মানুষের নজর কাড়তো সুন্দর এ মাটির ঘর। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও খুবই শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

আধুনিকতার ছোঁয়া আর কালের বিবর্তনে বাগেরহাটের প্রতিটা গ্রামে এ চিরচেনা মাটির ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। অতীতে মাটির ঘর গরীবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে পরিচিত ছিল। এ ঘর শীত ও গরম মৌসুম আরামদায়ক তাই আরামের জন্য গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি অনেক বিত্তবান ও মাটির ঘর তৈরি করে থাকতেন।

এ বিষয়ে মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের দত্তেরমেঠ গ্রামের বাসিন্দা বাবু তরুণ সরকার বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। এটেল বা আঠালো মাটি কাঁদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হত। ১০-২০ ফুট উচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড়, টালি বা টিনের ছাউনি দেয়া হত। মাটির ঘর অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো। এসব মাটির ঘর তৈরি করতে কারিগরদের তিন-চার মাসের অধিক সময় লাগতো। গৃহিনীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা একে তাদের নিজ বসত ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তুলতেন।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমার বাপ, দাদার আমলে মাটির ঘরের সমারোহ ছিল অফুরন্ত কিন্তু আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তার স্হান দখল করে নিয়েছে ইট কিংবা কংক্রিটের বড়বড় অট্টালিকা যার ফলে মাটির তৈরি ঘর আজ গ্রাম থেকে বিলুপ্ত এবং বর্তমান প্রজন্ম এই মাটির ঘরের সাথে অপরিচিত।#