১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসায় ধ্বস, ছাড় দিয়েও মিলছে না পর্যটক

####

 

প্রাকৃতিক ভূস্বর্গের অপার লীলা ভূমি পাহাড় কন্যা খ্যাত অপরুপা এই বান্দরবান। বছর জুড়ে প্রকৃতি প্রেমী ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মূখরিত থাকে জেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থান। সরকারি বিশেষ  ছুটির দিনে এই সংখ্যা বাড়ে কয়েকগুন। ফলে আগত পর্যটকদের সেবায় জেলায় গড়ে উঠেছে নানা হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ  ও হ্যান্ডিক্রাপ্ট বিপনন কেন্দ্র।এতে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ১০ হাজারেরও বেশী সংখ্যক জনগণ। তবে এবার প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন। আশানুরূপ পর্যটক না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীরা।

ব্যাবসায়ীরা জানায়, গত বছর  সেপ্টেম্বর মাসের দিকে জেলার দূর্গম এলাকা গুলোতে সশস্ত্র সংগঠন গুলোর আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর রুমা – রোয়াংছড়িতে দেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন।  এই নিষেধাজ্ঞা কয়েক দফায় বাড়িয়ে রুমা-রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও থানচি উপজেলায়ও  আরোপ করা হয়।পরে আলীকদম উপজেলা হতে নিষেধাজ্ঞা  প্রত্যাহার করা হলেও রুমা-রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে সন্ত্রাস দমনে নিরাপত্তা বাহীনির চলমান অভিযানে সেনাবাহীনির কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছে বেশ কয়েক জন। এছাড়া ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে পর্যটকদের নিরাপত্তা জনিত কারণে জেলার তিন উপজেলা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীরা বান্দরবান ভ্রমণে বিমূখ হয়ে পড়েছেন। ফলে আশানুরূপ পর্যটক না পাওয়ায় জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশন এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও হোটেল আরণ্য”র মালিক জসিম  উদ্দিন জানান, সাধারণ ছুটি’র দিনেও হোটেলের অধিকাংশ কক্ষ এবং  বিশেষ ছুটির দিনের অন্তত  ১৫ দিন আগে হোটেলের সকল কক্ষ বুকিং নিয়ে নিতেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। বর্তমানে হোটেল আরণ্য”র পক্ষ থেকে রুম ভাড়া ৫৫ শতাংশ ছাড় দিয়েও হোটেলের রুম বুকিং পাওয়া যাচ্ছে না।  বান্দরবানের ৩ উপজেলায় টানা ৮ মাসেরও অধিক সময় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় ভ্রমণ প্রত্যাশীরা বান্দরবান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হওয়ার কারনে জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অতি দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে জেলার পর্যটন শিল্প ধ্বংস হয়ে যাওয়ার শংকা করছেন তিনি।

পর্যটন মোটেল”র সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সূর্যসেন ত্রিপুরা জানান, সারা বছর ধরে এই ঈদ মৌসুমে ব্যাবসার  জন্য পর্যটন ব্যাবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকেন। অন্যান্য বছর যেখানে ঈদের ১০-১৫ দিন আগে থেকে শতভাগ বুকিং নিয়েনিতেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। এবার এই মৌসুম উপলক্ষ্যে ১৫ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে মাত্র ।

বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাছিরুল আলম বলেন, আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বান্দরবান ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য প্রত্যেক গাড়িতে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে নতুন নতুন সংযোজন করা হয়েছে। এগুলো যাহাতে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এবংজন্য সুবিধাবৃদ্ধি করা হয়েছে।   তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই বান্দরবান ঘুরতে আসবেন।

এছাড়া এবারের পবিত্র ঈদুল আযহা”র ছুটি উপলক্ষে ভ্রমণে আসা পর্যটকের জন্য নীলাচল ও মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ ফি ২০শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসায় ধ্বস, ছাড় দিয়েও মিলছে না পর্যটক

প্রকাশিত সময় : ১২:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ২০২৩

####

 

প্রাকৃতিক ভূস্বর্গের অপার লীলা ভূমি পাহাড় কন্যা খ্যাত অপরুপা এই বান্দরবান। বছর জুড়ে প্রকৃতি প্রেমী ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মূখরিত থাকে জেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থান। সরকারি বিশেষ  ছুটির দিনে এই সংখ্যা বাড়ে কয়েকগুন। ফলে আগত পর্যটকদের সেবায় জেলায় গড়ে উঠেছে নানা হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ  ও হ্যান্ডিক্রাপ্ট বিপনন কেন্দ্র।এতে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ১০ হাজারেরও বেশী সংখ্যক জনগণ। তবে এবার প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন। আশানুরূপ পর্যটক না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীরা।

ব্যাবসায়ীরা জানায়, গত বছর  সেপ্টেম্বর মাসের দিকে জেলার দূর্গম এলাকা গুলোতে সশস্ত্র সংগঠন গুলোর আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর রুমা – রোয়াংছড়িতে দেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন।  এই নিষেধাজ্ঞা কয়েক দফায় বাড়িয়ে রুমা-রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও থানচি উপজেলায়ও  আরোপ করা হয়।পরে আলীকদম উপজেলা হতে নিষেধাজ্ঞা  প্রত্যাহার করা হলেও রুমা-রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে সন্ত্রাস দমনে নিরাপত্তা বাহীনির চলমান অভিযানে সেনাবাহীনির কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছে বেশ কয়েক জন। এছাড়া ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে পর্যটকদের নিরাপত্তা জনিত কারণে জেলার তিন উপজেলা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীরা বান্দরবান ভ্রমণে বিমূখ হয়ে পড়েছেন। ফলে আশানুরূপ পর্যটক না পাওয়ায় জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশন এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও হোটেল আরণ্য”র মালিক জসিম  উদ্দিন জানান, সাধারণ ছুটি’র দিনেও হোটেলের অধিকাংশ কক্ষ এবং  বিশেষ ছুটির দিনের অন্তত  ১৫ দিন আগে হোটেলের সকল কক্ষ বুকিং নিয়ে নিতেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। বর্তমানে হোটেল আরণ্য”র পক্ষ থেকে রুম ভাড়া ৫৫ শতাংশ ছাড় দিয়েও হোটেলের রুম বুকিং পাওয়া যাচ্ছে না।  বান্দরবানের ৩ উপজেলায় টানা ৮ মাসেরও অধিক সময় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় ভ্রমণ প্রত্যাশীরা বান্দরবান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হওয়ার কারনে জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অতি দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে জেলার পর্যটন শিল্প ধ্বংস হয়ে যাওয়ার শংকা করছেন তিনি।

পর্যটন মোটেল”র সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সূর্যসেন ত্রিপুরা জানান, সারা বছর ধরে এই ঈদ মৌসুমে ব্যাবসার  জন্য পর্যটন ব্যাবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকেন। অন্যান্য বছর যেখানে ঈদের ১০-১৫ দিন আগে থেকে শতভাগ বুকিং নিয়েনিতেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। এবার এই মৌসুম উপলক্ষ্যে ১৫ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে মাত্র ।

বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাছিরুল আলম বলেন, আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বান্দরবান ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য প্রত্যেক গাড়িতে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে নতুন নতুন সংযোজন করা হয়েছে। এগুলো যাহাতে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এবংজন্য সুবিধাবৃদ্ধি করা হয়েছে।   তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই বান্দরবান ঘুরতে আসবেন।

এছাড়া এবারের পবিত্র ঈদুল আযহা”র ছুটি উপলক্ষে ভ্রমণে আসা পর্যটকের জন্য নীলাচল ও মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ ফি ২০শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি। ##