০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাড়িতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে ছেলে

###    এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রাকিব শনিবার দুপুরেও বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় বাবার মৃত্যুতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া। নিজের বাড়িতে বাবার লাশ, চারদিকে স্বজনদের কান্না-আহাজারি! শেষ পর্যস্ত বাড়িতে বাবার লাশ রেখেই অশ্রু জলে বুক ভাসিয়ে অশ্রু মুছতে মুছতে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে রাকিব।  কেন্দ্রে তাকে সান্তনা দিয়েছেন কক্ষ পর্যবেক্ষকসহ অন্যরা।  রাকিব উপজেলার নেহালগঞ্জ গ্রামের ইব্রাহীম সরদারের ছেলে। সে নেহালগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বরিবার বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা। রাকিবের বাবা সদ্য প্রয়াত ইব্রাহীম সরদার(৪৮) বান্দরবান জেলায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। এলাকাবাসী ও রাকিবের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের বাসায় আকস্মিক স্ট্রোকজনিত কারণে রাকিবের বাবা ইব্রাহীম সরদার মারা যান। পরিবারের কর্তার হঠাৎ এমন চলে যাওয়া কোনোভাবেই মানতে পারছেন না স্বজনরা। রবিবার সকালে বান্দরবান থেকে রাকিবের বাবার মরদেহ দশমিনার নেহালগঞ্জ গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে মনে কষ্ট চেপে অশ্রুসজল চোখে রাকিব দশমিনা  সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যায়। সেখানে রবিবার পরীক্ষা চলাকালে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাকিব বলেন, বাবা আর নেই! বাবা আর কখনই আমাকে আদর করে ডাকবে না! এটা আমি মানতে পারছি না! বাবার স্বপ্ন ছিল আমি অনেক বড় হব। তাই আমি পরীক্ষা দিতে এসেছি, কিন্তু বাবার এভাবে চলে যাওয়া আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি সহ্য করতে পারছিনা।রাকিব যখন অশ্রুসজল চোখে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকছিল তখন তার বন্ধুদের চোখেও জল। সেটি ছুঁয়ে গেছে শিক্ষকদেরও। রাকিবের শিক্ষকরা জানান, সে মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্র। পড়াশোনায় ভীষণ মনযোগী। পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মো. সালাউদ্দিন সৈকত বলেন, আমাকে নির্বাহী অফিসার মহোদয় বিষয়টি জানিয়েছেন। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে মনে কষ্ট চেপে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আমি তার প্রতি সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দাও। রাকিব অনেক বড় হোক তার প্রতি শুভ কামনা।  রাকিবের মামা ইমাম হোসেন জানান, রাকিবকে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর জন্য আমি সকালে নিয়ে আসি। বাড়িতে রাকিবের বাবার লাশ অপেক্ষা করছে রাকিবের জন্য। আসর নামাজ বাদ নেহালগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাফিসা নাজ নীরা বলেন,  আমি বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি হ্নদয় বিদারক। কেন্দ্র সচিবকে রকিবের উপর বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য নিদর্শেন দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি পৌছে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

গলাচিপায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের মাধ্যমে রাস্তা উন্মুক্ত করায় প্রসংশিত মেয়র

বাড়িতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে ছেলে

প্রকাশিত সময় : ১১:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ মে ২০২৩

###    এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রাকিব শনিবার দুপুরেও বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় বাবার মৃত্যুতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া। নিজের বাড়িতে বাবার লাশ, চারদিকে স্বজনদের কান্না-আহাজারি! শেষ পর্যস্ত বাড়িতে বাবার লাশ রেখেই অশ্রু জলে বুক ভাসিয়ে অশ্রু মুছতে মুছতে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে রাকিব।  কেন্দ্রে তাকে সান্তনা দিয়েছেন কক্ষ পর্যবেক্ষকসহ অন্যরা।  রাকিব উপজেলার নেহালগঞ্জ গ্রামের ইব্রাহীম সরদারের ছেলে। সে নেহালগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বরিবার বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা। রাকিবের বাবা সদ্য প্রয়াত ইব্রাহীম সরদার(৪৮) বান্দরবান জেলায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। এলাকাবাসী ও রাকিবের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের বাসায় আকস্মিক স্ট্রোকজনিত কারণে রাকিবের বাবা ইব্রাহীম সরদার মারা যান। পরিবারের কর্তার হঠাৎ এমন চলে যাওয়া কোনোভাবেই মানতে পারছেন না স্বজনরা। রবিবার সকালে বান্দরবান থেকে রাকিবের বাবার মরদেহ দশমিনার নেহালগঞ্জ গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে মনে কষ্ট চেপে অশ্রুসজল চোখে রাকিব দশমিনা  সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যায়। সেখানে রবিবার পরীক্ষা চলাকালে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাকিব বলেন, বাবা আর নেই! বাবা আর কখনই আমাকে আদর করে ডাকবে না! এটা আমি মানতে পারছি না! বাবার স্বপ্ন ছিল আমি অনেক বড় হব। তাই আমি পরীক্ষা দিতে এসেছি, কিন্তু বাবার এভাবে চলে যাওয়া আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি সহ্য করতে পারছিনা।রাকিব যখন অশ্রুসজল চোখে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকছিল তখন তার বন্ধুদের চোখেও জল। সেটি ছুঁয়ে গেছে শিক্ষকদেরও। রাকিবের শিক্ষকরা জানান, সে মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্র। পড়াশোনায় ভীষণ মনযোগী। পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মো. সালাউদ্দিন সৈকত বলেন, আমাকে নির্বাহী অফিসার মহোদয় বিষয়টি জানিয়েছেন। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে মনে কষ্ট চেপে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আমি তার প্রতি সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দাও। রাকিব অনেক বড় হোক তার প্রতি শুভ কামনা।  রাকিবের মামা ইমাম হোসেন জানান, রাকিবকে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর জন্য আমি সকালে নিয়ে আসি। বাড়িতে রাকিবের বাবার লাশ অপেক্ষা করছে রাকিবের জন্য। আসর নামাজ বাদ নেহালগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাফিসা নাজ নীরা বলেন,  আমি বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি হ্নদয় বিদারক। কেন্দ্র সচিবকে রকিবের উপর বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য নিদর্শেন দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি পৌছে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। ##